-পীরে কামিল, হাফিয, ক্বারী, মুফতী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুহম্মদ শামসুদ্দোহা
(ধারাবাহিক) (৪) মুত্তাক্বী সেই, যে সর্বাবস্থায় আল্লাহ্ পাককে নিজের জন্য নিরাপদ আশ্রয় মনে করবে। নিজের জাতকে রবের জাতে, নিজের ছিফতকে রবের ছিফতে, নিজের ইরাদা ও কার্যাবলীকে রবের ইরাদা ও কার্যাবলীতে এমনভাবে ফানা করবে যেন অবস্থা এরূপ হয় যে, কবি বলেন, উর্দূ কম্পোজ করতে হবে অর্থঃ- “আপনার মধ্যে আমি এমনভাবে বিলীন হয়ে যাব যাতে আমার কোন অস্তিত্ব না থাকে। আর আমার মধ্যে আপনি এমনভাবে বিরাজ করবেন যাতে কেবল আপনিই থাকবেন।” কবি আরো বলেন, উর্দূ কম্পোজ করতে হবে অথঃ- “সূর্যের আলোতে ছায়া যেমন অদৃশ্য হয়ে যায় অথবা ফুলের ঘ্রাণ যেমন গোলাপের পাপড়ীর মধ্যে অদৃশ্য থাকে।” অর্থাৎ এমনভাবে আত্মবিস্মৃত হওয়া যে, গুনাহ্ থেকে বাঁচা, দুনিয়া থেকে বাঁচা এমনকি আল্লাহ্ পাক থেকে গাফিল করা বিষয়াদি থেকে বাঁচা। এটা হলো প্রাথমিক তাক্বওয়া এবং চূড়ান্ত তাক্বওয়া হলো আপন অস্তিত্ব থেকে বাঁচা অর্থাৎ আনা (আমি)কে ফানা করে দেয়া। সাইয়্যিদুনা হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, সাতটি জিনিসের জন্য অধিকাংশ মানুষ লালায়িত; কিন্তু আল্লাহ্ পাক মুত্তাক্বী বা খোদাভীরু ব্যতীত কাউকে সেগুলো দান করেননা। যথা- (১) প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় গুণাহ্র কাফ্ফারা (ক্ষতিপূরণ) কামনা করে কিন্তু গফ্ফার-সাত্তার আল্লাহ্ পাক তাঁর ওয়াদা করেছেন মুত্তাক্বীর জন্য। যেমন ইরশাদ হয়েছে,
ومن يتق الله يكفر عنه سياته.
অর্থঃ- “যে আল্লাহ্ পাককে ভয় করবে আল্লাহ্ পাক তার গুণাহ্সমূহ ক্ষমা করে দিবেন। অর্থাৎ তাক্বওয়া বা আল্লাহ্ভীতি গুণাহ্র কাফ্ফারা স্বরূপ।” (সূরা ত্বলাক্ব/৫) (২) জাহান্নাম থেকে নাযাত বা মুক্তি সবাই কামনা করে; কিন্তু খালিকুন্নার, মুজীরুন্নার আল্লাহ্ পাক তা মুত্তাক্বীর জন্য ওয়াদা করেছেন। যথা-
وينجى الله الذين اتقوا بمفازتهم.
অর্থঃ- “যারা তাক্বওয়া-পরহেযগারী অবলম্বন করল আল্লাহ্ পাক তাঁদেরকে সাফল্যের সাথে মুক্তি দিবেন।” (সূরা যুমার/৬১) (৩) প্রত্যেকেই উত্তম জীবনাবসান চায়; কিন্তু মুহিব্বুত্তাক্বওয়া, আশিকে মুত্তাক্বী আল্লাহ্ পাক তা মুত্তাক্বীকেই দান করেন। যেমনটি ইরশাদ হয়েছে,
والعاقبة للمتقين.
অর্থঃ- “মুত্তাক্বীদের জন্যই তো শুভ পরিণাম।” (সূরা আ’রাফ/১২৮) (৪) সবাই জান্নাতবাসী হতে চায়; কিন্তু খালিকুল জান্নাহ্, মুহিব্বুস্ সুন্নাহ্ আল্লাহ্ পাক তা মুত্তাক্বীকে তথা তাঁর হাবীবে পাক-এর সুন্নতের দিওয়ানাকেই দান করেন,
تلك الجنة التى نورث من عبادنا من كان تقيا.
অর্থঃ- “এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী আমি আমার (হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নতের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ-অনুকরণকারী আশিক) মুত্তাক্বী বান্দাকেই দান করি।” (সূরা মরিয়ম/৬৩) মালিকে জান্নাত, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বলেন,
من اطاعنى دخل الجنة.
অর্থঃ- “যে (উম্মত) আমার (সুন্নতের) আনুগত্য করল সেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারী শরীফ) (৫) সবাই আল্লাহ্ পাক-এর সান্নিধ্য ও সাহায্য চায়; কিন্তু আল্লাহ পাক বলেছেন,
ان الله مع الذين اتقوا والذين هم محسنون.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক তাঁদের সাথেই আছেন যারা পরহেযগার ও নেক্কার।’ (সূরা নহল্/১২৮) (৬) সবাই আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বত চায়; কিন্তু মাখযানুল মুহব্বত, আইনুল ওয়াদুদ্ আল্লাহ্ পাক তা মুত্তাক্বীর জন্য ওয়াদা করেছেন। যথা-
ان الله يحب المتقين.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক মুত্তাক্বীদের মুহব্বত করেন।” (সূরা তওবা/৪) (৭) প্রত্যেকেই স্বীয় আনুগত্য, মাকবুল বা গৃহীত হওয়ার আকঙ্খা করে; কিন্তু আল্লাহ্ পাক মুত্তাক্বীর থেকে তা গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেমন,
انما يتقبل الله من المتقين.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক শুধু মুত্তাক্বীদের নিকট হতে গ্রহণ করেন।” (সূরা মায়িদা/২৭)
সাইয়্যিদুনা হযরত উছমান যুন্ নূরাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, মুত্তাক্বীর কয়েকটি আলামত আছে, যথা- (১) যে এমন সব লোকের সাথে উঠাবসা করে যাতে তার দ্বীনের ইছলাহ্ হয়ে যায়। (২) সর্বদা সে নিজের লজ্জাস্থান ও জ্বিহবার উপর বিজয়ী। (৩) নিজেকে মনে করছে ধ্বংস হয়ে গেলাম কিন্তু অপরকে মনে করছে মুক্তি পেয়ে গেল।
তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম
তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম
তাফসীরুল কুরআন: খুলুক্বিন আযীম