কাদিয়ানী রদ! (১)
(পঞ্চম ভাগ)
(মুবাহিছে আযম, বাহরুল উলূম, ফখরুল ফোক্বাহা, রইছুল মোহাদ্দিসীন, তাজুল মোফাসসিরীন, হাফিজে হাদীস, মুফতীয়ে আজম, পীরে কামিল, মুর্শিদে মোকাম্মিল হযরত মাওলানা আল্লামা শাহ্ সূফী মুহম্মদ রুহুল আমিন রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রণীত “কাদিয়ানী রদ” কিতাবখানা (৬ষ্ঠ খন্ডে সমাপ্ত) আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছি। যাতে কাদিয়ানীদের সম্পর্কে সঠিক ধারণাসহ সমস্ত বাতিল ফিরকা থেকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুসারীদের ঈমান আক্বীদার হিফাযত হয়। আল্লাহ্ পাক আমাদের প্রচেষ্টার কামিয়াবী দান করুন (আমিন)। এক্ষেত্রে তাঁর কিতাব থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হলো, তবে তখনকার ভাষার সাথে বর্তমানে প্রচলিত ভাষার কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্যণীয়)।
(ধারাবাহিক)
তদ্বিপরীতে যখন মির্জ্জা ছাহেবের নবি হওয়ার আবশ্যক ধবোধ হইল, তখন তিনি উক্ত কথাগুলি ভুলাইয়া দিয়া ‘এস্তেহারে এক গলতি কা এজালা’ তে লিখিয়াছেনঃ-
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
‘‘যদি খোদার পক্ষ হইতে গুপ্ত সংবাদ প্রাপ্ত ব্যক্তি নবি নামে অভিহিত না হয়, তবে বল, তাহাকে কোন্ নামে ডাকা যাইবে? যদি তুমি বল যে, তাহার নাম মোহাদ্দাছ রাখা চাই, তবে আমি বলি, ‘তহদিছে’র অর্থ কোন অভিধানে গুপ্ততত্ত্ব প্রকাশ করা বলিয়া লিখিত নাই।’’
মির্জ্জা ছাহেব প্রথম স্থলে ‘মোহাদ্দাছ’ হওয়া স্বীকার ও নবি হওয়া অস্বীকার করিয়াছেন, পক্ষান্তরে তিনি দ্বিতীয় স্থলে নবি হওয়ার দাবি ও মোহাদ্দাছ হওয়া অস্বীকার করিয়াছেন, কাজেই তিনি নিজের দাবি অনুসারে মোহাদ্দাছ নহেন এবং নবিও নহেন।
(২) যে মুছলমানেরা মির্জ্জাভক্ত নহেন, তাহাদের কোফর ও ইছলাম সম্বন্ধে মির্জ্জা ছাহেবের ভিন্ন ভিন্ন মত ঃ- ‘তিরইয়াকোল-কুলুবের’’ ৩২৫/৩২৬ পৃষ্ঠার হাশিয়া ঃ-
উর্দু কম্পোজ করতে হবে
‘এই সূক্ষতত্ত্বটীও স্মরণ রাখা উপযুক্ত যে, নিজের দাবি অস্বীকারকারীকে কাফের বলা, ইহা কেবল উক্ত নবিগণের কার্য্য, যাহারা খোদাতায়ালার পক্ষ হইতে শরিয়ত ও নূতন আহকাম আনয়ন করেন, কিন্তু শরিয়ত প্রবর্ত্তক ব্যতীত যত সংখ্যক মোলহাম ও মোহাদ্দাছ হইয়া থাকেন, আল্লাহতায়ালার দরবারে তাঁহাদের উচ্চ দরজা হউক না কেন এবং আল্লাহতায়ালার কথোপকথন করার সম্মান লাভ করিয়া থাকুন না কেন, তাহাদের এন্কার করাতে কেহ কাফের হয় না।’’ (অসমাপ্ত)
অবশ্য তাঁরা বেছে নেন হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র সাহচর্য। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরসহধর্মীনিদের মধ্যে অনেকেই সমৃদ্ধি দেখেছেন। তাঁরা (রাঃ) সম্পদশালী পরিবার থেকে এসেছিলেন। উদাহরণ স্বরূপ। হযরত সাউদা (রাঃ), হযরত সাফিয়া (রাঃ), হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ) এবং হযরত যুওয়ায়রিয়া (রাঃ)। কিন্তু তাঁরাও অভাবের জীবন-যাপনই বেছে নিয়েছিলেন। হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পবিত্র সাহচর্য ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে। এই সকল উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সাথে আন্য কোন মহিলার তুলনা করা এবং তাঁদের (রাঃ) লক্বব ব্যবহার করা অভাবনীয় ব্যাপার।
অন্য আর একটি লক্বব “আহ্লে বাইত” যাহরা হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারের সদস্যদের সম্মানার্থে ব্যবহৃত, উহা ব্যবহারে কাদিয়ানীদের বিরত করা হয়েছে।
সূরা/১১, আয়াত শরীফ/৭৩-এর বলা হয়েছে,
رحمت الله وبركته عليكم اهل البيت.
অর্থঃ- “হে আহ্লে বাইত আপনাদের উপর আল্লাহ্ পাক-এর রহমত ও বরকত রয়েছে।”
সূরা/৩৩, ৩৩ নং আয়াত শরীফে বলা হয়েছে,
انما يريد الله ليذهب عنكم الرجس اهل البيت ويطهر كم تطهيرا.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক কেবল চান আপনাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং আপনাদেরকে পূর্ণরূপে পুতঃ পবিত্র রাখতে।”
এই আদেশের উদ্দেশ্য ছিল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারকে অবহিত করা যে তাদেরকে সকল ধরণের গুণাহ্ ও অবাধ্যতা থেকে পরহেজ করতে হবে। বিশ্বাস, কাজ ও আচার-আচরণে পবিত্রতা এবং স্বচ্ছতা বহাল রাখতে হবে।
কুরআন শরীফে থেকে এটা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, এ সকল গুণ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারের সদস্যগণের থাকতে হবে। আল্লাহ্ পাক-এর আদেশ অমান্য করার কারণে হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম-এর ছেলেকে নবী আলাইহিস্ সালামগণের পরিবারের সদস্য হিসেবে গণনা করা হয়নি।
সূরা হুদের ৪৫ এবং ৪৬নং আয়াত শরীফে এরূপ আছে,
ونادى نوح ربه فقال رب ان ابنى من اهلى وان وعدك الحق وانت احكم الحكمين قال ينوح انه ليس من اهلك انه عمل غير صالح فلا تسئلن ماليس لك به علم انى اعظك ان تكون من الجهلين.
অর্থঃ- “আর নূহ আলাইহিস্ সালাম আল্লাহ্ পাককে বললেন, আয় পরয়ারদিগার! আমার পরিজনদের অন্তর্ভূক্ত আর আপনার ওয়াদাও নিঃসন্দেহে সত্য আর আপনিই সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞ ফায়সালাকারী।”
আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন, “হে নূর আলাইহিস্ সালাম! নিশ্চয়ই সে আপনার পরিবারভুক্ত নয়। নিশ্চয়ই সে অবাধ্য। সুতরাং আমার কাছে এমন অনুরোধ করবেন নাা যা সম্বন্ধে আপনি অবগত নন। আমি বলছি আপনি অজ্ঞদের দলভুক্ত হবেন না।”
বিভিন্ন ঐতিহ্য থেকে প্রমাণিত যে, অভি ব্যক্তি আহলে বাইত ব্যবহার করা যাবে শুধুমাত্র হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারের সদস্যদের জন্য।
ঐ সকল লোকদের আহলে বাইত বলা যাবে না। যারা মুসলমান নয় এবং মুসলমান ছিলও না। মির্জার পরিবারের সদস্যদের আহলে বাইত বলা অমর্যাদাকর। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিবারের সদস্যগণের গুণে গুণান্বিত হওয়া আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং ইহা অপ্রত্যাশিত নয় যে, মুসলিম উম্মাহর এই অভি ব্যক্তির অমর্যাদাকর ব্যবহারে বিক্ষুব্ধ। মির্জা পরিবারের জন্য ঐ লক্বব ব্যবহার ক্রমান্বয়ে আইন-শৃঙ্খলার পরিপন্থি অবস্থার সৃষ্টি হয়। পরিণতিতে উম্মাহ্র স্বার্থে এ লক্বব ব্যবহারে কাদিয়ানীদের প্রতিহত করতে। ইহা ব্যবহার তাদের জন্য আইনতঃ দন্ডনীয় করা হয়।
অভিব্যক্তি রদিয়াল্লাহু আনহু অর্থ আল্লাহ্ পাক তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট। এ লক্বব কার জন্য ব্যবহার করা যাবে। কুরআন শরীফে তার যথেষ্ট নির্দেশ রয়েছে। নিম্নে সংশ্লিষ্ট আয়াত শরীফ সমূহ উল্লেখ করা হলো। (অসমাপ্ত)