কায়িনাতের মধ্যে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, যাঁকে সৃষ্টি না করলে কোন কিছুই সৃষ্টি হতনা, মহান আল্লাহ্ পাক-এর পরেই যার স্থান, সেই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এরও বিরোধিতাকারী, অপবাদ রটনাকারী গোষ্ঠী ছিল।
তারা রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে হাসি-ঠাট্টা, বিদ্রুপ-উপহাস করত এবং তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে অভিহিত করত। এর উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের মনোবল নষ্ট করা এবং সমাজে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য পৌত্তলিকরা নবী আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অহেতুক অপবাদ এবং গালাগাল দিতে শুরু করে। কখনো তারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাগল বলতো।
যেমন, আল্লাহ্ পাক বলেন, “ওসব কাফিররা বলল, যার ওপর কুরআন নাযিল হয়েছে নিশ্চয়ই সে একটা পাগল।” (সূরা হিজর/৬) কখনো তাঁকে যাদুকর এবং মিথ্যাবাদী হওয়ার অপবাদ দেয়া হতো। যেমন, আল্লাহ্ পাক বলেন, “ওরা বিস্ময় বোধ করছে যে, ওদের কাছে ওদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী এলেন এবং কাফিররা বলে, এতো এক যাদুকর, মিথ্যাবাদী।” (সূরা ছদ/৪)
কাফিররা আল্লাহ্ পাক-এর রসূলের সামনে ও পিছন দিয়ে ক্রুদ্ধভাবে চলাচল করতো এবং ক্ষুব্ধ দৃষ্টিতে তাঁর প্রতি তাকাতো। এ সম্পর্কে আল্লাহ্ পাক বলেন, “কাফিররা যখন কুরআন শরীফ শ্রবণ করে তখন তারা যেন ওদের তীক্ষ্মদৃষ্টি দ্বারা আপনাকে গ্রাস করতে চায় এবং বলে এতো পাগল।” (সূরা ক্বলম/৫১)
হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোথাও যেতেন এবং তাঁর সামনে পিছনে দুর্বল ও অত্যাচারিত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ থাকতেন তখন পৌত্তলিকরা ঠাট্টা করে বলতো, “আল্লাহ্ কি তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করলেন?” (সূরা আনয়াম/৫৩)
তাদের এ উক্তির জবাবে আল্লাহ্ পাক বলেন, “আল্লাহ্ পাক কি কৃতজ্ঞ লোকদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত নন?” (সূরা আনয়াম/৫৩)
সাধারণভাবে কাফিরদের অবস্থা যেরূপ ছিল কুরআনে আল্লাহ্ পাক তার চিত্র এভাবে অঙ্কন করেছেন, “যারা অপরাধী তারা তো মুমিনদের উপহাস করতো এবং ওরা যখন মুমিনদের কাছ দিয়ে যেতো তখন চোখ টিপে ইশারা করতো এবং যখন ওদের আপনজনের কাছে ফিরে আসতো তখন ওরা ফিরতো উৎফুল্ল হয়ে এবং যখন ওদেরকে দেখতো তখন বলতো এরা তো পথভ্রষ্ট। এদেরকে তো তাদের তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয়নি।” (সূরা মুতাফফিফীন/২৯-৩৩)
এরপর তারা আল্লাহ্ পাক-এর রসূলের শিক্ষাকে বিকৃত করা, সন্দেহ, অবিশ্বাস সৃষ্টি করা, মিথ্যা প্রপাগান্ডা করা, দ্বীনের শিক্ষা এবং দ্বীন প্রচারকারীদের ঘৃণ্য সমালোচনা করা ইত্যাদিতে ব্যাপৃত হলো। এসব কাজ তারা এতো বেশী করতো যাতে জনসাধারণ রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শিক্ষা সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করার সুযোগ না পায়।
কাফিররা পবিত্র কুরআন শরীফ সম্পর্কে বলতো, “ওরা বলতো, এগুলোতো সে কালের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে, এগুলো সকাল-সন্ধ্যা তার নিকট পাঠ করা হয়।” (সূলা ফুরক্বান/৫) কাফিররা বলে, “এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাঁকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।” (সূরা ফুরক্বান/৪)
পৌত্তলিকরা এ কথাও বলে যে, “তাকে শিক্ষা দেয় এক মানুষ।” (সূরা নহল/১০৩)
রসূলুল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর তাদের এও অভিযোগ ছিল, “ওরা বলে, এ কেমন রসূল! যে আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে?” (সূরা ফুরক্বান/৭)
এতক্ষণের আলোচনার পর আজকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর পর যদি প্রশ্ন করা হয় যে, বর্তমানে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রায় হুবহু অনুসরণ-অনুকরণ করে দ্বীন ইসলামের আঞ্জাম কে দিচ্ছেন? সঙ্গতঃ কারণেই তার জবাব হবে, ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুযাদ্দিদে যামান, মহ্ইস্ সুন্নাহ্, আওলার্দু রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী। তার পাশাপাশি তাঁর বিরোধিতা কারা করছে? সেক্ষেত্রে বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, এরা সেই আবু জেহেল, আবু লাহাবেরই উত্তরসূরী। দেখা যায় আবু জেহেল, আবু লাহাব গং আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করত, অপবাদ দিতো। ঠিক তেমনি তাদের উত্তরসূরীরা বর্তমানে রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর সাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর লক্বব নিয়ে ঠাট্টা-উপহাস করে, তাঁকে মিথ্যাবাদী, ভন্ড বলে প্রচার করে, রাজারবাগ শরীফের অনুসারীদের প্রতি ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকায়, কুরআন কারীমার ভাষায় কাফিরদের মত মন্তব্য করে, “যখন তাঁদেরকে দেখতো তখন বলতো এরা তো পথভ্রষ্ট।” আর আল্লাহ্ পাক তার জবাবে বলেন, “এদেরকে তো তাদের তত্ত্বাবধায়ক করে পাঠানো হয়নি।”
রাজারবাগ শরীফের হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর অকাট্য তাজদীদ- মৌলবাদ, হরতাল, ব্লাসফেমী আইন, লংমার্চ, কুশপুত্তলিকা দাহ্, ইসলামের নামে গণতন্ত্র, ছবি, রোযা অবস্থায় ইনজেকশন, লাল রুমাল, মহিলা জামায়াত, তাহাজ্জুদের জামায়াত, কুনুতে নাযেলা, আল্লাহ্ পাককে নূর বা আলো বলে অভিহিত করা ইত্যাদির বিরুদ্ধে দলীল নির্ভর ফতওয়া এবং মীলাদ-ক্বিয়াম, কুরআন শরীফ খতম করে উজরত গ্রহণ, ফরয নামাযের পর হাত তুলে মুনাজাত, জানাযার নামাযের পর মুনাজাত, নিয়ত করে মাজার শরীফ জিয়ারত, অঙ্গুলী চুম্বন, কদমবুছী, ছানী আযান মসজিদের ভিতরে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী, সুন্নতের অনুসরণে লক্বব ব্যবহার এবং চার টুকরা বিশিষ্ট গোল টুপি, সুন্নতি কোর্তাসহ বিবিধ সুন্নত ইত্যাদির পক্ষে অগণিত, অকাট্য দলীলভিত্তিক ফতওয়াকে তারা কাফিরদের মত মনগড়া, দলীলবিহীন ও কুরআন-সুন্নাহ্র খিলাফ পন্থায় অস্বীকার করছে, বিরোধিতা করছে। কাফিররা বলত, “এটা মিথ্যা ব্যতীত কিছুই নয়, সে এটা উদ্ভাবন করেছে এবং ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক তাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করেছে।” (সূরা ফুরক্বান/৪) আর এর বাস্তব মিছদাক হিসেবে তারা রাজারবাগ শরীফকে ভিন্ন সম্প্রদায় তথা ইহুদী-খ্রীষ্টানদের এজেন্ট বলে অপবাদ দিচ্ছে। তার পাশাপাশি তারা এ অপবাদও রটনা করছে যে, বর্তমান যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ বর্তমান সমসাময়িক আলিম-উলামা তথা পীর ছাহেবদের বিরোধিতা করা হয়, তাদের গালি-গালাজ করা হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এ কথা বারংবার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ আলিম-উলামাদের সর্বদাই চরম-পরম সম্মান দেয়া হয় এবং এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, অথবা হক্কানী-রব্বানী আলিমদের বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়না বরং যারা গোমরাহ-বিদয়াতী বা নামধারী তথাকথিত শাইখুল হাদীস, মুফতি, মাওলানা তথা চর্মনাইর ফযলুল করিম এর মত যারা রয়েছে কেবলমাত্র তাদেরই বিরোধিতা করা হয় অথবা ঐসব লোক যারা হয়তবা একসময় হক্ব ছিলেন কিন্তু পরে দুনিয়ার লোভে, সম্মানের মোহে, নফ্সের প্রবণতায়, শয়তানের ধোকায় পড়ে; পথভ্রষ্ট হয়েছে তাদেরই কেবলমাত্র সমালোচনা করা হয়।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, কিতাবে দু’টো জিনিস লেখা হয়ে থাকে যে, কোন্ জিনিস আলিমের অন্তর থেকে ইল্ম বের করে দেয়? তা হলো দুনিয়ার লোভ।” এরপর বলা হয়, কোন্ জিনিস ছূফী তথা পীর ছাহেবের (খাছভাবে মকবুল বা পূর্ণ কামালত হাছিল যারা করেনি) অন্তর থেকে ছূফিগিরির নূর বের করে দেয়? জবাব হলো- সম্মানের মোহ। মূলতঃ এই দুনিয়ার লোভ আর সম্মানের মোহ উভয়টিই আজকের তথাকথিত শাইখুল হাদীস গং তথা নামধারী পীর ছাহেবদেরকে পরাভূত করেছে। তাই তারা আজ ইসলামের নামে তথাকথিত রাজনীতিতে নেমে হালুয়া-রুটির ভাগাভাগিতে লিপ্ত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে তারা নিজেদের ইল্ম-আমল সবই হারিয়ে আজ চরম গোমরাহ ও বিদয়াতী তথা উলামায়ে ‘ছূ’তে পরিণত হয়েছে। প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, আবুল ফজল, ফৈজী সে যামানার এত বড় জাহিরী মাওলানা ছিল যে আজ পর্যন্ত জাহিরী মাওলানারা তাদের কাছে তুচ্ছ। উল্লেখ্য, “তারা নুকতাবিহীন হরফ দিয়ে কুরআন শরীফের তাফসীর ‘সাওয়াতিউল ইলহাম’ পর্যন্ত লিখেছিল। যদিও আল্লামা বদরুদ্দীন সিরহিন্দ বলেছেন, হযরত মুযাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কাছ থেকে উক্ত তাফসীর রচনাকালে তারা নানাভাবে সহযোগিতা গ্রহণ করেছিল। অর্থাৎ তখনও পর্যন্ত তারা হক্বপন্থী ছিল এবং সে সুবাদে আফজালুল আউলিয়া হযরত মুযাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহির সাথে তাদের সম্পর্কও ছিল। এমনকি আবুল ফজল তাঁর ছোহবতও হাছিল করত। কিন্তু পরবর্তীতে তারাই হযরত মুযাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রচন্ড বিরোধিতা করে বাদশাহ আকবরের সাথে যোগ দেয় এবং তার প্রবর্তিত দ্বীনে ইলাহীর প্রচলন করে। বলাবাহুল্য, এ ধারাটি আজকের নামধারী মাওলানার ক্ষেত্রেও পূর্ণরূপে প্রযোজ্য হয়েছে। উদাহরণতঃ বলা যায়, ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ তে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় এক সাক্ষাতকারে শাইখুল হদস বলেছিল যে- কেবলমাত্র হজ্ব, চাকুরী ছাড়া অন্য কোন কারণবশতঃ ছবি তোলা নাজায়িয। কিন্তু তারপরে বর্তমানে অবাক বিস্ময়ে মানুষ লক্ষ্য করছে যে, শাইখুল হদস গং-এর শুধু একটি দু’টি নয়; অসংখ্য হাজার হাজার ছবি এবং কেবল পত্র-পত্রিকায় নয় এমনকি পোস্টারেও মহিলা নেত্রীর বুকের মাঝে সাদা রুমাল দিয়ে পাগড়ী বাধা তথাকথিত শাইখুল হাদীস এর ছবি। পাশাপাশি পর্দা সম্পর্কে, নারী নেতৃত্ব সম্পর্কে তথাকথিত এই শাইখুল হাদীস ১৯৯৯ সালে তার রচিত “আল কুরআনের দৃষ্টিতে মহিলাদের পর্দা” নামক বইয়ে কি শক্ত কঠিন বক্তব্য দিয়েছে, কিতাব লিখেছে বর্তমানে তা থেকে সরে গিয়ে কতদূর পথভ্রষ্ট, গোমরাহ ও শক্ত উলামায়ে ‘ছূ’তে পরিণত হয়েছে সে সম্পর্কে মাসিক আল বাইয়্যিনাতে বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে। পাশাপাশি ১৯৮৯ সালের জানুয়ারী মাসে নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বলে, জুলাইয়ে ১৯৮৯ এ গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে বলে বর্তমানে ২০০২ সালের জুন মাসে একই মদীনা পত্রিকায় নারী নেতৃত্ব, গণতন্ত্রের পক্ষে বলেছে এর সম্পাদক মাহিউদ্দীন। কাজেই বলতে হয় যে মাসিক আল বাইয়্যিনাতে কখনোই আলিমদের বিরোধিতা করা হয়না; বরং আলিম নামধারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হয় মাত্র। যারা তাদের লেখনী ও আমলের দ্বারা নিজেরাই নিজেদের বিরোধিতা করছে। অর্থাৎ ক্ষেত্রবিশেষে ওরা নিজেরাই নিজেদের মুখোশ উন্মোচন করেছে অথবা ওদের সমগোত্রীয়রাই একে অপরেরটা তুলে ধরেছে। কথাটি আরো খোলাশা করে বলতে গেলে বলতে হয় যে, যারা বলে থাকে- মাসিক আল বাইয়্যিনাতে আলিম-উলামাদের বিরোধিতা করা হয়, তাদের গালি-গালাজ করা হয়; তারা উদাহরণ হিসেবে তথাকথিত শাইখুল হাদীস, ফজলুল হক কমিনী, মাহিউদ্দীন, পীর ছাহেব নামধারী চর্মনাইর ফজলুল করিম ইত্যাদির কথা বলে থাকে। কিন্তু মজার ব্যাপার হল যে, এরা প্রত্যেকেই একে অপরের বিরোধিতা করে থাকে, নাহক্ব বলে থাকে, গোমরাহ ও দুর্নীতিবাজ বলে থাকে। প্রসঙ্গতঃ এখানে শুধু চর্মনাইর ফজলুল করিমের বিষয় নেয়া হল। তাতে করে দেখা যাবে যে- শাইখুল হদস, মুফতে কমিনী, মাহিউদ্দীন, তথাকথিত জামায়াতে ইসলামী ইত্যাদিকে নাহক্ব বলেছে, তাদের সমালোচনা করেছে, গালি-গালাজ করেছে আল বাইয়্যিনাত-এর দৃষ্টিতে অভিযুক্ত তাদেরই সমগোত্রীয় খোদ চর্মনাইর ফজলুল করিমও। আল বাইয়্যিনাতে সমালোচিত তথাকথিত জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে ; আল বাইয়্যিনাতে অভিযুক্ত চর্মনাইর ফযলুল করিম বলেন- ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা চর্মনাইয়ের ফজলুল করিম …. জামায়াতকে সমালোচনা করে বলেন, “তারা মুসলামানদের দল নয়।” …. (সাতক্ষীরা শহীদ আঃ রাজ্জাক পার্কের সমাবেশের ভাষণ) …. (দৈনিক আজকের কাগজ ১৩/৮/২০০১) ইসলামী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা চর্রনাইয়ের ফজলুল করিম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী মুনাফিক ও ধোকাবাজ। তারা নারী নেতৃত্বের সাথে ঐক্য করে ইসলামের নামে মুসলমানদের ধোকা দিচ্ছে।’ …. (মংলা পৌরসভা চত্বরে জনসভার বক্তৃতা) (দৈনিক মানবজমিন ৯/৮/২০০১) যারা নারী নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে তারা ইসলামী নয় মুনাফিকের দল। বরগুনার আমতলীতে ইশা আন্দোলন আয়োজিত এক জনসভায় এ কথাটি সুস্পষ্টভাবে বললেন চর্মনাইর ফজলুল করিম। জামায়াত ও চারদলীয় জোট সরকারকে মুনাফিকের সরকার আখ্যায়িত করে এও বলেছেন, এরশাদ ইসলাম মেনে নিয়েছে, কিন্তু খালেদা মানেনি।… (দৈনিক প্রথম আলো/ দৈনিক ইত্তেফাক ১১/৩/’০২ অর্থাৎ চর্মনাই ফজলুল করিমের এ বক্তব্য দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, খোদ শাইখুল হদস, মুফতি কমিনী, মাহিউদ্দীন, আহমক শফী এরা সবাই মুনাফিক। আল বাইয়্যিনাতে সমালোচিত তথাকথিত মুফতি কমিনী ও তথাকথিত ইসলামী পত্রিকার সম্পাদক মাহিউদ্দীন খান প্রসঙ্গে আল বাইয়্যিনাতে অভিযুক্ত চর্মনাইর ফযলুল করিম বলেন- চর্মনাইর ফজলুল করিম ও তথাকথিত ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সমর্থক গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির সমাবেশে বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মুফতি আমিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বাস ঘাতকতা ও দালালীর অভিযোগ এনে তাকে সংগঠনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছে। তারা বলেন, মুফতি আমিনী সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটিকে চারদলীয় জোটের নামে খালেদা জিয়ার আঁচলে বন্দী করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। সেজন্য তাকে এ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য মুফতে আমিনীর সাথে আরো সংযুক্ত রয়েছে তথাকথিত ইসলামী পত্রিকার সম্পাদক মাহিউদ্দীন, কাজেই তার সম্পর্কেও চর্মনাইর একই মন্তব্য খাটে। (মুক্তমঞ্চের সমাবেশের বক্তৃতা) (দৈনিক মাতৃভূমি ২৮/৭/২০০১) বলাবাহুল্য, এ মন্তব্য আল বাইয়্যিনাতে অভিযুক্ত শাইখুল হদস, কমিনী, তথা মাহিউদ্দীন ও আহমক শফী গং-এর উপরও বর্তায়। কারণ খোদ জামায়াতে ইসলামীর মত তারাও একইভাবে নারী নেতৃত্ব তথা জোট সরকারকে সমর্থন করেছে।
তথাকথিত ইসলামী ঐক্য জোটের বিরুদ্ধে বলাবাহুল্য, শাইখুল হদসের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ইসলামী ঐক্যজোটের বিরুদ্ধেও চর্মনাইর ফজলুল করিম অনেক সমালোচনা করেছে, এমন কি তার দৃষ্টিতে তার মত একজন মুরুব্বী মানুষ কি করে নারী নেতৃত্ব গ্রহণ করে পথভ্রষ্ট হতে পারল সে বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আর এ বিষয়ে তার অখ্যাত মাসিক পত্রিকায় অনেক লেখালেখিও হয়েছে। তার অনেক উদাহরণের মাঝে দু’একটি দেয়া হল-
“বিরোধী জোটে মা জননী খালেদা বিবির সামনা সামনি যহন শায়খুল হাদীস ও নিজামী চাচারে বসে দু’ইসলামী দলের শীর্ষ নেতা জাহির করতি দেহা যায়, পর্দার হুকুম ভঙ্গ করে যহন বেপর্দা নারীর মুখোমুখি বসে মুফতি আমিনীরা দাঁড়ি নাচায়ে রোজার ইফতারিতে শামিল হয় তহন মোল্লাজী হিসেবে আমি বড় বেকায়দায় থায়ি। দেশবাসীর বাক্যবান মুফতি মাওলানাগের কাছে থাকলিও শরীয়তি হুকুম অবজ্ঞা করে তারা কি উত্তর দেন তা আমার আকল বুদ্ধির বাইরে। (চর্মনাইর নিজস্ব অখ্যাত মাসিক, আগষ্ট/২০০১) “ইসলামী ঐক্যজোট ও জামাতে ইসলামী বেপর্দা মহিলার পার্শ্বে বসে পর্দার মত একটি ফরজ আদেশকে তরক করাটাকে কোন দোষের বলে তিনি মনে করেন না এটাই হয়ত বুঝাতে চেয়েছেন। জামাতে ইসলামকে একটি ছহি ইসলামী দল হিসেবে তিনি স্বীকৃতি নেয়ার এক কুটকৌশল এটেছেন বৈকি? জনাব খান সাহেবের অবশ্যই জানা থাকার কথা যে, তার পীর শর্ষিনার মরহুম মাওলানা আবূ ছালেহ সাহেব হুজুর জামাতীদের ব্যাপারে যা বলেছেন তাকি তিনি ভুলে গেলেন? জামাতীদের পিছনে নামায পড়াকে মরহুম পীর ছাহেব কি বলেছেন, জামাতিদের ইন্তিকালের পর তাদের স্থান কোথায় হবে তাকি তিনি ভুলে গেলেন? তার কি স্মরণ নেই ফুরফুরার পীর সাহেব, শায়খুল হক, হুসাইন আহম্মদ মাদানী, রশীদ আহমদ গঙ্গুহী, শর্ষিনা মাদ্রাসার ১৭১৫ জন ওলামায়ে কেরামের মন্তব্য। (চর্মনাইর নিজস্ব অখ্যাত মাসিক, সেপ্টেম্বর- ২০০১)
অতএব হে, আল বাইয়্যিনাত এর পাতায় অভিযুক্ত চর্মনাই ফজলুল করিম গং!
যদি আপনাদের গায়ে চর্ম আছে বলে দাবী করেন, তবে এরপর মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর বর্তমান সংখ্যা প্রকাশের পর আর কখনও হুক্কা হুয়ার মত রবে সূর মেলাবেন না যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাতে তথাকথিত শাইখুল হাদীস, তথাকথিত ইসলামী মাসিক পত্রিকার সম্পাদক মাহিউদ্দীন, মুফতে আমিনী তথা কমিনী ইত্যাদি ইত্যাদি আলিমদের বিরোধিতা করা হয়।
মূলতঃ আল বাইয়্যিনাতে ওদের সমালোচনা করা হয় খালিছ আল্লাহ্ পাক-এর জন্য। যেটা হযরত ইমাম গায্যালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন; “কিছুক্ষণ সময় উলামায়ে ‘ছূ’দের দোষত্রুটি তুলে ধরা ষাট বছর বেরিয়া নফল ইবাদতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।” আর ওদের বিরুদ্ধে আপনাদের বিরোধিতা কেবল হালুয়া-রুটির ভাগ এককভাবে হাছিলে পরস্পর স্বার্থ সংঘাতের জন্য। তাই এ ভাগ কখনও মনমত হলে আপনারা মিলেন আর পুনরায় তা পছন্দ না হলে অথবা ঠিকঠাকমত বখরা না মিললে সটকে পড়েন। পাঠক! প্রসঙ্গতঃ এ লেখায় কেবলমাত্র একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হল। ইনশআল্লাহ্ আরো দেখানো যাবে যে, আল বাইয়্যিনাতের লেখনীই নয়; ওরা নিজেরাই নিজেদের স্বার্থগত কারণে একে অপরের বিরুদ্ধে বলেছে। এখন যদি ওদেরকেই হক্কানী আলিম বলতে হয়, যদি ওদের কথাকে বিশ্বাস করতে হয়, তবে দেখা যায় ওদের কথানুযায়ীই ওরা প্রত্যেকেই নাহক্ব। বাদশাহ্ আকবরের আমলের উলামায়ে ‘ছূ’দের মতই ওরা স্বার্থের কারণে একে অপরের বিরোধিতা করছে। এরপর নতুন কোন স্বার্থের জন্য পুনরায় মিললেও অপেক্ষাকৃত বৃহৎ স্বার্থের জন্য অথবা চলমান স্বার্থ ক্ষুন্নির জন্য আবার বিরোধিতা করছে। অর্থাৎ এরা চারপায়া এক ধরণের জীবের মত। কারো উচ্ছিষ্ট খেতে গিয়ে একে অপরকে দেখলে ঘেউ ঘেউ করে। যখন দেখে ঘেউ ঘেউ করলে দু’জনের ক্ষতি তখন বন্ধ করে একসাথে খায়। কিছুক্ষণ পর …… যখন একজন বুঝতে পারে যে সে পার্শ্ববর্তীজনের চেয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী হয়েছে তখন প্রতিপক্ষকে হটানোর জন্য নতুন করে ঘেউ ঘেউ করে কামড় দিতে চেষ্টা করে। অবশ্য সামান্য দুনিয়াবী স্বার্থের জন্য যারা তথাকথিত ইসলামী রাজনীতির নামে ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, ইসলামের নামে নির্বাচন করা ইত্যাদি হারাম কাজে লিপ্ত তাদেরকে পবিত্র কুরআন শরীফে চারপায়া জীবের চেয়ে নিকৃষ্ট তথা বালহুম আদল বলা হয়েছে। (নাউযুবিল্লাহি মিন জালিক)
-মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে