ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার ভারতে মুসলমানদের প্রতি নিরপেক্ষতার পরিবর্তে চলছে চরম নিপীড়ন। এদেশের হিন্দুরা ধর্মনিরপেক্ষতার নামে রামরাজত্ব চালাতে চায় কিন্তু ভারতে মুসলমানরা কতটুকু দলিত-মথিত সে খবর কী তারা রাখে? ভারতে মুসলমানদের প্রতি নির্যাতন ও নিপীড়নের ভয়াবহতার প্রকৃত খবর ক’জনে রাখে? অথচ মিডিয়ায়ও এসব খবরের সংখ্যা কম নয়। (৪)

সংখ্যা: ২১৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

ভারতে বোমা হামলা ঘটলেই দেখা যায়, পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এমন সব লোককে গ্রেফতার করছে, যারা ঘটনার আশপাশে ছিল না। নির্দোষ ও নিরীহ ওইসব ব্যক্তি মূলত সে দেশের সংখ্যালঘিষ্ঠ মুসলমান। গ্রেফতারকৃতদের অনেকেই বছরের পর বছর কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন নিতান্তই মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়ে। ব্যাপারটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, বোমা হামলার পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সত্যিকারের গোয়েন্দা তথ্য এবং ফরেনসিক সাক্ষ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের না ধরে ঢালাওভাবে গ্রেফতার করে সমাজে রীতিমতো আতঙ্ক জাগিয়ে তুলছে। আর এ কাজটি করার ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে এমন সব যুক্তি এবং গালগল্প প্রচার করা হয়ে থাকে, যা পরে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

ভারতে কোনো জায়গায় বোমা বিস্ফোরিত হলেই পুলিশ-গোয়েন্দা নেমে পড়ে হুজি, এলইটি, আইএম এবং সিআইএমআই নামের সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের হন্যে হয়ে খোঁজার কাজে। সন্ত্রাসী সংগঠনের যোগসাজশের উছিলায় ধরতে থাকে মুসলমান তরুণ কিংবা বয়স্ক লোকদের। এবার মুম্বাই বোমা হামলার পর ফয়েজ উসমানি নামে এক যুবককে ধরা হয়। পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়।

২০০৭ সালে হায়দরাবাদের মক্কা মসজিদে বোমা হামলার সময় প্রায় একই ব্যাপার ঘটেছিল। সেখানকার ইউনানি মেডিসিনের ছাত্র ইব্রাহিম আলি জুনাইদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এক মাস ধরে পুলিশ আমরা জানি, তোমরা মুসলমানরা সন্ত্রাসী এ কথা বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গ্রেফতারের পর প্রথম ৬ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় তাকে বেদম প্রহার এবং ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে। পাঁচ মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর ৫০ হাজার টাকায় জামিন মেলে জুনাইদের। মক্কা মসজিদ বিস্ফোরণে প্রায় ৬০ তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে ২৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। পরে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের সংখ্যালঘু কমিশন পুলিশি নির্যাতন সম্পর্কে রিপোর্ট দেওয়ায় একজন আইনজীবী কমিশনার নিয়োগ করে। কারাগারে পাঠানো ২৮ জনের একজন ছিলেন মোহাম্মদ রাইস। তিনি জানান, হায়দরাবাদ থেকে আটক ছেলেদের কারাগারের এমন এক সেলে রাখা হয়েছিল, যেখানে আইএমআই এজেন্ট এবং সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীরা থাকত। রইস বলেন, এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল, তাদের মতো মুসলমান ছেলেদের গ্রেফতারের কারণ পুলিশ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখাতে চেয়েছে, তারা বসে নেই, কাজ করছে।

এমনকি সিবিআই গোয়েন্দারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা নির্দোষ, কিন্তু রাজ্য পুলিশ তাদের বোমাবাজ বানাতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মক্কা মসজিদে বোমা হামলার নেপথ্যে ছিল উগ্র হিন্দুবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন। রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে রাইস ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতে মামলা ঠুকেছেন।

এখন পর্যন্ত ভারতীয় কোনো মানবাধিকার কমিশন বা সংগঠনগুলো প্রতিবার বোমা হামলার পর কতজন নির্দোষ মুসলমান তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেনি। ২০০৬ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণের পর ১১৫ মুসলমানকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক বছর কারা নির্যাতন ভোগের পর তারা ছাড়া পেয়েছে। কিন্তু এখনও ৯ জন কারাগারে বন্দি রয়েছে। যদিও ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনআইএ) তদন্তে ধরা পড়েছে, মালেগাঁও বোমা বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছে হিন্দু মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা। কিন্তু মহারাষ্ট্রের আদালত ও রাজ্য পুলিশ সে কথা কানে তুলতে নারাজ। গত বছরের মার্চে ৯ জন জামিনের আবেদন করেছিল; কিন্তু তা নামঞ্জুর হয়েছে। অথচ স্বামী অসীমানন্দ ওই বোমা বিস্ফোরণের দায়দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে স্বীকারোক্তি পর্যন্ত দিয়েছে।

এরকম একজন আদনান মোল্লা! মুম্বাই নগরীতে দুধ সরবরাহের ব্যবসা আছে তার। ২০০৩ সালে ক্রাইম ব্রাঞ্চের ৩ পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মুলন্দে, ভেইল পার্ল ও মুম্বাই সেন্ট্রালের বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করে। এক মাস পর তাকে আদালতে হাজির করে আবার রিমান্ডে নেওয়া হয়। অমানুষিক নির্যাতন চলে তার উপর। পুলিশ জানিয়ে দেয়, যতক্ষণ না স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া না হবে, ততক্ষণ নির্যাতন চলবে। কিন্তু আদনানের সাফ জবাব, আমি অপরাধ করিনি, স্বীকারোক্তি দেব না। কিন্তু পুলিশ নাছোড়বান্দা। তাদের কথা, মুলন্দে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা তুমি জানো বলে স্বীকারোক্তি দাও। কয়েক মাস পর আদনানের বাবা-মা এবং বড় বোন কারাগারে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থা দেখে পরামর্শ দিয়েছিল, পুলিশের কথামতো স্বীকারোক্তি দিয়ে দাও। আদনান রাজি হননি। ছয় বছর ১১ মাস কারাগারে কাটানোর পর আদনান হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। তবে শর্ত ছিল, প্রতিদিন তাকে হাজিরা দিতে হবে থানায় গিয়ে। আদনান জানান, ক্রাইম ব্রাঞ্চ আমার বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পায়নি। তারা আমার জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে।

আদনানের মতোই সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগের ভীষণ খেসারত দিতে হয়েছে জয়পুরের ৬০ বছরের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ইসহাককে। ২০০৮ সালে আহমেদাবাদ ও জয়পুর বিস্ফোরণের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। কয়েক দশক ধরেই তিনি জয়পুরে বসবাস করছেন। তার দেশপ্রেম নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তারপর মিথ্যা অভিযোগে ২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট তাকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে জামিনে আছেন; কিন্তু বাবার বদলে তার কলেজে পড়ুয়া ছাত্র ছেলে কারাগারে আটক। গভীর আক্ষেপে ডা. ইসহাক জানান, আমাদের জীবন এক সীমাহীন হতাশায় নিমজ্জিত।সন্ত্রাসবাদের হিং¯্র ছোবল ভারতে শুধু নিরীহ মানুষের জীবনই কেড়ে নিচ্ছে না, সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে অসীম হয়রানি-নির্যাতনের ভেতর, যা জাতিসংঘের ঘোষিত কথিত মানবাধিকারেরও পরিপন্থী।

গুজরাটে ২০০৮ সালে আহমেদাবাদ বোমা হামলার পর ৬২ মুসলমান যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল, বিচার যেন ওই রাজ্যের বাইরে কোনো আদালতে হয়। কিন্তু ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট তাতে আমল দেয়নি।

মুম্বাই বোমা হামলার পর পুলিশ হেফাজতে প্রাণ হারানো ওই ব্যক্তির একমাত্র অপরাধ, তার ভাই আফজাল আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ মামলায় একজন অভিযুক্ত। এ ছাড়া কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেই ফয়েজ একজন সন্ত্রাসবাদী। তবে পুলিশ বলছে, তিনি ব্লাড প্রেসারের রোগী, গ্রেফতার হওয়ার সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নিতে পারেননি। সময়মতো পিল খেতে না পারায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি। তবে পুলিশি হেফাজতে আসলে কী ঘটেছিল কিংবা ফয়েজ উসমানির মৃত্যু কেন হয়েছিল প্রকৃত ঘটনা জানার সুযোগ কখনও হবে না। তবে ভারতীয় পুলিশরা আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনে সিদ্ধহস্ত।

ভারতের গণমাধ্যম এবং হিন্দু মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঢালাওভাবে বলে থাকে মুসলমান মাত্রই সন্ত্রাসবাদের সমর্থক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতিবারই বোমা হামলা নিরীহ মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি ওই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় দুশ্চিন্তার বেড়াজালে আটকে পড়ে। স্বল্প মেয়াদে সব হয়রানির ঝড় তাদেরই মোকাবেলা করতে হয়। আর দীর্ঘ মেয়াদে ওই ধরনের ঘটনা সমাজকে বিভক্ত করে, আর সেই সুযোগে মুসলমান বিদ্বেষীরা তাদের মতলব হাসিলের পথ পেয়ে যায়।

নির্দোষ মুসলমানদের উপর নির্যাতন চালানোর জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিচার করার এবং বছরের পর বছর ধরে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর চালানো সন্ত্রাসী তৎপরতা সম্পর্কে তদন্তের দাবি উঠলেও কোন কাজ হয়নি।

ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস দলের সাংসদ জিতেন্দ্র আভহাদ বলেছে, ২০০৬ সালের ওই ঘটনার পর থেকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতার কথা সে বলে আসছে এবং এই দলগুলোর সন্ত্রাসী তৎপরতার অনেক প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। (ইনশাআল্লাহ চলবে)

মুহম্মদ তারীফুর রহমান

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৬৭

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-১৬

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৩৫

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-২৫ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বা ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ‘সংবিধানের প্রস্তাবনা’, ‘মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ ‘জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ এবং ‘জাতীয় সংস্কৃতি’ শীর্ষক অনুচ্ছেদের সাথে- থার্টি ফার্স্ট নাইট তথা ভ্যালেন্টাইন ডে পালন সরাসরি সাংঘর্ষিক ও সংঘাতপূর্ণ’। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।সংবিধানের বহু গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ স্পর্শকাতর অনুচ্ছেদের প্রেক্ষিতে ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে কোনভাবেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হতে পারে না।পারেনা গরিবের রক্ত চোষক ব্র্যাকের ফজলে আবেদও ‘নাইট’ খেতাব গ্রহণ করতে। পারেনা তার  নামের সাথে ‘স্যার’ যুক্ত হতে। পাশাপাশি মোঘল সংস্কৃতির দান পহেলা বৈশাখ পালনও প্রশ্নবিদ্ধ।