স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা
মহান আল্লাহ পাক উনার দায়িমী ক্বিবলা হচ্ছেন উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। মহান আল্লাহ পাক তিনি দায়িমীভাবে উনার প্রতি রুজু হয়ে রয়েছেন এবং উনার মুহব্বত মুবারক-এ গরক হয়ে উনার প্রতি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করে যাচ্ছেন, উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “একজন লোক একজনকে সারাক্ষণ স্মরণ করে এটা কখন সম্ভব? যখন তার জন্য ফানা হয়ে যাবে, পাগল হয়ে যাবে। বললে শুনতে খারাপ শুনা যায়। ওই যে আন নূরুর রবি‘আহ্ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি একাধারা ছয় মাস নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে স্মরণ করেছেন, পুরা সময়টা স্মরণ করেছেন। সব বাদ দিয়ে। উনার খাওয়া-দাওয়া, ঘর-সংসার সব বন্ধ। হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে ধরে ধরে খাওয়ায়েছেন। যখন নামাযের সময় হয়েছে, নামায পড়তে বলেছেন, নামায পড়েছেন। আবার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার নিকট এসে উনি শুয়ে রয়েছেন, বসে রয়েছেন। এখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যিকির করেছেন উনি। উনার মহাসম্মানিত শান মুবারকে একটার পর একটা পবিত্র না’ত শরীফ পাঠ করেছেন। মুহব্বতটা এরকমই। একটা মানুষ কখন স্মরণ করে? যখন তার জন্য ফানা হয়, ফানা হয়ে বাক্বা হয়ে যায়। এটা যদি এরকম হয়, তাহলে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি কি হলেন? বলো দেখি এখন? বুঝো আমার কথাগুলি? স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজ থেকেই দায়িমীভাবে উনার প্রতি মহাসম্মানিত ছলাত মুবারক পেশ করে যাচ্ছেন, উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন। তাহলে উনার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি কতটুকু ফানা ও বাক্বা? তাহলে উনি কে? উনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন আমরা ভাষাগত বলি; এরচেয়ে ভালো ভাষা জানা নেই। উনি এক কথায় শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সব। উনাকে শুধু ‘মহান আল্লাহ পাক’ বলা যাবে না। এছাড়া সব বলা যাবে।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা
মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক-এ গরক হয়ে উনার প্রতি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করে যাচ্ছেন, উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সবাইকে উনার মুহব্বত মুবারক-এ ফানা হয়ে উনার প্রতি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করার জন্য, উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
এ প্রসঙ্গে ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমরা যখন অনন্তকালব্যাপী মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক জারী করলাম, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আব্বা-আম্মা আলাইহিমাস সালাম উনারা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা, সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং সমস্ত হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা প্রত্যেকে আমার কাছে আসলেন। এসে উনারা সকলে বললেন, ‘আমরা আমাদের পুরো জিন্দেগী মুবারক ব্যয় করেছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল বুলন্দী শান-মান মুবারক প্রকাশ করার জন্য।” (দুরারুল মুখতারাহ্ শরীফ ২/১৫১)
উনারা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা ছিলেন সেটা উনাদের সাওয়ানেহ্ উমরী মুবারক থেকেও স্পষ্ট হয়ে যায়। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দরবার শরীফ থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও রেসালা শরীফগুলো ভালোভাবে অধ্যয়ন করলে সেগুলো বুঝা সহজ ও সম্ভব হবে। তবে এখানে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা এবং অন্যান্য মাখলূক্বাত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে কিরূপ ফানা ও বাক্বা ছিলেন সে বিষয়ে কতিপয় ঘটনা মুবারক উল্লেখ করা হলো, যাতে জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সবাই সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হাক্বীক্বীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা হতে পারে, উনার প্রতি খালিছভাবে রুজু হতে পারে, উনার হাক্বীক্বী বুলন্দী শান মুবারক উপলব্ধি করতে পারে, হাক্বীক্বী নিসবত-কুরবত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারে। সুবহানাল্লাহ!
