তাদের মূলটা কি? তাছিরটা কি? তাদের ছোহবতে হচ্ছেটা কি? বিজাতীয় বিধর্মীয় অনুসরণ তো বটেই অবশেষে মূল ইসলামী আমল নামায-রোযাও নষ্ট

সংখ্যা: ১১৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

 “আপনার ইন্তিকালের পর আমরা কার ছোহবত হাছিল করব হে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল? হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের এ প্রশ্নের জবাবে আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যাকে দেখলে আল্লাহ্ পাক-এর কথা স্মরণ হয়, যার কথা শুনলে দ্বীনি ইল্ম বৃদ্ধি পায় আর যার আমল দেখলে পরকালের আমল করার ইচ্ছা জাগে।” অর্থাৎ যার আমলের অনুসরণ করলে তা সুন্নতের অনুসরণ করা হয় তথা ইসলামী হয় যা পরকালে কাজে লাগে।

বলাবাহুল্য, আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর উল্লিখিত গুণধারী ব্যক্তিত্ব তথা নায়িবে রসূল ওলী আল্লাহ্র ছোহবত ইখতিয়ার করা ফরয-ওয়াজিব। তার বিপরীত অন্যদের ছোহবত ইখতিয়ার করা হারাম। যেমন এর ব্যাখ্যায় অন্য হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “মানুষের বন্ধু হয় সুগন্ধী ওয়ালার মত অথবা কামারের মত।” সুগন্ধী বা আম্বর ওয়ালার কাছে গেলে মানুষ যদি তা নাও কেনে তবুও তার সংস্পর্শে কিছু সুগন্ধী এসে তার কাছে পৌঁছে। পক্ষান্তরে কামারের কাছে গেলে হয়তোবা তার নোংরা কালো পোশাক, ঘর্মাক্ত দেহ তাকে অস্বস্তি দেবে নতুবা তার কামারখানার অগ্নি ফুলকি তার জামা-কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেবে।  বলাবাহুল্য, আজকের প্রেক্ষাপটে বর্তমান পনের শতকের মুযাদ্দিদ ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, আওলার্দু রসূল, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর বিপরীতে তামাম নামধারী আলিম তথা উলামায়ে ‘ছূ’র অবস্থান আজ স্পষ্টভাবে বিভক্ত ও আলাদাভাবে প্রতিভাত।       প্রথমতঃ ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুহ্ইস্ সুন্নাহ, আওলাদে রসূল, মুযাদ্দিদে যামান, রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলীকে দেখলে যে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা মনে পড়ে। আর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা যে, আল্লাহ্ পাককেই স্মরণ করিয়ে দেয় তা বলাই বাহুল্য।   দ্বিতীয়তঃ তাঁর মাথা মুবারক থেকে পা মুবারক পর্যন্ত, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, আমল-আখলাক সবই যে সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বারা সুশোভিত তা আজ সর্বজনবিদিত। বরং তিনি অসংখ্য লুপ্ত সুন্নত সমূহের পুনঃ প্রচলন ঘটিয়েছেন। যা মুযাদ্দিদে যামান হিসেবে তাঁর এক অনবদ্য বহিঃপ্রকাশ। উল্লেখ্য, তাঁর এই সুন্নত পালন কেবল আচার সর্বস্ব নয় বরং এটা হচ্ছে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে সর্বোচ্চ স্তরের রূহানী সর্ম্পকের প্রতিফলন। আর তাঁর এই রূহানী সম্পর্কের প্রতিফলন সুষমামণ্ডিত হয়ে আরো প্রতিফলিত হয় তাঁর রুহানী সন্তান তথা মুরীদদের মাঝেও। তাই যারাই তাঁর মুরীদ হন তাদের অন্তরেও সুন্নতের আমলের জজ্বা জেগে উঠে, ক্বলবে সুন্নত পালনের কুয়ত, মুহব্বত তৈরী হয়; যা থেকে তথাকথিত শাইখুল হাদীস, শাইখুত্ তাফসীর, মুফতি মাওলানারাও সম্পূর্ণ বেখবর। তৃতীয়তঃ তাঁর কথা শুনলে আল্লাহ্ পাক-এর তৌহিদ-রিছালত সম্পর্কে বিশুদ্ধ জ্ঞান হাছিল হয়; যেমন আল্লাহ্ পাক নূর নন, আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী নন, তিনি ইল্মে গায়েবের  অধিকারী তিনি সর্বত্র হাযির-নাযির অথবা তিনি জাতি নূরের তৈরী নন ইত্যাদি।     হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালাম, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম সম্পর্কে শুদ্ধ আক্বীদা জন্মে। বিশেষতঃ বর্তমান যামানায় উলামায়ে ‘ছূ’র প্রবর্তিত বদ্আমল ও আক্বীদা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হওয়া যায়। হারাম, কুফরী, শিরকী, বেশরা, বিদয়াত থেকে বেঁচে থাকা যায়। পক্ষান্তরে তাঁর মুখালিফ যারা রয়েছে তাদের মাথায় টুপি দেখলে ইবলিসের কথা মনে হয়, (যেমন- আল মুর্শীদুল আমীন কিতাবে হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ইবলিস কিস্তি টুপি পড়ে হযরত মুসা আলাইহিস্ সালাম-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিল।) তাদের মাথায় পাগড়ীর উপর রুমাল দায়িমীভাবে দেখা যায়না তথা তাদের সাড়ে তিনহাত শরীরে সুন্নতের কোন চিহ্নই লক্ষ্য করা যায়না। সুতরাং তাদের দেখে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা মনে হয়না, পক্ষান্তরে তাদের ছবি তোলার আমল, বেপর্দা-বেগানা মহিলার সাথে সাক্ষাতের আমল-জাহান্নামের আমলের দিকেই উৎসাহিত করে। তাদের কথা শুনলে, বিধর্মী, মুশরিক ইহুদী-নাছারার কথাই মনে হয়। লংমার্চ এর কথা শুনলে মাওসেতুং এবং হরতালের কথা শুনলে গান্ধীর, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী, ছবির কথা শুনলে ইহুদী-নাছারার কথাই মনে হয়। বিশেষতঃ বর্তমানে আরো দেখা যাচ্ছে যে, তাদের কথার দ্বারা আজকে মুসলমানের প্রাত্যহিক আমল, চিরন্তন আমল নামায-রোযাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।  