কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

সংখ্যা: ২০৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহমতে “ফতওয়া ও গবেষণা বিভাগ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. ক্বদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহরীমি ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা)

১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা), ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) পেশ করার পর-

৩০তম ফতওয়া হিসেবে

১৯৫তম সংখ্যা থেকে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফর, শিরক ও বিদয়াতের মুলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয় যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

উলামায়ে ‘ছূ’রা ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। উলামায়ে ‘ছূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীরা বলে ও প্রচার করে থাকে যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথাও  নেই, শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয ও হারাম। নাঊযুবিল্লাহ!

তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছে। কেননা হাদীছ শরীফে শবে বরাতের অশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتا العيدين

অর্থ: “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে।”

হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে-

عن على رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا فيقول الامن مستغفر فاغفرله الا مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا الا كذا حتى يطلع الفجر.

অর্থ: “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের পনের তারিখ রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, “কোন ক্ষমা প্র্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।” “কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করব।” “কোন মুছিবতগ্রস্থ ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব।” এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ্, মিশকাত)

এ ধরনের আরো অসংখ্য হাদীছ শরীফ রয়েছে, যাতে শবে বরাত-এর ফযীলতের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ যারা শবে বরাত পালন করবে তারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের উভয়েরই খাছ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি লাভ করবে।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ‘শবে বরাত’ পালন থেকে বিরত থেকে অশেষ ফযীলত থেকে মাহরূম হবে। যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী, তারা ও হক্ব তালাশী সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে। অর্থাৎ শবে বরাতসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদার ন্যায় আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-উনার রেজামন্দী হাছিল করতে পারে। সে জন্যই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত’-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি প্রকাশ করা হলো।

 

অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারাও শবে বরাত প্রমাণিত

পূর্ব প্রকাশিতের পর

এ কারণে দেখা যায়, রমাদ্বান মাসে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয় অথবা ডিউটি কমিয়ে দেয়া হয়। ঠিক একই কারণে শবে বরাতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ইত্যাদি বন্ধ ঘোষণা করা হয়ে থাকে। সুতরাং এটাকে বিদয়াত চর্চার সূযোগ দেয়া বলে অভিহিত করা সম্পূর্ণরূপে কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

এ কুফরী প্রচারণা মূলতঃ দাজ্জালে কাযযাব ওহাবী, খারিজী, দেওবন্দী, জামাতী, তাবলীগী ও লা-মাযহাবীদের।

সুতরাং এ ক্ষেত্রে নিজেদের ঈমান-আমল হিফাযতের জন্য প্রত্যেককে সতর্ক সাবধান থাকতে হবে।

অথচ এই সামান্য নামধারী দুনিয়ালোভী পেশাদার ধর্মব্যবসায়ী মৌলভীরা নিজেদেরকে শাইখুল হাদীছ, শাইখুত তাফসীর, জাতীয় খতিব দাবি করে ইহুদীদের চর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা বেপরোয়াভাবে অহরহ হারাম ও কুফরী কাজের মূলহোতা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যেমন- ইসলামের নামে গণতন্ত্র, ভোট, নির্বাচন, মৌলবাদ দাবি করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, নারী নেতৃত্ব মেনে নেয়া, মদের ব্যবসা করা, হরতাল করা, কুশপুত্তলিকা দাহ করা, টিভি ও সিনেমা দেখা এতে প্রোগ্রাম করা, বেপর্দা মহিলার সাথে মেলামেশা করা, কানাকানি করা, ছবি তোলা ইত্যাদি হারাম কাজ করে যাচ্ছে। এতে তাদের কোন ফতওয়া নেই। বরং আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহান নিয়ামত যা পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন তা থেকে বঞ্চিত করার কোশেশে ইহুদীদের চ্যালারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারণ ইহুদী-নাছারারা তারা চায়না মুসলমানেরা ভাল থাকুক এবং জান্নাতী হোক।

কারণ হাদীছ শরীফে ইরশাদ হয়েছে-

(৩৩৫-৩৩৬)

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الاحاديث بما لم تسمعوا انتم ولا ابائكم فاياكم واياهم لايضلونكم ولا يفتنونكم.

অর্থ: “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে। তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি। সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তোমাদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখবে। তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবেনা।” (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

এ হাদীছ শরীফে ক্বিয়ামতের পূর্বে অনেক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে সেটাই বলা হয়েছে। হাদীছ শরীফের বর্ণনা মতে মূল দাজ্জাল একজনই হবে তবে তার অনুসারী অর্থাৎ দাজ্জালের চেলা হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ হবে। প্রকৃত কথা হচ্ছে, মূল দাজ্জালের পূর্বে বহু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জালের প্রকাশ ঘটবে। মূল দাজ্জালের যে কাজ সে কাজকে তারা আঞ্জাম দিবে। তাহলো মানুষের আক্বীদা-আমল নষ্ট করে কুফরীতে নিমজ্জিত করা।

কাজেই তাদেরকে চিনে তাদের থেকে নিজের আক্বীদা-আমল হিফাযত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। নচেৎ উক্ত দাজ্জালের খপ্পরে বা ওয়াস্ওয়াসায় যারা পড়বে তাদের হাশর-নশর সে দাজ্জালের সাথেই হবে।

আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে সেই দাজ্জালদের পরিচয় লাভ করার এবং তাদের থেকে দূরে থেকে নিজেদের আক্বীদা-আমল হিফাযত করতঃ আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি হাছিল করার তাওফীক দান করুন।

লাইলাতুল বরাত তথা শবে বরাত সম্পর্কে ইহুদীদের দালাল তথা এজেন্ট, ওহাবী বিদ্য়াতী, ধর্মব্যবসায়ী ও লা-মাযহাবী আব্দুল্লাহ বিন বায, তথাকথিত খতীব উবায়দুল হক ওরফে উবাই বিন সুলুল, দাইয়্যুস সাঈদী ওরফে ইহুদী এর ভ্রান্ত আক্বীদা ও তার দলীলভিত্তিক খণ্ডমূলক দাঁত ভাঙ্গা জাওয়াব

মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কালামে পাকে ‘সূরা মায়িদার’ ৮২নং আয়াত শরীফে ইরশাদ করেন, “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদীদেরকে। অতঃপর যারা মুশরিক তাদেরকে।”

মূলতঃ এই ইহুদীরাই মুনাফিক সেজে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিয়েছিল, উনাকে শহীদ করার চক্রান্ত করেছিল। এই ইহুদীরাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের পরস্পরের মাঝে মুনাফিকী করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিল। আর মূলতঃ এই ইহুদীরাই মুসলমানের ঈমান-আমল  বিনষ্ট করে দ্বীন ইসলামে ফিৎনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ৭২টি বাতিল ফিরকার জন্ম দিয়েছে। অর্থাৎ শিয়া, খারেজী, মু’তাযিলা, জাবারিয়া, ক্বদরিয়া ইত্যাদি ফিরকাগুলো ইহুদীদেরই এজেন্ট।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করছে যারা  তারা হলো ১. কাদিয়ানী। ২. শিয়া ও ৩. ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেল লিফলেট, কিতাবাদী ও বক্তৃতার মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয, বিদয়াতকে সুন্নত ও সুন্নতকে বিদয়াত বলে প্রচার করছে। যেমন, তারা প্রচার করছে-তারাবীহ নামায জরুরী কোন নামায নয় আট রাকায়াত পড়লেই হয়, ফরয নামাযের পর মুনাজাত করা বিদয়াত ও হারাম। নিয়ত করে রওযা শরীফ ও মাযার শরীফ যিয়ারত করা শিরক, কদমবুছী করা নাজায়িয ও শিরক। মাযহাব মানার কোন প্রয়োজন নেই, পীর-মুরীদী শরীয়ত বিরোধী প্রথা ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ই কুরআন-সুন্নাহ সম্মত ও তন্মধ্যে কোনটা সুন্নত আবার কোনটা  ফরয।

পক্ষান্তরে ছবি, টেলিভিশন, সিনেমা, নাটক, নোবেল, হরতাল, বেপর্দা হওয়া, নারী নেতৃত্ব মানা, ভোট দেয়া, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নেয়া, মহিলাদের  জামায়াতের জন্যে মসজিদে যাওয়া, মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার সময় হাত ও মুখ খোলা রাখা ইত্যাদি নাজায়িয কাজগুলোকে জায়িয বলে প্রচার করছে। অর্থাৎ তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মুসলমানদের ইসলাম থেকে সরিয়ে ইবাদত থেকে সরিয়ে অনৈসলামিক ও হারাম কাজে মশগুল করে দিয়ে তাদেরকে বেঈমান করে দেয়া। তাই তারা পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফাষ্ট নাইট, ভালোবাসা দিবস, সুন্দরী প্রতিযোগিতা, গান-বাজনা ও খেলাধুলা বা চিত্তবিনোদনের নামে যেসকল অশ্লিল-অশালিন, বেপর্দা বেহায়াপনা ও হারাম নাজায়িয কাজগুলো অহরহ হচ্ছে সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন ফতওয়া দেয়না। ফতওয়া দেয় মুসলমানদের ফযীলত ও ইবাদতের রাত্র শবে বরাতের বিরুদ্ধে। যেমন- ইহুদিদের এজেন্ট, ওহাবী বিদয়াতী ও লা-মাযহাবী আব্দুল্লাহ বিন বায ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মনগড়া মন্তব্য  পেশ করেছে- “বর্তমানে প্রচলিত বিদআত সমূহের মধ্যে একটি বিদআত হচ্ছে শবে বরাত পালন করা এবং এ দিনে সিয়ামরত থাকা।” (সূত্র- সাপ্তাহিক আরাফাত ৩১ বর্ষ ৩০তম সংখ্যা)

ইহুদীদের আরেক দালাল ওহাবীদের এদেশীয় গুরু তথাকথিত মৃত খতীব উবায়দুল হক্ব ওরফে উবাই ইবনে সুলূল ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছিল- “যারা শুধুমাত্র শবে বরাত উপলক্ষে দিনে রোযা রাখে এবং রাতে নফল ইবাদত এবং আনুষাঙ্গিক অনুষ্ঠানাদী পালন করে তারা এটাকে প্রথা বা একটি রসম-রিওয়াজে পরিণত করেছে। ….” (দৈনিক সংগ্রাম, ৬-১২-৯৭ইং প্রকাশিত)।

আরেক গ-মূর্খ তথা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল  কাট্টা ওহাবী, দাইয়ূস সাঈদী ওরফে ইহুদী ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে মন্তব্য করেছে- “পবিত্র শবে বরাত মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। শবে বরাতের কোন  গুরুত্ব নেই। শরীয়তে শবে বরাতের কোন জায়গা নেই।” (দৈনিক সংবাদ ১৩/০৩/৯৪ইং প্রকাশিত)।

ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী, বিদ্য়াতী ও গোমরাহ লা-মাযহাবী আব্দুল্লাহ বিন বায এর ভ্রান্ত বক্তব্য: ইহুদিদের এজেন্ট, ওহাবী বিদয়াতী ও লা-মাযহাবী আব্দুল্লাহ বিন বায ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মনগড়া মন্তব্য  পেশ করেছে- “বর্তমানে প্রচলিত বিদআত সমূহের মধ্যে একটি বিদআত হচ্ছে শবে বরাত পালন করা এবং এ দিনে ছিয়াম সাধনায় রত থাকা।” (সূত্র- সাপ্তাহিক আরাফাত ৩১ বর্ষ ৩০তম সংখ্যা)

ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী ও গোমরা লা-মাযহাবী আব্দুল্লাহ বিন বাযের শবে বরাত সম্পর্কে ভ্রান্ত, বানোয়াট ভিত্তিহীন বক্তব্যের দলীলভিত্তিক খণ্ডমূলক দাঁতভাঙ্গা জাওয়াব:

উল্লেখ্য যে, ইহুদীদের দালাল ওহাবী লা-মাযহাবী, ভ- ও বিদয়াতী আব্দুল্লাহ বিন বায শবে বরাত সম্পর্কে যে বক্তব্য পেশ করেছে তা দলীলবিহীন, মনগড়া, বানোয়াট ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর গোমরাহী ও কুফরীমূলক হয়েছে। কারণ যে হাদীছ শরীফকে অস্বীকার ও বিদ্য়াত বলবে মূলত সে কাট্টা কাফিরে পরিণত হবে। অথচ লাইলাতুল বরাত তথা শবে বরাতকে হাদীছ শরীফে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ছিহাহ সিত্তাহ এর অন্যতম গ্রন্থ ইবনে মাযাহ শরীফ-এর ১০০ পৃষ্ঠায় এ সম্পর্কে একখানা বাবও নেয়া হয়েছে, যেমন বলা হয়েছে “বাবু মাজাআ লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান”। এ সম্পর্কে বহু হাদীছ শরীফ এবং কুরআন শরীফের দলীলও রয়েছে। যা ইতিপূর্বে অসংখ্য তাফসীর ও হাদীছ শরীফের আলোকে প্রমাণ করেছি। পাঠকদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য কিছুসংখ্য দলীল নিম্নে পেশ করা হল।

