(ধারাবাহিক)
যা আল্লাহ্ পাক অন্যত্র বলেছেন,
ومن يطع الله ورسوله ويخش الله ويتقه فاولئك هم الفائزون.
এর অর্থ হচ্ছে- আল্লাহ্ পাক বলেন, “হে আমার হাবীব (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আপনি বলে দিন, তোমরা যারা আল্লাহ্ পাককে এবং আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইতায়াত করবে, আল্লাহ্ পাককে ভয় করবে, গুণাহ্ থেকে বেঁচে থাকবে তারা বিরাট কামিয়াবী হাছিল করবে।”
এর তাফসীরে একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। হযরত উমর বিন খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে একটা ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। যেটা হযরত ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন। যে হযরত উমর বিন খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, “একদিন আমি মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে রয়েছি দরজার সামনে। হঠাৎ একটা লোক আসলো, এক গ্রাম্য লোক। সেই রোম দেশের এক গ্রামের লোক এসে আমার সামনে উপস্থিত হয়ে কালেমা শরীফ পাঠ করতে লাগলো।
اشهد ان لا اله الا الله واشهد ان محمدا عبده ورسوله.
এটা পাঠ করে সে বললো, “আমি আজকে আল্লাহ্র ওয়াস্তে মুসলমান হয়ে গেলাম।” এ কথা যখন সে লোকটা বললো, সেটা শুনে হযরত উমর বিন খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, “হে ব্যক্তি! তুমি কেন আল্লাহ্র ওয়াস্তে মুসলমান হলে? এর কোন কারণ আছে কি?” সে বললো, “হ্যাঁ, আমি পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ইত্যাদি সব কয়টিই পড়াশুনা করেছি। তবে আজকে এমন একটা কথা শুনতে পেলাম একজন ব্যক্তি থেকে, যেটা শুনে আমার মনে হলো, এই কথাটাই সমস্ত আসমানী কিতাবের মূল।” তখন হযরত উমর বিন খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তুমি কি শুনতে পেলে?” তখন সে ব্যক্তি বলতে লাগলো, “আমি শুনতে পেলাম একজন মুসলমানের কাছ থেকে। সে তিলাওয়াত করতেছে,
ومن يطع الله ورسوله ويخش الله ويتقه فاولئك هم الفائزون.
সে একথা বলে তার কিছু সে ব্যাখ্যাও করলো। কি ব্যাখ্যা করলো? সে বললো, “দেখুন! এর মধ্যে কি বলা হয়েছে?” কি বলা হয়েছে? হযরত উমর বিন খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কি বলা হয়েছে? আর তুমি কি বুঝতে পেরেছ?” সে বললো, “এখানে চারটা কথা বলা হয়েছে। এক নাম্বার বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাককে ইতায়াত করলো। এটা হচ্ছে যে আল্লাহ্ পাক-এর ফরযগুলো আদায় করলো।” দুই নাম্বার বলা হয়েছে যে, “আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইতায়াত করলো অর্থাৎ যে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নত গুলো আদায় করলো।” তিন নাম্বার বলা হয়েছে “يخش الله যে, “আল্লাহ্ পাককে ভয় করলো, কিসের জন্য, তার অতীত কালের জন্য, পিছনে সে যে গুণাহখতা করেছে সে জন্য।ويتقه এবং যে আল্লাহ্ পাককে আরো ভয় করলো ও পরহেযগারী ইখতিয়ার করলো, কিসের জন্য? ভবিষ্যতের জন্য فاولئك هم الفائزون সেই ব্যক্তি একমাত্র কামিয়াবী হাছিল করবে।” (সুবহানাল্লাহ) যখন এই ব্যক্তি এই আয়াত শরীফ বললো, তার অর্থ করলো এবং তার ব্যাখ্যা করলো সেটা হযরত উমর বিন খাত্তাব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি শুনলেন। উনি শুনে বললেন যে, “সত্যিই সে সুন্দর ব্যাখ্যা করেছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাককে ইতায়াত করবে অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক-এর ফরযগুলো পালন করবে। আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইতায়াত করবে, সুন্নতগুলো পালন করবে। আল্লাহ্ পাককে তার অতীতকালের জন্য ভয় করবে, পিছনের আমলের জন্য এবং সামনের জিন্দেগীর জন্য যে পরহেযগারী ইখতিয়ার করবে, তাক্বওয়া হাছিল করবে সেই ব্যক্তির পক্ষেই একমাত্র কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব। অন্য কারো পক্ষে সম্ভব নয়। সেটাই আল্লাহ্ পাক হযরত উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাদেরকে বলেছেন,
اطعن الله ورسوله
আল্লাহ্ পাক এবং তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইতায়াত করবে তার জন্যই কামিয়াবী, অন্য কারো জন্য কোন কামিয়াবী সেখানে নেই। কাজেই এই ইতায়াত যারা করবে তাদের যেমন কামিয়াবী, ঠিক তদ্রুপ তাদের জন্য ইছলাহ্ও রয়েছে। এরপর আল্লাহ্ পাক বলেন,
انما يريد الله“নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক চান।” কি চান?
