পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৯ম

সংখ্যা: ২৪৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি। মহান আল্লাহ পাক উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-উনার ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব উনার অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা) ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-২৩৭), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা), ৩১. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে “কুলাঙ্গার, পাপিষ্ঠ ইয়াযীদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক ফায়ছালা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” (২০৩তম সংখ্যা), ৩২. হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১২তম সংখ্যা), ৩৩. পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২২০তম সংখ্যা থেকে যা এখনো চলছে) পেশ করার পাশাপাশি-

৩৪তম ফতওয়া হিসেবে

“পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলাম উনার নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ” উনার মধ্যে এমনসব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো “উলামায়ে সূ”। ইহুদীদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে মুসলমান উনাদের বিশেষ বিশেষ ফযীলতযুক্ত আমলের রাত ও দিনসমূহ পালন করাকে বিদয়াত, নাজায়িয ও শিরক বলে ফতওয়া দিয়ে মুসলমান উনাদেরকে অশেষ খায়ের, বরকত, নিয়ামত, নাজাত অর্থাৎ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি মুবারক থেকে মাহরূম করছে। যেমন তারা বলে থাকে যে, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, শিরক। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয। নাউযুবিল্লাহ! পবিত্র আখিরী চাহার শোম্বাহ শরীফ পালন করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! অনুরূপ আরো অনেক বিষয়কেই তারা বিনা দলীলে মনগড়াভাবে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!

অপরদিকে বেদ্বীনী-বদদ্বীনী অর্থাৎ কাফির মুশরিক, ইহুদী, নাছারাদের যত পর্ব বা দিবস রয়েছে সেগুলোকে শুধু জায়িযই নয় বরং নিয়ামত বলে আখ্যা দিয়ে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যেমন বাইতুল মুকাররমের সাবেক খতীব ওবায়দুল হক্ব প্রকৃতপক্ষে উবাই বলেছিল, “পহেলা বৈশাখ আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাঊযুবিল্লাহ!

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এসব বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত শিরক এবং পহেলা বৈশাখ মহান আল্লাহ পাক উনার নিয়ামত।” নাউযুল্লিাহ! তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে হালাল বা জায়িয বিষয়কে হারাম বা নাজায়িয বলা এবং হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে-

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী শরীফ)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “সূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমান উনাদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ উলামায়ে “সূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে “পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা থেকে বিরত থাকবে এবং হারাম পহেলা বৈশাখ পালন করবে” তারা অশেষ খায়ের, বরকত ও নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হওয়ার কারণে কঠিন গুনাহগার অর্থাৎ জাহান্নামী হবে। নাউযুবিল্লাহ!

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ তারা তাদের ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিনের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি”  প্রকাশ করা হলো।

সম্মানিত ইসলামী মাস, বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় সমূহ সম্পর্কে এবং চন্দ্র ও সূর্যের গতিবিধির ব্যাপারে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার ২৬ খানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

সূর্য ও চন্দ্র এই দু’টি ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় নিরুপনের ব্যাপারে মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্র উনাদের আবর্তনের কারণে বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময়গুলো সুচারুরূপে আগমণ করে থাকে। এজন্য আমরা ইসলামী মাস, রাত, দিন, মুহুর্ত ও সময় ইত্যাদীর আলোচনার পাশাপাশি চন্দ্র ও সূর্যের আবর্তন ও তাদের গতিবিধি সম্পর্কে আলোচনা করবো। যাতে করে বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে যায় এবং বুঝতে সহজ হয়। নিম্নে এ সম্পর্কিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো:

পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৭

انَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِىْ كِتَابِ اللهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّموتِ وَالْاَرْضَ مِنْهَا اَرْبَعَة حُرُم ذلِكَ الدّينُ الْقَيّمُ فَلَا تَظْلِمُوْا فِيهِنَّ اَنْفُسَكُمْ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِيْنَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُوْنَكُمْ كَافَّةً وَاعْلَمُوْا اَنَّ اللهَ مَعَ الْمُتَّقِيْنَ. (سورة التوبة شريفة ۳۶ الاية الشريفة)

