খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দীদার মুবারক

সংখ্যা: ২৭৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

বাতিল ফিরকাদের একটা দাবি হচ্ছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেননি। নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ। নাউযুবিল্লাহ। মূলত তারা উনার সুমহান শান মুবারক সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেখবর হওয়ার কারণে এ বিষয়সমূহ বুঝতে পারে না।

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক বুলন্দ করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

অর্থ: হে আমার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার সম্মানিত আলোচনা মুবারক বুলন্দ করেছি। (পবিত্র সূরা ইনশিরাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেহেতু অসীম, তিনি যে সুমহান আলোচনা মুবারক বুলন্দ করেছেন সেটাও অসীম। সাধারণ মানুষের পক্ষে বিন্দুমাত্রও তা বোঝা বা অনুধাবন করা সম্ভব না। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শান মুবারক কেমন তা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اَخْرَجَ عَبْدُ الرَّزَّاقِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بِسَنَدِهٖ عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَبِيْ أَنْتَ وَأُمِّيْ أَخْبِرْنِـيْ عَنْ أَوَّلِ شَيْءٍ خَلَقَهُ اللهُ قَبْلَ الْأَشْيَاءِ؟ قَالَ يَا جَابِرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ إِنَّ اللهَ خَلَقَ قَبْلَ الْأَشْيَاءِ نُوْرَ نَبِيِّكَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ نُوْرِهٖ فَجَعَلَ ذٰلِكَ النُّوْرُ يَدُوْرُ بِالْقُدْرَةِ حَيْثُ شَاءَ اللهُ وَلَـمْ يَكُنْ فِيْ ذٰلِكَ الْوَقْتِ لَوْحٌ وَلَا قَلَمٌ وَلَا جَنَّةٌ وَلَا نَارٌ وَلَا مَلَكٌ وَلَا سَـمَاءٌ وَلَا أَرْضٌ وَلَا شَمْسٌ وَلَا قَمَرٌ وَلَا إِنْسٌ وَلَا جِنٌّ

অর্থ: হযরত ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সনদ সহকারে বর্ণনা করেন যে, হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণনা। হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবকিছুর পূর্বে আপনার যিনি মহাসম্মানিত নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেন।’ অতঃপর সেই মহাসম্মানিত নূর মুবারক মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকের মধ্যে অবস্থান করছিলেন। আর সে সময় লওহো, কলম, বেহেশ্ত, দোযখ, ফেরেশতা, আসমান, যমীন, চন্দ্র, সূর্য, মানুষ ও জিন কিছুই ছিল না। (আল মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ১ম খন্ড ৯ পৃষ্ঠা, শরহে মাওয়াহেব ৮৯ পৃষ্ঠা, আশরাফুল ওসাইল ৩৬ পৃষ্ঠা, আল মিনায়ুল মাক্কীয়া ফি শারহীল হামজিয়া ৯৩ পৃষ্ঠা, আল ফতওয়ায়ে হাদিছিয়্যাহ ৮৫ পৃষ্ঠা, আন নুরুস সাফির আন আখবারি কারনীল আশির ২২ পৃষ্ঠা, বাহাজাতুল মাহাফিল ওয়া বুগিয়াতুল আমাছিল ১ম খন্ড ২২ পৃষ্ঠা, আল মাওয়ারিদুর রাবী ২২ পৃষ্ঠায়, তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৭ খন্ড ১০৫ পৃষ্ঠায়, ‘সিরাজুমমুনীরা’ ৪৩ পৃষ্ঠায়, সিরাতে হলবীয়া ১/৩০, মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃষ্ঠা, হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫, তারীখুল খমীস ১/২০, দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃষ্ঠা, কাশফুল খফা ১/৩১১, নুজহাতুল মাজালীস ১ খন্ড, নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪৭ পৃষ্ঠা, মজমুয়ায়ে ফতোয়া লখনবী ২/২৬০)

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে যা স্পষ্ট বোঝা যায় তা হচ্ছে, একটা সময় সৃষ্টি জগতে কোন কিছুই ছিলো না। এসময় স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মধ্যে কোন পর্দাও ছিলো না।  তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক সৃষ্টি করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকে অবস্থান করছেন। এ থেকে প্রমাণ হয়, দায়েমী দীদার মুবারকে অবস্থান করছেন। সুবহানাল্লাহ!