উনারা ছিলেন ২৪ ঘণ্টা উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা এবং উনার যিকির ও মুহব্বত মুবারক-এ গরক্ব
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন-
كَانَ وَاللَّهِ اَحَبَّ اِلَـيْـنَا مِنْ اَمْوَالِـنَا وَاَوْلَادِنَا وَاٰبَائِـنَا وَاُمَّهَاتِـنَا وَمِنَ الْمَاءِ الْـبَارِدِ عَلَى الظَّمَإِ
‘মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমাদের মাল-সম্পদ, আল-আওলাদ, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং কোনো পিপাসার্ত ব্যক্তির কাছে ঠাণ্ডা পানি যেমন প্রিয় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের নিকট তার চেয়েও অধিক মুহব্বত মুবারক উনার পাত্র ছিলেন।’ সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ اِلَـى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّكَ لَاَحَبُّ اِلَـىَّ مِنْ نَـفْسِىْ وَاَحَبُّ اِلَـىَّ مِنْ اَهْلِـىْ وَاَحَبُّ اِلَـىَّ مِنْ وَلَدِىْ وَاِنِّــىْ لَاَكُوْنُ فِـى الْـبَـيْتِ فَاَذْكُـرُكَ فَمَا اَصْـبِـرُ حَـتّٰـى اٰتِـيَكَ فَاَنْظُرَ اِلَـيْكَ
অর্থ: “একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আমার জীবনের চেয়ে, আমার পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজনের চেয়ে, আমার আল-আওলাদ, সন্তান-সন্ততির চেয়েও বেশি প্রিয়। আমি যতক্ষণ ঘরে থাকি, আপনাকেই স্মরণ মুবারক করি এবং আপনার সামনে উপস্থিত হয়ে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত আমি অস্থির-বেকারার থাকি। (আপনাকে দেখে আমি ইতমিনান লাভ করি।) ” সুবহানাল্লাহ! (আদ্ দুররুল মানছূর ২/৫৮৮, আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ৩/৩৮৫, শরহুয যারক্বানী ৮/৫০৯, আল মু’জামুল আওসাত্ব ১/১৫২ ইত্যাদি)
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন,
اَنَّ رَجُلًا اَتَى النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنِّــىْ اُحِـبُّكَ حَـتّٰـى اَذْكُـرَكَ فَـلَوْلَا اَنِّــىْ اَجِىْءُ فَاَنْظُـرُ اِلَـيْكَ ظَـنَـنْتُ اَنَّ نَـفْسِىْ تَـخْرُجُ وَاَذْكُـرُ اَنِّــىْ اِنْ دَخَلْتُ الْـجنَّةَ صِرْتُ دُوْنَكَ فِـى الْمَنْزِلَةِ فَـيَشُقُّ عَلَىَّ وَاُحِبُّ اَنْ اَكُوْنَ مَعَكَ فِـى الدَّرَجَةِ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে এতো বেশি মুহব্বত মুবারক করি যে, আমি সর্বদা আপনাকেই স্মরণ মুবারক করতে থাকি। যদি আমি (আপনার নিকট) এসে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভ না করি, তাহলে আমার কাছে মনে হয়ে যেন আমার জান বের হয়ে যাচ্ছে। আর আমি মনে করি যে, যদি আমি সম্মানিত জান্নাত মুবারক-এ প্রবেশ করি, তাহলে নির্দিষ্ট একটি মনযিলে অবস্থান করবো, যেখানে আপনি থাকবেন না। এটা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। আমি পছন্দ করি যে, আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক-এ একই স্থান মুবারক-এ যদি আমি থাকতে পারতাম!” সুবহানাল্লাহ! (আদ দুররুল মানছূর ২/৫৮৮)
হযরত ইমাম শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে (মুরসাল সূত্রে) বর্ণিত রয়েছেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট একজন হযরত আনছার ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি এসে বললেন,
يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاللهِ لَاَنْتَ اَحَبُّ اِلَـىَّ مِنْ نَـفْسِىْ وَوَلَدِىْ وَاَهْلِـىْ وَمَالِــىْ وَلَوْلَا اَنِّــىْ اٰتِـيْكَ فَاَرَاكَ لَظَـنَـنْتُ اَنِّــىْ سَاَمُوْتُ وَبَكَى الْاَنْصَارِىُّ
অর্থ: “ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! অবশ্যই আপনি আমার নিকট আমার নিজের জীবনের চেয়ে, আমার আল-আওলাদ, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা, পরিবার-পরিজন এবং মাল-সম্পদের চেয়েও বেশি প্রিয়। আমার এমন অবস্থা- যতক্ষণ আমি আপনার নিকট এসে আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক-এ থাকি, ততক্ষণ আমি ইতমিনানে থাকি। আর যতক্ষণ আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছোহবত মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক থেকে জুদা থাকি, ততক্ষণ আমার মনে হয় আপনার জুদায়ী মুবারক উনার কারণে আমি অতিশীঘ্রই ইন্তিকাল করবো। এই কথা বলে ঐ হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি অঝোর ধারায় কান্না মুবারক করতে থাকলেন।” সুবহানাল্লাহ! (আদ দুররুল মানছূর ২/৫৮৯)
বিশেষ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত দীদার মুবারক-এ তাশরীফ মুবারক নেয়ার পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অবস্থা মুবারক কিরূপ হয়েছিলেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। নিম্নে কিছু দৃষ্টান্ত মুবারক তুলে ধরা হলো-
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার অবস্থা মুবারক
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি উন্মুক্ত তরবারী হাত মুবারক-এ নিয়ে বলতে থাকেন- ‘কেউ যদি বলে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন, তাহলে আমি তাকে এই তরবারী দ্বারা আঘাত করে দুই টুকরো টুকরো করে ফেলবো।’ তিনি আরো বলেন,
وَلَاُقَطِّعَنَّ اَيْدِىَ رِجَالٍ وَاَرْجُلَهُمْ يَـزْعُمُوْنَ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَاتَ
অর্থ: “অবশ্যই অবশ্যই আমি ঐ সমস্ত লোকদের হাত-পা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবো যারা ধারণা করবে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত দীদার মুবারকে তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন।” (আবী সা‘ঊদ ১/৪৬৭, রূহুল বয়ান ২/৮৫, তারীখে ত্ববারী ৩/২০০ ইত্যাদি)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দৃষ্টিশক্তি মুবারক হারানো
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি উনার একটি বাগানে কাজ করছিলেন। তখন উনার নিকট উনার ছেলে এসে সংবাদ মুবারক দিলেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। তখন তিনি এই দো‘আ মুবারক করলেন,
اَللّٰهُمَّ اَذْهِبْ بَصَرِىْ حَـتّٰـى لَا اَرٰى بَـعْدَ حَبِـيْـبِـىْ سَيِّدِنَا مَوْلَانَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَحَدًا
‘আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি দয়া করে আমার দৃষ্টিশক্তি মুবারক তুলে নিন। যাতে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর আর কাউকে দেখতে না পারি’। তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার দৃষ্টিশক্তি মুবারক তুলে নেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ্ ২/৬২০, শরহুয যারক্বানী ৯/৮৪)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার দৃষ্টিশক্তি মুবারক চলে যান। লোকজন উনার সেবা-শুশ্রম্নষা মুবারক করতে লাগলেন। তখন তিনি বলেন,
كُـنْتُ اُرِيْدُهُـمَا لَاَنْظُـرُ اِلَـى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاَمَّا اِذْ قُبِضَ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَـوَاللهِ مَا يَسُرُّنِــىْ اَنَّ مَا بِـهِمَا بِظَـبْـىٍ مِّنْ ظِـبَاءٍ تِـبَالَةٍ
‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিয়ারত মুবারক লাভ করার জন্যই আমি এই চক্ষুদ্বয়কে মুহব্বত করতাম। যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন, কাজেই মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! এই চক্ষুদয়ের পরিবর্তে যদি হরিণের চোখও এনে দেয়া হয়, তবুও আমি খুশি হবো না।” সুবহানাল্লাহ! (আল আদাবুল মুফরাদ ২৭৫ নং পৃষ্ঠা)
একজন মহিলা ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর একজন হযরত মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ যিয়ারত মুবারক করতে এসে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনাকে বলতে থাকেন-
اِكْشِفِـىْ لِــىْ قَـبْـرَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَشَفَتْهُ لَـهَا فَـبَكَتْ حَـتّٰـى مَاتَتْ
‘দয়া করে আমার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত রওযা শরীফ খুলে দিন। তখন তিনি ঐ হযরত মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা উনার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ খুলে দেন। তখন ঐ হযরত মহিলা ছাহাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহা তিনি (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জুদায়ী মুবারক উনার কারণে) কান্না মুবারক করতে করতে সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন।’ সুবহানাল্লাহ! (শিফা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ, শারহুয যারক্বানী)
শোকে বাহন মুবারক উনাদের চির বিদায়
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই গাধা মুবারক উনার উপর সম্মানিত আরোহন মুবারক করতেন, উনার মহাসম্মানিত দীদার মুবারকে তাশরীফ নেয়ার পর, উনার জুদায়ী মুবারক উনার কারণে সেই গাধা মুবারকটি এতো বেশী ব্যথিত ও মর্মাহত হন যে, সেটি একটি কূপে লাফ দিয়ে পড়ে ইন্তেকাল করেন। এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন,
اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا مَاتَ تَـرَدّٰى فِـىْ بِـئْرٍ جَزَعًا وَحُزْنًا فَمَاتَ
অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জুদায়ী মুবারক উনার কারণে গাধা মুবারকটি এতো বেশী ব্যথিত ও মর্মাহত হন যে, সেটি একটি কূপে লাফ দিয়ে পড়ে ইন্তেকাল করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছেন,
تَـرَكَتْ نَـاقَـتُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْاَكْلَ وَالشُّرْبَ حَـتّٰـى مَاتَتْ
অর্থ: “(নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর) উনার সম্মানিত উটনী মুবারক পানাহার করা ছেড়ে দেয়; এমনকি (পানাহার না করতে করতে) শেষ পর্যন্ত সেটা ইন্তিকাল করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আস সীরতুল হালাবিয়্যাহ্ ৩/৫১৮)
তাহলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারাসহ সমস্ত সৃষ্টি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে কতটুকু ফানা ও বাক্বা ছিলেন? তাহলে পরবর্তী উম্মতকে উনার মাঝে কতটুকু ফানা ও বাক্বা হতে হবে? তাহলে উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কতো বেমেছাল? এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সব। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, পরবর্তী উম্মত যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে হাক্বীক্বী ফানা-বাক্বা হতে চায়, তাহলে অবশ্যই আগে স্বীয় হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার মাঝে হাক্বীক্বী ফানা-বাক্বা হতে হবে। উনার মাঝে হাক্বীক্বী ফানা-বাক্বা হতে পারলে আফসেআপ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে হাক্বীক্বী ফানা ও বাক্বা হতে পারবে। সুবহানাল্লাহ! অন্যথায় কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে ক্ববূল করুন। আমীন!