ছাহিবু কা’বা কাওসাইনি আও আদনা, ছাহিবু লাওলাক, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকলের হাক্বীক্বী ক্বিবলা মুবারক

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ১৪৪৭ হিজরী শরীফ উনার ২৪শে মুহররামুল হারাম শরীফ মুতাবেক ২১শে ছানী ১৩৯৩ শামসী লাইলাতুল আহাদ শরীফ (রবিবার রাত্রে) ইরশাদ মুবারক করেন, “একটা ঘটনা আছে, এটা আমি প্রকাশ করতাম না; কিন্তু একটা কারণে প্রকাশ করবো।

فَاتَّبِعُوْنِــىْ يُـحْبِـبْكُمُ اللهُ

এটা তো আমি জুমু‘আর সময় বলেছি। কালকে রাত্রেও বলেছি। এটা হচ্ছে যে, শুধু সুন্নত মুবারক ইত্তিবা করা না; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন হাক্বীক্বী ক্বিবলা মুবারক। এটাই এখানে বুঝানো হয়েছে।

 কালকে রাত্রে তাহাজ্জুদের সময় আমি চিন্তা করছিলাম যে, আমি যে এরকম অর্থ করলাম, ব্যাখ্যা করলাম, প্রকৃতপক্ষে এই ব্যাখ্যা আমাকে পূর্বেই ইলহাম করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে হঠাৎ আমার মনে হলো যে, ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সাথে দেখা হয়েছিলো, ‘আমি বলেছিলাম- সব তাফসীর তো আপনি জানেন, আমাকে কিছু জানান।’ তখন উনি বলেছিলেন- ‘জানাবো।’ এরপরে আর তো উনার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। তারপর আমি চিন্তা করলাম- যিনি সমস্ত মাতার মাতা তিনি আমাকে বলেছিলেন উনার থেকে ইলম হাছিল করার জন্য তিনি উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনিও সব জানেন। তাহলে উনার কাছে জিজ্ঞাসা করলে হয়তো জানা যেতে পারে- এটার হাক্বীক্বীতটা কি? তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি উপস্থিত সেখানে। উনি বললেন, ‘এটা আমিই বলে দিবো। فَاتَّبِعُوْنِــىْ সুন্নত মুবারক তো ঠিকই আছে; আসলে আমিই হাক্বীক্বী ক্বিবলা মুবারক। আমাকে হাক্বীক্বী ক্বিবলা মুবারক হিসেবে মানলেই তখন সব কিছু হয়ে যাবে।’

তখন আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম- ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি তাহলে মানুষকে বলে দিবো এটা?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘হঁ্যা; বলে দিন।’ এই পর্যন্ত শেষ হয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পর আবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বললেন, ‘তাহলে আগামীকাল বলে দিন।’

فَاتَّبِعُوْنِــىْ يُـحْبِـبْكُمُ اللهُ

‘ইত্তিবা করো। ইত্তিবা অর্থটা কি? শুধু ইত্তিবা না; অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি হলেন সমস্ত কিছুর ক্বিবলা মুবারক। উনাকেই সব সময় অনুসরণ করতে হবে, অনুকরণ করতে হবে। উনার দিকেই রুজু থাকতে হবে। ওখান থেকে মানুষ ফিরে গেছে সেজন্যই মানুষ মাহরূম হয়ে গেছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বুঝেনি তারা, তাহলে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ বুঝবে কোথা থেকে? আর মানুষ সাধারণ অর্থ করে- فَاتَّبِعُوْنِــىْ يُـحْبِـبْكُمُ اللهُ ইত্তিবা করলে মহান আল্লাহ পাক তিনি মুহব্বত করবেন!

