চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪২

সংখ্যা: ২০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

বর্তমান সংখ্যার আলোচনা: ইহুদীদের মদদপুষ্ট হয়ে এবং সউদী ওহাবী শাসকগোষ্ঠীর অর্থে সাহায্যপ্রাপ্ত হয়ে সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের অলীক স্বপ্ন নিয়ে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠন সারা দেশে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
Real Hizri Calendar Implementation Council Bangladesh নামে এই সংগঠনটি সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে। সারা বিশ্বে একটি হিজরী ক্যালেন্ডার অনুসরণের পক্ষে (অর্থাৎ সারা বিশ্বে একদিনে ঈদ পালন করার পক্ষে) তারা ৯০টি খোঁড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের বর্ণিত শরীয়তের খিলাফ এই মনগড়া যুক্তির শরীয়তসম্মত এবং সঠিক মতামত প্রকাশ করবো ইনশাআল্লাহ। যেন সাধারণ মুসলমানগণ চাঁদের তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে। তারা লিখেছে-
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

এ সংখ্যায় আমরা আলোচনা করবো পবিত্র যিলহজ্জ মাসের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সউদী সরকারের কারচুপি প্রসঙ্গে।
প্রথমেই আসা যাক এ বছর অর্থাৎ ১৪৩১ হিজরীর পবিত্র যিলহজ্জ মাসের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সউদী আরব কি পদক্ষেপ নিতে পারে সে প্রসঙ্গে। ৬ নভেম্বর শনিবার অমাবস্যার দিন। সেদিন কোনভাবেই সউদী আরবে চাঁদ দেখা যাবে না। কিন্তু সউদী আরবে যিলক্বদ মাস চাঁদ না দেখে একদিন আগে শুরু হওয়াতে ৬ নভেম্বর, শনিবার দিনটি হবে সউদী আরবে ২৯শে যিলক্বদ। সুতরাং সউদী আরব চাঁদ না দেখেই যদি ৭ নভেম্বর, শনিবার থেকে পবিত্র যিলহজ্জ মাস শুরু করে তবে এ বছরও পবিত্র হজ্জ বাতিল হবে এবং পাশাপাশি হজ্জের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল আমল গুলো বাতিল হবে। যেমন:- ৯ই যিলহজ্জ শরীফ-এ আরাফার ময়দানে থাকা ফরয অর্থাৎ হাজী সাহেবগণ অবস্থান করবেন ৮ই যিলহজ্জ শরীফে। অনুরূপভাবে মুজদালিফায় উপস্থিত থাকার ওয়াজিব, চুল কাটার ওয়াজিব এবং ১০ তারিখে তাওয়াফে যিয়ারত ও ইহরাম খোলার ফরয ইত্যাদি সঠিক তারিখে না হলে আমল বাতিল হবে।
৬ নভেম্বর, শনিবার চাঁদের বয়স থাকবে মাত্র ১০ ঘণ্টা, দিগন্তরেখার মাত্র অর্ধ ডিগ্রি উপরে থাকবে চাঁদের অবস্থান এবং সূর্য অস্ত যাবার মাত্র ৫ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে। সুতরাং সেদিন কোনভাবেই চাঁদ দৃশ্যমান হবে না এটা প্রমাণিত। তারপরেও যদি সউদী আরব ৭ নভেম্বর, রবিবার  থেকে তাদের ক্যালকুলেশন অনুযায়ী পবিত্র যিলহজ্জ মাস শুরু করে সেটা হবে বিশ্বের সকল মুসলমানের সঙ্গে চাঁদের তারিখ নিয়ে প্রতারণা।
আর যদি সউদী সরকার ৭ নভেম্বর, রবিবার পহেলা যিলহজ্জ মাস ঘোষণা দেবার জন্য মিথ্যা সাক্ষী যোগাড় করে (যা ইতিপূর্বেও করা হয়েছে) সেটা হবে আরও বেদনার। পদ্ধতি ভুল এক বিষয় কিন্তু মিথ্যা সাক্ষী যোগার করে প্রতারণার বিষয়টি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য অনেক কষ্টের। কেননা সউদী আরবে যেহেতু পবিত্র মক্কা শরীফ এবং মদিনা শরীফ রয়েছে ফলে বিশ্বের সকল মুসলমানের অনেক প্রত্যাশা যে, তারা মুসলামানদের সঠিক দিক নির্দেশনা দিবে। অত্যন্ত হজ্জের ক্ষেত্রে তারা সকল আয়োজন সঠিকভাবে করবে। ঘটনাক্রমে যদি সউদী সরকার যিলক্বদ মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করে এবং সেদিন আকাশ পরিষ্কার থাকে তবে চাঁদ দেখা যাবার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে পবিত্র যিলহজ্জ মাস সঠিক তারিখে শুরু হবার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা আশা করবো সউদী সরকার এ বছর পবিত্র যিলহজ্জ মাস চাঁদ দেখে শুরু করে মানুষের হজ্জ পালনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গত একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। মসজিদুল হারামাইনসহ যে সকল পবিত্র স্থানসমূহে হাজীদের যেতে হয় সেখানে সিসিটিভি স্থাপন করে মুসলমানদের কবীরা গুনা হয়। গুনাহগার বানানোর কোন অধিকার সউদী সরকারের নেই। সউদী সরকারের উচিত তাদের মনগড়া নিয়ম বাদ দিয়ে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর অনুসরণ করা।

বিশ্বের জন্য ১৪৩১ হিজরীর পবিত্র যিলহজ্জ মাসের চাঁদের রিপোর্ট

জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ৬ই নভেম্বর, ২০১০, শনিবার,  ভোর ৪টা ৫২ মিনিটে (আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী)।
অমাবস্যার দিন সউদী আরবে পবিত্র যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা যাবার কোন সম্ভাবনা নেই।

বাংলাদেশের জন্য ১৪৩১ হিজরীর পবিত্র যিলহজ্জ মাসের চাঁদের রিপোর্ট

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী জিরো মুন (অমাবস্যা) সংঘটিত হবে ৬ই নভেম্বর ২০১০, শনিবার ভোর ১০টা ৫২ মিনিটে।
বাংলাদেশে পবিত্র যিলহজ্জ মাসের চাঁদ তালাশ করতে হবে ৭ই নভেম্বর, ২০১০, রবিবার সন্ধ্যায়।
সেদিন ঢাকায় সূর্যাস্ত ৫টা ১৬ মিনিটে এবং চন্দ্রাস্ত ৬টা ০৬ মিনিটে। অর্থাৎ সূর্যাস্ত এবং চন্দ্রাস্তের সময়ের পার্থক্য ৫০ মিনিট। সূর্যাস্তের সময় চাঁদ দিগন্তরেখার প্রায় ৯.৫ ডিগ্রি উপরে অবস্থান করবে এবং চাঁদ খুঁজতে হবে ২৩৯ ডিগ্রি আজিমাতে। সেদিন চাঁদ দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

-আল্লামা আবুল বাশার মুহম্মদ রুহুল

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)