পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৫)

সংখ্যা: ২৭৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৫তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি। আলহামদুলিল্লাহ।

খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহের দলীলভিত্তিক খণ্ডনমূলক জাওয়াব

সম্মানিত শরীয়ত উনার চারখানা দলীল পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি বাল্য বিবাহের অনুমতি দিয়েছেন। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে বাল্য বিবাহ করেছেন, করিয়েছেন ও সমর্থন করেছেন। হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবে তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের অনেকেই বাল্য বিবাহ করেছেন ও করিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বাল্য বিবাহ জায়িয হওয়ার বিষয়ে ইজমা বা ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

অথচ এর পরও কতিপয় উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকেরা খাছ সুন্নতী বাল্য বিবাহ সম্পর্কে চু চেরা, ক্বীল ও ক্বাল করে থাকে। নানান মনগড়া, বিভ্রান্তিকর আপত্তিসমূহ উত্থাপন করে থাকে। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মনগড়া ব্যাখ্যা করে বাল্য বিবাহ সম্পর্কে মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্য পেশ ও প্রচার করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

নিম্নে উলামায়ে ‘সূ’, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উত্থাপিত ও প্রচারিত মনগড়া, মিথ্যা ও দলীলবিহীন বক্তব্যসমূহ খণ্ডন করে দলীলভিত্তিক সঠিক জাওয়াব প্রদান করা হলো-

৪নং আপত্তি ও তার জাওয়াব

উলামায়ে সূ, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরকার লোকেরা বলে থাকে যে, “যদিও বলা হয়, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ ৬১৪ খিৃস্টাব্দে। কিন্তু ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে এসেছে পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিলকালে তিনি একজন جارية বা কিশোরী ছিলেন। উল্লেখ্য, পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিল হয় ৬১২ খ্রিস্টাব্দের দিকে। সে হিসেবে তখন উনার বয়স মুবারক ১০ বছর হলেও ৬২৩-৬২৪ খ্রিস্টাব্দ সালে যখন উনার বিবাহ হয় তখন উনার বয়স কোনোভাবেই ২০ বছরের নিচে নয়।” নাউযুবিল্লাহ!

জাওয়াব: উলামায়ে সূ, নাস্তিক, মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, দলীলবিহীন হওয়ার সাথে সাথে পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার সুস্পষ্ট বিরোধী হওয়ায় তাদের উক্ত বক্তব্য মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সম্পূর্ণরূপেই পরিত্যাজ্যা।

তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে প্রথমত বলতে হয় যে, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আক্বদ মুবারক ৬ বছর বয়স মুবারকে আর সম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ ৯ বছর বয়স মুবারকে হয়েছে এ মতটিই ছহীহ, গ্রহণযোগ্য, দলীলভিত্তিক। কেননা অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ এবং বুখারী শরীফ, মুসলিম, শরীফ সহ ছিহাহ সিত্তাহ এবং আরো অসংখ্য নির্ভরযোগ্য কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারককালীন বয়স মুবারক ৬ বছর আর নিসবাতুল আযীম শরীফকালীন বয়স মুবারক ৯ বছর বলে উল্লেখ আছে, সেখানে এর বিপরীত কিছু ঐতিহাসিক তথ্য বা বর্ণনা দলীল হিসেবে পেশ করা জিহালত বা গোমরাহী নয় কি? মূলত তা শুধু জিহালত বা গোমরাহীই নয় বরং সুস্পষ্ট কুফরীও বটে। কারণ এতে পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাকে অস্বীকার করা হয়। নাউযুবিল্লাহ!

উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক ও নিসবাতুল আযীম মুবারককালীন বয়স মুবারক সম্পর্কে অসংখ্য পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ اَنَّ النَّبِـىَّ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزَوَّجَهَا وَهِيَ بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلَتْ عَلَيْهِ وَهِيَ بِنْتُ تِسْعٍ وَّمَكَثَتْ عِنْدَه تِسْعًا.

অর্থ : “হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ্ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে (হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম) উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয় যখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর তিনি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন এবং ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ছহীহুল বুখারী কিতাবু বাদইল ওয়াহই বাবু ইনকাহির রজুলি ওয়ালাদাহুছ ছিগার)

কাজেই, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বদ মুবারককালীন বয়স মুবারক উনার বিষয়টি যেহেতু সরাসরি পবিত্র হাদীছ শরীফেই বর্ণিত রয়েছে, তাই এ বিষয়ে ঐতিহাসিক তথ্য টেনে এনে ইখতিলাফ বা মতভেদ করার কোনোই সুযোগ নেই। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত বয়স মুবারক সম্পর্কিত উক্ত মতকে যদি কেউ প্রত্যাখ্যান করতে চায় তবে তাকে উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ সমুহের চেয়েও অধিক মজবুত ও অধিক সংখ্যক পবিত্র হাদীছ শরীফ দলীল হিসেবে পেশ করতে হবে।  কোনো ঐতিহাসিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে পবিত্র হাদীছ শরীফ  অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। যদি কেউ তা করে তবে তা হবে সুস্পষ্ট কুফরী।

অতএব, পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৪র্থ বছর অর্থাৎ ৬১৪ খৃষ্টাব্দে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ৪ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আর আনুষ্ঠানিক রিসালত মুবারক প্রকাশের ১০ম বছর অর্থাৎ ৬২০ খৃষ্টাব্দে পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ উনার পবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। সুবহানাল্লাহ!

একইভাবে ১ম হিজরীর অর্থাৎ ৬২৩ খৃষ্টাব্দে পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৯ বছর।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ১১ হিজরী সনের মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার বয়স মুবারক ছিলো ১৮ অর্থাৎ তিনি ৯ বছর উনার সাথে অবস্থান মুবারক করেন।

আর ৫৮ হিজরী সনের পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ লাইলাতুল আহাদ প্রায় ৬৭ বছর বয়স মুবারকে তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। এটাই সবচেয়ে ছহীহ নির্ভরযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত।

তাদের উক্ত বক্তব্যের জবাবে দ্বিতীয়ত বলতে হয় যে, তারা যে বলছে, ‘সূরা ক্বামার শরীফ’ নাযিল হওয়ার সময় উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ১০ বছর ছিল তাদের একথাটিও সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, বানোয়াটা, বিভ্রান্তিকর ও দলীলবিহীন।

মূলত ছহীহ, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত হলো, পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিল হয় চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর পর সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৬ষ্ঠ বছর অর্থাৎ ৬১৬ খৃষ্টাব্দে পবিত্র যিলহজ্জ মাসে। সে হিসেবে যেহেতু উম্মুল মু’মিনীন আলছছালিছা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৪র্থ বছর অর্থাৎ ৬১৪ খৃষ্টাব্দে পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাস উনার ৪ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ  (সোমবার) পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সেহেতু সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিলের সময় উনার পবিত্র বয়স মুবারক ছিল ২ বছর ২ মাস ১০ দিন প্রায়। সে মতে আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ১০ম বছর অর্থাৎ ৬২০ খৃষ্টাব্দে পবিত্র ২১ শে শাওওয়াল শরীফ যখন উনার পবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় তখন উনার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর ১ম হিজরীর অর্থাৎ ৬২৩ খৃষ্টাব্দে পবিত্র ২১ শে শাওওয়াল যখন উনার পবিত্র নিসবাতুল আযীম শরীফ সম্পন্ন হয় অর্থাৎ যখন তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক নেন তখন উনার পবিত্র বয়স মুবারক ছিলেন ৯ বছর। ১১ হিজরীর মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন উনার বয়স মুবারক ছিলেন ১৮ বছর। যা অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عنْ حَضْرَتْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الصِّدِّيْقَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ تَزَوَّجَنِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِيْنَ وَاَدْخَلْتُ عَلَيْهِ وَاَنَا بِنْتُ تِسْعِ سِنِيْنَ وَمَكَثْتُ عِنْدَهٗ تِسْعًا فَهَلَكَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاَنَا بِنْتُ ثَـمَانِىْ عَشَرَةً.

অর্থ: হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে আমার আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় যখন আমার বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। আর আমি ৯ বছর বয়স মুবারকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করি। আর আমি উনার সাথে অবস্থান মুবারক করি ৯ বছর। তিনি যখন পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন তখন আমার বয়স মুবারক ১৮ বছর।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল আওছাত লিত তাবারানী ৭ম জিলদ, ৯৪ পৃষ্ঠা)

যদি তাই হয়ে থাকে, তবে পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিলের সময় উনার পবিত্র বয়স মুবারক ১০ হয় কিভাবে? মূলত তাদের এমতটি শুধু ভুলই নয়, বরং ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক। তাই তাদের এমতটি সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাজ্য।

তৃতীয়ত: তারা ছহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত যে হাদীছ শরীফের উপর ভিত্তি করে বলছে যে, “সূরা ক্বামার নাযিলের সময় উনার বয়স ১০ বছর আর শাদী মুবারকের সময় উনার বয়স ২০ বছরের নিচে ছিলনা।”

তাদের এ বক্তব্য ও দাবীও সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, কল্পনাপ্রসূত ও দলীলবিহীন। কারণ তাদের উল্লিখিত পবিত্র হাদীছ শরীফের কোথাও এ কথা উল্লেখ নেই যে, পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিলের সময় উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ১০ বছর ছিলো। এটা সম্পূর্ণই তাদের মনগড়া বক্তব্য ও ব্যাখ্যা।

উল্লেখ্য, আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৪র্থ বছর যদি উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ হয়, আর আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের ৬ষ্ঠ বছর যদি পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিল হয় তবে তখন উনার বয়স মুবারক ১০ বছর হয় কি করে? কোন পাগলও তো এটা বিশ্বাস করবে না।

মূলত বাতিল ফিরক্বার লোকগুলো ছহীহ বুখারী শরীফের উক্ত হাদীছ শরীফে বর্ণিত-

وَاِنِّـىْ لَـجَارِيَةٌ اَلْعَبُ

এ অংশটুকুর মনগড়া অর্থ ও ব্যাখ্যা করার কারণেই বিভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে।

কারণ তারা جَارِيَةٌ শব্দের অর্থ করেছে ‘১০ বছর বয়সী কিশোরী।’ নাউযুবিল্লাহ!

অথচ جَارِيَةٌ শব্দ দ্বারা কখনোই শুধুমাত্র ১০ বছর বয়সী কিশোরী বুঝায় না। বরং جَارِيَةٌ শব্দটি ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে।

যেমন ছহীহ বুখারী শরীফে একটি বাব বা অধ্যায় এর নামকরণ করা হয়েছে এভাবে-

بَابٌ اِذَا حَمِلَ جَارِيَةٌ صَغِيْرَةٌ عَلٰى عُنُقِهٖ فـِى الصَّلٰوةِ

অর্থাৎ, যখন নামাযের মধ্যে ছোট শিশু ঘাড়ের উপর উঠবে, সম্পর্কিত অধ্যায়।

আরো উল্লেখ আছে-

(جَارِيَةٌ) وَهِىَ الْاُنْثٰى دُوْنَ الْبُلُوْغِ

অর্থ: (জারিয়া) অপ্রাপ্তা বয়স্কা বালিকা।

(اَلْـجَوَارِىُ) جَـمْعُ جَارِيَةٍ وَهِىَ الْاُنْثَى الصَّغِيْرَةُ

অর্থ: (জাওয়ারী) যা ‘জারিয়াহ’ শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হচ্ছে শিশু কন্যা বা ছোট বালিকা।

(جَارِيَةٌ) اَىْ بِكْرًا

অর্থ: (জারিয়া) এর অর্থ হচ্ছে কুমারী বা অবিবাহিতা।

(جَارِيَةٌ) وَهِىَ بِنْتُ الصَّغِيْرَةُ

অর্থ: (জারিয়াহ) অর্থাৎ ছোট মেয়ে।

(جَارِيَةٌ) حَدِيْثَةُ السِّنِّ

অর্থ: ‘জারিয়াহ’ অল্পবয়সী মেয়ে।

(جَارِيَةٌ) هِىَ الْـمَرْأَةُ الْـمَمْلُوْكَةُ الشَّابَّةُ هُنَا لَا الْاَمَةُ

অর্থ: (জারিয়াহ) এখানে ‘জারিয়া’ অর্থ হচ্ছে তরুনী বা যুবতী মেয়ে। বাঁদি উদ্দেশ্য নয়।

(جَارِيَةٌ) وَهِىَ الْمَرْأَةُ الْـمَمْلُوْكَةُ تُطْلَقُ عَلٰى بِنْتِ الصَّغِيْرَةِ

অর্থ: (জারিয়াহ) পরাধীন নারী বা দাসী। এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে ছোট মেয়ে।

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে,

(جَارِيَةٌ) ‘জারিয়াহ’ শব্দটি আরবী এবং একবচন। এর বহুবচন (جَوَارِيْ) জাওয়ারী ও (جَارِيَاتٌ) জারিয়াত। শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যথা কন্যাশিশু, অল্পবয়সী কন্যা বা মেয়ে, তনয়া, দুহিতা, কুমারী বালিকা, তরুণী, বাঁদী, চাকরানী, নৌকা, জাহাজ, নৌযান ইত্যাদি।

উল্লেখ্য যে, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে দু’জন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান মুবারকে ‘জারিয়াহ’ শব্দটির ব্যবহার উল্লেখ রয়েছে। একজন হচ্ছেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি। আর অপরজন হচ্ছেন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি। উনারা দুজনই ছিলেন অত্যধিক সম্ভ্রান্ত, কুলীন বংশোদ্ভূদ সুবহানাল্লাহ! যেমন প্রথমজন হচ্ছেন খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা বানাত বা মেয়ে আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

আর দ্বিতীয়জন হচ্ছেন মিশরের বাদশাহ মুক্বাওক্বিস রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিতা বানাতুল আখি বা ভাতিজী আলাইহাস সালাম।

স্মরণীয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ উনার আক্বদ মুবারক সংঘটিত হয় তখন তিনি ছিলেন জারিয়াহ তথা ছবিয়্যাহ বা অপ্রাপ্তা বয়সী একজন বালিকা। আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ সংঘটিত হয় তখন তিনি ছিলেন জারিয়াহ তথা ফাতিয়্যাহ বা অবিবাহিতা একজন তরুণী। সুবহানাল্লাহ!

জানা আবশ্যক যে, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সংখ্যায় সর্বমোট ১৩ জন। উনাদের মধ্যে কেবল উপরোল্লেখিত দুজনই ছিলেন কুমারী বা অবিবাহিতা। সুবহানাল্লাহ! আর বাকী ১১ জন ছিলেন অকুমারী বা বিবাহিতা। সুবহানাল্লাহ! উনারা প্রত্যেকেই ছিলেন স্বাধীন। কেউই বাঁদী বা দাসী ছিলেন না। এই আক্বীদাই পোষণ করা প্রত্যেকের জন্য ফরয। এর বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা গোমরাহী ও কাট্টা কুফরী। নাউযুবিল্লাহ!

মোটকথা, জারিয়াহ শব্দটি কুমারী বা অবিবাহিতা বালিকা ও তরুণীর জন্য ব্যবহৃত হয়। তা ১০ বছরের কম হোক কিংবা ১০ বছরের বেশী হোক না কেন। তাছাড়া উক্ত জারিয়াহ শব্দটি নাবালিগা ও বালিগা উভয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছেন- হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি এবং হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মুমিনীন আছ ছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ উনার আক্বদ মুবারক সংঘটিত হয় তখন তিনি ৬ বছর বয়সী অপ্রাপ্তা বয়স্কা বালিকা ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যখন হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া আশার ক্বিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার নিসবতে আযীমাহ শরীফ সংঘটিত হয় তখন তিনি ২০ বছর বয়সী একজন তরুণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত শরীয়ত তথা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- মেয়েদের বালেগা বা প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ৯ বছর এবং ছেলেদের বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স হচ্ছে ১২ বছর। আর ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য বালেগ ও বালেগা হওয়ার জন্য উর্ধ্বতম বয়স হচ্ছে ১৫ বছর। এটাই সম্মানিত হানাফী মাযহাবের মত।

কাজেই বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, ছহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত-

وَاِنِّـىْ لَـجَارِيَةٌ اَلْعَبُ

এ অংশটুকুর ছহীহ অর্থ হচ্ছে ‘আর আমি তখন ছোট বা অল্প বয়সী ছিলাম। যে বয়সে শিশুরা হাশি খুশি করে থাকে।”

অর্থাৎ, পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ যখন নাযিল হয় তখন উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ২ বছর ২ মাস ১০ দিন বয়সী একজন কন্যা শিশু ছিলেন। এমতটিই সঠিক ও পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফসম্মত।

কারণ উম্মুল মু’মিনীন আছছালিছাহ ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আক্বদ মুবারক পবিত্র হিজরত উনার ৩ বছর পূর্বে অর্থাৎ সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ১০ম বছর পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারাই অকাট্যভাবে প্রমাণিত।

পাশাপাশি এটাও ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ১০ম বছর যখন উনার পবিত্র আক্বদ মুবারক সম্পন্ন হয় তখন  উনার পবিত্র বয়স মুবারক ছিল ৬ বছর। কাজেই ১০ম সনে যদি উনার বয়স ৬ বছর হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ৪র্থ বছর উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ; আর পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিল হয় সম্মানিত নুবুওওয়াত উনার ৬ষ্ঠ বছর। এতে স্পষ্টতই প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র সূরা ক্বামার শরীফ নাযিলের সময় উনার বয়স মুবারক ছিল ২ বছর ২ মাস ১০ দিন প্রায়। অর্থাৎ তিনি তখন  جارية বা ছোট ও অল্প বয়সী ছিলেন।

কাজেই উলামায়ে সূ, নাস্তিক মুরতাদ, মুনাফিক, বিদয়াতী, গোমরাহ ও বাতিল ফিরক্বার লোকদের ৪নং বক্তব্যটিও ভুল, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর, গুমরাহীমূলক ও দলীলবিহীন বলে প্রমাণিত হলো।

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন।

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)