পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৫৬

সংখ্যা: ২৭৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৩তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া”-

পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

সম্মানিত চার মাযহাব হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী উনাদের সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম উনাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি মুবারক

সম্মানিত শরীয়ত অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের ফায়ছালা মতে প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জ্বিন-ইনসান সকলের জন্য সম্মানিত চার মাযহাব উনাদের যেকোনো একটি সম্মানিত মাযহাব উনাদের অনুসরণ করা যেরূপ ফরয-ওয়াজিব তদ্রƒপ সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মাযহাব পরিবর্তন করা বা এক মাযহাবের অনুসারী হয়ে অন্য মাযহাবের উপর আমল করা জায়িয নেই।

এ প্রসঙ্গে মুসলিম শরীফ উনার বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার প্রখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘মুসলিম শরীফ উনার’ টিকায় এবং ইমাম তাহাবী ‘দুররুল মুখতার’ কিতাবের হাশিয়াতে লিখেন-

عَلَيْكُمْ يَا مَعْشَرَ الْـمُؤْمِنِيْنَ اِتِّبَاعُ الْفِرْقَةِ النَّاجِيَةِ الْـمُسَمَّاةِ بِأَهْلِ السُّنَّةِ وَالْـجَمَاعَةِ فَأِنَّ نَصْرَةَ اللهِ وَحِفْظَهٗ وَتَوْفِيْقَهٗ فِيْ مُوَافِقَتِهِمْ وَخَذَلًالَّهٗ وَسَخْطَهٗ وَمَقْتَهٗ فِيْ مُـخَالِفَتِهِمْ وَهٰذِهِ الطَّائِفَةُ النَّاجِيَةُ قَدْ اِجْتَمَعَتِ الْيَوْمَ فِيْ مَذْهَبِ أَرْبَعٍ وَهُمُ الْـحَنَفِيُّوْنَ وَالْـمَالِكِيُّوْنَ وَالشَّفِعِيُّوْنَ وَالْـحَنَبِلِيُّوْنَ رَحِمَهُمُ اللهُ وَمَنْ كَانَ خَارِجًا مِّنْ هٰذِهِ الْأَرْبَعَةِ فَهُوَ أَهْلُ الْبِدْعَةِ وَالنَّارِ.

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! আপনারা নাজিয়া (নাজাতপ্রাপ্ত) দলকে অনুসরণ করে চলুন যা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ নামে মশহূর। কারণ মহান আল্লাহ পাক উনার সাহায্য, হিফাযত ও তাওফীক্ব অর্জন সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টি, গযব ও অপদস্ততা উনাদের সাথে বিরোধিতার কারণেই। আর ‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত’ বর্তমান যুগে চার মাযহাবে বিভক্ত। উনারাই হলেন সম্মানিত হানাফী, মালিকী, শাফিয়ী ও হাম্বলী মাযহাব। আর যারাই বর্তমানে এ ৪ মাযহাব বহির্ভূত তারাই বিদয়াতী ও জাহান্নামী। (তাম্বিহ ৪৬৬ পৃষ্ঠা)

অনুসরণীয় সকল ইমাম মুজতাহিদ উনারা এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন যে, অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য মাযহাব হচ্ছে চারটি। ১। হানাফী ২। মালিকী ৩। শাফিয়ী ৪। হাম্বলী।

সম্মানিত হানাফী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন ইমাম আ’যম ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত মালিকী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত শাফিয়ী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

সম্মানিত হাম্বলী মাযহাব উনার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

নিম্নে সংক্ষিপ্তভাবে উনাদের পরিচিতি ও সাওয়ানেহ উমরী মুবারক তুলে ধরা হলো-

সম্মানিত মালিকী মাযহাব উনার

প্রতিষ্ঠাতা ও ইমাম- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূর্ণ অনুসারী। সমগ্র জীবনব্যাপী জ্ঞান-গবেষণা ও মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দেগীতে নিয়োজিত ছিলেন। উনার ছিয়াশি বছরের জীবন ছিল একটি আলোকোজ্জ্বল জীবন মুবারক। নিম্নে উনার সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক তুলে ধরা হলো:

নাম মুবারক ও বংশ পরিচয় :

নাম- মালিক, উপনাম-আবূ আবদুল্লাহ। বংশপরম্পরা- মালিক ইবনু আনাস ইবনু আবূ আমির ইবনু আমর ইবনু হারিছ আল আছবাহী। তিনি আরবের প্রসিদ্ধ কাহত্বান গোত্রের উপগোত্র আছবাহ উনার অন্তর্ভুক্ত, এ জন্য তিনি ‘আল আছবাহী’ বলে পরিচিত।

পবিত্র বিলাদত শরীফ ও প্রতিপালন :

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র মাদীনা শরীফে এক সম্ভ্রান্ত শিক্ষানুরাগী মুসলিম পরিবারে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। পবিত্র বিলাদত শরীফের সন নিয়ে কিছু ভিন্নমত থাকলেও ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, বিশুদ্ধ মতে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার সন ৯৩ হিজরী, যে সনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাদিম হযরত আনাস ইবনু মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

তিনি পিতা আনাস ইবনু আবূ আমির রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে পবিত্র মদীনা শরীফে প্রতিপালিত হন। উনার পিতা তিনি তাবি-তাবিঈ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ছিলেন, যার বরাত দিয়ে ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ অনেকেই পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও উনার পিতার নিকট থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন।

উনার দাদা আবু আমির রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি প্রসিদ্ধ তাবিয়ী ছিলেন, যিনি হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম ও উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম ও হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন।

উনার পিতামহ আমর ইবনু হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি প্রসিদ্ধ ছাহাবী ছিলেন। এ সম্ভ্রান্ত দীনী পরিবেশে জ্ঞানপিপাসা নিয়েই তিনি প্রতিপালিত হন। সুবহানাল্লাহ!

শিক্ষা জীবন:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার হিজরত মুবারক উনার পর থেকে আজ পর্যন্ত দীনী জ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র হলো পবিত্র মদীনা শরীফ। পবিত্র মদীনা শরীফে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার অর্থ হলো দীনী জ্ঞানচর্চার প্রাণ কেন্দ্রেই বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করা। বিশেষ করে বংশীয়ভাবে উনাদের পরিবার ছিল দীনী জ্ঞানচর্চায় অগ্রগামী। এজন্য তিনি শৈশবকাল থেকেই দীনী ‘ইলম চর্চা শুরু করেন। বিশেষ করে উনার মমতাময়ী মা উনাকে শিক্ষার প্রেরণা যোগান।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন : আমি একদিন মাকে বললাম, ‘আমি পড়ালেখা করতে যাবো! মা বললেন : আসো! শিক্ষার লেবাস পরিধান করো। অতঃপর আমাকে ভালো পোশাক পরালেন, মাথায় টুপি দিলেন এবং উনার উপর পাগড়ি পরিয়ে দিলেন, এরপর বললেন, এখন পড়ালেখার জন্য যাও।

তিনি বলেন, মা আমাকে ভালোভাবে কাপড় পরিয়ে দিয়ে বলতেন, যাও পবিত্র মদীনা শরীফ উনার প্রসিদ্ধ আলিম রাবীআহ্ ইবনু আবূ আবদুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে এবং উনার জ্ঞান শিক্ষার আগে উনার আদব আখলাক্ব শিক্ষা করো।

এভাবে তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিছ এবং ফকীহগণের নিকট থেকে শিক্ষালাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

শায়খ বা উস্তাদবৃন্দ :

