পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৪তম পর্ব)

সংখ্যা: ২২১তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহর বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহরের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে-

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত ্রকুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস উনাদের দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও পবিত্র ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র তাফসীর শরীফ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে এবং ব্যাখ্যায়, তাফসীর গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল।

লক্ষণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখিত تماثيل জাতীয় শব্দগুলো দ্বারা কোন কোন অবস্থায় সরাসরি প্রাণীর ছবি বুঝানো না হলেও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোও একপ্রকার মূর্তি বা ভাস্কর্য। পূর্ব যামানা থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি তৈরি হয় পাথর, কাচ, তামা, লোহা, কাঠ, মাটি, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপকরণ দ্বারা। আর প্রাণীর ছবিগুলো তৈরি হয় কলমের কালি, তুলি ও আলো দ্বারা। এই কালি, তুলি ও আলো এগুলোও তো পাথর কাচ ও মাটির মতোই একেকটি উপকরণ। সুতরাং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বর্ণিত تماثيل তামাছীল, শব্দ দ্বারা যদিও প্রাণীর ছবি সরাসরি নিষেধ হয় না। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্যে প্রাণীর ছবিগুলোও একপ্রকার মূর্তি হওয়ায় এগুলোর অনুশীলন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতে হারাম, কুফরী ও শিরকী হিসেবে সাব্যস্ত। এটাই গ্রহণযোগ্য ফয়সালা।

নিম্নে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত আয়াত শরীফগুলো উল্লেখ করে বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য পবিত্র তাফসীর শরীফ উনার কিতাব থেকে তার ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ

উনাদের তাফসীর

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর : ৩

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

(৯৪৯)

(فاجتنبوا الرحس من الاوثان) فيه وجهان : احدهما: اى اجتنبوا من الاوثان الرجس، ورجس الاوثان عبادتـها، فصار معناه : فاجتنبوا عبادة الاوثان.

ألثانى : معناه فاجتنبوا الاوثان فانـها من الرجس. (النكت والعيون تفسير الـماوردى تصنيف : ابو الحسن على بن محمد بن حبيب الـماوردى البصرى رحمة الله عليه، الولادة: ۳۶۴ المتوفى: ۴۵۰ هجرى سورة الحج الايه ۳۰ المجلد ۴ الصفحة ۲۱ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: (সুতরাং তোমরা মূর্তির অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক) এখানে দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রথমত: তোমরা অপবিত্র মূর্তি-প্রতিমা প্রাণীর ছবি চর্চা থেকে এবং মূর্তি চর্চাকারী অপবিত্র বান্দাদের থেকে বেঁচে থাক। এখন অর্থ দাঁড়ায়- তোমরা মূর্তির উপাসনা থেকে দূরে থাক।

দ্বিতীয়ত: তোমরা যাবতীয় মূর্তি (প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, পুতুল, ম্যানিকিন, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি) থেকে বেঁচে থাক। কেননা, এগুলো অপবিত্র, নাপাক, জঘন্য ও ঘৃণ্য। (আন নুকাতু ওয়াল উয়ূন মশহূর নাম: তাফসীরুল মাওয়ারাদী- আল্লামা আবুল হাসান আলী বিন মুহম্মদ বিন হাবীব মাওয়ারাদী বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, জন্ম: ৩৬৪ হিজরী ওফাত: ৪৫০ হিজরী, পবিত্র সূরাতুল হজ্জ শরীফ ৩০ নং আয়াত শরীফ ৪র্থ খণ্ড ২১ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইল্মিয়া, বইরূত লিবনান)

(৯৫০)

وقوله فاجتنبوا الرجس من الاوثان يقول فاتقوا عبادة الاوثان وطاعة الشيطان فى عبادتـها فانـها رجس. (تفسير الطبرى جامع البيان فى تفسير القران تاليف : الامام الكبير والـمحدث الشهير ابو جعفر محمد بن جرير الطبرى رحمة الله عليه الـمتوفى ۳۱۰ هجرى سورة الحج رقم الاية ۳۰ المجلد ۱۷ الصفحة ۱۱۲ دار المعرفة بيروت لبنان)

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার বাণী : “সুতরাং তোমরা মূর্তিসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক।” আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলা হয়- তোমরা মূর্তি (প্রতিমা প্রতিকৃতি ভাস্কর্য প্রাণীর ছবি) এর উপাসনা বা পূজা করা থেকে এবং শয়তানের আনুগত্যতা থেকে ফিরে থাক। কেননা ইহা অপবিত্র জঘন্য কাজ। (তাফসীরুত ত্ববারী মূল নাম: জামিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন- আল ইমামুল কবীর আল মুহাদ্দিছুশ শাহীর আবূ জা’ফর মুহম্মদ বিন জারীর ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৩১০ হিজরী, পবিত্র সূরাতুল হজ্জ শরীফ ৩০ নং আয়াত শরীফ ১৭ তম খণ্ড ১১২ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল মা’রিফাহ বইরূত লিবনান)

