পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিবস ও সময়ের গুরুত্ব, ফযীলত ও আহকাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-

সংখ্যা: ২৫৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস

উনার ফাযায়িল-ফযীলত ও গুরুত্ব

আস-সানাতুল্ ক্বমারিয়্যাহ তথা হিজরী বছর উনার মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি মাসকে মহান আল্লাহ তায়ালা হারাম তথা পবিত্র বা যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মাস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস উক্ত মাস উনাদেরই একটি বিশেষ সম্মানিত মাস। যেমটি মহান আল্লাহ তায়ালা রব্বুল আলামীন তিনি উনার পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ তথা পবিত্র কুরআন মাজীদ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

اِنَّ عِدَّةَ الشُّهُوْرِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِىْ كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّموتِ وَالْاَرْضَ مِنْهَا اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذلِكَ الدِّيْنُ الْقَيّمُ فَلَا تَظْلِمُوْا فِيهِنَّ اَنْفُسَكُمْ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِيْنَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُوْنَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوْا اَنَّ اللهَ مَعَ الْمُتَّقِيْنَ.

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উনার বিধানে আসমানসমূহ ও যমীনসমূহ সৃষ্টির দিন হতেই গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি হারাম (যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ) মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ মাসগুলোর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি যুলূম করো না। তোমরা মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে জিহাদ করবে, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করে থাকে। আর জেনে রাখুন! মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি মুত্তাক্বীন উনাদের সঙ্গে আছেন। (পবিত্র সূরাতুত তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৬)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে বর্ণিত রয়েছে যে-

{مِنْهَا اَرْبَعَةٌ حُرُمٌ} من الشهور اربعة حرم وهى: رجب وذو القعدة وذو الحجة والمحرم واحد فرد وثلاثة سرد {ذلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ} اى الحساب الـمستقيم.

অর্থ: (তন্মধ্যে ৪টি হারাম মাস) ১২টি মাসের মধ্যে ৪টি মাস পবিত্র তথা যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মাস। সেগুলো হলো: পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ, পবিত্র যুল্ ক্ব’দাহ শরীফ, পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ শরীফ ও পবিত্র মুহররম শরীফ। একটি আলাদা এবং তিনটি একসাথে। (এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান) অর্থাৎ সহজ-সরল হিসাব বা গণনা। (মায়ালিমুত্ তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল্ বাগবী পবিত্র সূরাতুত তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৬ লেখক: মুহইস সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বাগবী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫১০ হিজরী)

عن حضرت ابى بكرة رضى الله تعالى عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم قال: ان الزمان قد استدار كهيئته يوم خلق الله السموات والارض السنة اثنا عشر شهرًا منها اربعة حرم ثلاث متواليات ذو القعدة وذو الحجة والمحرم ورجب مضر الذى بين جمادى وشعبان اى شهر هذا قلنا الله ورسوله اعلم.

অর্থ: হযরত আবূ বাকরাতা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি যখন থেকে আসমা-যমীন সৃষ্টির সূচনা করেন, তখন থেকেই সময় বা যুগ ঘুরছে। বছর হচ্ছে ১২টি মাসে। তন্মধ্যে ৪টি মাস পবিত্র, তিনটি মাস একসাথে পবিত্র যুল্ ক্ব’দাহ শরীফ, পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ শরীফ ও পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ। আর মুদ্বার গোত্রের পবিত্র রজব মাস, যা পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ ও পবিত্র শা’বান শরীফ মাস উনাদের মধ্যবর্তী মাস। (তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন:) ইহা কোন মাস? জাওয়াবে আমরা বললাম, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ও উনার রসূল নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভাল জানেন। (লুবাবুত্ তা’বীল ফী মায়ানিত্ তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল খাযিন পবিত্র সূরাতুত তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৬ লেখক: হযরত আবুল হাসান আলী বিন মুহম্মদ বিন ইবরাহীম বিন উমর শাইহী খাযিন শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ ও উনার তাফসীর থেকে প্রমাণিত হল যে, পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস উনার মর্যাদা, শান-মান, ফযীলত ও বুযুর্গী কত বেশী। সুবহানাল্লাহ।