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অসংখ্য আলিম-উলামা উনাদের নিকট শিক্ষালাভ করেন। ইমাম যুরকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নয়শ’র অধিক শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। বিশেষ করে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বীয় গ্রন্থ ‘মুওয়াত্তায়’ যে সকল শিক্ষক থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, উনাদেরই সংখ্যা হলো ১৩৫ জন, উনাদের নাম ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘সিয়ার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন নিম্নরূপ :

১। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম রাবী’আহ ইবনু আবূ ‘আব্দুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম আয্ যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম নাফি মাওলা ইবনু উমার রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪। সাইয়্যিদুনা হযরত ইবরাহীম ইবনু উকবাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৫। সাইয়্যিদুনা হযরত ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৬। সাইয়্যিদুনা হযরত হুমাইদ ইবনু কায়স আল আরয রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৭। সাইয়্যিদুনা হযরত আইয়ূব ইবনু আবী তামীমাহ আস সাখতিয়ানী রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখগণ।

ছাত্রবৃন্দ :

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হলেন ইমামু দারিল হিজরা, অর্থাৎ সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার ইমাম। অতএব সম্মানিত মদীনা শরীফ উনার ইমাম উনার ছাত্র হওয়ার দুর্লভ সৌভাগ্য কে না চায়। তাই উনার ছাত্র অগণিত। ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখযোগ্য ১৬৬ জনের নাম বর্ণনা করেছেন। ইমাম খ¦তীব বাগদাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ৯৯৩ জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করেন।

কয়েকজন প্রসিদ্ধ ছাত্রের নাম নিম্নে প্রদত্ত হলো :

১। ইমাম হযরত মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস আশ্ শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

২. ইমাম হযরত সুফইয়ান ইবনু উয়ায়নাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৩. ইমাম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৪. ইমাম হযরত আবূ দাউদ আত্ তায়ালিসী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৫. হযরত হাম্মাদ ইবনু যায়দ রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৬. হযরত ইসমাঈল ইবনু জা’ফর রহমতুল্লাহি আলাইহি।

৭. হযরত ইবনু আবীয্ যিনাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি প্রমুখগণ।

জ্ঞান গবেষণায়:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি জন্মগতভাবেই অসামান্য প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। মেধাশক্তি ছিল খুবই প্রখর। হযরত আবূ কুদামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি স্বীয় যুগে সর্বাধিক মেধাশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত হুসাইন ইবনু উরওয়াহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, একবার ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমাদের মাঝে আগমন করলেন, আমাদের সাথে ছিলেন হযরত রাবী’আহ রহমতুল্লাহি আলাইহি। তখন ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আমাদেরকে চল্লিশের কিছু অধিক পবিত্র হাদীছ শরীফ শুনালেন। পরের দিন আমরা ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে গেলাম, তিনি বললেন, কিতাবে দেখ, আমরা কি পরিমাণ পবিত্র হাদীছ শরীফ পড়েছি। আরও বললেন, গতকাল আমরা যে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছি তোমরা কি তার কিছু পড়েছ? তখন হযরত রাবী’আহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমাদের মাঝে এমনও ব্যক্তি আছেন, যিনি গতকাল আপনার বর্ণনাকৃত সব পবিত্র হাদীছ শরীফ মুখস্থ শুনাতে পারবেন। ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, কে তিনি? হযরত রাবী’আহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তিনি ইবনু আবী আমির অর্থাৎ- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ শুনান। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তখন গতকালের চল্লিশটি পবিত্র হাদীছ শরীফ মুখস্থ শুনালাম। ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আমার ধারণা ছিল না যে, আমি ছাড়া এ পবিত্র হাদীছ শরীফগুলো দ্বিতীয় কেউ মুখস্থ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

অতএব সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অসামান্য পান্ডিত্য, গভীর জ্ঞান, গবেষণা, সংরক্ষণ সম্পর্কে আর বেশী কিছু বলার অপেক্ষা রাখেনা।

পবিত্র হাদীছ শরীফ শাস্ত্রে অবদান:

পবিত্র হাদীছ শরীফ শাস্ত্রে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, পবিত্র হাদীছ শরীফ সঙ্কলনের অগ্রনায়ক। যদিও উনার পূর্বে কেউ কেউ পবিত্র হাদীছ শরীফ সঙ্কলন করেছেন, যেমন- ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাধনা এবং সংগ্রহ ও সঙ্কলন ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। আর এ জন্যই ছহীহুল বুখারী ও ছহীহ মুসলিম শরীফ উনাদের মতো পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থ প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে উনার সঙ্কলিত গ্রন্থকে বলা হতো : ‘মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত কিতাব পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থ ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুওয়াত্ত্বা শরীফ’ গ্রন্থ। সুবহানাল্লাহ!

তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষায় পারিবারিকভাবে উৎসাহিত হলেও উনার সাধনা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অসাধ্য সাধন করেছেন। শয়নে স্বপনে সব সময় একই চিন্তা, কিভাবে তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষালাভ করবেন। মানুষ যখন অবসরে, তিনি তখন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সন্ধানে। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার ঈদের ছলাতে ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দেখে মনে করলেন, আজ মানুষ ঈদের আনন্দে ব্যস্ত, হয়তো ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে একাকী পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষার সুযোগ পাওয়া যাবে। ঈদের ময়দান থেকে চলে গেলেন ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বাসায়, দরজার সামনে বসলেন। ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ভিতর থেকে লোক পাঠালেন, গেটে কে দেখার জন্য, ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে জানানো হলো যে, গেটে আপনার ছাত্র ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি। ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, ভিতরে আসতে বলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি ভিতরে গেলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, মনে হয় আপনি ছলাতের পর বাড়িতে যাননি? আমি বললাম, না যাইনি; জিজ্ঞেস করলেন, কিছু খেয়েছেন কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, খান। আমি বললাম, খাওয়ার চাহিদা নেই। তিনি বললেন, তাহলে আপনি কি চান? আমি বললাম, আমাকে পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা দিন। অতঃপর তিনি আমাকে সতেরটি পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা দিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি অধিকাংশ সময় একাকী থাকা পছন্দ করতেন। উনার বোন পিতার কাছে অভিযোগ করলেন, আমাদের ভাই মানুষের সাথে  মেলামেশা করেন না। পিতা জবাব দিলেন যে, মা, তোমার ভাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ মুখস্থ করায় ব্যস্ত, তাই তিনি একাকী থাকা পছন্দ করেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নিঃসন্দেহে পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষার ব্যাপারে খুবই তৎপর ছিলেন। যার কারণে তিনি ঈদের আনন্দ-উৎসব বাদ দিয়ে এবং পরিবারে সময় না দিয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা ও মুখস্থকরণে ব্যস্ত থাকতেন। কাজেই তিনি ছিলেন এক বেমেছাল ব্যক্তিত্বের অধিকারী এবং শয়নে-স্বপনে সর্বদা পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যস্ত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ সংগ্রহে কঠোর সতর্কতা :

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা ও সংগ্রহে সর্বদা ব্যস্ত থাকলেও যার-তার নিকট থেকে যেনতেনভাবে তা গ্রহণ করতেন না- যতক্ষণ না তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারীর ঈমান-আক্বীদাহ ও সততা সম্পর্কে অবগত হতে পারতেন। বিশ্বস্ত প্রমাণিত হলে পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ করতেন, অন্যথায় নয়। ইমাম সুফইয়ান ইবনু ‘উয়ায়নাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে রহম করুন, তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনাকারী ও বিদ্বানগণের ব্যাপারে কতই না সতর্ক থাকতেন এবং কঠিনভাবে যাচাই বাছাই করতেন, সহজেই কারো পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ করতেন না।’

আলী ইবনুল মাদীনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণে কঠোর নীতি ও সতর্কতায় সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ন্যায় আর কেউ আছে বলে আমি জানি না।’ সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিদয়াতীদের থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রহণ করতেন না।