(৯৫১)

(فاجتنبوا الرجس من الاوثان) اى الرجس الذى هو الاوثان يعنى عبادتـها كما يجتنب الاجناس والرجس الشىء القذر وقال بعضهم : الفرق بينه وبين الصنم ان الصنم هو الذى يؤلف من شجر او ذهب او فضة فى صورة الانسان والوثن هو الذى ليس كذلك. (تفسير روح البيان تاليف : الامام العالـم الفاضل خاتمة الـمفسرين جميع العلوم مولانا ومولى الروم الشيخ اسماعيل حقى البروسوى رحمة الله عليه الـمتوفى : ۱۱۳۷ هجرى سورة الحج رقم الاية ۳۰ المجلد ۶ الصفحة ۳۰ دار الفكر)

অর্থ: (সুতরাং তোমরা মূর্তিসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক) অর্থাৎ অপবিত্র ঘৃণ্য দ্বারা মূর্তি- প্রতিমাসমূহের উপাসনাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। যেমনিভাবে নাপাকি থেকে বেঁচে থাক তেমনি মূর্তি-প্রাণীর ছবি থেকে বেঁচে থাকা প্রয়োজন। কারো কারো মতে: الاوثان ও الصنم এর মধ্যে পার্থক্য এই যে, ১. কাঠ, স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা মানুষের আকৃতি তৈরি করলে সে আকৃতিকে الصنم বা প্রতিমা বলা হয়, ২. আর الوثن মূর্তি বা প্রতিমা তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কোন উপাদান নেই। অর্থাৎ কাঠ, স্বর্ণ, রৌপ্য, কাঁচ, তামা, দস্তা, লোহা, পিতল, স্টীল, সিসা, বালু, মাটি, সিমেন্ট, চুন, সুরকী, ইট, পাথর, প্লাষ্টিক, রাবার, কাগজ, কালি, তুলি, রং, আলো, ক্যামেরা, ভিডিও ইত্যাদি যাবতীয় যে কোন উপাদান দ্বারা মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, পুতুল, মিনিকিন, প্রাণীর ছবি তৈরি করলে তা اوثان আওছান বা মূর্তি-প্রতিমা হিসেবে গণ্য হবে। যার চর্চা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম, কুফরী ও শিরকী। (তাফসীরে রূহুল বয়ান- ইমাম, আলিম, ফাদ্বিল, খাতিমাতুল মুফাসসিরীন, জামীউল উলূম, মাওলানা মাওলার রূম শায়েখ ইসমাঈল হাক্কী বারূসাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ১১৩৭ হিজরী পবিত্র সূরাতুল হজ্জ শরীফ ৩০ নং আয়াত শরীফ ৬ষ্ঠ খণ্ড ৩০ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল ফিক্র)

(৯৫২)

(فاجتنبوا الرجس من الاوثان) اى الرجس الذى هو الاوثان سماه رجسا اى قذرا لان العقول والطباع السليمة يتنفر عنها كما يتنفر الـمرء عن القاورات. فهو غاية الـمبالغة فى النهى عن تعظيمها والتنفير عن عبادتها، وقيل هو يمعنى الرجز وهو العذاب سماه رجسا لانه سبب للتعذيب. (التفسير الـمظهرى تاليف : علامة مولنا الشيخ القاضى محمد ثناء الله العثمانى الحنفى الماتريدى المظهرى النقشبندى الفانى فتى رحمة الله عليه المتوفى : ۱۲۲۵ هجرى سورة الحج رقم الاية ۳۰ الجلد ۶ الصفحة ۳۱۷ مكتبة رشيديه سركى رود كوئسه)

অর্থ: (সুতরাং তোমরা মূর্তিসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক) পবিত্র আয়াত শরীফ উনাতে অপবিত্রতা বলতে মূর্তি, প্রতিমা, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। কেননা জ্ঞান, সুস্থ বুঝ মূর্তিপূজাকে তদ্রƒপ ঘৃণা করে, যেমন মানুষ অপবিত্র ও নাপাক বস্তুকে ঘৃণা করে। বাক্যের এ ধারার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি মূর্তিপূজা সম্পর্কিত নিষেধ ও তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের ব্যাপারে অধিক জোড় দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেন, الرجس অর্থ শাস্তি। প্রতিমাকে الرجس এ কারণে বলা হয়েছে যে, এগুলো প্রতিমা উপাসকদের জন্য শাস্তির কারণ হবে। (আত তাফসীরুল মাযহারী-আল্লামা মাওলানা শায়েখ ক্বাদ্বী মুহম্মদ ছানাউল্লাহ উছমানী হানাফী মাতুরীদী মাযহারী নকশবন্দী পানীপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ১২২৫ হিজরী পবিত্র সূরাতুল হজ্জ শরীফ ৩০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ ৬ষ্ঠ খণ্ড ৩১৭ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : মাকতাবায়ে রশীদিয়া সিরকী রোড কুয়েতা)

(৯৫৩)

(فاجتنبوا الرجس من الاوثان) يعنى اجتنبوا تعظيم الاوثان فلا تعظموها. (احكام القران للجصاص تاليف : حجة الاسلام الامام ابو بكر احمد بن على الرازى الجصاص الحنفى رحمة الله عليه المتوفى ۳۷۰ هجرى سورة الحج رقم الاية ۳۰ باب طواف الزيارة الجزء ۵ الصفحة ۷۷ دار احياء التراث العربى بيروت لبنان)

অর্থ: (সুতরাং তোমরা মূর্তিসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক) অর্থাৎ মূর্তি, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, পুতুল, প্রাণীর ছবি ইত্যাদিকে সম্মান প্রদান থেকে দূরে থাক। তাই এদের পূজা, চর্চা বা অনুশীলনকে ত্যাগ করার মাধ্যমে এদের প্রতি অসম্মান দেখাও। (আহকামুল কুরআন লিল জাছ্ছাছ-হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবূ বকর আহমদ বিন আলী আর রাযী আল জাছ্ছাছ আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৩৭০ হিজরী পবিত্র সূরাতুল হজ্জ শরীফ ৩০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ পরিচ্ছেদ: ত্বওয়াফুয যিয়ারাহ ৫ম খণ্ড ৭৭ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারু ইহ্ইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী বইরূত- লিবনান)

(৯৫৪)

(فاجتنبوا الرجس من الاوثان) الرجس: الشىء القذر والوثن: التمثال من خشب او حديد او ذهب او فضة ونحوها، وكانت العرب تنصبها وتعبدها. والنصارى تنصب الصليب وتعبده وتعظمعه فهو كالتمثال ايضا. وقال عدى ابن حاتم: اتيته النبى صلى الله عليه وسلم وفى عنقى صليب من ذهب فقال: “الق هذا الوثن عنك” اى الصليب، اذ عباده الوثن جامعه لكل فساد ورجس. (تفسير القرطبى المسمى به: الجامع لاحكام القران للقرطبى تاليف: العلامة ابو عبد الله محمد بن احمد الانصارى القرطبى رحمة الله عليه سورة الحج رقم الاية ۳۰ الجلد ۶ الصفحة ۵۴ دار الكاتب العربة القاهرة مصر)

অর্থ: (সুতরাং তোমরা মূর্তিসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক) الرجس হচ্ছে অপবিত্র নাপাক ঘৃণ্য বস্তু। কাঠ, লোহা-স্টীল, সোনা, রূপা ও এছাড়া যে কোন উপকরণ দ্বারা নির্মিত মূর্তি বা প্রতিমাকে الوثن বলা হয়। আরবরা এগুলো তৈরি করত এবং এগুলোর উপাসনা-পূজা করত। আর নাছারা বা খ্রিস্টানরা ত্রুশের আকৃতি তৈরি করে তার ভক্তি করে ও সম্মান দেখায়। এজন্য মুশরিকদের প্রতিমার মতই খ্রিস্টানদের ত্রুশের সম্মান দেখানো সমান অপরাধ। হযরত আদী ইবনে হাতিম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন : আমি একদা হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকটে আসলাম, তখন আমার গলায় একটি সোনার ক্রুশ বা টাই ঝুলছিল।

এটা দেখে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন : “এই প্রতিমাটি তোমার গলা থেকে খুলে ফেলে দাও।” অর্থাৎ তোমার গলায় ঝুলন্ত ত্রুশ বা টাইটি খুলে ফেলে দাও।

প্রতিমা, মূর্তি, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি ইত্যাদির পূজা বা উপসনা করা সকল প্রকার ফিৎনা-ফাসাদ ও অপবিত্রতা-জঘন্যতার মূল। (তাফসীরুল কুরতুবী মূল নাম : আল জামি লিআহকামিল কুরআন লিল কুরতুবী- আল্লামা আবূ আব্দুল্লাহ মুহম্মদ বিন আহমদ আনছারী কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র সূরাতুল হজ্জ শরীফ ৩০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ ৬ষ্ঠ খণ্ড ৫৪ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কাতিবিল আরাবাহ, ক্বাহিরা-মিশর)

(৯৫৫)

