মুক্বদ্দিমাহ্:
মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত প্রকার আমল থেকে পবিত্র। তবে তিনি একখানা আমল মুবারক করেন, সেটা আবার দায়িমীভাবে। এক মুহূর্তের জন্যও তিনি এই আমল মুবারক থেকে যুদা হননা। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্যও এই আমল মুবারক আবশ্যক অর্থাৎ ফরয করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ اللهَ وَمَلٰئِكَتَهٗ يُصَلُّوْنَ عَلَى النَّبِىِّ ياَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করো এবং অত্যন্ত আদবের সাথে সম্মানিত সালাম মুবারক দাও।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)
এখানে মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করেন। সেই বিষয়টা জানানো হয়েছে। আর সমস্ত উম্মতকে আদেশ করা হয়েছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক পাঠ করার জন্য এবং অত্যন্ত আদবের সাথে উনাকে সালাম মুবারক দেয়ার জন্য। সুবহানাল্লাহ!
তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মানিত ছলাত মুবারক বা পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা সমস্ত উম্মতের জন্য ফরয। এই পবিত্র দুরূদ শরীফ জবানে পাঠ করা যেমন ফরয। একইভাবে লেখার সময়ও উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক উনার পরে পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখা ফরয।
আর এই পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য, অগণিত, বেমেছাল ফযীলত মুবারক। সুবহানাল্লাহ!
হযরত শামসুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার ফযীলত বর্ণনা করতে যেয়ে বলেন-
وَاَمَّا الصَّلَاةُ عَلَيْهِ عِنْدَ كِتَابِهٖ اِسْمِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا فِيْهِ مِنَ الثَّوَابِ وَذَمَّ مَنْ اَغْفَلَه فَاعْلَمْ اَنَّهٗ كَمَا تُصَلِّىْ عَلَيْهِ بِلِسَانِكَ فَكَذَالِكَ خَطُّ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ بِبَنَانِكَ مَهْمَا كَتَبْتَ اِسْمَهُ الشَّرِيَفَ فِىْ كِتَابٍ فَاِنَّ لَكَ بِهٖ اَعْظَمُ الثَّوَابِ
অর্থ: “আর কেউ যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লিখার সময় পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখবে, এতে তার জন্য ছাওয়াব রয়েছে। আর যে ব্যক্তি গাফলতি করবে তার জন্য তিরস্কার রয়েছে। জেনে রাখুন! আপনি যেমন জবান দ্বারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করেন। একইভাবে উনার নাম মুবারক লিখার সময়ও উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখা আবশ্যক। আপনি কোনো কিতাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক যতোই লিখবেন, এতে আপনার জন্য সুমহান নেকী রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৭ নং পৃষ্ঠা)
নিম্নে সেই অসংখ্য, অগণিত ফযীলত মুবারক উনাদের থেকে কতিপয় ফযীলত মুবারক উল্লেখ করা হলো:
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত ফযীলত মুবারক
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِى هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ فِىْ كِتَابٍ لَمْ تَزَلِ الْمَلائِكَةُ تَسْتَغْفِرُ لَهٗ مَا دَامَ اسْمِىْ فِىْ ذَالِكَ الْكِتَابِ
অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কিতাবে আমার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ কিতাবে আমার মহাসম্মানিত নাম মুবারক থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট মাগফিরাত কামনা করতে থাকবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মু’জামুল কাবীর ১৯/১৮১, মু’জামুল আওসাত্ব ২/২৩২, আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩৩০, আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃ: ইত্যাদি)
অপর বর্ণনায় রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ فِىْ كِتَابٍ لَمْ تَزَلِ الصَّلَاةُ جَارِيَةً لَهٗ مَادَامَ اِسْمِىْ فِىْ ذَالِكَ الْكِتَابِ
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কিতাবে আমার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ কিতাবে আমার সম্মানিত নাম মুবারক থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ জারী থাকবে। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তি দায়িমীভাবে পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করার ফযীলত লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (আত তারগীব ওয়াত তারহীব ২/৩৩১, আল ক্বওলুল বাদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা, ত্ববাক্বাতুশ শাফিয়িয়্যাহ ১/১৮০ ইত্যাদি)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ يَجِيْءُ اَصْحَابُ الْحَدِيْثِ وَمَعَهُمُ الْمَحَابِرَ فَيَقُوْلُ اللهُ لَهُمْ اَنْتُمْ اَصْحَابُ الْحَدِيْثِ طَالَ مَا كُنْتُمْ تَكْتُبُوْنَ الصَّلَاةَ عَلٰى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَنْطَلِقُوْا اِلَى الْجَنَّةِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে তখন মুহাদ্দিছগণ দোয়াতসহ সেখানে উপস্থিত হবেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে বলবেন, আপনারা আছহাবে হাদীছ অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ সংরক্ষণ করেছেন, তাতে দীর্ঘ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখেছেন। কাজেই আপনারা দ্রুত জান্নাতে প্রবেশ করুন।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববারানী শরীফ, আল ক্বওলুল বাদী’ ২৪৮ নং পৃ:, শরহুল বুখারী লিস সাফীরী ১/৭৯ ইত্যাদি)
পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার বেমেছাল ফযীলত মুবারক সম্পর্কিত বাস্তবে অনেক ওয়াক্বেয়াহ মুবারকও সংঘটিত হয়েছে। সেখান থেকে নিম্নে কয়েকখানা ওয়াক্বেয়াহ মুবারক উল্লেখ করা হলো:
পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের নামাযে ইমামতী করার দায়িত্ব লাভ
কিতাবে একটি মশহূর ওয়াক্বেয়াহ বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَعْفَرَ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ حَضْرَتْ اَبَا زُرْعَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِى الْمَنَامِ وَهُوَ فِي السَّمَاءِ يُصَلِّىْ بِالْمَلَائِكَةِ فَقُلْتُ لَهٗ بِمَ نِلْتَ هٰذَا فَقَالَ كَتَبْتُ بِيَدِىْ اَلْفَ اَلْفَ حَدِيْثٍ اِذَا ذَكَرْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ قَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَىَّ مَرَّةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ عَشْرًا
অর্থ: “হযরত জা’ফর ইবনে আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (হযরত আবূ যুরআ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফের পর) আমি উনাকে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আসমানে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকেসহ নামায আদায় করছেন। অর্থাৎ নামাযে উনাদের ইমামতী করছেন। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কিভাবে এই ফযীলত হাছিল করলেন? তিনি বললেন, আমি আমার নিজ হাতে ১০ লক্ষ হাদীছ শরীফ লিখেছি। যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করতাম, তখন অত্যন্ত মুহাব্বতের সাথে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লিখতাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, যে ব্যক্তি আমার উপর ১ বার পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর দশটি রহমত মুবারক বর্ষণ করবেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত নাম মুবারক উনার সাথে ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ লেখার কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে এই মাক্বাম মুবারক হাদিয়া করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৫০ নং পৃষ্ঠা)
বিছাল শরীফের পর সবুজ পোষাক পরিহিত অবস্থায় অত্যন্ত শান-শওকতে ঘুরে বেড়ানো
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَيْضًا قَالَ حَدَّثَنَا خَلْفٌ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ صَاحِبُ الْخَلِّقَانِ قَالَ كَانَ لِىْ صَدِيْقٌ يَطْلُبُ مَعِى الْحَدِيْثَ فَمَاتَ فَرَاَيْتُهٗ فِى الْمَنَامِ وَعَلَيْهِ ثِيَابٌ خُضْرٌ جُدُدٌ وَيُجَوِّلُ فِيْهَا فَقُلْتُ لَهٗ اَلَسْتَ كُنْتَ تَطْلُبُ مَعِى الْحَدِيْثَ فَمَا هٰذَا الَّذِىْ اَرٰى فَقَالَ كُنْتُ اَكْتُبُ مَعَكُمُ الْحَدِيْثَ فَلَا يَمُرُّ بِىْ حَدِيْثٌ فِيْهِ ذِكْرُ النَبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلَّا كَتَبْتُ فِىْ اَسْفَلِهٖ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَافَاَنِىْ بِهٰذَا الَّذِىْ تَرٰى عَلَىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নিকট ‘খল্লিক্বান’ কিতাবের লিখক হযরত খল্ফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন। হযরত খল্ফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার একজন বন্ধু ছিলেন, যিনি আমার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ সংগ্রহ করতেন। তিনি ইন্তেকাল করার পর আমি স্বপ্নে উনাকে দেখতে পাই, তিনি নতুন সবুজ পোষাক পরিহিত অবস্থায় অত্যন্ত শান-শওকতে সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি উনাকে বললাম, আপনি না আমার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ সংগ্রহ করতেন? আমি আপনার এটা কি অবস্থা দেখতে পাচ্ছি? (এতো মর্যাদা কিসের কারণে?)। তখন তিনি বললেন, আমি আপনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লিপিবদ্ধ করতাম। এমন কোনো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ আমাকে অতিক্রম করতেন না, যেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত নাম মুবারক থাকতেন কিন্তু আমি মহাসম্মানিত নাম মুবারক উনার পরে পবিত্র দুরূদ শরীফ ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ না লিখতাম। এই পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখার কারণেই আমাকে এই প্রতিদান, মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আপনি যেটা দেখতে পাচ্ছেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা)
পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে বিশেষ নিয়ামত লাভ
এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اَبِى الْحَسَنِ الْمَيْمُوْنِىْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَاَيْتُ الشَّيْخَ اَبَا عَلِى اَلْحَسَنَ بْنَ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِى الْمَنَامِ بَعْدَ مَوْتِهٖ وَكَاَنَّ عَلٰى اَصَابِعِ يَدَيْهِ شَيْئًا مَكْتُوْبًا بِلَوْنِ الذَّهَبِ اَوْ بِلَوْنِ الْزَعْفَرَانِ فَسَاَلْتُهٗ عَنْ ذَالِكَ وَقُلْتُ يَا اُسْتَاذُ اَرَى عَلٰى اَصَابِعِكَ شَيْئًا مَلِيْحًا مَكْتُوْبًا مَا هُوَ قَالَ يَا بُنَىَّ هٰذَا لِكِتَابَتِىْ لِحَدِيْثِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيْ حَدِيْثِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত আবুল হাসান মাইমূনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্মানিত শায়খ আবূ আলী হাসান ইবনে উয়াইনাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উনার বিছাল শরীফের পর স্বপ্নে দেখলাম। উনার দুই হাতের আঙ্গুলসমূহে সোনালী অথবা জাফরানী রঙ্গের কিছু একটা লেখা রয়েছে। তাই আমি উনার নিকট এই বিষয়ে জানতে চাইলাম। আমি বললাম, হে আমার সম্মানিত উস্তাদ! আমি আপনার আঙ্গুলসমূহে অত্যন্ত চমৎকার লাবন্যময় কিছু একটা লেখা দেখতে পাচ্ছি। এটা কি? তিনি বললেন, হে প্রিয় বৎস! এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত হাদীছ শরীফ লেখার জন্য। অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফ লেখার সময় পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে আমাকে এই সম্মান, মর্যাদা দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (জালাউল আফহাম ৪১১ নং পৃষ্ঠা, আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা)
অধিক পরিমাণে পবিত্র দুরূদ শরীফ
লেখার কারণে ক্ষমাপ্রাপ্ত হওয়া
এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ حَمْزَةَ السَّهْمِىْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ سَمِعْتُ اَبَا مُحَمَّدِ الْمُنِيْرِىْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يَقُوْلُ رَاَيْتُهٗ يَعْنِىْ حَضْرَتْ اَحْمَدَ بْنَ مُوْسَى بْنَ عِيْسَى الْجُرْجَانِىَّ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ فِى النَّوْمِ بَعْدَ وِفَاتِهٖ فَقُلْتُ مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ قَالَ غَفَرَ لِىْ بِكَثْرَةِ كُتُبِىِّ الْحَدِيْثِ وَالصَّلَاةُ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “হযরত হামযা আস সাহমী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) আমি আবূ মুহম্মদ আল মনীরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি। আমি হযরত আহমদ ইবনে মূসা ইবনে ঈসা জুরজানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে উনার বিছাল শরীফের পর স্বপ্নে দেখে বললাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, আমি অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং সেখানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক পরিমাণে পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (ত্ববাক্বতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল কুবরা ১/১৮০)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ مُحَمَّدِ بْنِ اَبِىْ سُلَيْمَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَوْ حَضْرَتْ عُمَرَ بْنِ اَبِىْ سُلَيْمَانَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَالْاَوَّلُ قَالَ رَاَيْتُ اَبِىْ فِى النَّوْمِ فَقُلْتُ يَا اَبِىْ مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ قَالَ غَفَرَ لِىْ قُلْتُ بِمَاذَا قَالَ بِكِتَابَتِى الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِىْ كُلِّ حَدِيْثٍ
অর্থ: “হযরত মুহম্মদ ইবনে আবী সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি অথবা হযরত উমর ইবনে আবী সুলাইমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার সম্মানিত পিতা উনাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, হে আমার সম্মানিত পিতা মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি বললাম, কি কারণে ক্ষমা করা হয়েছে? তিনি বললেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লেখার সময় প্রত্যেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ লেখার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৫০ নং পৃষ্ঠা)
কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَيْضًا قَالَ كَانَ لِىْ اَخٌ مُوَاخٌ فِىَّ فَمَاتَ فَرَاَيْتُهٗ فِى النَّوْمِ فَقُلْتُ مَا فَعَلَ اللهُ بِكَ قَالَ غَفَرَ لِىْ قُلْتُ بِمَاذَا قَالَ كُنْتُ اَكْتُبُ الْحَدِيْثَ فَاِذَا جَاءَ ذِكْرُ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبْتُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَبْتَغِىْ بِذَالِكَ الثَّوَابَ فَغَفَرَ لِىْ بِذَالِكَ
অর্থ: “হযরত সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে আরো বর্ণিত রয়েছে। তিনি বলেন, আমার একজন ভাই ছিলেন যিনি সর্বদা আমার সাথে ভ্রাতৃসুলভ আচরণ করতেন। তিনি যখন ইন্তেকাল করেন তখন আমি উনাকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, কি কারণে আপনাকে ক্ষমা করা হয়েছে? তিনি বললেন, আমি (জীবদ্দশায়) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ লিখতাম। (লেখার সময়) যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক আসতেন। তখন আমি ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ এই পবিত্র দুরূদ শরীফ লিখতাম। এটা লেখার দ্বারা আমি ছাওয়াব কামনা করতাম। আর এ কারণেই আমাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৪৮ নং পৃষ্ঠা)
কাজেই বান্দা-বান্দী, উম্মতের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক শুনে অত্যন্ত মুহাব্বতের সাথে প্রতিবারই পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করা। একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক লেখার সময়ও অত্যন্ত আদব ও মুহব্বতের সাথে পূর্ণরূপে পবিত্র দুরূদ শরীফ ‘ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পুরোটা সুস্পষ্টভাবে লিখা।
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-হাফিয আবূ আহমদ ইয়ানাহ তাসকীন।