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উনার বিধানে আসমানসমূহ ও যমীনসমূহ সৃষ্টির দিন হতেই গণনা হিসেবে মাসের সংখ্যা ১২টি। তন্মধ্যে ৪টি হারাম (যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ) মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং এ মাসগুলোর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করো না। তোমরা মুশরিকদের সাথে সর্বাত্মকভাবে জিহাদ করবে, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ করে থাকে। আর জেনে রাখুন! মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি মুত্তাক্বীনগণের সঙ্গে আছেন। (পবিত্র সূরাতুত তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৬)

অত্র পবিত্র আয়াত উনার বিশুদ্ধ

তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

{عِنْدَ اللهِ اثنَا عَشَرَ شَهْرًا فِى كِتَابِ اللهِ} وهى المحرم وصفر وربيع الاول وشهر ربيع الثانى وجمادى الاولى وجمادى الاخرة ورجب وشعبان وشهر رمضان وشوال وذو القعدة وذو الحجة. (معالم التنزيل اى تفسير البغوى سورة التوبة شريفة ৩৬ الاية الشريفة المؤلف: محى السنة ابو محمد الحسين بن مسعود البغوى الشافعى رحمة الله عليه المتوفى ৫১০ هجرى)

অর্থ: (মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট উনার বিধানে মাসের সংখ্যা ১২টি) সেগুলো হচ্ছে মুহাররম, ছফর, রবীউল আউওয়াল শরীফ, রবীউছ ছানী, জুমাদাল ঊলা, জুমাদাল উখরা, রজব, শা’বান, শাহরু রমাদ্বান, শাওওয়াল, যুল্ ক্বা’দাহ ও যুল্ হিজ্জাহ। (মায়ালিমুত্ তানযীল অর্থাৎ তাফসীরুল্ বাগবী পবিত্র সূরাতুত তাওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩৬ লেখক: মুহইস সুন্নাহ আবূ মুহাম্মাদ হুসাঈন বিন মাসঊদ বাগবী শাফিয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ওয়াফাত: ৫১০ হিজরী)

اسماء الايام اولـها الاحد ويجمع على احاد واوحاد ووحود، ثم يوم الاثنين ويجمع على اثانين، الثلاثاء يـمد ويذكر ويؤنث ويجمع عل ثلاثاوات واثالث، ثم الاربعاء بالـمد ويجمع على اربعاوات وارابيع، والخميس يجمع على اخمسة واخامس ثم الجمعة بضم الـميم واسكانـها وفتحها ايضا ويجمع على جمع وجماعات، السبت ماخوذ من السبت وهو القطع لانتهاء العدد عنده.

وكانت العرب تسمى الايام اول ثم اهون ثم جبار ثم دبار ثم مؤنث ثم العروبة ثم شيار، قال الشاعر من العرب العرباء العاربة الـمتقدمين.

ارجى ان اعيش وان يومى + باول او باهون او جبار

او التالى دبار فان افته + فمؤنث او عروبة او شيار.

( تفسير القران العظيم لابن كثير اى تفسير ابن كثير فى نفسير سورة التوبة ۳۶ اية الجلد ۲ الصفحة ۵۵۳ دار الفكر بيروت لبنان)

অর্থ: হযরত আল্লামা শায়খ ইলমুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি الـمشهور فى اسماء الايام والشهور ‘আল মাশহূর ফী আসমায়িল আইয়ামি ওয়াশ শুহূর’ নামে একখানা কিতাব রচনা করেছেন। তাতে তিনি লিখেন, সপ্তাহের সাত দিনের  আরবী নাম হচ্ছে-