فاجتنبوا الرجس من الاوثان) فاجتنبوا الرجس الذى هو الاوثان كما تجتنب الانجاس، وهو غاية الـمبالغة فى النهى عن تعظيمها والتنفير عن عبادتها (تفسير البيضاوى المسمى: انوار التنزيل واسرار التأويل تاليف: امام المحققين وقدوة المدققين القاضى ناصر الدين ابو سعيد عبد الله بن عمر بن محمد الشيرازى البيضاوى الشافعى رحمة الله عليه المتوفى ۷۹۱ هجرى سورة الحج رقم الاية ۳۰ الـمجلد ۲ الصفحة ۸۸ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: (সুতরাং তোমরা প্রতিমাসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক) তোমরা তেমনি মূর্তি-প্রতিমার অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক, যেমনি যাবতীয় নাপাক থেকে দূরে থেকে থাক। বাক্যের এ ধারার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি মূর্তিপূজা সম্পর্কিত নিষেধ ও তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনের ব্যাপারে অধিক জোড় দিয়েছেন। (তাফসীরুল বাইদ্বাবী মূল নাম : আনওয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তা’বীল- ইমামুল মুহাক্কিক্বীন, কুদওয়াতুল মুদাক্কিক্বীন কাদ্বী নাছিরুদ্দীন আবূ সাঈদ আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মুহম্মদ সীরাযী বাইদ্বাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৭৯১ হিজরী পবিত্র সূরাতুল হজ্জ শরীফ ৩০ নং পবিত্র আয়াত শরীফ ২য় খণ্ড ৮৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বইরূত লিবনান)

পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ উনার ৩০ নং আয়াত শরীফ উনার নির্ভরযোগ্য তাফসীর থেকে এটাই প্রমানিত হলো যে, প্রাণীর ছবি, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিমা, প্রতিকৃতি, পুতুল, মেনিকিন ইত্যাদি যাবতীয় শ্রেণীর মূর্তি তৈরি করা, এর ব্যবসা করা, পূজা করা, সম্মান করা, করতে সাহায্য করা সবই হারাম, নাজায়িয, কুফরী, শিরকী ও চরম মুর্খতা সূচক কাজ। আর এটাও প্রমানিত হলো যে, প্রাণীর ছবি মূলত: মূর্তি-প্রতিমা। এটা আধুনিক প্রতিমা। প্রতিমা পূজা করা আর প্রাণীর ছবিকে সম্মান দেখানো একই অপরাধ। অপরাধটি হলো কুফরী ও র্শিকী। অতএব সাবধান!

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৪

(৯৫৬)

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لأَبِيهِ آزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْنَامًا آلِهَةً إِنِّي أَرَاكَ وَقَوْمَكَ فِي ضَلاَلٍ مُّبِينٍ. وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ. فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ رَأَى كَوْكَبًا قَالَ هَـذَا رَبِّي فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لا أُحِبُّ الآفِلِينَ. فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَـذَا رَبِّي فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَئِن لَّمْ يَهْدِنِي رَبِّي لأكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ. فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَـذَا رَبِّي هَـذَآ أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ. إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ

অর্থ : স্মরণ করুন, যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় চাচা আযরকে বললেন, আপনি কি মূর্তিসমূহকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেন? আমি তো আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়দেরকে (অনুসারী) প্রকাশ্য গোমরাহীতে দেখতে পাচ্ছি।

এভাবে আমি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে আকাশম-লী ও ভূম-লীর পরিচালন ব্যবস্থা দেখাই। আসলে তিনি নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত।

অতঃপর যখন রাতের অন্ধকার উনার উপর সমাচ্ছন্ন হলো। তখন তিনি একটি নক্ষত্র দেখতে পেলেন, আর বললেন (তোমাদের মতে) এটা কি আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন, (আমার দৃষ্টিতে) যা অস্তমিত হয় তাকে আমি (রব হিসেবে) পছন্দ করি না।

অতঃপর যখন তিনি চাঁদকে সমুজ্জ্বলরূপে উদিত হতে দেখলেন, তখন বললেন, (তোমাদের মতে) এটা কি আমার প্রতিপালক। যখন এটাও অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন, আমার প্রতিপালক আমাকে হিদায়েত দিয়েছেন। তাই আমি অবশ্যই হিদায়েতপ্রাপ্ত। প্রকৃতপক্ষে তিনি তো আমাকে হিদায়েতসহই পাঠিয়েছেন।

অতঃপর যখন তিনি সূর্যকে দীপ্তিমানরূপে উদিত হতে দেখলেন, তখন বললেন, (তোমাদের মতে) এটা কি আমার প্রতিপালক, এটা সর্ববৃহৎ। যখন এটাও অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক কর, আমি ওসব থেকে পবিত্র তথা মুক্ত।

আমি একনিষ্ঠভাবে উনার দিকে রুজু হয়েছি এবং উনার মুখাপেক্ষী হয়েছি, যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি অবশ্যই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। (পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৪-৭৯)

(ক) অত্র পবিত্র আয়াত শরীফসমূহ উনাদের মধ্যে ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ ও উনার বিশুদ্ধ তাফসীর শরীফ থেকে যা প্রমানিত হয়েছে তা হচ্ছে :

