উম্মতে মুহম্মদির জন্য শুকরিয়ার বিষয় যে, তাহারা নিমজ্জিত, ভূ-তলে পিষ্ট অথবা ক্ষুধা-দুর্ভিক্ষ দ্বারা একেবারে শেষ হইবার মত গযবে পতিত হইবেনা। তবে একটি গযবে আক্রান্ত হইবার পথ তাহাদের জন্য খোলা রহিয়াছে। সেইটা হইল পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-কলহ এমনকি সংঘর্ষ তথা যুদ্ধবিগ্রহ। সূরা হুদে এই বিষয়টি বলা হইয়াছে, “তাহারা সর্বদা পরস্পর মত-বিরোধ করিতেই থাকিবে, তবে যাহাদের প্রতি আল্লাহ্ পাক-এর রহমত রহিয়াছে তাহারা এর ব্যতিক্রম।” এই আয়াত শরীফ হইতে প্রতিভাত হয় যে আল্লাহ্ পাক-এর রহমতের পথ তথা সিরাতুল মুস্তাকীমের পথ হইতে বিচ্যূত হইলেই পারস্পরিক মত-বিরোধ তথা দ্বন্দ্ব কলহের গযবে আক্রান্ত হইতে হইবে। যেই বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত সূরা ফাতিহায় দোয়া করিয়া থাকি। “আমাদেরকে সত্য সরল পথে পরিচালিত করুন। তাঁহাদের পথে যাঁহারা নিয়ামত প্রাপ্ত হইয়াছে।” (যাহা নবী-ছিদ্দীক, শহীদ ছলেহীনগণের পথ।) তাহাদের পথে পরিচালিত করিবেননা যাহা গযব প্রাপ্তদের পথ। (ইহুদী-খ্রীষ্টানদের অনুসৃত পথ)” তাই বলিবার অপেক্ষা রাখেনা যে ইহুদী-খ্রীষ্টানদের পথে চলিবার পরিণামই হইতেছে আযাব-গযবে আক্রান্ত হওয়া। পারস্পরিক দ্বন্দ্ব- কলহ, মতভেদ তথা সংঘাতে লিপ্ত হওয়া। কিন্তু আফসোস হইলেও সত্য যে সারা বিশ্বে আজ তথাকথিত ইসলামপন্থী দলগুলি ইহুদী-খ্রীষ্টানদের অনুসৃত পথ গ্রহণ করিয়া মুসলমানদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-কলহজনিত আযাব-গযবে ঠেলিয়া দিয়াছে। উল্লেখ করা যাইতে পারে যে কোন নবী আলাইহিমুস্ সালাম, কোন ইমাম মুজতাহিদ অথবা কোন ওলী আল্লাহ্ ইসলামের নামে, ইহুদী-খ্রীষ্টানদের প্রবর্তিত গণতন্ত্র, নির্বাচন ইত্যাদি করেন নাই। যদিও গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রথা পূর্বেও প্রচলিত ছিল। কিন্তু তাহা ছিল গ্রীক, রোমান দেশের বিধর্মীদের প্রবর্তিত প্রথা। তাই কোন নবী আলাইহিমুস্ সালাম বা ওলী আল্লাহ্ই ইসলামের নামে গণতন্ত্র বা নির্বাচন করেন নাই। কিন্তু অধুনা তথাকথিত ইসলামপন্থীরা ইসলামের নামে দলীয় রাজনীতি তথা নির্বাচন করাকে স্বীকার করিয়া লইয়া বিশ্বের মুসলমানদিগকে দলা-দলিতে শতধাবিভক্ত করিয়া দিয়াছে। আমাদের দেশসহ সারা মুসলিম বিশ্বেই ইহার উদাহরণ খুব জ্বলজ্বল। আমাদের দেশের তথাকথিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত। বর্তমান সরকারে প্রচ্ছন্নভাবে দুইটি তথাকথিত ইসলামপন্থী দল থাকিলেও কার্যতঃ দুইটি দলের আক্বীদা-বিশ্বাস, আমল সম্পূর্ণই ভিন্ন। এমনকি একজন আরেকজনকে শক্তভাবে দোষারোপ করিয়া অনেক পুস্তক-পুস্তিকা পর্যন্ত প্রকাশ করিয়াছে। অপরদিকে তথাকথিত ইসলামী ঐক্যজোটের ঐক্যও এখন চরম অনৈক্যে পরিণত হইয়া পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়িতে ঠেকিয়াছে। সুতরাং সম্প্রতি পাকিস্তানের সংসদ নির্বাচনে তথাকথিত ইসলামপন্থী দলীয় জোট মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমল (এম.এম.এ) ৪৯টি আসন লাভ করিয়া তৃতীয় স্থানে উঠিয়াছে বলিয়া যাহারা উল্লাস প্রকাশ করিয়াছেন এবং ইসলামপন্থীদের জয় হইয়াছে বলিয়া মনে করিতেছেন, ইসলাম পন্থীরা এক হইয়াছে বলিয়া ধারণা করিয়াছেন আসলে তাহা সবই ভ্রান্তিতে গ্রথিত। কারণ দৃশ্যতঃ ইহারা এখন খানিকটা লাইম-লাইটে থাকিলেও মূলতঃ ইহারা দ্বন্দ্ব-কলহজনিত গযবের বীজ দ্বারা আবেষ্টিত। উল্লেখ্য ছয় দলীয় জোটের মধ্যে রহিয়াছে জামায়াতে ইসলামী, তালেবান পন্থী জামায়াত উলেমা-ই-ইসলাম সংগঠনের দুটি আলাদা অংশ; জামায়াত উলেমা-ই-পাকিস্তান, জামায়াত আহলে-হাদীস এবং সংখ্যালঘু শিয়াদের দল মিল্লাত-ই-জাফরি পাকিস্তান (এম.জে.পি) এইখানে বিশেষভাবে বিবেচ্য যে ইহারা প্রত্যেকেই রাজনৈতিকভাবে বেনিফিসিয়ারী হইবার জন্যই ইহাদের নিজস্ব দর্শন, আক্বীদা-আমলের মতপার্থক্যগত দিকটি প্রচ্ছন্ন রাখিয়াছে। কিন্তু মন্ত্রী, এম.পি হইবার মত বিষয়ে তুষ্ট হইতে না পারিলে ক্ষমতায় বসিবার পরও আমাদের দেশের ঐক্যজোটটির মত অনৈক্যের ছুটে ছুটিতে ইহাদের মোটেই কালক্ষেপণ হইবেনা। তদুপরি আরো উল্লেখ করার মত বিষয় হইতেছে যে, এই তথাকথিত ৬দলীয় ইসলামপন্থী জোটের বাহিরেও পাকিস্তানে আরো ইসলামপন্থী দল রহিয়াছে এবং তাহাদের অনেকে এই নির্বাচনে আসনও লাভ করিয়াছে। এইদিকে পাকিস্তানের পাশাপাশি মরক্কোতেও একই দৃশ্য দেখা গিয়াছে গত কিছুদিন পূর্বের নির্বাচনে জাষ্টিস এন্ড ডিভেলপমেন্ট পার্টি ৩২৫টি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনে ৯১টিতে অংশগ্রহণ করিয়া আগের ১৪টির পরিবর্তে বর্তমানে ৩৭টি আসনে জয়লাভ করিবার প্রেক্ষিতেই প্রচার করা হইতেছে মরক্কোর ইসলামী দলগুলি শক্তিশালী হইয়া উঠিয়াছে। অথচ এই কথার মাঝেই যে অনৈসলামের বিরাট শক্তি লুকাইয়া রহিয়াছে তাহা আক্বলমন্দ না হইলে বুঝিবার উপায় নাই। কারণ ইসলামপন্থী ‘দল’ এর পরিবর্তে ইসলামপন্থী দলগুলির কথা আছে সেইখানে এই দলগুলি নিজেরাই যে নিজেদের জন্য বুমেরাং হইয়া উঠিতে পারে তাহা বলাই বাহুল্য।
ইহা ছাড়াও মরক্কোয় আসন পাইয়াছে, আব্দুর রহমান ইউসুফীর সোসালিষ্ট দল (৪৪টি আসন), রক্ষণশীল ইশতিকলাল পার্টি (৪০টি আসন) মধ্যডান পার্টি (৩৭টি আসন) এবং অন্যান্য দল। পাকিস্তানের মতই এইখানে একক কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় নাই। সুতরাং হইতেছে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। থাকিতেছে দ্বন্দ্ব-কলহ, কথিত রাজনৈতিক অস্থিরতার তথা ঝগড়া-ফাসাদের অবাধ অবকাশ। যাহা মূলত এক অর্ন্তভেদী গযব। তথাকথিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় সাধারণ মুসলমান এই দ্বন্দ্ব-কলহজনিত গযবে জ্বলিতেছে, পুড়িতেছে, ধুকিতেছে কিন্তু অনুভব করিতেছেনা। কারণ তথাকথিত ইসলামপন্থীরা এই গযবী প্রক্রিয়াকে ইসলামের নামে প্রচার করিতেছে। অব্যক্ত ধিক! তাহাদের জন্য, ইসলামের নামে ক্ষমতাদখল, ইসলামের নামে নির্বাচনে আসন লাভের জন্য তাহারা ইসলামের শত্রু গযবপ্রাপ্ত ইহুদী-খ্রীষ্টানদের গযবী পথ- নির্বাচন তথা দলীয় রাজনীতিকে জায়িয করিয়াছে। আর ইহা যে গযবের পথ; লা’নতের পথ তাহা তাহাদের কর্মকান্ডই প্রমাণ করিয়াছে। এই লা’নতের পথ প্রাপ্তির জন্য তাহাদেরকে লা’নতী কাজই করিতে হইতেছে। হাদীস শরীফে ইরশাদ হইয়াছে, “যেই জাতির নেতা হয় নারী তাহাদের প্রতি লা’নত।” আর আমাদের দেশের ইসলামের নামে তথাকথিত জামায়াত, ঐক্যজোট নেতার মতই পাকিস্তানের তথাকথিত ইসলামী জোট নেতা তথা জামায়াতে ইসলামের নেতাকেও দেখা গিয়াছে নারী নেতৃত্ব গ্রহণ করিতে। খবরে প্রকাশ, তিনি ইতিমধ্যে পাকিস্তান হইতে লন্ডনে যাইয়া বেনজীর ভূট্টোর সহিত আলোচনা করিয়া আসিয়াছেন, হিসাব-নিকাশ সন্তোষজনক মনে হইলেই বেনজীর-এর নেতৃত্ব তিনি গ্রহণ করিবেন। কাজেই দেখা গেল মুখে ইসলাম বলিলেও আসলে মুসলমানদের স্বার্থ বা ইসলাম এই ধরণের তথাকথিত ইসলামপন্থী রাজনৈতিকদের কাছে নিতান্তই গৌণ ব্যাপার। আর সত্যিকার ইসলামপন্থী হইলে তাহারা এইভাবে ইসলামের নামে গণতন্ত্র করিতে পারিতেননা। কাজেই আর ধোকা নহে এখনই সময় আসিয়াছে বিষয়টি ভাবিবার।
-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ্, বাসাবো, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে