কৃষিপণ্যের মুনাফার ৮০ শতাংশই ভোগ করে ফড়িয়া-ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর রেকর্ড পরিমাণ ফসল উৎপাদন করলেও ন্যায্যমূল্য  বঞ্চিত কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কৃষিপেশা ছেড়ে তামাক চাষ করছে কৃষক সরকারের উচিত কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণসহ সরাসরি বাজারে কৃষকদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা।

সংখ্যা: ২৮৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সব সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক।

কৃষিতে বাংলাদেশের সাফল্য অপরিসীম। নির্দ্বিধায় বলা যায় কৃষি বাংলাদেশের প্রাণ। এখনও কৃষি দেশের প্রায় ৫০ শতাংশের মত মানুষের কর্মসংস্থান প্রদান করে। দেশের ৭০% মানুষের জীবন-যাপন কৃষিকে কেন্দ্র করে। কৃষক তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও কৃষক তার পরিশ্রমের মূল্য পায়নি। বাংলাদেশে অন্য যে কোনো পেশা থেকে কৃষকের আয় অনেক কম। আর্থিক দৈনতার কারণে তাদের জীবন যাপন অত্যন্ত সাদাসিধে অথবা অত্যন্ত  নিম্নমানের। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পায় না। লাভের গুড় খেয়ে ফেলছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। কৃষকের ফলানো কাঁঠাল তাঁরই মাথায় ভেঙে খাচ্ছে ফড়িয়া, আড়তদার, খুচরা বিক্রেতারা।

প্রচলিত উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থায় মুনাফার সিংহভাগই পকেটস্থ হচ্ছে ফড়িয়া থেকে শুরু করে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত নানা গবেষণায়ও উঠে এসেছে, ভোক্তাদের হাতে কৃষিপণ্য পৌঁছার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীদারদের (কৃষক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা) মোট মুনাফার ২০ শতাংশও কৃষক পায় না। ৮০ শতাংশেরও বেশি মুনাফা চলে যায় ফড়িয়া, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের পকেটে।

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৩২ টাকা দরে বিক্রি হলে তাতে বিপণন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের মোট মুনাফা থাকে ১৯ টাকা। এর মধ্যে কৃষকের লাভ থাকে ৩ টাকা ৭২ পয়সা। অর্থাৎ কৃষিপণ্যটির সরবরাহ চেইনের মোট মুনাফায় কৃষকের ভাগ মাত্র ১৯.৫৬%।  বেগুনের মতো আলুতেও মুনাফার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে। কিন্তু এতে  কৃষকের ভাগ ২২ শতাংশেরও কম। টমেটোর ক্ষেত্রে এ হার মোটে ১৩%। কৃষকের কাছে ভোক্তামূল্যের বিপরীতে সবচেয়ে কম অর্থ আসে টমেটোয়। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি কেজি টমেটো উৎপাদনে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৮ টাকার কাছাকাছি। তবে তারা কৃষিপণ্যটি বিক্রি করতে পারে গড়ে সাড়ে ১০ টাকায়। ফলে প্রতি কেজি টমেটোয় কৃষকের মুনাফা থাকে আড়াই টাকার কিছুটা বেশি। তিন থেকে পাঁচ মাস শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগের পর কৃষক যৎসামান্য এ মুনাফা পায়। এতে উৎপাদক যেমন প্রতারিত হচ্ছে, তেমনি ঠকছে দেশের ভোক্তারা।

বিদ্যমান বাজার ব্যবস্থায় একটি পণ্য উৎপাদিত হওয়ার পর কৃষক থেকে ফড়িয়া বা বেপারী বা পাইকারী ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রয় করে থাকে। তারা ক্রয়কৃত পণ্যটি সরাসরি আড়তদারের নিকট বিক্রি করে থাকে। আড়তদার লাভের উপর নির্দিষ্ট কমিশনে খুচরা বা পাইকারী ব্যবসায়ীদের নিকট পণ্য বিক্রয় করে থাকে। খুচরা ব্যবসায়ীরা সরাসরি কৃষক বা ফড়িয়া, বেপারী ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও পণ্য কিনে থাকে। কৃষক ছাড়া বাকী সব ব্যবসায়ীদের মাঝে একটি নিবিড় সম্পর্ক থাকে। আর এ সম্পর্কের কারণে কৃষক তার চাহিদা মতো দাম হাকাতে পারে না। বেশীরভাগ কৃষি পণ্য যেহেতু পচনশীল তাই এটা বেশীদিন ধরে রাখাও যায় না। আবার ধরে রাখার মতো সংরক্ষনাগারের (হিমাগার) খুব অভাব। অনেকটা বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে অথবা আগাম পণ্য বিক্রি করে দেয়। ফলে ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়।

কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য দাম না পাওয়ার অন্য আর একটি কারণ হলো, কৃষক ফসল উৎপাদনের জন্য যত না আন্তরিক তার চেয়ে বিক্রি করার ক্ষেত্রে অনেকটা উদাসীন। যেমন কষ্ট করে তারা বাজার যাচাই করে না। ব্যবসায়ীদের সাথেও পূর্বে থেকে তেমন যোগাযোগ রক্ষা করে না। আশেপাশের বাজারটাই তাদের জন্য শেষ সম্বল মনে করে। উৎপাদিত পণ্য পরিমানে কম হলে মাথায় নিয়ে নিকটস্থ হাটবাজারে বিক্রি করে। দেখা যায় অল্প পণ্য বিক্রি করার জন্য সারাদিন বসে থাকতে হয়। ফলে মৌসুমে যোগান বেশী থাকলে দামও কমে যায়।

প্রসঙ্গত, কৃষকের অবহেলা কিংবা অসহায়তাই হোক আর সিন্ডিকেট-ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মই হোক, কষ্টার্জিত ফসলের মূল্য না পাওয়ার এ সংস্কৃতি যদি চলতেই থাকে তাহলে কৃষকরা এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবে। ইতোমধ্যে গত ২ বছরে কয়েক লাখ কৃষক কৃষি ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অনেক কৃষক খাদ্যপণ্য উৎপাদন বাদ দিয়ে তামাক কোম্পানির লোভনীয় অফারে পা দিয়ে তামাক নামক বিষ চাষ করেছে। উত্তরবঙ্গের অনেক এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তামাক চাষ করছে। আর এ পরিস্থিতি সামনে আরো ভয়াবহ হতে পারে।

তাই আমরা মনে করি, সরকারের উচিত হবে ফড়িয়া বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রোধ করতে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা। দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোকে বড় পরিসরে বিনিয়োগ করতে হবে। কৃষককদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সরাসরি বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এলাকা ভিত্তিক কৃষক সমবায় তৈরী করে গ্রুপ মার্কেটিং এর মাধ্যমে করা যেতে পারে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা উৎপাদনের পিছনে যে পরিমাণ শ্রম ও সময় ব্যয় করে তার কিছুটা সময় যদি ফসল বিক্রয়ে সহায়তা করতে পারতো তবে কৃষক কিছুটা লাভবান হতো। যদিও বিপনন কাজটি করার দায়িত্ব বর্তায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপর।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দুইটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, (১) কৃষকের জন্য উপযুক্ত সংরক্ষণাগার তথা হিমাগারের ব্যবস্থা করতে হবে। থানায় থানায় বিশাল আয়তনের হিমাগার তৈরী করতে হবে। কারণ কৃষিপণ্যের অধিকাংশই পচনশীল হওয়ার কারণে কৃষক বাধ্য হয়েই পানির দামে কৃষিপণ্য বিক্রি করে ফড়িয়াদের কাছে। (২) কৃষিপণ্যের ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করতে হবে। পাশ্ববর্তী দেশ ভারত সরকার তাদের প্রধান ফসল গম ও ধানসহ মোট ২৫টি ফসলের জন্য ন্যূনতম ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেয়। এই কাজটি করে কমিশন ফর অ্যাগ্রিকালচার কস্ট অ্যান্ড প্রাইসেস (সিএসিপি)। মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কৃষকের উৎপাদন খরচ, ঝুঁকিসহ সব কিছু বিবেচনায় নেয়া হয়। কৃষকের উৎপাদন খরচ ধরা হয় প্রতি কুইন্টাল ৮৬৬ রুপি। অর্থাৎ একজন কৃষক তার খরচের ওপর ১১২.৫% মুনাফা অর্জন করতে পারে। এই পদ্ধতি বাংলাদেশেও প্রয়োগ করতে হবে।

বিশেষ করে, সাপ্লাই চেইনে আরো দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং কৃষকের মজুদক্ষমতা বাড়ানো ও তথ্য সরবরাহ করতে হবে। আর কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি উপকরণ ও বিপণন ব্যবস্থা আরো সহজলভ্য করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সাংগঠনিকভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে।

ছাহিবু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল ওয়াসীলাতু ইলাল্লাহ, আল ওয়াসীলাতু ইলা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুলত্বানুন নাছীর, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বইয়ুমুয্যামান, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ মাহবূবুল্লাহ, ঢাকা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।