পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৬১

সংখ্যা: ২৮১তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৩তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত চার মাযহাব হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী উনাদের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা

ও ইমাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক

সম্মানিত শরীয়ত অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের ফায়ছালা মতে প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জ্বিন-ইনসান সকলের জন্য সম্মানিত চার মাযহাব উনাদের যেকোনো একটি সম্মানিত মাযহাব উনাদের অনুসরণ করা যেরূপ ফরয-ওয়াজিব তদ্রƒপ সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মাযহাব পরিবর্তন করা বা এক মাযহাবের অনুসারী হয়ে অন্য মাযহাবের উপর আমল করা জায়িয নেই।

এ প্রসঙ্গে মুসলিম শরীফ উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুসলিম শরীফ উনার’ টিকায় এবং ইমাম তাহাবী ‘দুররুল মুখতার’ কিতাবের হাশিয়াতে লিখেন-

عَلَيْكُمْ يَا مَعْشَرَ الْـمُؤْمِنِيْنَ اِتِّبَاعُ الْفِرْقَةِ النَّاجِيَةِ الْـمُسَمَّاةِ بِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْـجَمَاعَةِ فَأِنَّ نَصْرَةَ اللهِ وَحِفْظهٗ وَتَوْفِيْقَهٗ فِيْ مُوَافِقَتِهِمْ وَخَذَلًالَّهٗ وَسَخْطَهٗ وَمَقْتَهٗ فِيْ مُـخَالِفَتِهِمْ وَهٰذِهِ الطَّائِفَةُ النَّاجِيَةُ قَدْ اِجْتَمَعَتِ الْيَوْمَ فِيْ مَذْهَبِ أَرْبَعٍ وَهُمُ الْـحَنَفِيُّوْنَ وَالْـمَالِكِيُّوْنَ وَالشَّفِعِيُّوْنَ وَالْـحَنَبِلِيُّوْنَ رَحِـمَهُمُ اللهُ وَمَنْ كَانَ خَارِجًا مِّنْ هٰذِهِ الْأَرْبَعَةِ فَهُوَ أَهْلُ الْبِدْعَةِ وَالنَّارِ.

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আপনারা নাজিয়া (নাজাতপ্রাপ্ত) দলকে অনুসরণ করে চলুন যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ নামে মশহূর। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য, হিফাযত ও তাওফীক্ব অর্জন সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি, গযব ও অপদস্ততা উনাদের সাথে বিরোধিতার কারণেই। আর ‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত’ বর্তমান যুগে চার মাযহাবে বিভক্ত। উনারাই হলেন সম্মানিত হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী মাযহাব। আর যারাই বর্তমানে এ ৪ মাযহাব বহির্ভূত তারাই বিদয়াতী ও জাহান্নামী। (তাম্বিহ ৪৬৬ পৃষ্ঠা)

অনুসরণীয় সকল ইমাম মুজতাহিদ উনারা এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য মাযহাব হচ্ছে চারটি। ১। হানাফী ২। মালিকী ৩। শাফিয়ী ৪। হাম্বলী।

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন ইমাম আ’যম ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত মালিকী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত শাফিয়ী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

নিম্নে সংক্ষিপ্তভাবে উনাদের পরিচিতি ও সাওয়ানেহ উমরী মুবারক তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম সাইয়্যিদুনা ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক!

হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাক্বওয়া ও পরহেযগারী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

ইমামুল মুহাদ্দিসীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, ইমামুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আযম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র শরীয়ত উনার বিধি-বিধান পালনে অত্যান্ত সতর্ক ছিলেন। রাজা-বাদশা, আমির-উমরাদের দরবারে যাওয়া, তাদের সাথে সম্পর্ক রাখা তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না। কেননা তাদের সাথে সম্পর্ক রাখলে, তাদের দরবারে গেলে পবিত্র ইলম মুবারক উনার মর্যাদার হানী ঘটে। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিধি-বিধান সঠিকভাবে পালন করা যায় না। ইমাম-মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিপূর্ণ অনুসরণে মুহতাজীভাব ছেড়ে দিয়ে স্বাধীনচেতা হওয়া। রাজা-বাদশাহ, আমির-উমারা কিংবা কোনো দল-মতের সাথে সম্পৃক্ত হলে দ্বীনের কাজে ভাটা পড়ে যায়। মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল মুত্তাক্বীন হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আগত-অনাগত সকল ইমাম, মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সে শিক্ষাই দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, তৎকালীন শাসক আল মানছুর একদিন প্রধান কাজী ও অন্যান্য উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে ডেকে পাঠালেন। উনারা সবাই শাসকের দরবারে উপস্থিত হলেন।