ليذهب عنكم الرجس اهل البيت.
“হে আহ্লে বাইত, হে উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্না! আল্লাহ্ পাক চান, আপনাদের থেকে যত প্রকার অপছন্দনীয়, অপবিত্রতা, অশালীন, অশ্লীলতা অর্থাৎ رجس বলতে যা কিছু বুঝায়। মানুষ رجس এর অর্থ অনেক কিছু করে থাকে, নাপাকী, অপবিত্রতা, অপছন্দনীয়, অশালীন, অশ্লীলতা ইত্যাদি। ইত্যাদি যা কিছু বুঝায় সমস্ত কিছু আপনাদের থেকে দূর করে দিয়ে আল্লাহ্ পাক কি চান? ويطهركم تطهيرا আপনাদেরকে আল্লাহ্ পাক পবিত্র করতে চান। আল্লাহ্ পাক পবিত্র করতে চান পবিত্র করার মতো।” যার জন্য আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে দেখ,
حبب الى من دنياكم ثلاث الطيب والنساء جعلت قرة عينى فى الصلوة.
আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “দেখ, তোমাদের দুনিয়া থেকে তিনটা জিনিসের মুহব্বত আমার অন্তরের মধ্যে ঢেলে দেয়া হয়েছে। তোমাদের দুনিয়া থেকে তিনটি জিনিষের মুহব্বত আমার অন্তরের মধ্যে ঢেলে দেয়া হয়েছে। একটা হচ্ছে, সুগন্ধি, সুঘ্রাণ, আতর, গোলাপ যা কিছু রয়েছে। দুই নাম্বার হচ্ছে, النساء মহিলা। তিন নাম্বার হচ্ছে, নামায। যেটা চোখের শান্তির কারণ।” যার জন্য হাদীস শরীফে আমরা দেখতে পাই আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই রকমেই বলেছেন। কি বলেছেন? অনেক সময় হযরত বিলাল রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে বলেছেন,
ارحنى ارحنى يا بلال.
“হে বিলাল (রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু)! আমাকে শান্তি দাও, ইত্মিনান দাও, পেরেশানী আমার দূর করে দাও, আযান দাও। অর্থাৎ আযান দাও, তুমি আযান দিয়ে আমার অন্তরের পেরেশানী দূর করে দিয়ে আমাকে শান্তি দান করো।” আবার অনেক সময় হুজরা শরীফে প্রবেশ করলে বলতেন,
ارحنى ارحنى ياعائشة.
“হে আয়েশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা! আমাকে শান্তি দান করুন। আমার পেরেশানী দূর করে দিয়ে অস্থিরতা দূর করে দিয়ে আমাকে শান্তি দান করুন।” উভয় স্থানে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই একই কথা বলেছেন, “আমাকে শান্তি দান করা হোক।” এইজন্য মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম, মুহাদ্দিসীন-ই-কিরাম, মুহাক্কিক, মুদাক্কিক, ইমাম, মুজতাহিদ এই হাদীস শরীফ থেকে একটা তত্ত্বমূলক ব্যাখ্যা করেছেন। সেটা হচ্ছে, “একটা লোক আতর-গোলাপ মাখবে, মেখে সে সুঘ্রাণময় হবে, ইতমিনান লাভ করবে, এরপর সে নামায পড়বে।
جعلت قرة عينى فى الصلوة.
“চোখের শীতলতার কারণ হচ্ছে নামায।” সে নামায পড়বে। নামায তার মধ্যে একটা ইত্মিনান এনে দিবে, প্রশান্তি এনে দিবে। এরপর সে তার স্ত্রীর কাছে যাবে, সেখানে গিয়ে সে শান্তি লাভ করবে। সেটাই আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
ارحنى ارحنى يا بلال ارحنى ارحنى يا عائشة الصديقة رضى الله تعالى عنها. حبب الى من دنياكم ثلاث.
“তোমাদের দুনিয়া থেকে তিনটা জিনিষের মুহব্বত দেয়া হয়েছে, তিনটা কারণে। কাজেই যে মহিলাদের ফযীলত, বুযুর্গী, সম্মান রয়েছে এবং তাদের ইছলাহ্, পবিত্রতা হাছিল করার দরকারও রয়েছে। যেই পবিত্রতা আল্লাহ্ পাক খাছ করে উম্মুল মু’মিনীন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুন্নাদেরকে দিয়েছেন এবং উনাদের যারা ক্বায়েম-মোকাম হবেন, উনাদের যারা অনুসারী হবেন, মেছদাক হবেন, আল্লাহ্ পাক তাদেরকে সেই পবিত্রতা, সেই বুযুর্গী, সেই সম্মান দান করবেন। (অসমাপ্ত)
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য
ওয়াজ শরীফ কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ্ শরীফের আলোকে- পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য