এই সতর্কতা শুধু নিজেই অবলম্বন করেননি, বরং তিনি অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পবিত্র হাদীছ শরীফ হলো দীনের অন্যতম ভিত্তি। অতএব ভালোভাবে লক্ষ্য করো, তোমরা কার নিকট থেকে দীন গ্রহণ করেছো। আমি সত্তরজন এমন ব্যক্তি পেয়েছি, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমি তাদের কিছুই গ্রহণ করিনি। যদিও তারা অর্থ-সম্পদে আমানতদার। কিন্তু এ বিষয়ে তাদেরকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করিনি। অথচ আমাদের মাঝে ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার আগমন ঘটলে পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা ও সংগ্রহে আমরা উনার দরবারে ভিড় জমাতাম।

সুতরাং ইমামু দারিল হিজরা বা মদীনাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা ও সংগ্রহে স্বীয় জীবন যেমন উৎসর্গ করেছেন, তেমনি পবিত্র হাদীছ শরীফ সংরক্ষণে খুব কঠোর ভূমিকা রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উপর আমল :

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা ও সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং বাস্তব জীবনে পালনের মাধ্যমেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুকাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘আমি কোনো আলিমের কাছে যখনই বসেছি, অতঃপর বাড়িতে ফিরে সেসব শ্রুত পবিত্র হাদীছ শরীফ মুখস্থ করে ঐ পবিত্র হাদীছ শরীফগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বা আমল না করা পর্যন্ত পুনরায় ঐ আলিমের বৈঠকে ফিরে যাইনি। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা দান ও ফাতাওয়া প্রদান:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শুধু পবিত্র হাদীছ শরীফ শিক্ষা ও আমল করাই যথেষ্ট মনে করেননি, বরং মানুষকে শিক্ষা দান ও ফাতাওয়া প্রদানেও বিরাট অবদান রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি একুশ বছর বয়সে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পাঠদান ও ফাতাওয়া প্রদানে পূর্ণ যোগ্যতা লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

হযরত মুস’আব ইবনু আব্দুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ‘সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কোনো পবিত্র হাদীছ শরীফ জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি ওযু করে ভালো পোশাক পরিধান করে সুন্দরভাবে প্রস্তুতি নিতেন। উনাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন, এ হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।

সে সময় মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্ঞানপিপাসুগণ শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র পবিত্র মদীনা শরীফ জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতেন এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতো এত প্রজ্ঞাসম্পন্ন মুহাদ্দিছ উনার নিকট থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার জ্ঞান আহরণ করে ধন্য হতেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফাতওয়া প্রদানেও যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতেন। জটিল বিষয়গুলো দীর্ঘ গবেষণার পর ফাতওয়া প্রদান করতেন।

ইবনু ‘আব্দুল হাকীম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে- তিনি প্রশ্নকারীকে বলতেন, “যাও আমি এ বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করি।”

‘আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন : সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “কখনো এমন মাসয়ালাও এসেছে যে, সে বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে আমার সারারাত অতিবাহিত হয়েছে।”

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কোনো বিষয়ে উত্তর না দেয়া ভালো মনে করলে, “জানি না” বলতেও কোনো দ্বিধাবোধ করতেন না। কারণ তিনি মনে করতেন, প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া মানে জান্নাত ও জাহান্নামের সম্মুখীন হওয়া। প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যেন আখিরাতে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে না হয়। সুবহানাল্লাহ!