শবে বরাত পালন করা ও এদিনে রোযা রাখা সম্পর্কে আব্দুল আযীয আব্দুল্লাহ বিন আ’য-এর প্রদত্ত্ব বক্তব্য সম্পূর্ণ কুফরী হয়েছে। কারণ, সে সুন্নতকে বিদ্য়াত বলে অভিহিত করেছে।

উল্লেখ্য, শবে বরাত বা বরাতের রাতে ইবাদত-বন্দিগী করা ও দিনের বেলায় রোযা রাখা হচ্ছে সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই এ মুবারক রাতে ইবাদত-বন্দিগী করে কাটিয়েছেন এবং দিনের বেলায় রোযা রেখেছেন এবং উম্মতকেও এ রাতে সজাগ থেকে ইবাদত-বন্দিগী করার জন্য এবং দিনে রোযা রাখার জন্য আদেশ-নির্দেশ করেছেন। এ সম্পর্কে বহু হাদীছ শরীফও বর্ণিত রয়েছে। যার বিস্তারিত দলীল আমরা ইতিমধ্যে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফের ফতওয়া বিভাগে বর্ণনা করেছি।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ব বিখ্যাত ও সুপ্রসিদ্ধ তাফসীর “তাফসীরুল বাগবী”-এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১৪৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(৩৩৭)

(انا انزلناه فى ليلة المباركة) … وقال اخرون هى ليلة النصف من شعبان اخبرنا عبد الواحد المليحى انا ابو منصور السمعانى ثنا ابو جعفر الريانى ثنا حميد بن زنجوية ثنا الا صبغ بن الفرج اخبرنى ابن وهب اخبرنى عمرو بن الحارث ان عبد الملك بن عبد الملك حدثه ان ابن ابى ذئب حدثه عن القاسم بن محمد عن ابيه او عمه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ينزل الله جل ثناءه ليلة النصف من شعبان الى السماء الدنيا فيغفر لكل نفس الا انسانا فى قلبه شحناء او مشركا بالله (فيها) اى فى الليلة المباركة (يفرق) اى يفصل (كل امر حكيم)

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি উহা অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ এক বরকতময় রাত্রিতে নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যান্য অসংখ্য, মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা বলেন, লাইলাইতুম মুবারাকা তথা বরকতপূর্ণ রাত হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত (শবে বরাত) এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, আমাদের কাছে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল ওয়াহিদ মালীহী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আবু মানছুর সাময়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেন, হযরত আবু জাফর রাইইয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত হুমাইদী ইবনে যানজুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আছবাগ ইবনে ফারজ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেন ইবনে ওহাব, তিনি বলেন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আমর ইবনে হারিছ, অবশ্য যা বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালেক ইবনে আব্দুল মালেক। তিনি ইবনে আবু যিব, তিনি কাসিম ইবনে মুহম্মদ উনার থেকে, তিনি উনার পিতা থেকে কিংবা চাচা থেকে, তিনি হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক অর্ধ শা’বানের তথা ১৫ ই শা’বানের রাতে (শবে বরাতে) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। অতঃপর সমস্ত ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করেন, তবে ওই সমস্ত ব্যক্তিদের ক্ষমা করেন না- যাদের অন্তরে হিংসা রয়েছে এবং যারা আল্লাহ পাক-উনার সাথে শরীক করেছে। অর্থাৎ হিংসুক ও মুশরিক ব্যতীত সবাইকে শবে বরাতে ক্ষমা করে থাকেন।”

অতঃপর পরবর্তী আয়াত শরীফে উল্লেখ করেছেন-

(৩৩৮)

(فيها) اى فى الليلة المباركة (يفرق) اى يفصل كل امر حكيم.

অর্থ: “ওই মুবারক রাতে তথা শবে বরাতে ভাগ্য বণ্টন হয় অর্থাৎ যাবতীয় হিকমতপূর্ণ বিষয়ের ফায়সালা করা হয়।”

এখানে-

(৩৩৯)

فيها يفرق كل امر حكيم

(প্রত্যেক হিকমতপূর্ণ বিষয়ের ফায়ছালা করা হয় ওই মুবারক রাতে)

এই আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর তাফসীরে বাগবী এর ৬ষ্ঠ খণ্ডের ১৪৩ পৃষ্ঠায় একইভাবে শবে বরাতের রাতকেই বুঝানো হয়েছে। যেমন উল্লেখ আছে-

(৩৪০-৩৪১)

وقال عكرمة رضى الله تعالى عنه هى ليلة النصف من شعبان يبرم فيها امر السنة وتنسخ الاحياء من الاموات فلايزاد فيهم احد ولا ينقص منهم احد. اخبرنا عبد الله الواحد المليحى انا ابو منصور السمعانى ثنا ابو جعفر الريانى ثنا حميد بن زنجوية ثنا عبد الله بن صالح حدثنا الليث حدثنى عقيل عن ابن شهاب اخبرنى عثمان بن المغيرة بن الاخنس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال تقطع الاجال من شعبان الى شعبان حتى ان الرجل لينكح ويولد له ولقد خرج اسمه فى الموتى وروى ابو الضحى عن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما ان الله تعالى يقضى الاقضية فى ليلة النصف من شعبان ويسلمها الى اربابها فى ليلة القدر.