আজ থেকে প্রায় ১১০০ বছর আগে লিখিত একখানা কিতাব সেখানে সনদসহ একটি হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে, (হাদীছ শরীফ উনার সনদ দেখতে পবিত্র আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৭১তম সংখ্যা)

عَنْ حَضْرَتْ عَلِىِّ بْنِ أَبِـىْ طالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَنَّهٗ قَالَ: اِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالٰي خَلَقَ نُوْرَ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ أَنْ يَّـخْلُقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَالْعَرْشَ وَالْكُرْسِيَّ وَاللَّوْحَ وَالْقَلَمَ وَالْـجَنَّةَ وَالنَّارَ

অর্থ: খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করেছেন আসমান, যমীন, আরশ, কুরসী, লওহ, কলম, জান্নাত, জাহান্নাম সৃষ্টির পূর্বে।” (মা‘য়ানিল আখবার ৩০৬-৩০৭ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল মা’রিফা, বাইরুত, লেবানন; শরফুল মুস্তফা ১ম খন্ড ৩০৫-৩১১ পৃষ্ঠা, হাদীছ শরীফ নং ৭৯, সুলওয়াতুল আরেফীন ১ম খন্ড ৬৪ পৃষ্ঠা)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফ থেকেও আমরা দেখতে পেলাম সমগ্র সৃষ্টি জগতে যা আছে সবকিছুর পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নূর মুবারক সৃষ্টি করা হয়েছে। অর্থাৎ সৃষ্টির শুরু থেকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দায়েমী দীদার মুবারকে অবস্থান করছেন। সুবহানাল্লাহ!

তারপরও দুনিয়ার সাধারণ মানুষকে বিষয়টা আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝানোর জন্য বলা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত মি’রাজ শরীফ হয়েছে ১ বার। এখন মহান আল্লাহ পাক উনার সরাসরি দীদার মুবারক বিষয়ে আমরা কিছু দলীল পেশ করবো।

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে ছহীহ সনদে বর্ণিত আছে-

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ الله تَعَالٰى عَنْهُ حّدَّثَنِـيْ أَبِىْ ثَنَا عَفَّانُ ثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ كَيْسَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ ثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ قَتَادَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ عِكْرَمَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : رَأَيْتُ رَبِّيْ تَبَارَكَ وَتَعَالٰى

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি মহান আল্লাহ পাক তাবারাকা ওয়া তায়ালা উনাকে দেখেছি। সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ ১/২৯০ : হাদীছ শরীফ ২৬৩৪)

হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-

قَوْلُ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ عَنْ قَتَادَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ أنَسًا رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ: رَأٰى سَيِّدُنَا مُـحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ

অর্থ: হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত রব তায়ালা উনাকে দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! [আস সুন্নাহ লি ইবনে আবি আছিম ১/১৮৯ : হাদীছ শরীফ ৪৩৫; লেখক: হযরত ইবনে আবি আছিম রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ২৮৭)]

হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত-

قَوْلُ حَضْرَتْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ دَاوٗدُ بْنُ حُصَيْنٍ سَأَلَ مَرْوَانُ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ: هَلْ رَأٰى سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ عَزَّ وَجَلَّ؟ فقَالَ: “نَعَمْ قَدْ رَاٰهُ

অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার কাছে মারওয়ান জানতে চাইলো, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সুমহান রব তায়ায়া উনাকে দেখেছেন কিনা? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! (আস সুন্নাহ লি আব্দিল্লাহ ইবনে আহমদ ১/১৭৬)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সরাসরি দেখেছেন এ বিষয়ে আরো বর্ণিত আছে-