আসলে সাধরণ ইত্তিবা এটা না; হাক্বীক্বী ইত্তিবা। যাহিরী-বাত্বিনী, জিসমানী-রূহানী, বাহ্যিক-আভ্যন্তরীন, যতরকম আছে অর্থাৎ উনি হচ্ছেন হাক্বীক্বী ক্বিবলা মুবারক।

তাছাউফের কিতাবে লিখা হয়, ক্বিবলা ৫ প্রকার। যথা: ১. নামাযের ক্বিবলা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ক্বা’বা শরীফ, ২. দো‘আর ক্বিবলা হচ্ছেন- আসমান, ৩. ক্বিবলায়ে কুলূব বা ক্বলবের ক্বিবলা হচ্ছেন- হযরত শায়েখ আলাইহিস সালাম তিনি, ৪. সমস্ত মাখলূকাতের ক্বিবলা হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, ৫. সমস্ত ক্বিবলার বিলীনকারী ক্বিবলা হচ্ছেন- যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি। এই ৫ প্রকার। ৬. আর স্বয়ং যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার দায়িমী ক্বিবলা হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَلِكُلٍّ وِّجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّـيْـهَا

‘প্রত্যেকের একটা ক্বিবলা বা দিক রয়েছে, যে দিকে সে রুজু হয়ে থাকে।’ (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারাহ্ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৪৮)

তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি দায়িমীভাবে কোন্ দিকে রুজু হয়ে রয়েছেন? তিনি তো দায়িমীভাবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু রয়েছেন, তাই দায়িমীভাবে উনার প্রতি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করে যাচ্ছেন এবং যাবেন অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন এবং যাবেন অর্থাৎ অনন্তকাল যাবৎ পালন করতেই থাকবেন।

اِنَّ اللهَ وَمَلٰٓئِكَـتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِـىِّ

‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার সকল সম্মানিত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি দায়িমীভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করে যাচ্ছেন অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে যাচ্ছেন।’ সুবহানাল্লাহ!

তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তো দায়িমীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে রুজু হয়ে রয়েছেন। কোনো দিন ফিরবেন না। ফিরার আর কোনো সুযোগ নেই। তাহলে হাক্বীক্বী ক্বিবলা হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি। ঐটাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি বললেন যে, ‘فَاتَّبِعُوْنِــىْ يُـحْبِـبْكُمُ اللهُ আসলে আমি হলাম হাক্বীক্বী ক্বিবলা মুবারক।’ সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহী ওয়া আহলি বাইতিহী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘আমার দিকেই রুজু থাকতে হবে। অন্য কোনো দিকে রুজু হওয়া যাবে না।’ আসলে এরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে না বুঝার কারণে এরা কিছুই বুঝেনি। আর এরা বুঝেছে শুধু ফিক্বহী মাসআলা-মাসাইলগুলি। ওযূ করতে হবে, গোসল করতে হবে, নামায পড়তে হবে, হজ্জ করতে হবে, যাকাত দিতে হবে। হ্যাঁ; ঠিক আছে। এগুলি তো করতেই হবে। নিষেধ তো করা হয়নি, করতে হবে। এটা তো মক্বছূদ না; মক্বছূদ তো হচ্ছেন রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক। আর প্রথম রেযামন্দি-সন্তুষ্টি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারটা। উনারটা অর্জন করতে পারলে, তখন মহান আল্লাহ পাক উনারটা অর্জন হবে; এছাড়া তো অর্জন হবে না। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা এটা হাক্বীক্বীভাবে বুঝেছেন। অন্যরা বুঝতে পারেনি।

ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি আরেকটু হলে জাহান্নামে প্রবেশ করতেছিলেন না? তখন উনার শায়েখ বললেন, ‘তুমি তোমার এই যুক্তি, মান্তেক্ব, এগুলি সব বাদ দিয়ে দাও। তুমি বলো- বিনা দলীলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এক।’ তখন উনি বললেন, ‘বিনা দলীলে মহান আল্লাহ পাক তিনি এক।’ তখন উনি বাঁচলেন।

তাহলে বিনা দলীলে এটা মানতে হবে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি একমাত্র অনুসরণীয় তো অবশ্যই অর্থাৎ উনিই সব। উনার দিকেই রুজু থাকতে হবে। এখন ইত্তিবা বলুক, অথবা অন্য যাই বলুক উনিই হচ্ছেন প্রকৃত ও হাক্বীক্বী ক্বিবলা মুবারক।” (সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!)

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আবূ আহমাদ ছিদ্দীক্বাহ

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