অপরদিকে উনার এক বিশেষ খাদিমকে মনছূর বললেন, তুমি আমার সহচরদের নামে কিছু কিছু জমি লিখে দাও। খাদিম উনার নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলো। তারপর সাক্ষীস্বরূপ দস্তখত বা স্বাক্ষর নেয়ার জন্য শাসক জনৈক সহচর মারফত দলীলগুলো প্রধান কাজী বা বিচারক হযরত শাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্য আলিমগণের কাছে পাঠালেন। প্রথমে প্রধান কাজী ছাহিব দস্তখত করলেন। কিন্তু ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি দস্তখত করতে রাজী হলেন না। বরং উক্ত সহচরকে জিজ্ঞাসা করলেন, মনছূর এখন কোথায়?

তিনি বললেন, মনছূর এখন বালাখানায় আছেন। হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তুমি শাসককে আমার কাছে আসতে বলো নতুবা আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো। তবেই আমার স্বাক্ষ্য দেয়া শুদ্ধ হবে। সহচর বললেন- স্বয়ং প্রধান কাজী ছাহেব ও অন্যান্য আলিমগণ যখন স্বাক্ষর করেছেন তখন আপনি অযথা আপত্তি করছেন কেনো?

হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাতে তোমার কোনো প্রয়োজন নেই। তোমাকে যা বলছি তুমি তাই করো। শেষ পর্যন্ত এ ঘটনা শাসক মনছুরের কানে পৌঁছলো। শাসক প্রধান কাজী হযরত শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কি স্বাক্ষর করার সময় উপস্থিত থেকে শুনেছেন বা দেখেছেন?

কাজী সাহেব জাওয়াব দিলেন, আমি বুঝতে পেরেছি যে, উহা আপনার নির্দেশানুযায়ী হয়েছে। তাই উপস্থিতির প্রয়োজন বোধ করিনি।

শাসক বললেন, আপনার এ কাজ ন্যায় সঙ্গত হয়নি। কাজেই, আপনাকে আপনার পদ থেকে বরখাস্ত করা হলো। অতঃপর প্রধান কাজীর পদে চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তির যে কোনো একজনকে নিযুক্ত করার বিষয় সাব্যস্ত হলো। সেই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব চারজন হচ্ছেন ইমামে আ’যম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত শরীহ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত ইমাম শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনাদেরকে মনছূরের দরবারে ডাকা হলো। মনছূরের দরবারে আসার পথে উনাদের সবার সাক্ষাত হলো। ইমামুল মুহাদ্দিসীন, ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনারা আমার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করুন। আমি যে কোনোভাবেই হোক এ পদ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবো। হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, আপনি সরে পড়বেন। হযরত ইমাম শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, আপনি শাসকের সাথে হিকমত করবেন। আর হযরত শরীহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, আপনি পদটি গ্রহণ করবেন। উনার পরামর্শ অনুযায়ী সত্যি ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শাসকের দরবারে পৌঁছে সেখান থেকে সরে পড়লেন। বাকি তিনজন খলীফার সাথে সাক্ষাত করলেন।

প্রথমে মনছূর তিনি ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ্ব দ্বীন, ইমামুল মুত্তাক্বীন হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কাজীর পদ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানালেন।

ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি আরব নই। আরব প্রধানগণ আমার হুকুম সহজে মানতে চাইবে না। কাজেই, আমি এ পদের উপযুক্ত নই। জাফর বারমাকী নামক একজন আমীর তথায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, গোত্রের সাথে এ পদের সম্পর্ক কি?

হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমি এ পদের জন্য মোটেই যোগ্য নই। এ কথার প্রমাণ হলো- আমার এ বানী হয় সত্য নতুবা মিথ্যা। সত্য হলে, আমি এ পদের উপযুক্ত নই। আর যদি আমাকে এ ব্যাপারে মিথ্যাবাদী মনে করেন, তাহলে একজন মিথ্যাবাদীকে এরূপ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত করা সঠিক নয়। এ কথা বলে ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রোখছত লাভ করলেন।

অতঃপর হযরত ইমাম শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অগ্রসর হয়ে শাসকের হাত ধরে বললেন, জনাব! কেমন আছেন? আপনার শরীর-স্বাস্থ ভালো তো? আপনার ছেলে-মেয়েরা কেমন আছে? মনছূর হযরত ইমাম শা’বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আলাপের ধরণ দেখে মনে করলেন যে, নিশ্চয়ই উনার মস্তিষ্ক বিকৃতি হয়েছে। কাজেই, উনাকে কাজীর পদে নিয়োগ দেয়া সমীচীন হবে না।

