দিন দিন বাড়ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারপাওয়ার। উন্নত প্রশিক্ষন, যুদ্ধকৌশল, সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাংক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন সাফল্যের শীর্ষে। সরকারের উচিত- দেশের মর্যাদা বুলন্দ ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ত্বকে সমুন্নত রাখতে সেনাবাহিনীর প্রতি সকল প্রকার পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা।

সংখ্যা: ২৮০তম সংখ্যা | বিভাগ:

বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তার ‘ফায়ারপাওয়ার’ তথা যুদ্ধক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে। বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশগুলো নিজেদেরকে ব্যাপকভাবে সামরিকীকরণ করেছে। এমনকি তারা আন্তর্জাতিক নিয়ম অমান্য করেও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) লাভসহ আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি অর্জনের জন্য বিনিয়োগ করছে। তাদের এই তৎপরতা বাংলাদেশের মতো শান্তিকামী দেশগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে মিয়ানমারের অত্যাচারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসা ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে ফেরানোর চেষ্টা বাংলাদেশ করলেও  আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশের চাপের কারণে এই চেষ্টা সফল হচ্ছে না। ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের এই সঙ্কটকে দীর্ঘয়িত করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। তারা মিয়ানমারকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চাইছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশও সামরিক সামর্থ্য ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অভিজ্ঞমহল মনে করেছে এই অঞ্চলের যুদ্ধংদেহী দেশগুলোকে মোকাবেলা করার এটাই একমাত্র কার্যকর সমাধান।

উল্লেখ্য, সামরিক শক্তির দিক থেকে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্বের ১৩৬টি দেশের মধ্যে ৪৫তম শক্তিশালী দেশে রূপান্তরিত হয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাপী সামরিক বিষয়ক গবেষণা গ্লোবাল ফায়ারের ২০১৯ সালের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৮ সালে যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫৬তম। সেই হিসেবে এবারের পরিসংখ্যানে ১১ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, সার্বিক বিবেচনায় বিশ্বের ১৩৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অবস্থান এখন বিশ্বের ৪৫তম।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ২,২৫,০০০। এছাড়াও, বাংলাদেশের ১৭৩টি সামরিক বাহিনীর বিমান, ৬৪টি হেলিকপ্টার, ৫৩৪টি কমব্যাট ট্যাংক, ৯৪২টি সাঁজোয়া যান, ১৮টি সেলফ-প্রপেলড আর্টিলারি, ৩২ টি রকেট প্রজেক্টর এবং ২ টি সাবমেরিনসহ মোট ৮৯টি সামরিক নৌযান রয়েছে। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সামরিক বাজেট ১৫৯ কোটি মার্কিন ডলার উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে সুইডেনের স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় ১২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে সামরিক খাতে ব্যয় ছিল প্রায় ৬,৬০০ কোটি টাকা, যেখানে ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় ২৮,৮০০ কোটি টাকা। তবে আমরা মনে করি এক্ষেত্রেও সরকারের সাফল্য যথাযথ নয়। কারণ গত দশ বছরে দেশ থেকে পাঁচার হয়েছে দশ লাখ কোটি টাকারও বেশি। কাজেই এ পাচারকৃত অর্থ যদি সামরিক খাতে ব্যয় হতে তাহলে বাংলাদেশই হতে পারতো সামরিক দিক থেকে বিশ্বের প্রথম শক্তিশালী দেশ।

এমনিতেই আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পাঠানো হচ্ছে সেসব দেশের নিরাপত্তা বিধানের জন্য। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ৬ হাজার ৫৪৯ জন শান্তিরক্ষী কাজ করছেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের সেনাসংখ্যা পাশ্ববর্তী অন্যান্য দেশের চাইতে কম হলেও বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পাশ্ববর্তী দেশগুলোর সেনাবাহিনী থেকে অনেক চৌকশ ও শক্তিশালী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অধিকাংশ সদস্যই অতি অল্প সময়েই সমর কৌশল রপ্ত করেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রত্যেকজন সদস্যই অনেক মেধাবী, সাহসী এবং উন্নতমানের দক্ষ প্রশিক্ষণে উপযুক্ত ও স্ব-সক্ষমতা অর্জনকারী।

বলাবাহুল্য, বাংলাদেশ খুব দ্রুত সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী হয়ে উঠলেও বাংলাদেশ বিরোধী স্বার্থান্বেষী আগ্রাসী ও ষড়যন্ত্রী মহল বাংলাদেশের সামরিক শক্তির উন্নয়ন চায় না। কারন বাংলাদেশ যদি সামরিক খাতে সুঠাম হয়ে ওঠে তাহলে তারা বাংলাদেশের উপর দাদাগিরি ও খবরদারি করতে পারবে না এবং বাংলাদেশকে আর শোষণ করতে পারবে না। এজন্য বাংলাদেশ সরকার যদি দেশের সেনাবাহিনী নিয়ে কোনো উন্নত পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাহলে তড়িৎ তারা তার বিরোধীতা করে থাকে। কিন্তু যতই বিরোধীতা আসুক বা বাধা আসুক বাংলাদেশের সরকারের মনে রাখতে হবে যে, সঙ্গতকারণেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করলেও বাংলাদেশের প্রতি পাশ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন অপশক্তির লোলুপ দৃষ্টি রয়েছে। যারা চায় সিকিমের মতো বাংলাদেশকেও তাদের কলোনীতে পরিণত করতে। আর এর কারনেই উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের মন্ত্রী এমপিরা কিছুদিন পর পর বাংলাদেশ দখলের হুমকি দেয়, অনুন্নত সেনাবাহিনী নিয়েও পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চায়।

তাই সরকারকে এসব হুমকির বিষয়টি আমলে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ত্ব এবং আত্মমর্যাদার দিক থেকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে পাশ্ববর্তী দেশগুলোর চাইতে উন্নতকরণ করতে হবে। কারন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়েই নয় বরং একটি দেশের সক্ষমতা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি নির্ভর করে সেই দেশের সেনাবাহিনীর স্বক্ষমতার উপর।

-আল্লামা মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, ঢাকা।

মুজাদ্দিদে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহাসম্মানিত হযরত মুরশিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত- সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আইনী কার্যক্রম ঐতিহাসিক এক অভূতপূর্ব আজিমুশ্বান তাজদীদ মুবারক (৪)

অপরাধের মাত্রা বাড়ার সাথে সাথে পাল্টাচ্ছে কিশোর অপরাধের ধরণ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ও আকাশ সংস্কৃতিই মুখ্য কারণ।সরকারের উচিত- দেশের এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে যুগপৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা।

এনজিওগুলোর ক্ষুদ্রঋণের ফাঁদে প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার কোটি কোটি মানুষ সর্বস্বান্ত। ঋণের কিস্তির চাপে একের পর এক ঘটছে আত্মহত্যার ঘটনা। ‘ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র বিমোচন নয়, বরং দারিদ্রতা লালন করছে।’ এনজিগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ চায় দেশের ৩০ কোটি মানুষ।

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় খেলাপি ঋণ এখন ৩ লাখ কোটি টাকা। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো তাদের দেয়া হচ্ছে সুযোগ সুবিধা। ব্যাংকের টাকা জনগণের টাকা। দেশের মালিক জনগণ। সরকার জনগণের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে পারেনা।

৭ বছরেও হয়নি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নীতিমালা। প্রতিনিয়ত ঘটছে সন্তান কর্তৃক অসহায় পিতা-মাতাকে নির্যাতনের ঘটনা। দেশে বাড়ছে পশ্চিমা ‘ওল্ডহোম’ সংস্কৃতি।শুধু নীতিমালা বাস্তবায়নেই নয় বরং দ্বীন ইসলাম উনার আদর্শ প্রচার-প্রসারেই রয়েছে এর সুষ্ঠ সমাধান।