حَدَّثَنَا سَعِيْدُ بْنُ يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ الْأُمَوِيُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ  عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ فِيْ قَوْلِ اللهِ ‏(‏وَلَقَدْ رَاٰهُ نَزْلَةً أُخْرٰى عِنْدَ سِدْرَةِ الْمُنْتَهٰى)‏ ‏(‏فَأوْحٰىۤ إِلٰى عَبْدِه مَاۤ أَوْحٰى‏)‏ ‏(‏فكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنٰـى)‏‏.‏ قَالَ اِبْنُ عَبَّاسٍ قَدْ رَاٰهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তখন উনার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যা পবিত্র ওয়াহী মুবারক করার তা পবিত্র ওয়াহী মুবারক করলেন” (পবিত্র সূরা নাজম শরীফ : ১০) এবং “ফলে উনাদের মধ্যে ধনুকের দুই মাথা পরিমাণ বা তারও কম পার্থক্য রইল” (পবিত্র সূরা নাজম শরীফ: ৯)। আয়াত শরীফসমূহ প্রসঙ্গে হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ কিতাবুত তাফসীর, হাদীছ শরীফ নং ৩২৮০)

মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কালাম এবং উক্ত কালাম মুবারক উনার ব্যাখ্যায় রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিই স্পষ্ট ব্যাখ্যা করে দিলেন যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে সরাসরি দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে আরো বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ عِكْرَمَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ: أَتَعْجَبُوْنَ أَنْ تَكُوْنَ الْـخُلَّةَ لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالْكَلَامُ لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ، وَالرُّؤْيَةُ لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, এতে কি আপনারা আশ্চর্য বোধ করেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীল করেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার সাথে কথা বলেছেন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দীদার মুবারক হাদীয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (আস সুন্নাহ লি ইবনে আছেম ১/১৯২, মুস্তাদরাক আলাছ ছহীহাঈন ২/৫০৯: হাদীছ ৩৭৪৭, আস সুন্নাহ লি আব্দিল্লাহ ইবনে আহমদ ১/২৯৯, নাসাঈ সুনানে কুবরা ৫/১৬৫, তাওহীদ লি ইবনে খুযাইমা ১/৪৭৯)

উপরোক্ত হাদীছ শরীফখানা উল্লেখ করে হযরত ইমাম হাকেম নাঈসাবুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-

هٰذَا حَدِيْثٌ صَحِيْحٌ عَلٰى شَرْطِ الْبُخَارِيِّ وَلَـمْ يُـخْرِجَاهُ

অর্থ: “ইমাম হযরত বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও ইমাম হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের শর্তে পবিত্র হাদীছ শরীফখানা ছহীহ যদিও উনারা উনাদের কিতাবে তা বর্ণনা করেননি।”

ইমাম যাহাবীও বর্ণনাটি বুখারীর শর্তে ছহীহ বলেছেন।

ভিন্ন একটি সনদে বর্ণিত আছে-

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ إِسْمَاعِيْلَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا يَحْيـَى بْنُ السَّرِىُّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا أَبُوْ النَّضَرِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ حَدَّثَنَا قَيْسٌ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ عَاصِمٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ الشَّعْبِىِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ إِنَّ اللهَ اصْطَفٰى حَضْرَتْ إِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِالْـخُلَّةِ وَاصْطَفٰى حَضْرَتْ مُوْسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ بِالْكَلَامِ وَاصْطَفٰى سَيِّدَنَا مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْرُّؤْيَةِ

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীল হিসাবে মনোনীত করেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনাকে উনার কথা মুবারক বলার জন্য মনোনীত করেছেন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উনার দীদার মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (রুইয়াতুল্লাহ লি দারা কুতনী ১/১৮৪ : হাদীছ ২৯৪)

হযরত ইমাম শাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত-

عَنْ حَضْرَتِ الشَّعْبِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، قَالَ لَقِيَ اِبْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ كَعْبًا بِعَرَفَةَ فَسَأَلَهٗ عَنْ شَيْءٍ، فَكَبَّرَ حَتّٰـى جَاوَبَتْهُ الْـجِبَالُ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ إِنَّا بَنُوْ هَاشِمٍ ‏.‏ فَقَالَ كَعْبٌ إِنَّ اللهَ قَسَمَ رُؤْيَتَهٗ وَكَلاَمَهٗ بَيْنَ سَيِّدِنَا مُـحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَحَضْرَتْ مُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ فَكَلَّمَ مُوسٰى عَلَيْهِ السَّلَامُ مَرَّتَيْنِ وَرَاٰهُ سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّتَيْنِ ‏

অর্থ: হযরত ইমাম শাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র আরাফাতের ময়দানে হযরত কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে দেখা করে একটি কথা (মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারক প্রসঙ্গে) জিজ্ঞেস করেন। এতে তিনি এত উচ্চ স্বরে তাকবীর ধ্বনি দিলেন যে, পাহাড় পর্যন্ত উচ্চ গম্ভীর আওয়াজ করে উঠল (প্রতিশব্দ ভেসে এলো)। হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা সম্মানিত বনু হাশিম গোত্রীয়। হযরত কা’ব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার  সম্মানিত দীদার (দর্শন) ও সম্মানিত কালাম মুবারক (সরাসরি কথা বলা) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং হযরত সাইয়্যিদুনা মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে বন্টন  করেছেন। সুতরাং হযরত সাইয়্যিদুনা মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে দু’বার কথা বলেছেন এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দু’বার উনাকে দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! (সুনানে তিরমিযী: হাদীছ ৩২৭৮)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-

حَدَّثَنَا مُـحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ نَبْهَانَ بْنُ صَفْوَانَ الْبَصْرِيُّ الثَّقَفِيُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيْرٍ الْعَنْبَرِيُّ أَبُوْ غَسَّانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جَعْفَرَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، عَنِ الْـحَكَمِ بْنِ أَبَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، عَنْ عِكْرِمَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، عَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ رَاٰى سَيِّدُنَا مُـحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ.‏ قُلْتُ أَلَيْسَ اللهُ يَقُوْلُ‏ ‏(‏لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ)‏ قَالَ وَيْحَكَ ذَاكَ إِذَا تَـجَلّٰى بِنُوْرِهِ الَّذِيْ هُوَ نُورُهٗ وَقَدْ رَاٰى سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ مَرَّتَيْنِ

অর্থ: হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার রব উনাকে দেখেছেন। আমি বললাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি কি বলেননি যে, “চোখের দৃষ্টি উনাকে পরিবেষ্টন করতে পারে না, কিন্তু তিনি পরিবেষ্টন করেন সকল দৃষ্টি” (সূরা আল-আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩)? তিনি বললেন, আপনার জন্য আফসোস! তা তো সেই অবস্থায় যখন তিনি সম্মানিত নূর মুবারক দ্বারা প্রকাশিত হবেন। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার রব তায়ালা উনাকে দু’বার দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ ৩২৭৯)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ الْـحَضْرَمِيُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا جَمْهُوْرُ بْنُ مَنْصُوْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيْلُ بْنُ مُجَالِدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، عَنْ مُجَالِدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، عَنِ الشَّعْبِيِّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ، قَالَ:رَاٰى سَيِّدُنَا مُـحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ عَزَّ وَجَلَّ مَرَّتَيْنِ: مَرَّةً بِبَصَرِه وَمَرَّةً بِفُؤَادِه

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার রব তায়ালা উনাকে দু’বার দেখেছেন। একবার সরাসরি পবিত্র নুরুল মুনাওয়ার (চোখ মুবারক) দ্বারা আরেকবার অন্তর মুবারক উনার চক্ষু দ্বারা। সুবহানাল্লাহ! (মু’জামুল কবীর তাবরানী ১০/২৩৭: হাদীছ শরীফ ১২৪০০, মাযমাউয যাওয়াইদ ১/৯৩)

মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত দীদার মুবারক বিষয়ে আরো একখানা হাদীছ শরীফ আছে যা কমপক্ষে ৭ টি সনদে বর্ণিত। পবিত্র হাদীছ শরীফ খানা হচ্ছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِيْ عُبَيْدَةَ بْنِ الْـجَرَّاحِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ  رَأَيْتُ رَبِّيْ عَزَّ وَجَلَّ فِيْ أَحْسَنِ صُورَةٍ

অর্থ: হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে জাররাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি মহান রব্বুল আ’লামীন উনাকে উত্তমরূপে দেখেছি। (আদ দুয়া লি তাবরানী ১/৪১৯: হাদীছ শরীফ নং ১৪১৬)

আরো একটি সনদে বর্ণিত আছে-

حَدَّثَنَا يَـحْيَى بْنُ عُثْمَانَ بْنِ كَثِيرٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيٰـى، حَدَّثَنَا اِبْنُ ثَوْبَانَ، حَدَّثَنَا أَبِيْ عَنْ مَكْحُوْلٍ، وَاِبْنِ أَبِيْ زَكَرِيَّا عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَائِشٍ الْـحَضْرَمِيِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَانِـيْ رَبِّـي اللَّيْلَةَ فِيْ أَحْسَنِ صُوْرَةٍ

অর্থ: হযরত ইবনে আইশ হাদ্বরামী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান রব্বুল আ’লামীন তিনি পবিত্র মীরাজ শরীফ উনার রাতে উত্তম বা হাকীকী ছূরত মুবারকে তাশরীফ আনেন। সুবহানাল্লাহ! (আস সুন্নাহ লি ইবনে আবি আছিম ১/২০৪: হাদীছ ৪৬৮)

আরো একখানা সনদ হচ্ছে-

حَدَّثَنَا أَبُو مُوسٰى رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، حَدَّثَنَا أَبِيْ عَنْ قَتَادَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ أَبِيْ قِلابَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنْ خَالِدِ بْنِ اللَّجْلَاجِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ رَبِّيْ عَزَّ وَجَلَّ فِي أَحْسَنِ صُوْرَةٍ

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি মহান রব্বুল আ’লামীন উনাকে উত্তমরূপে দেখেছি। (আস সুন্নাহ লি ইবনে আবি আছিম ১/২০৪: হাদীছ ৪৬৯)

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে হাক্কীকীভাবে দেখেছেন সে বিষয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَيْتُ رَبِّيْ عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ كَمِثْلِه شَيْءٌ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আমার রব উনাকে দেখেছি। উনার কোন মেছাল নেই।” সুবহানাল্লাহ! [আল ফিরদাউস লি দায়লামী ২/২৫৪: হাদীছ শরীফ ৩১৮৩; লেখক: ইমাম হযরত দায়লামী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৫০৯ হিজরী; প্রকাশনা: দারু কুতুব আল ইলমিয়া, বৈরুত, লেবানন]

এই আলোচনা থেকে আমরা মারফু ও মাওকুফ তথা সরাসরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে এবং উনার সম্মানিত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের থেকে দলীল জানলাম। এবার হযরত তাবেয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বর্ণনা বা মাকতু হাদীছ শরীফ থেকে দলীল সমূহ জানাবো-

হযরত ইকরামা রহতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ১০৬ হিজরী) উনার মত:

حَدَّثَنَا اِبْنُ حُمَيْدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ حَدَّثَنَا عِيْسَى بْنُ عُبَيْدٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ سَمِعْتُ عِكْرِمَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ  وَسُئِلَ هَلْ رَأٰى سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ قَالَ نَعَمْ ، قَدْ رَاٰى رَبَّهٗ.

অর্থ: “হযরত ঈসা ইবনে উবাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে শুনেছি। উনাকে প্রশ্ন করা হলো, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কি উনার রব তা‘য়ালা উনাকে দেখেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ! অবশ্যই তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে তাবারী ২২/২২: হাদীছ শরীফ ৩২৭৪৯, ইবনে আবী হাতিম ১৮৬৯৭, তাফসীরে দুররে মানছূর ৬/১৫৯)

حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ أَسْلَمَ قَالَ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ أَخْبَرَ عَبَّادٌ يَعْنِيْ اِبْنَ مَنْصُوْرٍ قَالَ وَسَأَلْتُ عِكْرِمَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ، عَنْ قَوْلِه : {مَا كَذَبَ الْفُؤَادُ مَا رَأٰى} قَالَ : أَتُرِيْدُ أَنْ أَقُوْلَ لَكَ قَدْ رَاٰهُ نَعَمْ قَدْ رَاٰهُ ، ثُمَّ قَدْ رَاٰهُ ، ثُمَّ قَدْ رَاٰهُ حَتّٰـى يَنْقَطِعَ النَّفَسُ

অর্থ: “হযরত ইবনে মানছূর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত, হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে এ পবিত্র আয়াত শরীফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে (তিনি যা দেখেছিলেন অন্তর তা অস্বীকার করেনি) তিনি বলেন, আমি আপনাকে অবশ্যই বলতে চাই তিনি অবশ্যই দেখেছেন, হ্যাঁ অবশ্যই দেখেছেন, অতঃপর অবশ্যই দেখেছেন, অবশ্যই দেখেছেন। এভাবে বলতে থাকতেন। এমনকি উনার শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতো বলতে বলতে।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে তাবারী ২২/২২: হাদীছ শরীফ ৩২৭৪৮)

قَالَ رَجُلٌ: أَلَيْسَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: {لَا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ} ؟ فَقَالَ عِكْرِمَةُ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ: أَلَيْسَ تَرَى السَّمَاءَ؟ قَالَ: بَلَى، قَالَ: فَكُلَّهَا تَرَى؟

অর্থ: “এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, মহান আল্লাহ পাক তিনি কি বলেননি যে, “দৃষ্টিসমূহ উনাকে পেতে পারে না [পবিত্র সূরা আনআম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৩] (তাহলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিভাবে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখলেন?) প্রশ্নের জবাবে হযরত ইকরামা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তুমি কি আসমানে (আসমানের উপরের জান্নাতে প্রবেশ করে) মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখবে না? লোকটি বলল, অবশ্যই দেখবো। তিনি বললেন, এটাতো এমনই। (মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাত আসমান অতিক্রম করে গিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন। তাই এ আয়াতের বিরোধিতা হচ্ছে কিভাবে?) [রুয়াতুল্লাহ লি ইমাম দারাকুতনী, হাদীছ শরীফ নং ২৭৮, আসসুন্নাহ লি ইবনে আবী আছেম হাদীছ শরীফ ৪৩৪]

আমিরুশ শারীয়াত ওয়াত তরীকাত হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মত:

عَبْدُ الرَّزَّاقِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اَرٰنَا اِبْنُ التَّيْمِيُّ، عَنِ الْمُبَارَكِ بْنِ فُضَالَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ كَانَ الْحَسَنُ الْبَصْرِىُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَحْلِفُ ثَلَاثَةً لَقَدْ رَأٰي سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ

অর্থ: “ইমাম আব্দুর রাজ্জাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তিনবার কসম করে বলেছেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে আব্দুর রাজ্জাক ৩/২৫২ : হাদীছ শরীফ ৩০৩৩; লেখক: ইমাম হযরত আব্দুর রাজ্জাক সানআনী (ওফাত ২১১ হিজরী) , তাফসীরে কুরতুবী ৭/৫৬,  উমদাতুল ক্বারী ২২/৪৮৬, আশ শিফা ১/১৯৭)

হযরত ইমাম শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ১২৫ হিজরী) উনার মত:

قَالَ حَضْرَتِ الزُّهْرِيُّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ بِأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاٰي رَبَّهٗ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ

অর্থ: “হযরত ইমাম শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার রাতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফতহুল বারী ৮/৪৭৪)

উপরোক্ত আলোচনায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং হযরত তাবিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের দলীল থেকে প্রমাণ পেলাম ও জানলাম সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন। এখন আমরা সম্মানিত হযরত তা’বে তাবেয়ীন ও পরবর্তী হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের মতামত জানবো-

বিখ্যাত তা’বি তাবিয়ী হযরত ইব্রাহীম ইবনে তহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত:১৬৮ হিজরী)  উনার মত:

قَالَ حَضْرَتْ حَفْصُ بنُ عَبْدِ اللهِ: سَمِعْتُ إِبْرَاهِيْمَ بْنَ طَهْمَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُوْلُ وَاللهِ الَّذِيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ، لَقَدْ رَاٰى سَيِّدُنَا مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَبَّهٗ

অর্থ: হযরত ইব্রাহীম ইবনে তহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম তিনি ব্যাতীত কোন ইলাহ নেই, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ। (সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩/৪২৮, তারীখুল ইসলাম লি ইমাম যাহাবী ১০/৬২)

হাম্বলী মাযহাব উনার ইমাম হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত: ২৪১ হিজরী) উনার মত:

وَعَنِ الْإِمَامِ أَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ أَنَّهٗ كَانَ يَقُوْلُ : إِذَا سُئِلَ عَنِ الرُّؤْيَةِ رَاٰهُ رَاٰهُ حَتّٰـى يَنْقَطِعَ نَفَسُهٗ

অর্থ: হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হতো মহান আল্লাহ পাক উনাকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখেছেন কিনা? তখন তিনি বলতেন, হ্যাঁ দেখেছেন! হ্যাঁ দেখেছেন! এভাবে বলতে থাকতেন এমনকি বলতে বলতে উনার শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতো। সুবহানাল্লাহ! (রুহুল মা’য়ানী ১৪/৫৪)

হযরত ইবনে খুজাইমা রহমতুল্লাহি আলাইহি (ওফাত ৩১১ হিজরী) উনার মত:

اَلْإِمَامُ اِبْنُ خُزَيْـمَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ نَضَرَ فِيْ كِتَابِهِ التَّوْحِيْدِ الْقَوْلَ بِأَن َّالنَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاٰى رَبَّهٗ لَيْلَةَ الْمِعْرَاجِ

অর্থ: হযরত ইবনে খুজাইমা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার কিতাব “কিতাবুত তাওহীদ” উনার মধ্যে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মিরাজ শরীফ উনার রাতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুত তাওহীদ ২/৪৭৭)

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম, হযরত তা’বে তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং অসংখ্য উলামায়ে কিরাম উনারা এ বিষয়ে একমত যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন।

এ বিষয়ে আরো অসংখ্য দলীল রয়েছে। মানুষের বোঝার জন্য যদিও ভাষাগতভাবে বলা হয় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখেছেন অথচ হাক্বীকত হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারকে অবস্থান করছেন এবং দায়েমী দীদার মুবারকেও মশগুল রয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

এ বিষয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই, যে বা যারা এ বিষয়ে চু-চেরা ক্বীল-ক্বাল করে তারা তারা বহু সংখ্যক পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ অস্বীকার করার কারণে কাফির হিসেবে সাব্যস্ত। তাদের থেকে সাবধান থাকা সকলের জন্য আবশ্যক।

মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলায় সবাইকে ছহীহ সমঝ দান করুন। আমীন।

-খাজা মুহম্মদ নুরুদ্দীন পলাশ।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার পৃথিবীর ইতিহাসে নযীরবিহীন এক অনন্য বেমেছাল অভুতপূর্ব চির বিস্ময়কর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাজদীদ মুবারক

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা কুফরী

মুহব্বত, ইতায়াত ও সন্তুষ্টি মুবারকের মূলেই হচ্ছেন সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

ছাহিবু ক্বাবা ক্বওসাইনি আও আদনা, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ ব্যবহৃত ‘মুত্বহ্হার এবং মুত্বহ্হির’ সম্মানিত লফয মুবারক উনাদের সম্মানিত অর্থ এবং তাৎপর্য মুবারক