১. এখানে لابيه ازر অর্থ : “হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা আযর।” আয়াতাংশের اب দ্বারা উদ্দেশ্য عم অর্থাৎ চাচা। কারণ আরব ও আজম (অনারব) সকলের কাছে اب শব্দটি বাবা ও চাচা উভয় অর্থেই ব্যবহার হয়। যেমন : আমাদের বাংলাদেশেও বাবার ছোট ভাইকে ছোট আব্বা এবং বাপের বড় ভাইকে বড় আব্বা ব্যবহারের বিষয়টি প্রসিদ্ধ ও সত্য। যা আরবদের থেকেই আমরা শিখেছি। আর পবিত্র কুরআন মাজীদও নাযিল হয়েছে আরবী ভাষায়। এছাড়াও আযর ছিলো মূর্তিপূজক। আর ইজমা দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণীত যে, কোন নবী-রসূল আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনাদের পিতার বংশে এবং মাতার বংশে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত কেউ মূর্তিপূজক, কাফির, ব্যভিচারী ও ফাসিক ছিলেন না। এসব হাজারো কারণে এখানে ابيه ‘উনার পিতা’ এভাবে অর্থ করা শুদ্ধ নয়।

২. মূর্তিপূজা করা, প্রতিকৃতি তৈরি করা, ভাস্কর্য তৈরি করা, আধুনিক মূর্তি তথা প্রাণীর ছবি তৈরি করা, দেখা, এগুলোকে সম্মান দেখানো, এগুলোর ব্যবসা করা, এগুলোর চর্চা বা অনুশীলন করা ইত্যাদি সবকিছুই প্রকাশ্য গোমরাহীমূলক, কুফরীমূলক ও শিরকমূলক হারাম কাজ। সুতরাং এ কাজগুলো বর্জন করা ফরদ্বে আইন ও ঈমান শুদ্ধির কারণ।

৩. কোন ব্যক্তি যদি মূর্তিপূজক, কুফরী-র্শিকী কাজের অনুশীলনকারী অথবা যেকোন শরীয়ত বিরুদ্ধ কাজের সাথে জড়িত হয়, তখন তাকে এসকল নাফরমানীমূলক কাজ থেকে ফিরে থাকতে উপদেশ দিতে হবে। যদিও সে ব্যক্তি পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র, চাচা-চাচী, নানা-নানী, মামা-মামী, দাদা-দাদী, ভাই-বোন, ছেলে-মেয়ে, ভাতিজা-ভাতিজী, ভাগিনা-ভাগিনী, পুতি-পুৎনী, নাতী-নাতনী, শশুর-শাশুরী, আত্মীয়-স্বজন, চেনা-অচেনা সর্বশ্রেণীর যেকোন ব্যক্তি হোক না কেন। যা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার শিক্ষা।

(খ) ৭৬, ৭৭ ও ৭৮ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে নক্ষত্র-তারকা, চাঁদ ও সূর্য এগুলো এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত ইলাহ (মা’বূদ-উপাস্য) হওয়ার যোগ্যতা গোটা সৃষ্টিজগতের কারো নেই। একমাত্র ইলাহ বা মা’বূদ মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনিই। সুবহানাল্লাহ! কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন الـحى অর্থাৎ চির জাগরুক, অবিনশ্বর, ক্বদীম ও তুলনাহীন।

কিন্তু সৃষ্টিজগতের সবকিছুই উত্থান-পতন, জন্ম-ইন্তিকাল, অস্তিত্ত্বহীন অতঃপর অস্তিত্বে রূপপ্রাপ্তি, পরিবর্তনশীল, ঘুর্ণয়মান, যুগের মুখাপেক্ষিতা ইত্যাদি হাজারো অপূর্ণ গুণে গুণান্বিত। যা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম অল্প কথায় বুঝিয়েছেন যে, “যা অস্তমিত হয় তাকে আমি রব হিসেবে পছন্দ করিনা বা মানি না।” সুবহানাল্লাহ!

(গ) ৭৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার থেকে শিক্ষা এই যে, মূল তাওয়াক্কুল থাকবে মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ উনার মাতুরীদী আক্বীদা মুতাবিক নিজের ঈমান শুদ্ধ করে নিজেকে প্রকৃত মু’মিন-মুসলিম হিসেবে সাক্ষ্য দিতে হবে বলতে হবে انا مؤمن حقا ‘আমি প্রকৃত মু’মিন। ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা অর্থাৎ আমি মু’মিন-মুসলিম কি না? এমন দ্বিধাদ্বন্ধে থাকা ঈমান শুন্যতার কারণ।

আর যাবতীয় কুফ্রী ও র্শিকী থেকে বেঁচে থেকে নিজের ব্যাপারে এ সাক্ষ্য দিতে হবে যে, আমি কাফির নই ও মুশরিক নই। বরং আমি মু’মিন ও মুসলিম।

নিম্নে পবিত্র আয়াত শরীফ সমূহ উনাদের বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য তাফসীর তুলে ধরা হলো :

(৯৫৭)

حدثنا محمد بن حميد وسفيان ابن وكيع قالا حدثنا جرير عن ليث عن مجاهد قال ليس ازر ابا ابراهيم. (جامع البيان فى تفسير القران (تفسير الطبرى) تاليف : الامام الكبير المحدث الشهير المفسر الكبير ابوجعفر محمد بن جرير الطبرى رحمة الله عليه المتوفى ۳۱۰ هجرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ المجلد الخامس الصفحة ۱۵۸ دار المعرفة بيروت لبنان

অর্থ: হযরত ইমাম আবূ জা’ফর মুহম্মদ বিন জারীর ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন হুমাইদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সুফইয়ান বিন ওয়াকী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনারা দু’জন বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, হযরত জারীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত লাইছ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, তিনি হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে। তিনি বলেন- হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা আযর ছিলো না। (জামিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন (তাফসীরুত ত্ববারী) আল ইমামুল কবীর আল মুহাদ্দিছুশ শাহীর আল মুফাসসিরুল কবীর আবূ জা’ফর মুহম্মদ বিন জারীর ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ৩১০ হিজরী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ। পবিত্র ৭৪নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৫ম খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল মা’রিফাহ বইরূত লিবনান)।

(৯৫৮)

حدثنى الحرث قال حدثنى عبد العزيز قال حدثنا الثورى قال اخبرنى رجل عن ابن ابى نجيح عن مجاهد واذ قال ابراهيم لابيه ازر لـم يكن بابيه انما هو صنم. (جامع البيان فى تفسير القران المشهور تفسير الطبرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجلد ۵ الصفحة ۱۵۸)

অর্থ: হযরত ইমাম জারীর ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমার কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত র্হাছ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন হযরত আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হযরত ইমাম ছুফইয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমার কাছে একজন বর্ণনাকারী হযরত ইবনু আবী নুজাইহ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে তিনি হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে খবর দিয়েছেন। হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি واذ قال ابراهيم لابيه ازر এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলেন, আযর হযরত ইবরাহীম আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা ছিলো না বরং আযর ছিলো একটি মূর্তি বা মূর্তিপূজকের নাম। (জামিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন মশহুর নাম : তাফসীরুত ত্ববারী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৫ম খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)

(৯৫৯)

حدينا محمد بن الحسين قال حدثنا احمد ابن الـمفضل قال حدثنا اسباط عن السدى قال واذ قال ابراهيم لابيه ازر قال اسم ابيه ويقال لا بل اسمه تارح واسم الصنم ازر يقول اتتخذ ازر اصناما الـهة. (جامع البيان فى تفسير القران الـمشهور تفسير الطبرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجلد ۵ الصفحة ۱۵۸)

অর্থ: হযরত ইমাম জারীর ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত মুহম্মদ বিন হুসাইন রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন হযরত আহমদ বিন মুফাদ্দাল রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, হযরত আসবাত রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের থেকে। তিনি হযরত সুদ্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি واذ قال ابراهيم لابيه ازر এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বলেন, পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উনার আব আযরকে বলা হয়েছে। কিন্তু ফয়সালা এটাই যে, বরং উনার পিতার নাম ছিলো ‘তারাহ’ আলাইহিস সালাম। আর আযর একটি মূর্তির নাম ছিলো। এ দৃষ্টিতে আয়াত শরীফ উনার অর্থ হলো : তোমরা কি আযর নামের মূর্তিকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছ? (জামিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন মশহুর নাম : তাফসীরুত ত্ববারী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৫ম খণ্ড ১৫৮ পৃষ্ঠা)

উক্ত ৩টি ইবারতে বর্ণিত আযরকে মূর্তি বা মূর্তিপূজক বলা হয়েছে। মূলত : সে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলো না। সে ছিলো উনার মূর্তিপূজক চাচা। আর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম ছিলো মশহুর মতে : হযরত تارح ‘তারাহ’ আলাইহিস সালাম। ‘রা’ বর্ণে যবর যোগে পড়াকেই মুফাসসিরগণ গ্রহণ করেছেন, ‘রা’ বর্ণে কখনই যের হবে না।

কারো কারো মতে : হযরত تارخ ‘তারাখ’ আলাইহিস সালাম এই ক্বিরায়াতে পড়া হয়েছে।

কেউ কেউ ر অক্ষরের নীচে যের দিয়ে تارخ (হযরত তারিখ আলাইহিস সালাম) পড়েছেন। অর্থাৎ সুরিয়ানী ভাষায় ‘তারাহ’ ও ‘তারাখ’ পড়া হয়। আরবী ভাষায় ‘তারিখ’ পড়া হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উল্লিখিত সব ক্বিরায়াতই শুদ্ধ। তবে প্রথম ক্বিরায়াতটির ব্যাপারে মুফাসসিরীন, উলামা ও ঐতিহাসিকগণ অগ্রাধিকার প্রদান করেছেন। তা হচ্ছে تارح হযরত ‘তারাহ’ আলাইহিস সালাম। এ ব্যাপারে বিস্তর দলীল-প্রমাণ স্থান বিশেষে প্রদান করা হবে। ইনশাআল্লাহ।

(৯৬০)

