খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, ছাহিবে নেয়ামত, আল মালিক, আল মাখদূম, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াত, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, ইমামুল আইম্মাহ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াজ শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হজ্জ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উমরা উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, হুকুম-আহকাম সম্পর্কে (৩৩)

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

পূর্ব প্রকাশিতের পর

এরপর যদি বাহ্যিক কোন বাধা না থাকে রাস্তা-ঘাটে হোক বা যেভাবেই হোক। এরপর হচ্ছে, বাদশা যদি জালিম না হয়। এখন অসুস্থতার বিষয়টা মানুষতো সহজেই বুঝতে পারে, একটা লোক অসুস্থ, অসুস্থ, রুগী সে চলাচল করতে পারে না, তার হজ্জ কি করে ফরয হয়। আর বাহ্যিক বাধা কোনটা? এখন চলাচলের পথে, আগে যেমন রাস্তা-ঘাটে ডাকাতরা হামলা করতো। মানুষের জানের নিরাপত্তা থাকতো না। এ বিষয়গুলি মানুষ ফিকির করতো। অথবা চলাচলের পথে, সে যে পথ দিয়ে যাবে সে পথ দিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।  তার সাথে কোন সঙ্গি সাথি নেই, কি করে সে হজ্জে যাবে। বাহ্যিক বাধা রয়েছে, নানান ভাবে। আর

سُلْطَانٌ جَائِرٌ

জালিম বাদশা। জালিম বাদশাটা কে? এখন জালিম বাদশা যদি বলা হয় এক কথায়, তাহলে হচ্ছে, যে বাদশা পরহেযগার না, সে হচ্ছে জালিম। একটা লোক তার আমল নষ্ট হচ্ছে এটার প্রথম লক্ষণ হচ্ছে, সে সুন্নত উনার বিরোধিতা করবে। নাউযুবিল্লাহ! আর সে যখন চরম গোমরাহ হবে তখন সে ফরয উনারও বিরোধিতা করবে। নাউযুবিল্লাহ! এখন একটা বাদশা সে জালিম, না সে নেককার? প্রাথমিকভাবে সে যখন ইনসাফ করবে না। অর্থাৎ সুন্নত উনার বিষয়গুলো সে গুরুত্ব দিবে না। অর্থাৎ সুন্নত উনার গুরুত্ব যে দেয় না, সে যালিমের অন্তর্ভুক্ত। এখন যদি কোন বাদশা জালিম হয় তাহলে তো সেখানে, হজ্জের যে শর্ত দেয়া হয়েছে সেই শর্তটা থাকে না। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যেটা বললেন-

فَلَا رَفَثَ وَلاَ فُسُوقَ وَلاَ جِدَالَ فِي الْحَجِّ

হজ্জের মধ্যে অশ্লীল-অশালীন কোন কাজ করবে না, হারাম কোন কাজ করবে না, নাফরমানীমূলক কোন কাজ করবে না। ঝগড়া-ঝাটি, মারা-মারি, কাটাকাটি করবে না। আর পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হচ্ছে, বাহ্যিক কোন বাধা, জালিম বাদশা, অসুস্থ। এখন জালিম বাদশা হচ্ছে যে ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত পালনে বাধা দেয়। এখনতো দেখা যাচ্ছে, সারা পৃথিবীব্যাপী মুসলমান দেশগুলিতে। একটা লোক যদি কোথাও যেতে চায়, ছাড়পত্র (পার্সপোর্ট) করতে তাকে ছবি দিতে হয়। নাউযুবিল্লাহ! এবং মহিলাদের যে বিষয়টা। এখন একটা পুরুষ সে ছবি তুললো সে একটা কবিরা গুনাহ করলো। নাউযুবিল্লাহ! কিন্তু একটা মহিলা যখন ছবি তুললো তার কিন্তু একটা কবিরা গুনাহ হলো না, একদিক থেকে ছবি তুলে কবিরা গুনাহ করলো আরেকদিক থেকে সে বেপর্দা হয়ে গেল। নাউযুবিল্লাহ! এটাতো আরো কঠিন গুনাহ। এখন এই ছবিটা কিন্তু হাজার হাজার পুরুষ দেখতে পারে, অবস্থা ভেদে। তাহলে তার পর্দার ফরযটা কোথায় থাকলো? পর্দা পালন করাতো ফরয ছিলো। যেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলে দিয়েছেন-

وَقَـرْنَ فِي بُـيُـوْتِكُنَّ وَلَا تَـبَـرَّجْنَ تَـبَـرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الأُولَى

(মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে) যে, তোমরা ঘরের মধ্যে পর্দায় আবৃত থাকো, বেপর্দা হয়ো না। বেপর্দা হয়ে রাস্তায় ঘুরিও না আইয়্যামে জাহিলিয়াতের মতো। পর্দার সহিত অবস্থান করো বাড়ি ঘরে। তোমরা বেপর্দা হয়ে রাস্তায় চলো না, আইয়্যামে জাহিলিয়াতের মতো। মহান আল্লাহ পাক তিনি নিষেধ করে দিয়েছেন। এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পর্দা করা ফরয। আবার পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ فَإِذَا خَرَجَتْ اِسْتَشْرَفَـهَا الشَّيْطَانُ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, মেয়েরা পর্দার মধ্যে থাকবে। এরা যখন রাস্তায় বের হয় শয়তান উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে তাদের দ্বারা কোন গুনাহর কাজ করানোর জন্য। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে এখানে দেখা যাচ্ছে, মেয়েরা যখন ঘর থেকে বের হবে সেখানেও সাবধান থাকতে হবে। পর্দাতো করতেই হবে, এরপরও সতর্ক থাকতে হবে। এখন তাদেরকে পর্দাতো করতেই হবে এরপরও সাবধান থাকতে হবে। যেটা অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে বলা হচ্ছে-

اَلدَّيُـوْثُ لَا يَدْخُلُ الْـجَنَّةَ

দাইয়্যূছ কখনও বেহেস্তে প্রবেশ করবে না। বিষয়গুলো অত্যন্ত কঠিন বিষয়। দাইয়্যূছ কে? যে নিজে পর্দা করে না, তার অধিনস্থদেরকে পর্দা করায় না। যে নিজে পর্দা করেনা তার অধিনস্থদেরকে পর্দা করায় না, সে হচ্ছে দাইয়্যূছ। আর দাইয়্যূছ কখনও বেহেস্তে প্রবেশ করবে না। এটা কঠিন একটা বিষয়। অর্থাৎ যে বেপর্দা হয়ে থাকে বা বেপর্দা করিয়ে থাকে সে দাইয়্যূছের অন্তর্ভুক্ত। এখন হজ্জ করবে ফরয ইবাদত করবে এখন সে যদি বেপর্দা হয় তাহলে কি করে তার হজ্জটা ফরয হবে। সে দাইয়্যূছ হয়ে সে জাহান্নামী হয়ে যাচ্ছে। তাকে জান্নাতী হওয়ার জন্য যে শর্তটা ছিলো সেটাতো তার মধ্যে নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি যে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বলে দিলেন স্পষ্ট করে-

أَفَـتُـؤْمِنُـوْنَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَّـفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ إِلَّاخِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْـيَا وَيَـوْمَ الْقِيَامَةِ يُـرَدُّونَ إِلٰى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَااللهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَـعْمَلُوْنَ. أُولٰئِكَ الَّذِيْنَ اشْتَـرَوُا الْحَيَاةَ الدُّنْـيَا بِالْاٰخِرَةِ فَلَا يُخَفَّفُ عَنْـهُمُ الْعَذَابُ وَلَا هُمْ يُـنْصَرُوْنَ

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

أَفَـتُـؤْمِنُـوْنَ بِبَـعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُوْنَ بِبَـعْضٍ

কিতাবের কিছু মানবে আর কিছু তোমরা অস্বীকার করবে সেটাতো হতে পারে না। তোমরা কিতাবের কিছু মানবে কিছু অস্বীকার করবে সেটাতো হতে পারে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি এখানে বলে দিচ্ছেন। কিতাবের কিছু বিষয় ঈমান আনলে আর কিছু অস্বীকার করলে। নাউযুবিল্লাহ! এটাতো হতে পারে না। এরপর মহান আল্লাহ পাক তিনি বলে দিচ্ছেন-

فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَّـفْعَلُ ذٰلِكَ مِنْكُمْ

এর বদলাটা কি, যে আমলটা করলে? যে কিতাবের কিছু মানবে কিছু মানবে না, তার বদলাটা কি হবে? মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই বললেন-

إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْـيَا

ইহকালে তার জন্য লাঞ্ছনা-গঞ্জনা রয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

وَيَـوْمَ الْقِيَامَةِ يُـرَدُّوْنَ إِلٰى أَشَدِّ الْعَذَابِ

আর পরকালে তার জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। নাউযুবিল্লাহ! পরকালে তাকে সেই কঠিন শাস্তির দিকে ধাবিত করা হবে। তার জন্য পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। তাকে কঠিন শাস্তির দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। অর্থাৎ তার জন্য কঠিন শাস্তি রয়েছে।

(অসমাপ্ত)

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

সম্পাদকীয়

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য

ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য