يوم الاحد ইয়াওমুল আহাদ বা রবিবার। الاحد শব্দটির বহুবচন হচ্ছে-

وحودও  اوحاد- احاد

يوم الاثنين ইয়াওমুল ইছনাইন বা সোমবার শরীফ। الاثنان শব্দটির বহুবচন হচ্ছে اثانين।

يوم الثلاثاء ইয়াওমুছ ছুলাছা বা মঙ্গলবার। শব্দটি মাদ্দ যোগে পড়তে হবে। এটি উভয় লিঙ্গ জাতীয় শব্দ। এর বহুবচন হচ্ছে ثلاثاوات ও اثالث।

يوم الاربعاء ইয়াওমুল আরবিয়া’ বা বুধবার। শব্দটি মাদ্দ যোগে পড়তে হবে। শব্দটির বহুবচন হচ্ছে اربعاوات ও ارابيع।

يوم الخميس ইয়াওমুল খমীস বা বৃহস্পতিবার। الخميس শব্দের বহুবচন হচ্ছে اخمسة ও اخامس।

يوم الجمعة ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা শুক্রবার। الجمعة শব্দটির م ‘মীম’ বর্ণটি কখনো পেশ যোগে, কখনো সাকিন যোগে এবং কখনো যবর যোগে পঠিত হয়ে থাকে। الجمعة শব্দটির বহুবচন হচ্ছে جمع ও جماعات।

يوم السبت ইয়াওমুস সাবত বা শনিবার। السبت শব্দটির অর্থ হচ্ছে- কেটে ফেলা, সমাপ্ত করা। শনিবার সপ্তাহের শেষ দিন হওয়ায় এ নামে নামকরণ করা হয়েছে।

অতি প্রাচীন আরববাসী উনারা সপ্তাহের দিনগুলোকে নিম্নোক্ত নামে অভিহিত করতেন:

اول আউওয়াল বা রবিবার। اهون আহওয়ান বা সোমবার শরীফ। جبار জুবার বা মঙ্গলবার। دبار দুবার বা বুধবার। مؤنس মু’নিস বা বৃহস্পতিবার। عروبة আরূবাহ বা শুক্রবার এবং شيار শাইয়ার বা শনিবার। অতি প্রাচীন এক আরবী কবি বলেন,

অর্থাৎ আমি আশা করি আমি দীর্ঘদিন জীবিত থাকবো। আর আমার জন্ম দিন হচ্ছে اول অথবা اهون অথবা جبار অথবা دبار অথবা مؤنس অথবা عروبة অথবা شيار। (তাফসীরুল কুরআনিল আযীম অর্থাৎ তাফসীরে ইবনে কাছীর সূরা তওবাহ শরীফ ৩৬ নম্বর আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খ- ৫৫৩ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল ফিকর- বইরূত লেবানন)

উল্লেখিত ইবারতে সাত দিনের নামগুলোকে স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে সাধারণভাবে يوم الاحد ‘ইয়াওমুল আহাদ’ বা রবিবারকে সপ্তাহের প্রথম দিন এবং يوم السبت ‘ইয়াওমুস সাবত’ বা শনিবারকে শেষ দিন হিসেবে সাজানো হয়েছে।

কিন্তু পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ, পবিত্র আক্বায়িদ শরীফ ও তা’রীখ কিতাব পাঠে এটাই জানা যায় যে,

প্রথমত: প্রথম নবী-রসূল হযরত আদম ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সৃষ্টি, আগমন ও পবিত্র বিছাল শরীফ হয়েছিলো জুমুয়াবার। এজন্য পৃথিবীর শুরু থেকে হযরত ইয়াকূব আলাইহিস সালাম পর্যন্ত জুমুয়াবার বিশেষভাবে সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য ও শুরুর দিন হিসেবে বিবেচিত হতো। ওই দীর্ঘ সময়ে সপ্তাহের শুরুর দিন ছিলো يوم الجمعة ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার এবং শেষ দিন ছিলো يوم الخميس ইয়াওমুল খমীস’ বা খমীসবার (বৃহস্পতিবার)।

