গত ছয় বছরে মুল এডিপির আকার বেড়েছে ২১৪ শতাংশ, চলতি বছরেও বাড়ছে এডিপির আকার। বিপরীতে দেশের জনগনের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের কোন পরিকল্প নাই নেই। বস্তুবাদী উন্নয়ন কাঠামোর কারণে পকেট ভরছে গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজ-লোপাটকারীদের। দেশের মানবসম্পদের উন্নয়ন না করে বস্তুগত উন্নয়ন করা প্রতারণা মাত্র।

সংখ্যা: ২৭৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বিভাগ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার প্রাথমিকভাবে এক লাখ ৯৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব করেছে। এটি জিডিপির ৬.৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত ছয় অর্থবছরে মূল এডিপির আকার বেড়েছে প্রায় ২১৪ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, সেগুলোর মোট ব্যয় ১৫ লাখ কোটি টাকার বেশি।

তবে বছরের পর বছর ধরে এডিপির আকার ও ব্যয় বাড়লেও এর বাস্তবায়নের হার আশানুরুপ নয়। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে কিন্তু তার বাস্তবায়নে কোনো গতি নেই। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) এডিপির মাত্র ৩৯ দশমিক ১৩ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। আগের অর্থবছর একই সময় হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। অর্থবছরের শুরুতে বরাদ্দ ছাড় করতে প্রকল্প পরিচালকদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, আইএমইডি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রত্যাশিত গতি আসেনি এডিপি বাস্তবায়নে। টাকার অংকে বাস্তবায়ন বাড়লেও গুণগত পরিবর্তন আসেনি। প্রতিবছর তাড়াহুড়ো করে অর্ধেকের বেশি অর্থ ব্যয় হয় শেষ দুই-তিন মাসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরের পর বছর ধরে এডিপির আকার বাড়লেও তা দেশবাসীর জন্য কতটু সুফল বয়ে এনেছে, দেশবাসীর কতটা উন্নতি হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারন প্রতিবছর সরকার বহুবিধ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। মেগা প্রকল্পেও ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু দেশে দারিদ্রতা, পুষ্টিহীনতা, চিকিৎকাহীনতা তথা সংবিধানে উল্লেখিত মৌলিক অধিকার (খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণের কোন মেগাপ্রকল্প বা প্রকল্প হাতে নেয়া যাচ্ছেনা। বর্তমানে রাজধানীতে ৬০ লাখ বস্তিবাসী রয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৩ কোটি লোক গৃহহীন রয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ পথশিশু রয়েছে। যারা নূন্যতম মৌলিকা অধিকারের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। গত ১০ বছরে অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ লাখ। দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার প্রবণতা দেখা গেছে। বেকারের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে ১০ লাখে গিয়ে ঠেকেছে। চাকুরীর অভাবে বেকাররা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ইনসিডিনের তথ্যমতে, দেশে ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নদীভাঙ্গনসহ নানা দুর্যোগের শিকার হয়ে ভূমিহীন হয়েছে। কৃষকদের অধিকার আদায় হচ্ছেনা। কৃষকরা ধারকর্য করে ফসল ফলালেও সেই ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে তা পরিণত হচ্ছে মাছ ও গোখাদ্যে। রাস্তায় ফসল ফেলে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে কৃষকদের। আর এসবের কারণে প্রকট হয়েছে ধনী-গরিব বৈষম্য। দেশের ধনীরা দিন দিন অতি ধনী এবং গরীবরা দিন দিন অতিদারিদ্রতার দিকে চলে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৩ অনুযায়ী, ২০১০ সালে মোট জাতীয় আয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানের ৫ শতাংশ দরিদ্র মানুষের অংশীদারিত্ব কমে মাত্র দশমিক ৭৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ৫ শতাংশ ধনীর অধিকারে রয়েছে মোট আয়ের ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, এডিপির পুরো অর্থ হচ্ছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে এই উন্নয়ন কাদের জন্য? সংবিধানের ব্যাখা অনুযায়ী, দেশের সকল উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হবে দেশের জনগনের উন্নয়ন। এখানে দেশের উন্নয়নের কথা বলা হয়নি। কারন যতক্ষন পর্যন্ত না দেশের মানুষের তথা দেশের মানবসম্পদের উন্নয়ন না হবে ততক্ষন পর্যন্ত কোনোভাবেই দেশের উন্নয়ন হবেনা। দেশের জনগন হচ্ছে দেশের উন্নয়নের ধারক বাহক। কিন্তু বর্তমানে সরকারে শত শত উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করলেও এই উন্নয়ন কর্মসূচির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি সেই জনগনকেই বঞ্চিত রাখছে।