এছাড়াও কিতাবে বর্ণিত আছে যে-

قال الله تعالى: (ان عدة الشهور عند الله اثنا عشر شهرا فى كتاب الله …) الى قوله: (منها اربعة حرم) التوبة: ۳۶ وقد تقدم ذكر ذلك. و ان منها المحرم، فهذا الشهر من الاشهر المحرمة عند الله تعالى، فيه يوم عاشوراء الذى عظم الله تعالى اجر من اطاعه فيه.

অর্থ: মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: (নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উনার বিধানে আসমানসমূহ ও যমীনসমূহ সৃষ্টির দিন হতেই গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি হারাম তথা যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মাস) এ সম্পর্কে আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে। নিশ্চয়ই চারটি হারাম মাস উনাদের মধ্যে একটি হচ্ছে পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস। এ মাসটি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকটে পবিত্র মাস হিসেবে গ্রহনীয়। এ মাসের মধ্যে পবিত্র আশূরা উনার দিন রয়েছে, এতে যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার আনুগত্য করবে, তিনি তাকে বিনিময়ে মহান পুরস্কার দিবেন। সুবহানাল্লাহ। (গুন্ইয়াতুত্ ত্বালিবীন তৃতীয় পর্ব: মাজালিসু মাওয়ায়িযিল কুরআন ওয়াল্ আলফাযিন্ নাবাবিয়্যাহ- মাজলিসুন ফী ফাদ্বায়িলি ইয়াওমি আশূরা ২য় খ- ৮৭ পৃষ্ঠা লেখক: হযরত শায়েখ আব্দুল ক্বাদির জীলানী হাম্বালী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

عَنِ حضرت ابْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: مَنْ صَامَ يَوْمَ عَرَفَةَ كَانَ لَهُ كَفَّارَةُ سَنَتَيْنِ، وَمَنْ صَامَ يَوْمًا مِنَ الْمُحَرَّمِ فَلَه بِكُلّ يَوْمٍ ثَلاثُونَ يَوْمًا.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন: যে ব্যক্তি আরাফাহ (পবিত্র যুল হিজ্জাহ শরীফ উনার ৯ তারিখ) উনার দিনে রোযা রাখবে, সে রোযা তার দুটি বছরের গুনাহের কাফফারাহ স্বরূপ হবে। আর যে ব্যক্তি পবিত্র মুহররমুল হারাম মাস উনার যে কোন দিন রোযা রাখবে, তার প্রত্যেক দিনের জন্য ত্রিশ দিন রোযা রাখার ফযীলত দেয়া হবে। সুবহানাল্লাহ। (আল-মু’জামুছ ছগীর লিত্ ত্ববারানী লেখক: হযরত সুলাইমান বিন আহমাদ ত্ববারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ২য় খ- ১৬৫ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: আল-মাকতাবাতুল্ ইসলামী দারুল আম্মার বইরূত উমান, গুন্ইয়াতুত্ ত্বালিবীন তৃতীয় পর্ব: মাজালিসু মাওয়ায়িযিল কুরআন ওয়াল্ আলফাযিন্ নাবাবিয়্যাহ- মাজলিসুন ফী ফাদ্বায়িলি ইয়াওমি আশূরা ২য় খ- ৮৭ পৃষ্ঠা হাদীছ শরীফ নম্বর: ৯৬৩ লেখক: হযরত শায়েখ আব্দুল ক্বাদির জীলানী হাম্বালী রহমতুল্লাহি আলাইহি)

উল্লেখিত আলোচনা থেকে পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার বিশেষ ফযীলত উপলব্ধি করা যায়।

পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার কতিপয় বরকতময় ঐতিহাসিক বিশেষ রাত ও দিন

(১)

সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র ১লা মুহররমুল হারাম শরীফ।

খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার দায়িত্ব গ্রহণের সুমহান দিন। সুবহানাল্লাহ!

সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র পহেলা মুহররমুল হারাম শরীফ; যা খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচলনার দায়িত্ব গ্রহণের সুমহান দিন। অর্থাৎ আমিরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর ২৪ হিজরী সনের পবিত্র ১লা মুহররমুল হারাম শরীফ, ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার সকালে তিনি সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় বারো (১২) বছর তিনি এ মুবারক দায়িত্ব পালন করেন। সুবহানাল্লাহ!

আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে অর্থাৎ আহত অবস্থায় হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আরজ করলেন উনার পরবর্তী খলীফা মনোনীত করার জন্য। তখন তিনি “আশারায়ে মুবাশশারা” উনাদের অন্তর্ভুক্ত আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম, হযরত ত্বলহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এবং হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এই ছয় জনের নাম মুবারক উল্লেখ করে উনাদের মধ্য হতে যে কোনো একজনকে তিন দিনের মধ্যে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করার ব্যাপারে মুবারক নির্দেশনা প্রদান করলেন। যেহেতু সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে “আমার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর প্রথমে খলীফা হবেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম, অতঃপর হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম, তারপর হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।” তাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছয় জনের মধ্য হতে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাকে খলীফা হিসেবে ঘোষণা করেন। সুবহানাল্লাহ! আর দ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনোনীত হন আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি। যার ফলশ্রুতিতে আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর আমীরুল মু’মিনীন, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি খলীফা হিসেবে সম্মানীত খিলাফত মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার প্রায় বারো (১২) বৎসরের সম্মানিত খিলাফতকালে বিরাট অভিযানসমূহ ও সাফল্যজনক বিজয় এত দ্রুত সূচিত হয়েছিল যে, এর নজির ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ সময় মহাসম্মানিত ইসলামী খিলাফত মুবারক উনার পরিধি বহুদূর সম্প্রসারিত হয় এবং সীমানা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে পড়ে। উনার খিলাফতকাল অত্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলায় অতিবাহিত হয়েছিল। অসংখ্য বিজয়ের ফলে গনীমতের মাল এবং রাজস^ও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজেরও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। সর্বস্তরের জনগণ সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।

খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার আমলের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও আযীমুশ শান কৃতিত্ব হচ্ছে ইসলামী বিশ্বের সকল মুসলমান উনাদেরকে একই মাছহাফ (পবিত্র কুরআন শরীফ) উনার উপর একত্র করা। আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানা থেকে উনার অনুমতিক্রমে বিভিন্ন অঞ্চল ও বিভিন্ন গোত্রের লোকেরা সাত ক্বিরায়াতের তরজ তরীকা অনুযায়ী পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করতেন, কিন্তু নওমুসলিম উনাদের বিভিন্ন উচ্চারণের ফলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এ সমস্যার সমাধান কল্পে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক সঙ্কলিত পবিত্র কুরআন শরীফ, যা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাফছা আলাইহাস সালাম উনার নিকট সংরক্ষিত ছিলো; সেই মুবারক পান্ডুলিপি সংগ্রহ করে সেটা প্রথমে ৭ কপি প্রস্তুত করান। পবিত্র কুরআন শরীফ কপি করে সকল ইসলামী খিলাফতে প্রকাশ ও প্রচার করা এবং নাযিলকৃত পবিত্র ক্বিরায়াত শরীফ উনার উপর সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফতকাল উনার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ সুমহান কৃতিত্বের কারণে তিনিও ‘জামিউল কুরআন’ লক্বব মুবারকে প্রসিদ্ধি লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় একজন মহাসম্মানিত খলীফা আলাইহিস সালাম উনার ক্ষমা ও দয়ার কারণে চক্রান্তকারীরা নিফাকীর সাথে কঠিন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এ ষড়যন্ত্রকারী ও সন্ত্রাসী মুনাফিকরাই বিভিন্ন ফিৎনা ফাসাদ সৃষ্টি করে। ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার ১৮ই পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ ৩৫ হিজরী সনে উনার হুজরা শরীফে প্রবেশ করে মুনাফিক ঘাতক দল পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াতরত অবস্থায় উনাকে শহীদ করে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! সেদিন তিনি পবিত্র রোযা রেখেছিলেন। পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার সময় উনার বয়স মুবারক হয়েছিল ৮২ বৎসর।