‘আক্বীদাহ-বিশ্বাস

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসের অন্যতম ইমাম হলেন- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি। বিশেষ করে মহান আল্লাহ তা’আলা উনার ছিফাত বা গুণাবলীর প্রতি মু’তাযিলাদের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসের প্রতিবাদে ঈমান প্রসঙ্গে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বর্ণনা-ই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অনুসৃত নীতি। যেমনটি ইমাম ইবনু আবিল ইয আল হানাফী শারহুল ‘আক্বীদাহ্ আত তাহাবীয়ায় উল্লেখ করেন।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ঈমান ‘আক্বীদার সকল বিষয়ে পবিত্র কুরআনুল কারীম ও ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোকে হকপন্থীদের সাথে একমত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

যুগশ্রেষ্ঠ ‘আলিমগণের অভিমত:

১. ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “আলিমকুল শিরোমণি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলমের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কেউ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মৃতিশক্তি, দৃঢ়তা, সংরক্ষণশীলতা ও জ্ঞানের গভীরতার সমপর্যায়ে পৌঁছেনি। আর যে ব্যক্তি ছহীহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সন্ধান করে সে যেন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কাছে যায়।”

২. ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন : “পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিকহ শাস্ত্রের উপর বিরল পাণ্ডিত্যের অধিকারী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। জ্ঞান-বুদ্ধি ও আদাব আখলাকসহ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার প্রকৃত অনুসারী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতো আর কে আছে?” সুবহানাল্লাহ!

৩. ইমাম নাসায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, “তাবিয়ীদের পর আমার কাছে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চেয়ে অধিক বিচক্ষণ আর কেউ নেই এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ক্ষেত্রে উনার চেয়ে অধিক আমানতদার আর কে হতে পারে।” সুবহানাল্লাহ!

গ্রন্থাবলী:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বেশ কিছু গ্রন্থাবলী রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: ১. আল মুওয়াত্ত্বা শরীফ।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার জগতে কিছু ছোট ছোট সঙ্কলন শুরু হলেও সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুওয়াত্তা শরীফ’ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য সঙ্কলন। এ গ্রন্থে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং পবিত্র মদীনা শরীফবাসীর ইজমা’সহ অনেক ফিক্বহী মাসয়ালা বিশুদ্ধ সনদের আলোকে সঙ্কলন করেন। দীর্ঘদিন সাধনার পর, কেউ বলেন চল্লিশ বছর সাধনার পর তিনি এ মহামূল্যবান গ্রন্থ সঙ্কলন করেন। সে সময় বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার গ্রন্থ ‘মুওয়াত্তা শরীফ’ খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে।

ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন : “কিতাবুল্লাহ অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পরই সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুওয়াত্তা শরীফ’।” সুবহানাল্লাহ!

এটা সর্বজন স্বীকৃত সত্য যে, ছহীহুল বুখারী সঙ্কলনের পূর্বে মুওয়াত্ত্বাই সর্ববিশুদ্ধ গ্রন্থ ছিলো। ছহীহুল বুখারী সঙ্কলনের পর সর্বমহলে সর্ববিশুদ্ধ পবিত্র হাদীছ শরীফ গ্রন্থ হিসেবে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করে।

২. “কিতাবুল মানাসিক।”

৩. “রিসালাতুন ফিল কাদ্র ওয়ারাদ্দ ‘আলাল কাদারিয়া।”

৪. “কিতাব ফিন্ নুজুমি ওয়া হিসাবি সাদারিয যামানি ওয়া মানাযিলিল কামার।”

৫. “কিতাবুস্ সিররি।”

৬. “কিতাবুল মাজালাসাত।” ইত্যাদি।

ছহীহ সনদে প্রমাণিত যে, এ সব সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সঙ্কলিত ও রচিত গ্রন্থ। এগুলো ছাড়াও উনার আরো অনেক গ্রন্থ রয়েছে।

পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ১৭৯ হিজরী সনে পবিত্র রবিউল আউয়াল শরীফ মাসে ৮৬ বছর বয়স মুবারকে পবিত্র মদীনা মুনাওয়ারায় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনাকে পবিত্র মদীনা শরীফ কবরস্থান ‘বাকী আল গারকাদে” দাফন করা হয়।

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)