(ধারাবাহিক)
পর্দার গুরুত্ব এবং তাৎপর্য প্রত্যেকেরই জানা দরকার রয়েছে। যেহেতু আখিরী যামানা ফিৎনার যুগ। হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, “প্রতি দৃষ্টিতে একটি করে কবীরা গুণাহ্ লিখা হয়ে থাকে।” হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
يا على لا تتبع النظرة فان ك الاولى وليست لك الاخرة.
“হে আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! প্রথম দৃষ্টিকে ক্ষমা করা হবে। এরপর প্রতি দৃষ্টিতে একটা করে গুণাহ্ লিখা হবে। অর্থাৎ প্রথম দৃষ্টি ক্ষমা করা হবে; হয়তো অজান্তে সে দৃষ্টি পড়ে যেতে পারে। এরপর দৃষ্টি ফিরায়ে নিতে হবে। যদি কেউ দৃষ্টি ফিরিয়ে না নেয় তাহলে প্রতি দৃষ্টিতে তার জন্য একটি করে কবীরা গুণাহ্ লিখা হবে।” হাদীস শরীফে বলা হয়েছে, “পুরুষের জন্য হালাল কামাই করা ফরয। মেয়েদের জন্য পর্দা করা ফরয।” হালাল কামাই, হালাল খাদ্য না খেলে মানুষের শরীরের যতটুকু ক্ষতি করে; ঠিক পর্দা না করার কারণেও মানুষকে তদ্রুপ ক্ষতি করে, তার জিসমানী এবং রূহানী উভয় দিক থেকে। কাজেই আল্লাহ্ পাক বলেছেন, ‘প্রত্যেককেই পর্দা করার জন্য।’ তাই তার হুকুম-আহ্কাম, মাসয়ালা-মাসায়েল জানাটাও ফরয। যাতে সে শরয়ী পর্দা করে নিজের ঈমানকে হিফাযত করতে পারে। যে আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে বেশ কয়েকখানা আয়াত শরীফ নাযিল করেছেন এই পর্দা সম্পর্কে। কিছু আমরা আলোচনা করেছি; ইনশাআল্লাহ্ আরো কিছু আলোচনা করা হবে। বিশেষ করে পর্দার আয়াত শরীফ নাযিল হওয়ার অনেকগুলো প্রসঙ্গ রয়েছে। যেটা তাফসীর ও হাদীস শরীফের কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ফিক্বাহ্র কিতাবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আল্লাহ্ পাক পর্দার আয়াত শরীফ প্রসঙ্গে ইরশাদ করেন,
يا يها الذين امنوا لا تدخلوا بيوت النبى الا ان يوذن لكم الى طعام غير نظرين انه ولكن اذا دعيتم فادخلوا فاذا طعمتم فانتشروا ولا مستانسين لحديث ان ذلكم كان يؤذى النبى فيستحى منكم والله لا يستحى من الحق واذا سالتموهن متاعا فسئلوهن من وراء حجاب ذلكم اطهر لقلوبكم وقلو بهن.
এই আয়াত শরীফে পর্দার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই আয়াত শরীফ নাযিল করা হয়েছে পর্দার জন্য। পর্দা ফরয করা হয়েছে কত হিজরী সনে সেটা নিয়ে যদিও মুহাক্কিক, মুদাক্কিক, মুজতাহিদ, ইমামগণের ইখতিলাফ রয়েছে- তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম হিজরী, তবে অনেকের মতেই পর্দা ফরয করা হয়েছে পঞ্চম হিজরী সনে। এই আয়াত শরীফে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন,
يايها الذين امنوا لا تدخلوا بيوت انبى الا ان يؤذن لكم اى طعام غير نظرين انه.
এখানে আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেন যে, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আমার হাবীব আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হুজরা শরীফে প্রবেশ করবে না অনুমতি ব্যতীত। তোমাদেরকে যখন খাবারের জন্য ডাকা হবে খাদ্য প্রস্তুত হওয়ার পূর্বে, অপেক্ষা না করে আমার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হুজরা শরীফে প্রবেশ করবে না।”
ولكن اذا دعيتم فادخلوا.
“যখন তোমাদেরকে ডাকা হবে, তখনই তোমরা প্রবেশ করবে।”
فاذا طعمتم فانتشروا.
“যখন তোমাদের খাদ্য শেষ হয়ে যাবে, খাওয়া শেষ হয়ে যাবে, তোমরা চলে আসবে অর্থাৎ সেখান থেকে বের হয়ে পড়বে।”
ولا مستانسين لحديث.
“কথা-বার্তায় আলোচনায় তোমরা সেখানে মশগুল থেকোনা।”
فيستحى منكم.
“নিশ্চয়ই তোমাদের এই সমস্ত আচরণ আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়।”
فيستحى منكم.
“উনার সেই কষ্টের কথা তোমাদের কাছে বলতে উনি সংকোচ বোধ করেন। অর্থাৎ বলেন না, তোমাদের কষ্ট হয় কিনা সেজন্য।”
والله لايستحى من الحق.
“আল্লাহ্ পাক সত্য বলতে কখনও লজ্জিত হননা বা সংকোচ করেন না।”
واذا سئلتموهن متاعا فسعلوهن من وراء حجاب.
“যখন তোমরা কিছু চাবে মহিলাদের কাছ থেকে তাহলে পর্দার আড়াল থেকে চেয়ো।”
ذلكم اطهر لقلوبكم وقلوبهن.
“এটা তোমাদের এবং যাদের কাছ থেকে তোমরা চাবে, মহিলাদের জন্য অন্তরের পবিত্রতার কারণ হবে।”
এই আয়াত শরীফ আল্লাহ্ পাক নাযিল করে ছিলেন পর্দার জন্য। তার শানে নুযূল সম্পর্কে বলা হয়েছে অনেক কথাই। মূল যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে বিয়ে করলেন। বিয়ে করে ওলীমাও করলেন। সেটা হাদীস শরীফে এসেছে,
عن انس رضى الله تعالى عنه قا اولم رسو اله صلى الله عيه وسلم حين بنى بزيتب بنت جحش رضى الله تعاى عنها فاشيع اناس خبرا ولحما.
হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে যেদিন বিয়ে করেছিলেন, সেদিন ওলীমা করেছিলেন, فاشبع الناس “মানুষদের তৃপ্তি সহকারে খাওয়ায়েছিলেন, خبزا ولحما গোশ্ত এবং রুটি দিয়ে। খাসী যবেহ্ করে রুটি পাকিয়ে সবাইকে খাওয়ানো হয়েছিলো।” তো যখন সেই ওলীমার দাওয়াত দেয়া হয়েছিলো, সকলেই এসেছিলেন ও দাওয়াত খেয়েছিলেন। দাওয়াত খাওয়ার পর অনেকে চলে গেলেন আর কেউ কেউ বসে রইলেন। হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, কিছু লোক চলে গেলেও সে আলোচনা চলতে লাগলো। তার মধ্যে হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনিও একজন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সকলেই চলে গেলেন। তিনজন রয়ে গেলেন। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ অবস্থা দেখে অন্যান্য উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না যাঁরা ছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের সাক্ষাতে গেলেন, সালাম-কালাম বিনিময় করলেন, সকলেই নতুন উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন অর্থাৎ আলোচনা করলেন। এ সমস্ত দেখা-সাক্ষাত করে আলোচনা শেষ করে এসেও দেখতে পেলেন আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে, তখনও তিনজন ছাহাবী বসে রয়েছেন। হযরত জয়নাব বিনতে জাহাশ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা সবাইকে পিছন দিয়ে ভিতরের দিকে মুখ করে বসেছিলেন। এ অবস্থা দেখে আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর আয়াত শরীফ নাযিল হয়। এটা একটা রেওয়ায়েত। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য