দ্বিতীয়ত: হযরত ইয়াকূব আলাইহিস সালাম উনার বংশধর উনাদের থেকে শুরু করে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পূর্ব পর্যন্ত সকল বণী ইসরাঈলগণ সপ্তাহের বিশেষ দিন হিসেবে পালন করতেন يوم السبت ‘ইয়াওমুস সাব্ত’ বা সাব্তবার (শনিবার) কে। এজন্য উনাদের সময় সপ্তাহের বিশেষ ও শুরুর দিন ছিলো يوم السبت ‘ইয়াওমুস সাবত বা সাবতবার (শনিবার) এবং শেষ দিন ছিলো يوم الجمعة ‘ইয়াওমুল জুমুয়াহ’ বা জুমুয়াবার (শুক্রবার)।

তৃতীয়ত: হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার অনুসারীগণ এবং যারা নাছারা নামে পরিচিত তারা রবিবারকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও শুরুর দিন মনে করতেন। এজন্য বর্তমান বিকৃত পথভ্রষ্ট কাফির খ্রিস্টানরাও  সপ্তাহের বিশেষ ও শুরুর দিন হিসেবে পালন করে يوم الاحد ‘ইয়াওমুল আহাদ’ বা আহাদবার (রবিবার)কে এবং শেষ দিন হিসেবে মনে করে يوم السبت ‘ইয়াওমুস সাবত’ বা সাবতবার (শনিবার) কে।

চতুর্থত: আমরা উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম- আমাদের গ্রহণযোগ্য মতে, আমাদের প্রানাধিক প্রিয় রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়ায় আগমন করেছেন يوم الاثنين العظيم ‘ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম’ বা আল ইছনাইনিল আযীমবার (সোমবার)-এ। এজন্য সম্মানিত শরয়ী দলীলের ভিত্তিতে আমাদের মতে, সপ্তাহের শুরু ও সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদের দিন হচ্ছে يوم الاثنين العظيم ‘ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম’ বা আল ইছনাইনিল আযীমবার (সোমবার) এবং শেষের দিন হচ্ছে ‘ইয়াওমুল আহাদ’ বা আহাদবার (রবিবার)।

এছাড়াও আমাদের নিকটে জুমুয়াবার উনারও মর্যাদা রয়েছে। তা এজন্য যে, এই জুমুয়াবার রাতেই সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা হযরত ত্বাহিরাহ ত্বইয়্যিবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার মহাপবিত্র খিদমত শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক নিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ!

এসমস্ত হাজারো লাখো কোটি কারণে আমাদের মুসলমানগণের সাপ্তাহিক দিনগুলোর ধারাবাহিকতা হবে নিম্নোক্তভাবে:-

১. يوم الاثنين العظيم ‘ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম’ বা আল ইছনাইনিল আযীমবার (সোমবার)

২. يوم الثلاثاء ‘ইয়াওমুছ ছুলাছা বা ছুলাছাবার (মঙ্গলবার)

৩. يوم الاربعاء ‘ইয়াওমুল আরবিয়া বা আরবিয়াবার (বুধবার)

৪. يوم الخميس ‘ইয়াওমুল খমীস বা খমীসবার (বৃহস্পতিবার)

৫. يوم الجمعة ‘ইয়াওমুল জুমুয়াহ বা জুমুয়াবার (শুক্রবার)

৬. يوم السبت ‘ইয়াওমুস সাব্ত বা সাব্তবার (শনিবার)