উল্লেখ্য, এর উদাহরণ একটি দু’টি নয় অসংখ্য। যেমন, মাসিক মদীনায় এপ্রিল/৯০ ঈঃ সংখ্যাতে বলেছে, মহিলাদের বাপের বাড়ীতে কছর হয়না। মে/৯৪ ঈঃ সংখ্যাতে বলেছে, ছবিযুক্ত ঘরে নামায পড়া জায়িয। নভেম্বর/৯৪ ঈঃ সংখ্যাতে বলেছে, চুলে কলপ ব্যবহার করা জায়িয। ফেব্রুয়ারী/৯৫ ঈঃ সংখ্যায় বলেছে, নামাযে সিজদায় আগে কপাল পরে নাক পড়বে। জুন/৯৫ ঈঃ সংখ্যায় বলেছে, দোয়াল্লিন-যোয়াল্লিন দু’টিই শুদ্ধ। ফেব্রুয়ারী/৯৬ ঈঃ সংখ্যায় বলেছে, বিত্র নামাযে দোয়া কুনূত পড়তে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হয়না। এপ্রিল/৯৬ ঈঃ সংখ্যাতে ছেলেদের সতর সম্পর্কে ভুল ফতওয়া দিয়েছে। জুলাই/৯৭ ঈঃ সংখ্যাতে বলেছে, মহিলাদের ঈদের জামায়াতে শরিক হওয়া জায়িয। নভেম্বর/৯৮ ঈঃ সংখ্যাতে বলেছে, উমরী ক্বাযা আদায়ের কোন নিয়ম নেই। ডিসেম্বর/৯৯ ঈঃ সংখ্যায় বলেছে, মাগরীবের আযানের পর ফরজ নামাযের পূর্বে দু’রাকায়াত নফল নামায আদায় করা জায়িয, আযানের পর হাত তুলে মুনাজাত করা নাজায়িয, বিত্র নামাযের পর হালক্বী নফল দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম ইত্যাদি। অথচ এ সবই যে ভুল মাসয়ালা তা বিস্তারিত দলীল-আদিল্লাসহ মাসিক আল বাইয়্যিনাতে দেয়া হয়েছে এবং তা আজ পর্যন্ত তারা খণ্ডাতে পারেনি।  এরপর মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর আরেক মুখালিফ নেতা তথাকথিত শাইখুল হাদীসের পত্রিকায় ওযূ, নামায সম্পর্কে ভুলের দু’একটি উদাহরণ দেয়া হলো- তথাকথিত হক পয়গাম মে/৯৫ ঈঃ সংখ্যায় লিখেছে, এক মাইলের মধ্যে যেমন পানি থাকা সত্ত্বেও প্লেনের মধ্যে ভীড়ের কারণে তায়াম্মুম করে নামায পড়া জায়িয। জুলাই/৯৯ ঈঃ সংখ্যায়  লিখেছে, হানাফী মাযহাবের ইমামগণের মতে জামায়াতে নামায পড়া ওয়াজিব। জুন/২০০১ ঈঃ সংখ্যায় লিখেছে, অন্যান্য নফল নামাযের ন্যায় বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম ইত্যাদি। অতএব, দেখা যাচ্ছে যে, তাদের কথা শুনলে কোটি কোটি মুসলমানের ওযু, নামায পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, এমনকি কুফরীও হচ্ছে। কারণ মদীনা পত্রিকায় ফতওয়া দেয়া হয়েছে-চুলে কলপ ব্যবহার করা জায়িয। অথচ তা ব্যবহার করলে ওযু-গোসল কোনটাই হচ্ছেনা। সুতরাং তা ব্যবহার করে নামায পড়লে অপবিত্র অবস্থার কারণে তা কুফরী হবে।  উল্লেখ্য, সম্প্রতি এরা  আরেক জিহালত বিস্তার করছে। তা হলো কুনুতে নাযেলা পাঠ করা। কিন্তু এখানে যে বিষয়টি স্মর্তব্য তা হল এ দেশের প্রায় অধিকাংশ লোকই হানাফী মাযহাবের। সৌদী আরব তথা অন্যান্য দেশে শাফিয়ী মাযহাবের লোক রয়েছে। আর শাফিয়ী মাযহাবে কুনুতে নাযেলা পাঠ করা জায়িয হলেও, হানাফী মাযহাবে তা কোনমতেই জায়িয নয়। উল্লেখ্য, এ প্রসঙ্গে মাসিক আল বাইয়্যিনাত- এ চল্লিশটি দলীল দিয়ে তা প্রমাণ করা হয়েছে। অথচ আল বাইয়্যিনাত-এর মুখালিফরা বহু জায়গায় ফজর নামাযে এই কুনুতে নাযেলা পাঠ করে নামায ফাসেদ করছে।  অর্থাৎ এ কথা দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত তথা রাজারবাগ শরীফের মুখালিফদের ছোহবতে গিয়ে সাধারণ মুসলমান, ছবি, মূর্তি তৈরী, লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী, গণতন্ত্র, নির্বাচন ইত্যাদি হারাম, বিজাতীয়, বিধর্মীয় আচার আচরণের সাথে তো সম্পৃক্ত হচ্ছেই পাশাপাশি তারা মুসলমানের যে মূল আমল নামায, যে নামাযের দ্বারা মুসলমান ও কাফির আলাদা হয়ে যায়। কারণ, কাফিররাও উপবাস করে, দান-খয়রাত ইত্যাদি করে; কিন্তু নামায কোন ধর্মের লোকই পড়েনা। যে প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ইচ্ছাকৃতভাবে নামায ত্যাগ করল সে যেন কুফরী করল।’ কাজেই, আমরা দেখতে পেলাম মুসলমানদের জন্য যে প্রণিধানযোগ্য আমল নামায; সে নামাযকেও তারা নষ্ট করছে। এরপর তারা “ইনজেকশন, স্যালাইন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়না” এ ফতওয়া দ্বারা অগণিত মুসলমানের রোযা নষ্ট করছে। সুতরাং এ লেখার প্রথমে যে হাদীস শরীফ উল্লেখ করা হয়েছিল, যাকে দেখলে আল্লাহ্ পাক-এর কথা স্মরণ হয়, যার আমল দেখলে পরকালের আমল করার ইচ্ছা জাগে এবং যার কথা শুনলে দ্বীনি ইল্ম বৃদ্ধি পায় তার প্রেক্ষিতে রাজারবাগ শরীফের মুখালিফদের কি বিবেচনা করা যায়?

মূলতঃ তাদের দেখলে হিন্দু-খ্রীষ্টানের কথা মনে পড়ে, তাদের আমল দেখলে জাহান্নামের আমলে উৎসাহ পাওয়া যায় এবং তাদের কথা শুনলে মুসলমানের মুসলমানিত্ব তথা নামায-রোযা পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। মূলতঃ এরা হাদীস শরীফে উল্লিখিত সেই কামারের মত যার ছোহবত নোংরা দুর্গন্ধের পরশ এবং অগ্নি ফুলকির স্পর্শ লাগায়। মূলতঃ এই অগ্নি ফুলকি কেবলি দুনিয়ার নয় বরং আসলে জাহান্নামেরই বটে।

কাজেই, তাদের ছোহবত থেকে আল্লাহ্ পাক আমাদের হিফাজত করুন। যে প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, আখিরী যামানায় (মূল দাজ্জাল আসার আগে আরো) কিছু মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে। তারা এমন সব কথা বলবে যা তোমরা শোননি, তোমাদের বাপ-দাদা চৌদ্দ পুরুষ শোনেনি। তোমরা তাদের কাছে যেয়োনা, তাদেরকেও তোমাদের কাছে আসতে দিওনা। তবে তারা তোমাদের গোমরাহ করতে পারবেনা।

-মুহম্মদ মাছূমুর রহমান, ঢাকা।

খতমে নুবওওয়াত প্রচার কেন্দ্র খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবিক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি) (তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড)

রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারকের পূর্বে র্ববহৃত লক্বব বা উপাধি এবং তার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ

ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।

একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে

মানব ক্লোনিং- পরিণতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা