-পীরে কামিল, হাফিজ, ক্বারী, মুফ্তী, আলহাজ্ব, হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা
(ধারাবাহিক)
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের সম্পর্কে বলেন,
بعثت لاتمم حسن الاخلاق.
অর্থঃ- “উত্তম চরিত্রের পূর্ণতার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি।” (মুয়াত্তা) আর বিনয় বা নিরহঙ্কার ছিল, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।
জনৈক ওলী আল্লাহ্ বলেন, “বিনয়ী হও তাহলে মর্যাদার উচ্চাসনে সমাসীন হবে। তারকার প্রতিবিম্ব যদিও দ্রষ্টার দৃষ্টিতে পানির নিচে দেখা যায় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার অবস্থান খুবই উচ্চে।
ধোঁয়ার ন্যায় হয়ো না, শুন্য মার্গের উঁচুতে তাকে অস্তিত্ববান দেখায় কিন্তু আসলে সে অস্তিত্বহীন।”
বর্ণিত আছে, একদা হযরত সুলাইমান ইবনে দাউদ আলাইহিস্ সালাম মানুষ, জ্বিন, পাখি ও চতুস্পদ জন্তুদের বের হওয়ার নির্দেশ দিলেন। তারা তাঁর সাথে বের হবার প্রস্তুতি গ্রহণ করলো এবং তখ্তে আরোহণ করলো। তাদের মধ্যে মানুষের সংখ্যা ছিল দুই লাখ আর জ্বিনেরাও ছিল দুই লাখ। হযরত সুলাইমান আলাইহিস্ সালাম তখ্তে আরোহণ করে বহু উর্ধ্বে চলে গেলেন এমনকি তিনি আকাশের মধ্য হতে ফেরেশ্তাদের তাসবীহ্ পাঠের গুঞ্জরণ শুনতে পেলেন। আবার তিনি তখ্তকে নীচে অবতরণের নির্দেশ দিলেন এবং এতো নীচুতে পৌঁছলেন যে, তাঁর পদযুগল মোবারক সমূদ্রের পানি ছুঁয়ে গেল তখন একটা অদৃশ্য আওয়াজ শোনা গেল,
لو كان فى قلب صاحبكم مثقال ذرة من كبر لخسفت به ابعد مما رفعته.
অর্থঃ- “তোমাদের সঙ্গী হযরত সুলায়মান আলাইহিস্ সালাম-এর অন্তরে যদি এক কণা অহংকারও থাকতো তাহলে আমি তাঁকে যতটা উর্ধ্বে তুলেছিলাম তদপেক্ষা বহু নীচে তাঁকে ধ্বসিয়ে দিতাম।”
হযরত মুহম্মদ ইবনে হুসাইন ইবনে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “কারো অন্তরে কম-বেশী যতটুকু অহংকার ঢুকবে ঠিক ঐ পরিমাণে তার বুদ্ধি-বিবেক হ্রাস পাবে।”
আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেন,
ولا تمش فى الارض مرحا انك لن تخرق الارض ولن تبلغ الجبال طولا.
অর্থঃ- “তুমি যমীনের উপর সদম্ভে চলো না। নিশ্চয়ই তুমি যমীনকে চিরতে পারবে না এবং পাহাড় সমান উঁচুতেও পৌঁছতে পারবে না।” (সূরা ইস্রা/৩৭)
বরকতের জন্য উত্তম চরিত্রের কতিপয় হেকায়েতের অবতারণা করা হলো-
হেকায়েতঃ মদীনা শরীফের জনৈকা অন্ধ বৃদ্ধার গৃহে খলীফাতু রসূলিল্লাহ্, আফজালুন্ নাছ বা’দাল আম্বিয়া, হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু প্রত্যহ রাতে গোপনে গিয়ে তার পানাহার ও আবশ্যকীয় কার্যের সহায়তা করে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করতেন। হযরত ওমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহু ঐ বৃদ্ধার সাহায্যের জন্য কয়েক রাতে গিয়ে যা দেখতে পেলেন তাতে বুঝতে পারলেন যে, কে যেন ঐ অনাথকে পূর্বেই সাহায্য করে চলে গিয়েছেন। তিনি সেই সাহায্যকারী ব্যক্তির সন্ধান নেয়ার জন্য একদা অগ্রে গিয়ে বৃদ্ধার গৃহের অতি নিকটে গুপ্তভাবে অবস্থান করতে থাকেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি দেখতে পান যে, স্বয়ং খলীফা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু বৃদ্ধার খেদমতে নিয়োজিত হয়ে তাঁকে পানাহার করাচ্ছেন। যিনি গোটা আরবের খলীফা যাঁর অঙ্গুলী মোবারকের ইশারায় হাজার হাজার জানবাজ মর্দে মু’মিন অম্লান বদনে জীবন দান করতে প্রস্তুত, তিনি স্বয়ং সকল প্রকার আহমিকা ত্যাগ করে আর্তের সেবায় কিরূপ যতœবান! (সুবহানাল্লাহ্)
হেকায়েতঃ একদা লিসানুল্লাহ্ হযরত ওমর ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকটে আহার্যদ্রব্য উপস্থিত হলে গোলাম এসে সংবাদ দিল, হে আমীরুল মু’মিনীন! উক্ববা আবি ফরখদ দ্বারে দন্ডায়মান। খলীফা তাঁকে ভিতরে আসতে অনুমতি দিলেন। তিনি এসে দেখলেন, রুটি ও যয়তুন খলীফার সম্মুখে রক্ষিত আছে। খলীফা তাঁকে আহারে শরীক হবার জন্য আহবান করলেন।
উক্ববা ঐ খাদ্য মুখে দিয়ে স্বাদহীনতার নিমিত্ত গিলতে না পেরে খলীফাকে বললেন, “আপনার কি ভাল খাবার জোটে না? খলীফা বললেন, হে উক্ববা! আমার দরিদ্র জনসাধারণের অপেক্ষা অধিকতর উপাদেয় খাদ্য আমি গ্রহণ করি, এটাই কি তুমি আশা কর? সত্যিই খলীফা হয়েও নিজেকে সাধারণের কাতারে শামিল করার কি অপূর্ব বিনয়। (অসমাপ্ত)
তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম
তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম
তাফসীরুল কুরআন: ওলী আল্লাহ্গণের কারামত ও তাঁদের ফযীলত