অর্থ: “হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, লাইলাতুম মুবারাকা এবং ফায়ছালার রাত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শা’বান এর (১৫ই-শাবানের)  রাত তথা শবে বরাত। আর এই শবে বরাতের রাতে সামনের এক বৎসরের যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্যলিপি প্রস্তুত করা হয়। এবং জীবিত ও মৃত্যুদের ভাগ্য তালিকাও প্রস্তুত করা হয় এই শবে বরাতে। অতঃপর ওই ভাগ্য তালিকা থেকে কোন কম বেশি তথা হেরফের করা হয় না। আর এ প্রসঙ্গে (সনদসহ) হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে যে, হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল ওয়াহিদ মুলাইহি রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আবু মানছুর আস সাময়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেন হযরত হুমাইদী ইবনে যানজুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ছলেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেন, হযরত আল লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেন হযরত আক্বিল রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইবনে শিহাব থেকে। তিনি বলেন, আমার কাছে হযরত উসমান ইবনে মুহম্মদ ইবনে মুগীরাহ ইবনে আখনাস রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, এক অর্ধ শা’বান থেকে পরবর্তী অর্ধ শা’বান পর্যন্ত সমস্ত মৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এমনকি লোকেরা সেই বৎসর কখন বিবাহ করবে এবং তার কি সন্তান জন্মগ্রহণ করবে সেই বৎসর কোন সময়ে ওই সন্তানের মৃত্যু হবে সে তালিকাও প্রস্তুত করা হয় অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে।”

কেননা এ অর্ধশা’বানে তথা ১৫ই শা’বানের রাত সম্পর্কে হযরত আবুদ্বহা রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক ১৫ই শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত প্রস্তুত করেন তথা ভাগ্যের তালিকা প্রস্তুত করেন। আর ক্বদরের রাতে তথা শবে ক্বদরে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য ভাগ্যলিপি অর্পণ করেন বাস্তবায়নকারীদের হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে।

ইহা ছাড়া আরো উল্লেখ্য যে, লাইলাতুল ক্বদর দ্বারা যে (ليلة التنفيذ) লাইলাতুত তানফীয তথা পূর্ব সিদ্ধান্ত বা ভাগ্য বাস্তবায়ন করার রাতকে বুঝানো হয়েছে। এর মাধ্যমেও প্রমাণিত হয় যে, পূর্ব সিদ্ধান্তের রাতই হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত তথা শবে বরাত। (তাফসীরে বাগবী, (সূরা ক্বদর), হাশিয়ায়ে খাযেন ৭/২৭৪ পৃষ্ঠা)

এ প্রসঙ্গে “তাফসীরে নাযমুদ দুরার” কিতাবের ৭ম খণ্ডের ৬২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(৩৪২)

او ليلة النصف من شعبان

অর্থ: “লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শা’বানের রাত তথা ১৫ই শা’বানের রাত।”

উক্ত তাফসীরে ৭ম খণ্ডের ৬৪ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-

(৩৪৩)

قال وروى ابو الضحى عنه ان الله تعالى يقضى الاقضية فى ليلة النصف من شعبان فيسلمها الى اربابها فى ليلة القدر وقال الكرمانى فيسلمها الى اربابها وعمالها من الملائكة ليلة السابع والعشرين من شهر رمضان.

অর্থ: “হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন- হযরত আবু দ্বহা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন। আর ক্বদরের রাতে তথা শবে ক্বদরে সেই সিদ্ধান্তকে কার্যকরী তথা বাস্তবায়ন করার জন্য তালিকা পেশ করেন বাস্তবায়নকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে। হযরত ইমাম কিরমানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পূর্ব সিদ্ধান্ত কার্যকরী করার জন্য বাস্তবায়নকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে যেই রাত্রিতে তালিকা পেশ করা হয়, সেই রাত্রিটি হচ্ছে রমাদ্বান মাসের ২৭ তারিখের রাত।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১২

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩০তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩১)