তাফসীরুল কুরআন: সুমহান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনই সর্বশ্রেষ্ঠ আমল

সংখ্যা: ২৫৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

يايها الناس قد جاءتكم موعظة من ربكم وشفاء لـما فى الصدور وهدى ورحمة للمؤمنين. قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

তরজমা: হে মানুষেরা! তোমাদের রব তায়ালা উনার তরফ থেকে তোমাদের নিকট এসেছেন নছীহতকারী, অন্তরের আরোগ্য দানকারী, হিদায়েত দানকারী এবং মু’মিনদের জন্য রহমত দানকারী। (অতএব হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের কর্তব্য তথা ফরয হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের ইবাদত মুবারক হবে তাদের সমস্ত ইবাদত বা আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ। (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

তাফসীর: মাখলূক্বাতের মধ্যে মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলূক্ব বা সৃষ্টি অর্থাৎ মানুষ হচ্ছে আশরাফুল মাখলূক্বাত। তাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষকে সম্বোধন করে যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মানুষসহ সমস্ত সৃষ্টিকে নির্দেশ মুবারক দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন যে, মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে কায়িনাতবাসীর প্রতি সম্মানিত ফদ্বল ও সম্মানিত রহমত স্বরূপ যিনি আগমন মুবারক করেছেন উনার কারণে তারা যেন খুশি মুবারক প্রকাশ করে। এই খুশি মুবারক সংক্রান্ত ইবাদত তাদের (মালী-বাদানী, রূহানী-জিসমানী, ক্বলবী-লিসানী) সমস্ত ইবাদত থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পেয়ে খুশি হওয়া বা খুশি প্রকাশ করা সমস্ত ইবাদত থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম হওয়ার ক্ষেত্রে কারণ হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তিনিই হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রুবূবিয়াত প্রকাশের মহান উসীলা। পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

كنت كنزا مخفيا فاحببت ان اعرف فخلقت الخلق لاعرف

অর্থ: আমি গোপন ছিলাম। অতঃপর আমার মুহব্বত হলো, আমি পরিচিত হই। তখন আমি সৃষ্টির যিনি মূল উনাকে অর্থাৎ আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ওজূদ পাক নূর মুবারক উনাকে সৃষ্টি করলাম আমার পরিচিতির জন্য। সুবহানাল্লাহ! (আল মাক্বাছিদুল হাসানাহ, কাশফুল খিফা ইত্যাদি)

পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

لولاك ما اظهرت الربوبية

অর্থ: আপনি যদি না হতেন অর্থাৎ আপনাকে যদি সৃষ্টি না করতাম তাহলে আমার সম্মানিত রুবূবিয়াত উনাকেও প্রকাশ করতাম না।

আরো উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনার সম্মানিত ওজূদ পাক নূর মুবারক উনাকে তিনি সৃষ্টি করেন এবং উনার থেকে পর্যায়ক্রমে কুদরতীভাবে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

اول ما خلق الله نورى وكل شىء من نورى

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার সম্মানিত নূর মুবারক সৃষ্টি করেন এবং সমস্ত কিছু আমার নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি করেন। (আল ইনসানুল কামিল)

শুধু তাই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত সৃষ্টির জন্য তথা কায়িনাতবাসী সকলের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন রব্বুল আলামীন আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন রহমাতুল্লিল আলামীন।

অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত রহমত মুবারক উনার উসীলায় সমস্ত নিয়ামত মুবারক লাভে কায়িনাতবাসী ধন্য হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, যেই সম্মানিত ওজূদ পাক উনার উসীলায় সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাছিল হলো উনার জন্যেই তো সকলকে খুশি প্রকাশ করতে হবে। এটা ফরযে আইন উনার অন্তর্ভুক্ত।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

واذكروا نعمت الله عليكم

অর্থ: তোমাদের প্রতি আগমনকৃত মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নিয়ামত মুবারক উনাকে স্মরণ করো অর্থাৎ শুকরিয়া আদায় করো তথা খুশি প্রকাশ করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩১)

উক্ত খুশি মুবারক যারা প্রকাশ করবে মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদেরকে নিয়ামত মুবারক বৃদ্ধি করে দিবেন অর্থাৎ সর্বক্ষেত্রে নিয়ামত মুবারক দানে ধন্য করবেন। দুনিয়াতে তারা সম্মানিত ঈমান ও নেক আমলের সাথে অবস্থান করবে এবং ঈমান ও আমলের সাথে তাদের ইন্তিকাল হবে এবং আখিরাতে তারা বিনা হিসাবে নিয়ামতরাজীতে ভরপুর জান্নাত মুবারক উনার মধ্যে প্রবেশ করবে। সুবহানাল্লাহ!

তাফসীরুল কুরআন: সুন্নতের ইত্তিবা বা অনুসরণ ব্যতীত জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া অসম্ভব

তাফসীরুল কুরআন: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণকে ‘আমাদের মত বাশার’ বলা কাফিরদের স্বভাব

তাফসীরুল কুরআন: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামগণকে ‘আমাদের মত বাশার’ বলা কাফিরদের স্বভাব

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী

তাফসীরুল কুরআন: হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজেদের মতো বাশার বলা কাট্টা কুফরী