বস্তুবাদী উন্নয়নের নামে জনগণকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে সরকার। অন্যদিকে, দেশের মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরছে। লাখ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করে বিভিন্ন অতিব্যয়ী মেগা প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হলেও সেগুলো একেকটি পরিণত হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের উদরপূর্তির অন্যতম মাধ্যমে। হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে। অথচ, দেশের অর্থনীতিকে পরিচালনাকারী উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী তাদের ন্যায্য অধিকারটুকু পাচ্ছেনা। উদাহরণস্বরূপ: দেশের ৭০ হাজার পাটকল শ্রমিক ৪ বছর ধরে তাদের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেনা। যা মোট ১৬১২ কোটি টাকা। অথচ সরকারের ভুল কৌশল ও অপচয়নীতির কারণে যানজট নিরসনের জন্য গ্রহণ করা প্রকল্পগুলোতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা পানিতে গেছে। এককথায় অপচয় হয়েছে। এটা কিঞ্চিত একটি উদাহরণ মাত্র। এরকম ভূরি ভূরি অপচয় ও লোপাটের উদাহরণ রয়েছে।

বলাবাহুল্য, দেশের সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টমহল সবসময় এই মেগাপ্রকল্পগুলোকে উন্নয়নের মূলমন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নের মূলমন্ত্র হচ্ছে দেশের মানবসম্পদের উন্নয়ন। আর যারা বা যে দেশই এই সুত্রটি অনুধাবন করতে পেরেছে সে দেশই সত্যিকার অর্থে উন্নত হতে পেরেছে। উদাহরণস্বরূপ: ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির পর মালয়েশিয়া ভঙ্গুর একটি রাষ্ট্র ছিলো। তখন দেশের মাথাপিছু আয় ছিলো মাত্র ৩০৪ ডলার। কিন্তু পরবর্তীতে সে দেশের সরকারপ্রধান ভঙ্গুর এই দেশটিকে বর্তমানে সেইসকল ১৩ টি দেশের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করেছে যাদের ২৫ বছর ধরে ৭ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি করছে। বর্তমানে মালেশিয়ার মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারেরও বেশি। আর এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে একমাত্র মানবসম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্টমহল প্রথমেই দেশের সাধারণ মানুষের আয় ক্ষমতা বাড়িয়েছে। তাদেরকে স্বাবলম্বী করেছে। ফলে মালয়েশিয়ার দারিদ্রের হার মাত্র ২ শতাংশ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারই এখনো ২৫ কোটি জনগণের মধ্যে অধিকাংশের জন্যই পূরণ করতে পারেনি সরকার। কিন্তু সে সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সরকারের নজর নেই। এটা বঙ্গবন্ধুর শোষণমুক্ত সোনার বাংলার গড়ার অন্তরায়। বঙ্গবন্ধু বলেছেন, আমরা শোষিতের পক্ষে’। সেটা প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। তাই শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে উচিত- এডিপির আকার বাড়িয়ে আত্মতৃপ্তিতে না ভুগে এবং বস্তুবাদী উন্নয়ন ব্যবস্থা বর্জন করে মানববাদী উন্নয়ন ব্যবস্থায় মনোনিবেশ করা।

মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)