والاصنام جمع صنم والصنم التمثال من حجراوخشب او من غير ذلك فى صورة انسان وهو الوثن وقد يقال للصورة لصورة على صورة الانسان فى الحائط وغيره صنم ووثن. انى أراك وقومك فى ضلال مبين يقول انى اراك يا ازر وقومك الذين يعبدون معك الاصنام ويتخذونـها الـهة فى ضلال ……. بذلك انه قد ضل هو وهم عن توحيد الله وعبادته الذى استوجب عليهم اخلاص العبادة له بالائه عندهم دون غيره من الالـهة والاوثان. (جامع البيان فى تفسير القران المشهور تفسير الطبرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجلد ۵ الصفحة ۱۵۹ دار المعرفة بيروت لبنان)

অর্থ: الاصنام শব্দটি صنم শব্দের বহুবচন। পাথর, কাঠ ও এছাড়া অন্যান্য কিছু দ্বারা মানুষের আকৃতি তৈরি করাকে ছনম বলা হয়। এগুলোকে الوثن ‘আল ওয়াছান’ও বলা হয়। মানুষের আকৃতি দেয়ালে অথবা অন্যকিছুতে (কাগজে, মাটিতে, পাথরে, ক্যামেরায়, টিভিতে ইত্যাদিতে) ধারণ করা হয়ে থাকে। এ সবকিছুই হারাম।

“আমি তোমাকে এবং তোমার সম্প্রদায়কে স্পষ্ট গোমরাহীর উপর দেখছি।” বলা হয়েছে যে, হে আযর! আমি তোমাকে এবং তোমার সঙ্গে মূর্তিপুজা সম্পাদনকারীদেরকে দেখছি যারা গোমরাহীবশত: প্রতিমাকে উপাস্য মেনে নিয়েছে।

এসব কারণে আযর ও তার সঙ্গে মূর্তিপূজকরা পথভ্রষ্ট হয়েছে- মহান আল্লাহ পাক উনার তাওহীদে বিশ্বাস এবং ইবাদত থেকে বিমুখ হওয়ার মাধ্যমে। অথচ তাদের উপর ফরয-ওয়াজিব ছিলো, তারা যেন যাবতীয় উপাস্য ও মূর্তিপূজা ছেড়ে দিয়ে একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য একনিষ্ঠতার সাথে ইবাদত করে। (জামিউল বয়ান ফী তাফসীরিল কুরআন মশহুর নাম : তাফসীরুত ত্ববারী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৫ম খণ্ড ১৫৯ পৃষ্ঠা)

(৯৬১)

وفى كتب التواريخ ان اسمه بالسريانية تارح. (الكشاف عن حقائق التنزيل وعيون الاقاويل فى وجوه التأويل تاليف : ابو القاسم جار الله محمود بن عمر الزمخشرى الخوارزمى الحنفى رحمة الله عليه الولادة : ۴۶۷ هجرى والمتوفى : ۵۳۸ هجرى سورى الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثانى الصفحة ۲۳ دار المعرفة بيروت لبنان)

অর্থ: তাওয়ারীখ (ইতিহাস) গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, নিশ্চয়ই ‘সুরইয়ানী’ ভাষায় হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম মুবারক ছিলো ‘তারাহ’। (আল কাশশাফ আন হাক্বায়িকিত তানযীল ওয়া উয়ূনিল আক্বাবীল ফী উজূহিত তা’বীল- হযরত আবুল কাসিম জারুল্লাহ মাহমূদ বিন উমর যামাখশারী খাওয়ারিযমী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্ম: ৪৬৭ হিজরী ওফাত : ৫৩৮ হিজরী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খণ্ড ২৩ পৃষ্ঠা প্রকশনা : দারুল মা’রিফাহ বইরূত-লিবনান)।

দেখা যাচ্ছে تارح ‘তারাহ’ শব্দটি ‘সুরইয়ানী’ ভাষার শব্দ। এ শব্দটি আরবী শব্দ নয়। এজন্য تارح ও تارخ শব্দ দুটির ‘রা’ বর্ণে اسم فاعل ওযনে যের হওয়া নিয়ম বহির্ভূত। বরং এ শব্দ দুটিকে ‘তারাহ’ ও ‘তারাখ’ ক্বিরায়াতে পড়তে হবে যা সুরাইয়ানী ভাষায় এভাবেই ব্যবহার হতো। ‘তারিহ’ ও ‘তারিখ ক্বিরায়াতে পড়া অশুদ্ধ।

(৯৬২)

وفى كتب التواريخ ان اسمه تارح. (انوار التنزيل واسرار التاويل الـمشهور : تفسير البيضاوى تاليف : امام المحققين وقدوة المدققين القاضى ناصر الدين ابو سعيد عبد الله بن عمربن محمد الشيرازى البيضاوى الشافعى رحمة الله عليه المتوفى : ۷۹۱ هجرى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ المجلد الاول الصفحة ۳۰۷ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ : তাওয়ারীখ তথা সকল ইতিহাস গ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস উনার পিতার নাম ‘তারাহ’ ছিলো। (আনওয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তা’বীল, মাশহুর নাম : তাফসীরুল বাইদ্বাবী- ইমামুল মুহাক্কিকীন কুদওয়াতুল মুদাক্কিক্বীন ক্বাদ্বী নাছিরুদ্দীন আবূ সাঈদ আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মুহম্মদ শীরাযী বাইদ্বাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত : ৭৯১ হিজরী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ১ম খণ্ড ৩০৭ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বাইরূত, লিবনান)

(৯৬৩)

قال الزجاج لاخلاف بين النسابين فى ان اسمه تارح صح بالحاء الـمهملة سماعا. (حاشية الشيخ زادة على تفسير البيضاوى تاليف : حضرت العلامة محى الدين شيخ زادة رحمة الله عليه سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثانى الصفحة ۱۷۸ دار احياء التراث العربى بيروت لبنان)

অর্থ: হযরত যুজাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- বংশতত্ত্ববিদ ঐতিহাসিকগণের এ ব্যাপারে কোনই দ্বিমত নেই যে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম ছিলো হযরত ‘তারাহ’ আলাইহিস সালাম। সিমায়ী (শ্রুত) নিয়মে নুকতাবিহীন حاء ‘হা’ হওয়াই ছহীহ মত। যিনি মূর্তিপূজক ছিলেন না। (হাশিয়াতুশ শায়েখ যাদাহ আলা তাফসীরিল বাইদ্বাবী- হযরত আল্লামা মুহইদ্দীন শায়েখ যাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খণ্ড ১৭৮ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী বইরূত লিবনান)

(৯৬৪)

تدل على ان ازر ليس ابا لابراهيم حقيقة. (حاشية الشيخ زادة على تفسير البيضاوى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثانى الصفحة ۱۷۹)

অর্থ: দলীল দ্বারা প্রমাণীত যে, হাক্বীক্বতান (প্রকৃতপক্ষে) ‘আযর’ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা ছিলো না। (হাশিয়াতুশ শায়েখ যাদাহ আলা তাফসীরিল বাইদ্বাবী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম উনার ৭৪ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খণ্ড ১৭৯ পৃষ্ঠা)

(৯৬৫)

واما قوله عليه الصلاة والسلام لـم ازل انقل من اصلاب الطاهرين الى ارحام الطاهرات فذلك محمول على انه ما وقع فى نسبه من ولد من الزنى كما ورد فى حديث اخر ولدت من نكاح لا من سفاح. (حاشية الشيخ زاده على تفسير البيضاوى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الثانى الصفحة ۱۷۹)

অর্থ : সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হাবীবুল্লাহ রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “আমি শুরু থেকে পুত:পবিত্র পৃষ্ঠ মুবারক থেকে পুত:পবিত্র রেহেম শরীফ উনার মধ্যে স্থানান্তরিত হয়ে আসছিলাম।” এই পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণিত হলো যে, উনার বংশ পরস্পরায় কোনই ব্যভিচার সংঘটিত হয়নি। যেমনটি অন্য একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে; “আমি নিকাহ মুবারক উনার মাধ্যমেই প্রেরিত হয়েছি। কখনই ব্যভিচার পদ্ধতিতে আসিনি।” (হাশিয়াতুশ শায়েখ যাদাহ আলা তাফসীরিল বাইদ্বাবী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খণ্ড ১৭৯ পৃষ্ঠা)

(৯৬৬)

قال الزجاج رحمه الله ليس بين النسابين اختلاف فى ان اسم ابى ابراهيم صلى الله عليه وسلم تارح بناء مثناة فوقية والف بعدها راء مهملة مفتوحة وحاء مهملة. (حاشية الشهاب المسماة عناية القاضى وكفاية الراضى على تفسير البيضاوى سورة الانعام رقم الاية ۷۴ الجزء الرابع الصفحة ۸۴ دار احياء التراث العربى بيروت لبنان)

অর্থ: হযরত যুজাজ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- বংশতত্ত্ববিদ ঐতিহাসিকগণের নিকট এ ব্যাপারে কোনই মতবিরোধ নেই যে, নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতার নাম মুবারক ছিলো হযরত ‘তারাহ’ আলাইহিস সালাম। শব্দটির শুরুর অক্ষর উপরে দু’ নুকতাবিশিষ্ট ‘তা’ এরপর ‘আলিফ’ অতপর নুকতাবিহীন যবরযুক্ত ‘রা’ এবং শেষে নুকতাবিহীন ‘হা’। (হাশিয়াতুশ শিহাব মূল নাম : ইনায়াতুল ক্বাদ্বী ওয়া কিফায়াতুর রাদ্বী আলা তাফসীরিল বাইদ্বাবী পবিত্র সূরাতুল আনয়াম শরীফ উনার ৭৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ৪র্থ খণ্ড ৮৪ পৃষ্ঠা প্রকাশনা : দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরবী বইরুত লিবনান)।

পরবরতী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)