অতঃপর হযরত শরীহকে ডেকে আনা হলো। তিনি মনছূরকে বললেন, মনছূর আমি একজন পাগল। আমার মাথা অতিশয় দুর্বল। আমার পক্ষে এ দায়িত্বপূর্ণ কাজ করা কখনোই সম্ভব নয়।

উনার কথা শুনে শাসক বললেন, আপনি আপনার এ রোগের চিকিৎসা করুন। আরোগ্য হয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ! শেষ পর্যন্ত হযরত শরীহকেই কাজীর পদে নিয়োগ দেয়া হলো।

এরপর থেকে হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত শরীহ উনার সাথে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ করে দিলেন। এমনকি উনার সাথে কথা বলাও ছেড়ে দিলেন।  সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, ইমামুল মুসলিমীন, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ্ব দ্বীন হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কাজীর পদ গ্রহণ না করার অন্যতম কারণ হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই পবিত্র হাদীছ শরীফ। যেখানে তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “যাকে কাজী নির্বাচন করা হলো তাকে বিনা ছুরিতে হত্যা করা হলো।” (কাশফুল মাহযূব)

হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তীক্ষè মেধা, গভীর জ্ঞান, মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়, তাক্বওয়া-পরহেযগারী এবং পবিত্র ইবাদত ও রিয়াযতের কথা না বললেই নয়। আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন “ ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, উনাকে অনুসরণ করা কর্তব্য। কারণ, তিনি ছিলেন বেমেছাল মুত্তাক্বী, পরহেযগার, আলিম এবং ফক্বীহ। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার প্রদত্ত জ্ঞান, মেধা, দূরদৃষ্টি এবং খোদা-ভীতির ভিত্তিতে যে ইলমী ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং ইলমে ওহী মুবারক উনার যে খিদমত ও প্রসার ঘটিয়েছেন, সে ব্যাপারে কেউ উনার সমকক্ষ হতে পারেননি।” সুবহানাল্লাহ! (কারদারী কৃত মানাকিবে আবূ হানিফা : পৃষ্ঠা ৪৬)

হযরত সুফিয়ান ইবনে আইনিয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন ‘আমাদের যামানায় মক্কা শরীফ উনার মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি ছিল না, যিনি ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেয়ে অধিক নামায পড়তেন।’ সুবহানাল্লাহ! (তারীখে বাগদাদ- খ- ১৩ : পৃষ্ঠা ৩৩৮)

হযরত আবু মুতী’ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- ‘আমি মক্কা শরীফ থাকাকালীন রাত্রে যখনই তাওয়াফের উদ্দেশ্যে বাইতুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করতাম, তখনই ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত সুফিয়ান সাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকে তাওয়াফরত অবস্থায় দেখতে পেতাম।’ সুবহানাল্লাহ! (তারিখে বাগদাদ- খ- ১৩ : পৃষ্ঠা ৩৩৮)

হযরত আবূ আছেম নাবীল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- “হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এত বেশি নামায পড়তেন যে, লোকেরা উনাকে মসজিদের খুঁটি হিসেবে অভিহিত করতো। সুবহানাল্লাহ! (তারীখে বাগদাদ- খণ্ড ১৩ : পৃষ্ঠা ৩৩৮)

হিফছ ইবনে আব্দুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি চল্লিশ বৎসর সারা রাত জেগে থেকে ইবাদত করতেন এবং তাতে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন শরীফ খতম করতেন।’ সুবহানাল্লাহ! (তারিখে বাগদাদ- খণ্ড ১৩ : পৃষ্ঠা ৩৫৪)

বাশার ইবনে ওয়ালীদ হযরত কাজী আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণনা করেন যে, এক সময় হযরত আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এবং হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোথায়ও যাচ্ছিলেন, এমন সময় হঠাৎ হযরত আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শুনতে পেলেন যে, এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে বলছে, ‘এই যে ইনিই হলেন হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি রাত্রে ঘুমান না।’ একথা শুনে হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমি একথা পছন্দ করি না যে, আমার সম্পর্কে (প্রশংসা স্বরূপ) এমন কিছু বলা হোক, যা দ্বারা আমার আমল বিঘিœত হয়।’ এরপর থেকে তিনি রাতে আর ঘুমাতেন না। বরং কান্নাকাটি এবং দোয়া ও মুনাজাতের মধ্যে কাটিয়ে দিতেন। একথাও বর্ণিত আছে যে, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাত হাজার বার পবিত্র কুরআন শরীফ খতম করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (সিয়ারে আ’লামুন নুবালা- খ- ৬ : পৃষ্ঠা ৩৯৯)

হযরত মক্কী ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘আমি কুফাবাসীদের সাথে ওঠা-বসা করেছি অনেক; কিন্তু আমি হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেয়ে অধিক মুত্তাকী কাউকে দেখিনি।’ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও এরূপই বলেছেন। (আল-কামার : পৃষ্ঠা ৩৫৮)

হযরত ইয়াহইয়া ইবনে কাত্তান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- ‘আমি হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করেছি এবং উনার কাছ থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ শুনেছি। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম করে বলছি, যখনই আমি উনার চেহারা মুবারক উনার মধ্যে তাকিয়েছি, তখনই দেখেছি যে, তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার ভয়ে অত্যন্ত কাতর আছেন।’ সুবহানাল্লাহ! (আল-কামার : পৃষ্ঠা ৩৫৯)

আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- ‘আমি হযরত সুফিয়ান সাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললাম, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি গীবত করা থেকে কত দূরে অবস্থান করেছেন, আমি তো উনাকে উনার দুশমনেরও গীবত করতে শুনিনি।’ তখন তিনি বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তিনি অত্যন্ত জ্ঞানী ও সমঝদার ছিলেন। সুতরাং এমন মূর্খতা কেন করবেন, যা উনার নেক আমলসমূহকে খতম করে দিবে?’ (আল-কামার : পৃষ্ঠা ৩৬৩)

আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ হযরত ইবনুল মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আলোচনা মুবারক করতে গিয়ে একথাও বলেছেন- ‘এরূপ ব্যক্তির তাক্বওয়া সম্পর্কে কত আর বলা যাবে, যাঁর মুবারক সামনে দুনিয়ার ধন-সম্পদ পেশ করা সত্ত্বেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। এমনকি সরকারি সর্বোচ্চ পদ গ্রহণের জন্য উনাকে আহ্বান করা হয়েছে, কিন্তু তাক্বওয়ার প্রয়োজনে তাও প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেজন্য অন্যায়ভাবে উনাকে দোররা মারা হয়েছে, তাতেও তিনি ছবর ইখতিয়ার করেছেন তবুও সেই পদ গ্রহণ করেননি।’ সুবহানাল্লাহ! (উকূদুল জিমান : পৃষ্ঠা ২৩৯)

হযরত হাসান ইবনে ছালেহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অনেক বড় মুত্তাক্বী ছিলেন, হারাম ও সন্দেহজনক বস্তু থেকে বিরত থাকতেন। আমি কখনও কোন ফক্বীহকেও এত বেশি নিজের নফস এবং পবিত্র ইলম উনার হিফাযতকারী হিসেবে দেখিনি। উনার সকল প্রস্তুতিই ছিল কবরের জন্য।’ সুবহানাল্লাহ!  (উকূদুল জিমান : পৃষ্ঠা ২৩৯)

হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আমি শাসক হারুনুর রশীদের দরবারে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ হযরত আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন। শাসক হারুনুর রশীদ উনাকে বললেন, ‘আপনি আমার কাছে হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আখলাক্ব বয়ান করুন।’ তিনি বললেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হারাম করা বিষয় থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেন। দুনিয়াদার লোকদের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকেন। গভীর নীরবতায় তিনি সর্বদা নিমজ্জিত এবং সর্বদা ধ্যান ও চিন্তায় রত থাকেন। তিনি অনর্থক ও নিষ্ফল কোন কথা বলেন না। যখন উনাকে কোন মাসয়ালা জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন জানা থাকলে তিনি জাওয়াব দেন নতুবা নয়। উনার সম্পর্কে আমার জানা আছে যে, তিনি উনার নফস এবং পবিত্র দ্বীন উনাকে হিফাযত করেন। মানুষের দোষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিজের সংশোধনের প্রতি মনোনিবেশ করেন। যার আলোচনা করেন, তার ভালো দিকটাই আলোচনা করেন।’ শাসক হারুনুর রশীদ বললেন- এটাই ছালিহীন উনাদের আখলাক্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (মানাকিবে হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি : পৃষ্ঠা ৯)

 

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-১৩)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-১২)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৮তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (১১ম পর্ব)