৭. يوم الاحد ‘ইয়াওমুল আহাদ বা আহাদবার (রবিবার)।

ذكر الشيخ علم الدين السخاوى رحمة الله عليه فى جزء جمعه سماه (الـمشهور فى اسماء الايام والشهور) ان الـمحرم سمى بذلك تاكيدا لتحريـمه لان العرب كانت تتقلب به فتحله عاما وتحرمه عاما قال ويجمع على محرمات ومحارم ومحاريم، وصفر سمى بذلك لخلو بيوتهم منهم حين يخرجون للقتال والاسفار يقال صفر الـمكان اذا خلا ويجمع على اصفار كجمل واجمال، وشهر ربيع الاول سمى بذلك لارتباعهم فيه والارتباع الاقامة فى عمارة الربع ويجمع على اربعاء كنصيب وانصباء، وعلى اربعة كرغيف وارغفة، وربيع الاخرى كالاول. جمادى سمى بذلك لجمود الـماء فيه، قال وكانت الشهور فى حسابهم لا تدور، وفى هذا نظر اذ كانت شهورهم منوطة بالاهلة فلا بد من دورانها فلعلهم سموه بذلك اول ما سمى عند جمود الـماء فى البرد، كما قال الشاعر:

وليلة من جمادى ذات اندية+لا يبصر العبد فى ظلمائها الطنبا

 لا ينبح الكلب فيها غير واحده + حتى يلف على خرطومه الذنبا.

 ويجمع على جماديات كحبارى وحباريات وقد يذكر ويؤنث فيقال جمادى الاولى والاول وجمادى الاخر والاخرة. رجب من الترجيب وهو التعظيم ويجمع على ارجاب ورجاب ورجبات. شعبان من تشعب القبائل وتفرقها للغارة ويجمع على شعابين وشعبانات. ورمضان من شدة الرمضاء وهو الخر يقال رمضت الفصال اذا عطشت ويجمع على رمضانات ورماضين وارمضة قال وقول من قال انه اسم من اسماء الله خطأ لا يعرج عليه ولا يلتفت اليه، قلت قد ورد فيه حديث ولكنه ضعيف وبينته فى اول كتاب الصيام. شوال قال ويجمع على شواول وشواويل وشوالات. القعدة بفتح القاف، قلت وكسرها، لقعودهم فيه عن القتال والترحال ويجمع على ذوات القعدة. الحجة بكسر الحاء قلت وفتحها سمى بذلك لاقامتهم الحج فيه ويجمع على ذوات الحجة. (تفسير ابن كثير فى تفسير سورة التوبة ۳۶ اية الجلد ۲ الصفحة ۵۵۳ دار الفكر بيروت لبنان)

অর্থ: হযরত আল্লামা শায়খ ইলমুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি الـمشهور فى اسماء الايام والشهور ‘আল মাশহুর ফী আসমায়িল আইয়ামি ওয়াশ শুহূর’ নামে একখানা কিতাব রচনা করেছেন। তিনি তাতে লিখেন- আস সানাতুল ক্বমারিয়াহ বা চন্দ্রবছর (হিজরী সন বা আরবী সন) উনার ১২টি মাস। উনাদের

১ম মাস হচ্ছে محرم ‘মুহাররম’: অর্থাৎ যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মাস এবং সম্মানিত মাস। উক্ত মাস যেহেতু নিষিদ্ধ ও সম্মানিত, এজন্য এ মাস উনার নামকরণ করা হয়েছে محرم ‘মুহররম’ হিসেবে।

আমি (গ্রন্থকার হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলি: আরবরা উক্ত মাসের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করতো। তারা সুবিধামতো একে কখনো হারাম মাস এবং কখনো হালাল মাস বানাতো। তাদের এমন সুবিধাবাদী আচরণের প্রতিবাদে এ মাস উনাকে محرم মুহররম নামে অবিহিত করা হয়েছে।

তিনি (হযরত শায়খ ইলমুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, محرم শব্দের বহুবচন হচ্ছে محاريم. محارم. محرمات মুহাররমাত, মাহারিম, মাহারীম।

২য় মাস হচ্ছে صفر ‘ছফর’: অর্থাৎ শুন্য, খালী মাস। যেহেতু এ মাসে আরবগণ যুদ্ধ ও ছফরের উদ্দেশ্যে গৃহ ত্যাগ করতো এবং এ কারণে তাদের ঘর-বাড়ীগুলো খালী থাকতো, এজন্য এ মাস উনাকে صفر ‘ছফর’ নামে অভিহিত করা হয়। যেমন: কোন ঘর খালী হলে বলা হয়- صفر الـمكان অর্থাৎ স্থানটি খালী হয়েছে। صفر শব্দের বহুবচন اصفار যেমন: جمل শব্দের বহুবচন اجمال।

৩য় মাস হচ্ছে ربيع الاول ‘রবীউল আউয়াল শরীফ’: অর্থাৎ বসন্ত ঋতুর প্রথম মাস।

৪র্থ মাস হচ্ছে ربيع الاخر ‘রবীউল আখির’ (তথা ربيع الثانى ‘রবীউছ ছানী): অর্থাৎ বসন্ত ঋতুর দ্বিতীয় মাস। এ মাস দুটিতে যেহেতু আরবে বসন্ত কাল ছিল, তাই এ মাস দুটির নামকরণ ربيع الاول ‘রবীউল আউয়াল’ ربيع الثانى ‘রবীউছ ছানী’ হিসেবে করা হয়। الربيع শব্দের অর্থ ঋতুরাজ বসন্তকাল। والارتباع الاقامة فى عمارة الربيع অর্থাৎ তিনি বসন্তকালীন ভবনে অবস্থান করছেন। ربيع শব্দের বহুবচন হচ্ছে اربعاء ও اربعة। যেমন: نصيب শব্দের বহুবচন انصباء এবং رغيف শব্দের বহুবচন ارغفرة।

৫ম মাস হচ্ছে جمادى الاولى ‘জুমাদাল উলা’: অর্থাৎ বরফ জমার প্রথম মাস।

৬ষ্ঠ মাস হচ্ছে جمادى الاخر ‘জুমাদাল আখির’: جمادى الاخرة ‘জুমাদাল আখিরাহ (তথা جمادى الاخرى জুমাদাল উখরা): অর্থাৎ বরফ জমার দ্বিতীয় মাস। এ দুটি মাসে যেহেতু আরবে বরফ জমতো, এ জন্য এ দুটি মাসকে ‘জুমাদাল ঊলা’ ও জুমাদাল উখরা’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। جمادى ‘জুমাদা’ অর্থ বরফ জমার কাল।

হযরত শায়খ ইলমুদ্দীন সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: আগেকার দিনে আরবদের হিসাব অনুসারে বছরে চন্দ্রমাসগুলো ঘুরে আসতো না, বরং প্রতিটি মাস সর্বদা বছরের একই ঋতুতে স্থিত থাকতো।

আমি (গ্রন্থকার হযরত ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলি: হযরত শায়খ সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ, আরবদের গণনায় বছরের মাসগুলো চাঁদের সাথে সম্পর্কিত ছিলো। এমতাবস্থায় মাসগুলো বছরের একই ঋতুতে স্থির থাকতে পারে না। মাসগুলো অবশ্যই ঘুরে আসতো। আমার মনে হয়, আরবগণ সর্বপ্রথম যে বছর চন্দ্রবছরের মাসগুলোর নামকরণ করেছিলেন, ঘটনার পরিক্রমায় সেই বছর আলোচ্য দু’ মাস আরবে বরফ জমার ঋতুতে ছিলো। তাই তারা ওইগুলোকে উক্ত নামে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তীকালে উক্ত নামসমূহের সাথে উক্ত মাসগুলোর প্রাকৃতিক মিল না থাকলেও প্রথম নামকরণের অনুকরণে উল্লেখিত নামে অভিহিত হয়ে আসছে।

১.       আরবী কবি বরফ জমার মাসকে جمادى ‘জুমাদা’ নামে অভিহিত করেছেন।

কবিতানুবাদ:

১ম পংক্তি: “বরফ জমা جمادى মাসের অনেক রাতে লোকেরা অন্ধকারে তাবুর আলোটি পর্যন্ত দেখতে পায় না।”

২য় পংক্তি: “বরফ জমার جمادى মাসের রাতগুলোতে কুকুর একবারের বেশি ঘেউ ঘেউ করে না। উক্ত রাতে কুকুর দেহের উপর লেজ গুটায়ে রেখে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে থাকে।”

হযরত শায়খ সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: جمادى শব্দের বহুবচন হচ্ছে جماديات- যেমন: حبارى শব্দের বহুবচন حباريات – জুমাদা جمادى শব্দটি কখনো পুংলিঙ্গ শব্দ হিসেবে আবার কখনো স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন- বলা হয়ে থাকে جمادى الاولى ‘জুমাদাল ঊলা ও  جمادى الاول ‘জুমাদাল আউয়াল’ এবং جمادى الاخر ‘জুমাদাল আখির’ ও جمادى الاخرة ‘জুমাদাল আখিরাহ’ جمادى الاخرى ‘জুমাদাল উখরা।’

৭ম মাস হচ্ছে رجب রজব: অর্থাৎ সম্মানিত ও হারাম মাস। رجب শব্দটি ترجيب মাছদার থেকে নেয়া হয়েছে। رجب রজব শব্দের অর্থ: তা’যীম, সম্মান, ইজ্জত, মর্যাদা ইত্যাদি। শব্দটির বহুবচন رجبات- رجاب- ارجاب।

৮ম মাস হচ্ছে شعبان শা’বান: شعبان শব্দটি تشعب القبائل হতে উৎকলিত। شعبان অর্থ ছড়িয়ে পড়া। আরবরা এই মাসে নানা উদ্দেশ্যে বাড়ী হতে বের হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়তো, এজন্যই এ মাসকে شعبان ‘শা’বান’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। شعبان শব্দের বহুবচন হচ্ছে شعابين ও شعبانات।

৯ম মাস হচ্ছে رمضان রমাদ্বান: অর্থাৎ গ্রীষ্ম বা গরমের মাস। আরবদেশে এই মাসে অত্যধিক গরম পড়তো বলে এ মাসকে رمضان ‘রমাদ্বান’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। رمضت الفصال অর্থাৎ অতিশয় পিপাসার কারণে গবাদি পশুর বাছুর গরম হয়ে যাওয়া। رمضان শব্দের বহুবচন হচ্ছে رماضين- رمضانات ও ارمضة।

হযরত শায়খ সাখাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কেউ কেউ বলেছেন, رمضان হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা উনার একটি নাম।” এ কথাটি ভুল ও উপেক্ষণীয়। কিন্তু আমি (তাফসীরকার ইবনে কাছীর রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলি: ‘রমাদ্বান رمضان হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা উনার একখানা নাম মুবারক। এ মর্মে সত্যি একখানা হাদীছ শরীফ আছে। তবে হাদীছ শরীফখানার সনদ ضعيف ‘দ্বয়ীফ’ বা দূর্বল। (অতএব, শায়খ সাখাবীর মতামত গ্রহণযোগ্য নয়। বরং কেউ কেউ যে বর্ণনা করেছেন, সে বর্ণনাটিই সঠিক) আমি উক্ত হাদীছ শরীফখানাকে كتاب الصيام উনার প্রথম দিকে উল্লেখ করেছি।

১০ম মাস হচ্ছে شوال শাওওয়াল: শাওওয়াল শব্দের অর্থ হলো যে মাস রিযিকের ব্যবস্থা করতে পারেনা। এ মাসে আরবের লোকেরা ভ্রমন করে ও শিকার করে রিযিকের ব্যবস্থা করতো এজন্য এ মাসের নাম রাখা হয়েছে শাওওয়াল। এছাড়াও আরো অনেক অর্থ রয়েছে। شوال শব্দটির বহুবচন হচ্ছে- شوالات- شواويل- شواول ।

১১শ মাস হচ্ছে ذوالقعدة ‘যুল কা’দাহ: অর্থাৎ বসে থাকার মাস। القعدة শব্দটির অর্থ বসে থাকা। القعدة শব্দটির ق বর্ণে যবর যোগে পড়তে হবে। আমি (তাফসীরকার) বলি: ق বর্ণটিতে যের যোগে القعدة পঠিত হয়ে থাকে। (অনুবাদক: আমার মতে ق বর্ণে যবর যোগে পড়াই অধিক মাশহূর মত)

আরবগণ এ মাসে যুদ্ধ ও সফর স্থগিত রেখে বাড়িতে বসে থাকতো বলে এ মাসকে ذو القعدة যুল ক্বা’দাহ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ذو القعدة শব্দের বহুবচন হচ্ছে ذوات القعدة।

১২শ মাস হচ্ছে ذوالحجة ‘যুল হিজ্জাহ’: অর্থাৎ হজ্জের মাস। الحجة শব্দটির ح বর্ণে যের যোগে পঠিত হয়ে থাকে। আমি (তাফসীরকার) বলি: ح বর্ণে যবর যোগে ذوالحجة ‘যুল হাজ্জাহ’ হিসেবে পঠিত হয়ে থাকে। (মূলত দুটি মত সমানভাবে মশহুর)। আরবগণ এ মাসে হজ্জ পালন করতেন বলে মাসটিকে ذوالحجة ‘যুল হিজ্জাহ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ذوالحجة শব্দের বহুবচন হচ্ছে ذوات الحجة ।

(তাফসীর ইবনে কাছীর সূরা তাওবাহ উনার ৩৬ নম্বর আয়াত শরীফ উনার তাফসীর ২য় খ- ৫৫৩ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল ফিকর বইরূত- লেবানন)

উল্লেখিত বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য তাফসীরের ইবারত থেকে বুঝা গেল যে, ১২টি মাসের নামকরণের ব্যাপারে কিছু প্রেক্ষাপট রয়েছে। তবে মহান আল্লাহ পাক উনার ইলমে আযালী এবং সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমিছাল ইল্ম মুবারকে উক্ত বারটি মাসের নাম ও ধারাবাহিকতা এভাবেই ছিলো। যা পবিত্র সুরাতুত্ তাওবাহ শরীফ উনার ৩৬ নম্বর আয়াত শরীফ, তাফসীরের কিতাব এবং হাদীছ শরীফ ফিক্র করলে স্পষ্ট বুঝা যায়। নিম্নে একই সঙ্গে হিজরী সাল অনুযায়ী ১২টি চন্দ্রমাস উনাদের নাম ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো-

১. পবিত্র মুর্হারমুল হারাম শরীফ (محرم الحرام)

২. পবিত্র ছফর শরীফ (صفر)

৩. পবিত্র ও সম্মানিত রবীউল আউয়াল শরীফ (ربيع الاول شريف)

৪. পবিত্র রবীউছ্ ছানী শরীফ (ربيع الثاني)

৫. পবিত্র জুমাদাল ঊলা শরীফ (جمادى الاولى)

৬. পবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ (جمادى الاخرى)

৭. পবিত্র রজবুল হারাম শরীফ (رجب الحرام)

৮. পবিত্র শা’বান শরীফ (شعبان)

৯. পবিত্র ও বরকতময় রমাদ্বান শরীফ (رمضان المبارك)

১০. পবিত্র শাওওয়াল শরীফ (شوّال)

১১. পবিত্র যুল্ ক্বা’দাহ শরীফ (ذو القعدة الحرام)

১২. পবিত্র যুল্ হিজ্জাহ শরীফ (ذو الحجة الحرام)

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মুর্তি তৈরী করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১২

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦তামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মানহানীকারীদের একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক (৩০তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৭তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৩১)