মূলকথা হলো- সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র ১লা মুহররমুল হারাম শরীফ- খলীফায়ে ছালিছ, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার দায়িত্ব গ্রহণের সুমহান দিন। সুবহানাল্লাহ! তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, সম্মানিত দিবস উপলক্ষে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ মাহফিল করে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ব্যাপকভাবে আলোচনা করত তা হতে ইবরত-নছীহত গ্রহণ করে আমলে বাস্তবায়ন করা। আর সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ব্যাপক আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, একাডেমী, গবেষণাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। অবিলম্বে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা এবং উনার এ সম্মানিত দিবস উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা।

(২)

সুমহান মহাপবিত্র ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ।

 নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওয়ালিদ, খইরুল বাশার, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আ’যম, আবুল বাশার, ছাহিবুল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সম্মানিত দিবস।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম অর্থাৎ আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, যবীহুল্লাহ, খইরুল বাশার, সাইয়্যিদুল আরব, আবুল বাশার, ছাহিবুল জান্নাহ, ছাহিবু নূরিম মুজাসসাম সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার ২ তারিখ মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি দুইজন হযরত যবেহ আলাইহিমাস সালাম উনাদের মহাসম্মনিত আওলাদ।” এখানে একজন হচ্ছেন সম্মানিত নবী ও রসূল হযরত ইসমাঈল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম আর অপরজন হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ওয়ালিদ, খইরুল বাশার, সাইয়্যিদুল আরব ওয়াল আ’যম, আবুল বাশার, ছাহিবুল জান্নাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! বিভিন্ন সম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে একটি বিষয় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ বলে সম্বোধন করলে, তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। অর্থাৎ উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনাকে যাবীহুল্লাহ বললে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সন্তুষ্ট হন এবং খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা আরো একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উসীলা দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কোন কিছু আরজু পেশ করলে, তিনি সেই আরজিকে বিশেষভাবে কবূল করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! মূলত ‘যাবীহুল্লাহ’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার একখানা আখাছছুল খাছ লক্বব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ৭৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পূর্বে ২রা রজবুল হারাম শরীফ লাইলাতুস সাব্ত শরীফ সম্মানিত মক্কা শরীফে তিনি সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী। কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, “সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত কপাল মুবারক উনার মাঝখানে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখা যেতো।” সুবহানাল্লাহ! শাম দেশের পাদ্রীরা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে জানতো। কেননা তাদের আসমানী কিতাবসমূহে লিখা ছিলো যে, যখন হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত জুব্বা মুবারক থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে রক্ত মুবারক ঝরতে থাকবে, তখন বুঝতে হবে যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, তিনি যখন কোনো শুষ্ক স্থান অথবা শুকনো (বা মৃত) গাছের নিচে বসতেন, তখন উক্ত শুষ্ক স্থানটা সজীব হয়ে যেত আর শুকনো বা মৃত গাছটা সতেজ হয়ে যেত, প্রাণ ফিরে পেত এবং তার ডালপালাগুলো উনার দিকে ঝুঁকিয়ে দিত। অর্থাৎ গাছ উনাকে সিজদা করতো। সুবহানাল্লাহ! তিনি যখন মুশরিকদের বড় বড় মূর্তি যেমন লাত, উয্যা এগুলোর পাশ দিয়ে যেতেন, সেগুলো বিড়ালের ন্যায় চিৎকার করতো এবং কথা বলতো। সেগুলো বলতো, আমাদের কী হলো? আর আপনার জন্য আমাদের এই করুণ অবস্থা, হে সম্মানিত সংরক্ষণকারী! আপনার মাঝে নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অবস্থান মুবারক করছেন। উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ আমাদের এবং পৃথিবীর সমস্ত মূর্তিগুলোর হালাকী ঘটবে। অর্থাৎ আপনার সম্মানিত আওলাদ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পৃথিবীর সমস্ত মূর্তিগুলো ধ্বংস করে দিবেন, নিশ্চিহ্ন করে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি সর্বদা পূত-পবিত্র পৃষ্ঠ মুবারক হতে পূত-পবিত্রা রেহেম শরীফ উনাদের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছি। আমার পূর্ববর্তী যত পুরুষ ও মহিলাগণ উনারা আবুল বাশার হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস্ সালাম উনার এবং উম্মুল বাশার হযরত হাওওয়া আলাইহাস্ সালাম উনাদের পর্যন্ত অতীত হয়েছেন, উনাদের কেউ কাফির ছিলেন না।” অর্থাৎ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সর্বযুগে যুগশ্রেষ্ঠ বান্দা-বান্দী উনাদের মাধ্যম দিয়ে যমীনে মুবারক তাশরীফ এনেছেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ফতওয়া হলো, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম ও সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনারা উভয়েই জান্নাতী তো অবশ্যই। শুধু জান্নাতীই নন, বরং জান্নাত উদগ্রীব হয়ে আছেন কখন উনারা জান্নাতে প্রবেশ করবেন। কারণ উনারা জান্নাতে প্রবেশ করলেই জান্নাতের একদিক থেকে কামিয়াবী হাছিল হবে। অপরদিক থেকে ‘জান্নাত’ উনার ‘জান্নাত’ নামের স্বার্থকতা হাছিল হবে। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ প্রকাশ করাও কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে তাশরীফ মুবারক আনার কয়েক মাস পরেই সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ব্যবসা উপলক্ষে সিরিয়া হতে ফেরার পথে মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করার কারণে পবিত্র মদীনা শরীফে উনার নানীর বাড়িতে মুবারক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং সেখানেই সম্মানিত হিজরত মুবারক উনার ৫৩ বছর ২ মাস পূর্বে অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার ২ মাস ১০ দিন পূর্বে ২রা মুহররমুল হারাম শরীফ ইয়াওমুল জুমুয়াহ পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন। সাইয়্যিদুনা হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ সম্মানিত “আবওয়া” নামক স্থানে অবস্থিত। তিনি দুনিয়ার যমীনে ২৫ বছর ৬ মাস  অবস্থান মুবারক করেন।

প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, মহাসম্মানিত এ মুবারক দিবস উপলক্ষে পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ অর্থাৎ পবিত্র ঈছালে ছওয়াব মাহফিল করে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ব্যাপকভাবে আলোচনা করত উনার মুবারক শানে সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করা। আর সরকারের জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক ব্যাপক আলোচনার জন্য স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, একাডেমী, গবেষণাগার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। অবিলম্বে প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক অন্তর্ভুক্ত করা এবং মহাসম্মানিত এ মুবারক দিবস উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা ও এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা।

(৩)

সুমহান বরকতময় ৫ মুহররমুল হারাম শরীফ।

আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত জাদ্দাতু খলীফাতিল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।

হাবীবাতুল্লাহ, মাশূকা, মাহবূবা, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত জাদ্দাতু খলীফাতিল উমাম আলাইহাস সালাম অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস ৫ মুহররমুল হারাম শরীফ।

উল্লেখ্য, সাধারণ লোকের মৃত্যু ও আওলাদে রসূল বা ওলীআল্লাহ উনাদের পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার মধ্যে রয়েছে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাধারণ মু’মিন উনাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “মঊত হলো দুনিয়া হতে জান্নাতে যাওয়ার সেতু।” আর আল্লাহওয়ালা উনাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, “মাঊত মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট যাওয়ার সেতু।” কাজেই আল্লাহওয়ালা উনাদের পবিত্র বিছাল শরীফ হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মিলন সেতু বা মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পবিত্র দীদার মুবারক লাভের মাধ্যম। পবিত্র হাদীছ-এ কুদসী শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে যে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী উনারা মৃত্যুবরণ করেন না, বরং উনারা অস্থায়ী আবাস থেকে স্থায়ী আবাসের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন।” সুবহানাল্লাহ!

হযরত জাদ্দাতু খলীফাতিল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি শুধু ওলীআল্লাহই নন; বরং তিনি খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হযরত আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক সম্পর্কে স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার পবিত্র সূরা শূরা শরীফ উনার ২৩ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার সম্মানিত ইল্ম মুবারক থেকে বান্দাদেরকে, উম্মতদেরকে) জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না, প্রতিদান চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। বরং এটা চিন্তা করাটাও কুফরী হবে। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি রেযামন্দি মুবারক লাভ করতে চাও, তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে আমার নিকট আত্মীয়-স্বজন তথা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তাযীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া। আর যে ব্যক্তি এই নেক কাজ করে আমি তার নেকী বৃদ্ধি করে থাকি। নিশ্চিয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং উত্তম প্রতিদান প্রদানকারী।”

তিরমিযী শরীফ ও মুস্তাদরাকে হাকিম শরীফ হাদীছ শরীফ উনার কিতাবে উদ্ধৃত হয়েছে, “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। কেননা তিনি তোমাদেরকে নিয়ামতসামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত-মারিফাত মুবারক পেতে হলে, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমাকে মুহব্বত করো। আর তোমরা আমার মুহব্বত-মা’রিফাত মুবারক পেতে হলে, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ ও হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা গেলো যে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মা’রিফাত-মুহব্বত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে, হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই ফরয । সুবহানাল্লাহ!

আওলাদে রসূল হযরত জাদ্দাতু খলীফাতিল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী মিছদাক। তাই এই মহাসম্মানিত দিবস উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার শান মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করে এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করে খাছ রহমত, বরকত, সাকীনা ও নাজাত মুবারক লাভ করার কোশেশ করা।

(৪)

সুমহান বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ বরকতময় ৮ মুহররমুল হারাম শরীফ

যা বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।

বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি ইবনু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম উনার পর দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক-এ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ২৯ বৎসর পার হয়ে প্রায় ৩০ বৎসর চলতেছিলো। আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক ৪৪ বৎসর পার হয়ে ৪৫ বৎসর চলতেছিলো। সময়টি ছিলো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশের প্রায় ১১ বছর পূর্বে। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আওলাদ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার নাম মুবারক রাখেন সাইয়্যিদাতুনা ‘হযরত যাইনাব আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! আর বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আস সাইয়্যিদাহ, আল ঊলা, আত ত্বাহিরাহ, আত ত্বইয়িবাহ, আর রাদ্বিয়াহ, আল মারদ্বিইয়্যাহ, হাবীবাতুল্লাহ, আন নাছিরাহ, নি’মাতুল্লাহ, আন নাক্বীবাহ ইত্যাদি উনার সম্মানিত বিশেষ লক্বব মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

আফদ্বলুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের সর্বাধিক সম্মানিত আদর-যতœ মুবারক-এ, সম্মানিত তত্ত্বাবধান মুবারক-এ লালিত-পালিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিতা মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের যাবতীয় সমস্ত খুছূছিয়াত ও বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত ওহী মুবারক নাযিল হওয়া ব্যতীত সমস্ত প্রকার সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাছাড়া তিনি উনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে এবং উনার সম্মানিত মাতা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে সরাসরি সম্মানিত ইলম মুবারক গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!

আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল আছ যুন নূর আলাইহিস সালাম উনার আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনারই আযীমুশ শান নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মু আবীহা, বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত যাওজুল মুকাররম আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ হিজরত করে আসার পর সাইয়্যিদাতুন নিসা, উম্মু আবীহা, বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি খুব অল্প সময় দুনিয়ার যমীনে ছিলেন। তিনি অষ্টম হিজরী সনের পবিত্র ৮ই মুহররমুল হারাম শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উম্মুল মু’মিনীন আছ ছানিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত সাওদা আলাইহাস সালাম, উম্মুল মু’মিনীন আস সাদিসা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে সালামা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে আইমন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মে আতিয়্যা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনারা উনাকে পবিত্র গোসল মুবারক করান। পবিত্র গোসলের পদ্ধতি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে শিখিয়ে দেন এবং তিনি নিজে উনার পবিত্র জানাযার নামায পড়ান ও নিজে পবিত্র রওযা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করেন এবং নিজেই চক্ষুমণি মুবারক উনার পবিত্র রওজা শরীফ স্থাপন করেন। সে সময়ে উনার মুবারক মুখবয়বে ইশকের বেদনা ও বিষন্নতার ছায়া লেগে ছিলো এবং নূরুল মুহব্বত অঝোর ধারায় প্রবাহিত হচ্ছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মোট তিন জন সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমুস সালাম ছিলেন। উনাদের মধ্যে একজন সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ অবস্থায় সম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। আর বাকী দুই জন সম্মানিত আওলাদ আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উমামা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত আলী ইবনে আবিল আছ যুন নূর আলাইহিস সালাম।

মূলকথা হলো- সুমহান বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ বরকতময় ৮ মুহররমুল হারাম শরীফ; যা বিনতু মিন বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আল ঊলা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত পবিত্র বিছালী  শান মুবারক প্রকাশ দিবস। এই মহাসম্মানিত দিবস উপলক্ষ্যে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করা। আর সরকারের জন্য ফরয হচ্ছে- মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র জীবনী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উক্ত দিবসে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

(৫)

সুমহান ঐতিহাসিক মহাপবিত্র ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফ।

যেদিনটি সাইয়্যিদুশ শুহাদা, শুহাদায়ে কারবালা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস।

১০ই মুহররম তথা ‘পবিত্র আশূরা শরীফ’ দিবসটি বিশ্বব্যাপী এক আলোচিত সুমহান দিন।

ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। বলার অপেক্ষাই রাখে না, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলে বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ নিঃসন্দেহে মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুনিয়ায় অবস্থান গ্রহণকালীন এবং পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পরে আরো অনেক মর্মবিদারক শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র শাহাদাত মুবারক উনার ন্যায় এত দীর্ঘস্থায়ী ও এত ব্যাপক শোক, কান্না ও আহাজারি মুসলিম জাতি আর কোনো শাহাদাতের জন্য করেনি।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার কিছুদিন পরই উনার পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করার কথা সবার মধ্যে জানাজানি হয়ে গিয়েছিল। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারা এবং অন্যান্য হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সংশ্লিষ্ট সকলেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শৈশবাবস্থায় জানতে পেরেছিলেন যে, উনাকে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে শহীদ করা হবে এবং কারবালার ময়দান উনার পবিত্র রক্ত মুবারক দ্বারা রঞ্জিত হবে। এ ব্যাপারে অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে।

হযরত উম্মুল ফজল বিনতে হারিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা (হযরত আব্বাস আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আহলিয়া) তিনি বলেন, আমি একদিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে হাজির হয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বরকতময় কোল মুবারক-এ দিলাম। এরপর আমি দেখলাম- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দু’চোখ মুবারক থেকে টপটপ করে নূরুল মুহব্বত (চোখের পানি) মুবারক পড়ছে। আমি আরজ করলাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, এর কি কারণ? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, আমার কাছে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি এসে এ খবর দিয়ে গেলেন, “নিশ্চয়ই আমার উম্মত আমার এ সম্মানিত আওলাদ উনাকে (কারবালার ময়দানে অন্যায়ভাবে) শহীদ করবে।”

পরবর্তীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ভবিষ্যদ্বাণী মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৬১ হিজরী সনের পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনার ১০ তারিখ অর্থাৎ পবিত্র আশূরা শরীফ উনার দিনে পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করে কায়িনাতবাসীকে এই শিক্ষা দিয়ে গেলেন যে, জীবন চলে গেলেও হক্ব থেকে এক চুল পরিমাণ বিচ্যুতও হওয়া যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই নাহক্ব ও বাতিলের কাছে মাথা নত ও আপোস করা যাবে না। সর্বাবস্থায় হক্ব মত-পথ উনার উপর ইস্তিকামত থাকতে হবে। এটাই পবিত্র আশূরা শরীফ উনার অন্যতম শিক্ষা। সুবহানাল্লাহ!

হযরত ইমাম যাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারীদের কেউই মহান আল্লাহ পাক উনার গযব থেকে রক্ষা পায়নি। আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের শাসনামলে যখন হযরত মুখতার সাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কূফার শাসক হলেন, তখন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশকালীন অংশগ্রহণকারীদেরকে এবং উনার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া বাহিনীতে যোগদানকারীদেরকে বেছে বেছে হত্যা করেন। এমনকি একদিনে তিনি এ ধরনের দুইশ চল্লিশ ব্যক্তিকে হত্যা করেন। আমর বিন হাজ্জাজ নামক এক ব্যক্তি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শহীদকারী ছিল। সে কূফা থেকে পালিয়েও বাঁচতে পারেনি। হযরত মুখতার সাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লোকদের হাতে সে নিহত হয়েছে। হযরত মুখতার সাকাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লোকেরা পাপিষ্ঠ সিমারকে হত্যা করে তার লাশ কুকুরকে খাইয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মোটকথা, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে জিহাদ ও ষড়যন্ত্রে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককেই মহান আল্লাহ পাক তিনি গযব দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দেন। সুবহানাল্লাহ!

কোনো কোনো গুমরাহ ও কাফির তারা পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে ‘রহমতুল্লাহি আলাইহি’ ও ‘তাবিয়ী’ বলে উল্লেখ করে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সে যেসব অপকর্ম করেছে তা সুস্পষ্ট কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেউ কুফরী করলে সে মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে যায়। যার কারণে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম উনারা ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে কাফির, লা’নতগ্রস্ত ও জাহান্নামী বলতে কোনো দ্বিধা করেননি। কাজেই, ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে তাবিয়ী বলার অর্থ হলো তার ছানা-ছিফত করা, তাকে হক্ব বলে স্বীকার করা। ইয়াযীদের মতো পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ছানা-ছিফত কেবল ওইসব ব্যক্তিই করতে পারে যে তার শুভাকাঙ্খী, সমর্থনকারী। ফলে সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী ইয়াযীদের যা হুকুম তার শুভাকাঙ্খী ও সমর্থনকারী তাদেরও একই হুকুম। আর তা হলো সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া মতে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী।

মূলকথা হলো- সুমহান ঐতিহাসিক পবিত্র আশূরা শরীফ উনার মহাসম্মানিত দিবস উপলক্ষে সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করার লক্ষ্যে মাহফিল করা এবং পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ করা। আর সরকারের জন্যও ফরয হচ্ছে- মাসব্যাপী মাহফিলসমূহের সার্বিক আনজাম দেয়ার সাথে সাথে উনার পবিত্র সাওয়ানেহ উমরী মুবারক শিশুশ্রেণী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ শ্রেণী পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা এবং উক্ত দিবস উপলক্ষে কমপক্ষে ৩ দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা।

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১২

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩০তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩১)