-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল হাসান
বর্তমান সংখ্যার আলোচনাঃ হিলাল বা বাঁকা চাঁদ দেখতে পাওয়ার শর্তসমূহের মধ্যে “পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব” এবং “পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব” আরও দুটি শর্ত। এ সংখ্যা এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। আকাশে বাঁকা চাঁদ দেখতে পাবার জন্যে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব এবং পৃথিবী থেকে সূর্যের দুরত্ব এ দুটো বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বা মাপকাঠি না হলেও মাঝে মাঝে এ দুটো বিষয়ের জন্য চাঁদ কখনও সরু বা পুরু এবং কখনও অমাবস্যার পর কম বয়সে কখনও বা বেশী বয়সে চাঁদ দৃশ্যমান হয়। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব আসলে কত? প্রায় বইগুলোতে লেখা থাকে ৪০০,০০০ কিলোমিটার। কিন্তু আসলে পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না। কেননা পৃথিবীর চতুর্দিকে চাঁদের কক্ষপথ কখনই পরিপুর্ণ গোল নয় বরং উপবৃত্তাকার। সে কারণে কখনও চাঁদ পৃথিবীর কাছে থাকে এবং কখনও দূরে অবস্থান করে। তার মানে এই নয় যে, শুধু অমাবস্যা এবং জোৎছনার সময় চাঁদ পৃথিবীর কাছে বা দূরে থাকে। তা যে কোন সময়ই হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ২০০৬ সালে পৃথিবী থেকে চাঁদের সর্বনিম্ন দূরত্ব ছিল ৩৫৬,৮৮৪ কিলোমিটার। ফেব্রুয়ারীর ২৭ তারিখে এবং সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল ৪০৬,৫০০ কিলোমিটার। সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন দূরত্ব থেকে প্রায় ১৪ ভাগ দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল। এই দূরত্ব প্রতি বছর বিভিন্ন তারিখে হয়ে থাকে। চাঁদ কখন, কোথায় প্রথম দৃশ্যমান হবে তার সাথে পৃথিবী থেকে চাঁদের এই দূরত্বের কম- বেশীর বিষয়টি কিছুটা জড়িত। বলা হয় পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ১৫০,০০০,০০০ কিলোমিটার। কিন্তু সূর্যের চতুর্দিকে পৃথিবীর কক্ষপথও পুরোপুরি গোলাকার নয় বরং উপবৃত্তাকার। সুতরাং পৃথিবী কখনও সূর্যের কাছে থাকে এবং কখনও দূরে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে ২০০৬ সালে পৃথিবী থেকে সূর্যের সর্বনিম্ন দূরত্ব ছিল ১৪৭,১০৩,৬০০ কিলোমিটার। জানুয়ারীর ৪ তারিখে। আবার পৃথিবী থেকে সূর্যের সর্বোচ্চ দূরত্ব ছিল ১৫২,০৯৫,৭০০ কিলোমিটার। জুলাই মাসের ৩ তারিখে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন দূরত্ব থেকে ৩.৪ ভাগ দূরত্ব বেড়ে যায়। সুতরাং চাঁদ ও পৃথিবীর সূর্যের কাছাকাছি অবস্থান এবং কখনও দূরে অবস্থানের বিষয়টিও চাঁদ কখন, কোথায় প্রথম দৃশ্যমান হবে তার সাথে জড়িত। এছাড়াও পৃথিবীর বিষুবরেখার তল পৃথিবীর কক্ষপথের তলের কৌণিক ব্যবধান ২৩.৫ ডিগ্রী। এর ফলে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ জুন মাসে সূর্যের দিকে হেলে থাকে এবং ডিসেম্বর মাসে বিপরীত দিকে থাকে। এ বিষয়গুলোও নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদ কখন, কোথায় প্রথম দেখা যাবে। ১৪২৯ হিজরীর পবিত্র রবীউল আউয়াল মাসের চাঁদের রিপোর্টঃ নিউমুন সংঘটিত হবে শুক্রবার, ৭ই মার্চ, ১৭টা ১৪ মিনিটে (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)। নিউমুনের দিন পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা যাবে না। নিউজিল্যান্ড, এবং অস্ট্রেলিয়া ছাড়া পৃথিবীর প্রায় বেশির ভাগ অঞ্চলেই চাঁদ দেখা যাবে শনিবার, ৮ই মার্চ। সৌদি আরবে চাঁদ প্রথম দেখা যেতে পারে শনিবার, ৮ই মার্চ। বাংলাদেশ ও১৪২৯ হিজরীর পবিত্র রবীউল আউয়ার মাসের চাঁদের রিপোর্টঃ বাংলাদেশে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফের চাঁদ তালাশ করতে হবে রবিবার, ৯ই মার্চ। ৯ই মার্চ চাঁদ দেখতে পেলে সোমবার, ১০ই মার্চ হবে পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফের পহেলা তারিখ। আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত রুইয়াতে হিলাল মজলিসের সকল প্রতিনিধিগণকে সেদিন অর্থাৎ রবিবার, ৯ই মার্চ সন্ধ্যায় আকাশে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করা গেল।