জুমাদাল উলা মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ১০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

আরবী পঞ্চম মাসের নাম জুমাদাল উলা। অভিধানে “জুমাদা” শব্দের অর্থ লেখা হয়েছে জমাট পানি বা বরফ। আর ‘‘উলা’’ শব্দের অর্থ প্রথম। কাওয়ায়েদ অনুসারে ‘‘জুমাদা’’ শব্দটি মুয়ান্নাছ (স্ত্রী লিঙ্গ) হওয়ায় তার সাথে মিল রেখে আউয়াল শব্দের মুয়ান্নাছ ‘‘উলা’’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।              জুমাদাল উলা মাসের অনেক ফাযায়িল-ফযীলতের মধ্যে একটি আলোচিত দিক হচ্ছে, এ মাসে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী      এবং খুলাফা-ই-রাশেদার চতুর্থ খলীফা হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বিলাদত লাভ করেন। আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নুবুওওয়াত প্রাপ্তির দশ বছর পূর্বে তাঁর বিলাদত শরীফ হয়।   তাঁর নাম আলী। লক্বব আসাদুল্লাহ্, হায়দার ও মুরতাজা। কুনিয়াত আবুল হাসান ও আবু তুরাব। পিতা আবু তালিব। মাতা ফাতিমা। পিতা-মাতা উভয়ে কুরাঈশ বংশের হাশিমী শাখার সন্তান। হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আপন চাচাতো ভাই এবং পরবর্তীতে তিনি তাঁর জামাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রিয়তমা কন্যা খাতুনে জান্নাত হযরত ফাতিমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর সাথে তাঁর বিয়ে হয়।    হযরত আব্দুল মুত্তালিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ইন্তিকালের পর চাচা আবু তালিব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দেখা-শোনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। চাচার এ ঋণ পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে নিজ দায়িত্বে নিয়ে নেন। এভাবে নবী পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তিনি বড় হয়ে উঠেন; এবং এ কারণে কুফরী, শিরক ও জাহিলিয়াতের কোন তাছীর তাঁর উপর পড়েনি।

হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও হযরত সালমান ফারিসী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর পর হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজ্হাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুই (বালকদের মধ্যে) সর্বপ্রথম ইসলাম কবুল করেন। তবে এ সম্পর্কে সকলেই একমত যে, মহিলাদের মধ্যে হযরত খাদীজা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা, বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, কিশোরদের মধ্যে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং গোলামদের মধ্যে হযরত যায়িদ বিন হারিসা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সর্বপ্রথম দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেন।

            ইসলামে হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর অবদান অপরিসীম। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যামানার সকল যুদ্ধে সবচেয়ে বেশী সাহসিকতা ও বীরত্বের পরিচয় তিনিই দেন। এ কারণে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ‘হায়দার’ লক্ববসহ  ‘যুলফিকার’ নামক একখানা তরবারী দান করেন। একমাত্র তাবুক অভিযান ছাড়া সকল যুদ্ধেই তিনি অংশগ্রহণ করেন। বদরে তাঁর সাদা পশমী রুমালের জন্য তিনি ছিলেন চিহ্নিত। বদরসহ প্রতিটি যুদ্ধে তিনি ছিলেন রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পতাকাবাহী।     রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “হযরত হারুন আলাইহিস্ সালাম যেমন ছিলেন হযরত মূসা আলাইহিস্ সালাম-এর, তেমনি তুমি হচ্ছো আমার প্রতিনিধি। তবে আমার পরে কোন নবী নেই।”

হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন নবী খান্দানের সদস্য। তিনি রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করেন। রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি জ্ঞানের নগরী আর হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সেই নগরীর প্রবেশদ্বার।” তিনি ছিলেন, কুরআনে হাফিয, শ্রেষ্ঠ মুফাস্সির এবং হাদীস শরীফ বর্ণনাকারী রাবী।

হযরত ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর মর্যাদা-ফযীলত সম্পর্কে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যত কথা বর্ণিত হয়েছে, অন্য কোন ছাহাবী সম্পর্কে তা হয়নি। ইতিহাসে তাঁর যত গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে এ সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধে তার কিয়দাংশও তুলে ধরা সম্ভব নয়।

রবীউল আউয়াল মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

রবিউস্ সানী মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

জুমাদাল উখরা মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

রজব মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

শা’বান মাস, শবে বরাত ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা