কাদিয়ানী রদ!

সংখ্যা: ৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

কাদিয়ানী রদ! (১)

(পঞ্চম ভাগ)

          (মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফুক্বাহা, রইছুল মুহাদ্দিসীন, তাজুল মুফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।

(ধারাবাহিক)

          আঞ্জামে-আথাম, ৬২ পৃষ্ঠাঃ-

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

          ‘ইনি (মির্জ্জা ছাহেব) খোদার প্রেরিত, খোদার আদেশ প্রাপ্ত, খোদার বিশ্বাসভাজন এবং খোদার পক্ষ হইতে আগত, তিনি যাহা বলেন, তোমরা উহার উপর ইমান আন এবং উহার শত্রু জাহান্নামি।’

          আরবাইন, ৩ নম্বর, ৩৪ পৃষ্ঠার হাশিয়াঃ-

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

          ‘যে ব্যক্তি আমাকে কাফের কিম্বা মিথ্যাবাদী বলে, অথবা আমার সম্বন্ধে সন্দিহান হয়, তাহার পশ্চাতে তোমাদের (মির্জ্জাভক্তদের) নামাজ পড়া হারাম এবং নিশ্চিত হারাম।’

          হকিকাতোল-অহি, ১৬৩ পৃষ্ঠাঃ-

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

          ‘ যে ব্যক্তি আমাকে মান্য করে না, সে ব্যক্তি খোদা ও রাছুলকে মান্য করে না,  কেননা আমার সম্বন্ধে খোদা ও রাছুলের ভবিষ্যদ্বাণী বর্ত্তমান আছে।’

          আরও উক্ত পৃষ্ঠাঃ-

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

          ‘যে ব্যক্তির নিকট আমার আহবান পৌঁছিয়াছে এবং সে আমাকে কবুল করিল না, সে মুছলমান নহে।’

          আরও হকিকাতোল-অহি, ১৭৯ পৃষ্ঠা

 উর্দু কম্পোজ করতে হবে

          ‘দ্বিতীয় প্রকার কোফর এই যে, যেরূপ এক ব্যক্তি প্রতিশ্রুত মছিহকে মান্য করে না এবং দলীল পূর্ণ করা সত্ত্বেও তাহাকে মিথ্যাবাদী জানে-যাহার মান্য করার ও সত্য জানার সম্বন্ধে খোদা ও রাছুল তাকিদ করিয়াছেন এবং প্রাচীন নবিগণের কেতাবগুলিতে তাকিদ পাওয়া যায়, যেহেতু সে খোদা ও রাছুলের হুকুমের এনকারকারী, এই হেতু সে কাফের।’  (অসমাপ্ত)

ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক পাকিস্তান সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক

কাদিয়ানীদের “কাফির” ষোষণা! (২)

অনুবাদক- আলহাজ্ব মুহম্মদ হাবিবুল হক

(ধারাবাহিক)

          সূরা- ৯, আয়াত- ৮০

استغفر لهم اولاتستغفرلهم ان تستغفر لهم سبعين مرة فلن يغفر الله لهم ذلك بانهم كفروا بالله ورسوله والله لايهدى القوم الفسقين.

অর্থঃ- “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আর না করেন, যদি আপনি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা করেন তথাপিও কখনো আল্লাহ্ পাক তাদেরকে ক্ষমা করবেননা। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহ্ পাককে ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ পাক নাফরমানদের পথ দেখান না।”

          সূরা- ৬৩, আয়াত নং- ৬)

سواء عليهم استغفرت لهم ام لم تستغفر لهم لن يغفر الله لهم ان الله لا يهدى القوم الفسقين.

অর্থঃ- “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা না করুন, উভয়ই সমান। আল্লাহ্ পাক কখনও তাদেরকে ক্ষমা করবেননা। আল্লাহ্ পাক, পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেননা।”

          সূরা-৯, আয়াত নং- ১১৪

وما كان استغفار ابرهيم لابيه الا عن موعدة وعدها اياه فلما تبين له انه عدو لله تبرا منه ان ابرهيم لاواه حليم.

অর্থঃ- “আর ইব্রাহীম আলাইহিস্ সালাম কর্তৃক স্বীয় পিতার মাগফিরাত কামনা ছিল কেবল সেই প্রতিশ্রুতির কারণে, যা তিনি তাঁর সাথে করে ছিলেন। অতঃপর যখন তাঁর কাছে একথা প্রকাশ পেল যে, সে আল্লাহ্ পাক-এর শত্রু, তখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলেন। নিঃসন্দেহে ইব্রাহীম  আলাইহিস্ সালাম ছিলেন বড় কোমল হৃদয়, সহনশীল।”

          এ সকল আয়াত শরীফ  থেকে এটা স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান হয় যে, যাদেরকে ক্ষমা করা হবে না তারা আশা করতে পারে না যে, আল্লাহ্ পাক তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন।

          মিঃ মুজিবুর রহমান আমাদের অনেকগুলো বই দেখিয়েছেন যাতে সূফী ও অন্যান্য মুসলমানদের জন্য এই অভিব্যক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু তা তার কোন কাজে আসবে না, যেহেতু পূর্বে বলা হয়েছে, কোন  বিশ্বাসীর জন্য এটা ব্যবহার করা যাবে না। ইহাও অস্বীকার করা হয়নি যে, এই অভিব্যক্তি কোন অমুসলিম ব্যবহার করেনি। তার যুক্তি খন্ডনে এই জবাবই যথেষ্ট।

          অন্য বিতর্কিত অভিব্যক্তি হচ্ছে “ছাহাবী” এই শব্দটি শুধু হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সহচর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের জন্যই ব্যবহার করা হয় এবং কোন অমুসলিমের জন্য নয়। কিন্তু কাদিয়ানীরা মির্জার সহচরদের জন্য ব্যবহার করেছে।

          আল্লামা সাখাওয়াল এই লক্ববের অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন, ছাহাবী তিনি, যিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে অনুসারী হিসেবে অনেকদিন থেকেছেন এবং তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

          অতএব, ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এরূপ এক সৌভাগ্যবান ব্যক্তিত্ব যিনি ঈমানদার হিসেবে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহচর্য্য লাভে সৌভাগ্যবান এবং ইন্তিকালও করেছেন ঈমানের সাথে। (দেখুন মুলাখ্খাছ ইছাবা, ভলিয়ুম ১, পৃষ্ঠা ১৮-১৯)

          মিথ্যা নবী দাবীদারের সহচরদের ঐ বিশেষ (ছাহাবী) নামে সম্বোধন করা যাবে না।

          এটা যথার্থ লক্ষ্যণীয় যে, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

وخير القرون قرنى ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم.

          ইতিহাসে তিন যুগের উল্লেখ আছে। যাঁরা ছাহাবী, তাবেঈন এবং তাবে তাবেঈন নামে পরিচিত। এটা থেকেও স্পষ্টতঃ প্রতীয়মান হয় যে, ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এমন ব্যক্তিত্ব যিনি হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ছোহবত পেয়েছেন তাবেঈন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেননি এবং পরে এসেছেন। তাবে তাবেঈন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ ঐ সকল ব্যক্তিত্ব যাঁরা তাবেঈন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুসরণ করেছেন। (অসমাপ্ত)

কাদিয়ানী রদ!

খতমে নুবুওওয়াত প্রচার কেন্দ্র খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবেক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি) তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!

কাদিয়ানী রদ!