প্রসঙ্গঃ গণতন্ত্র; এখনই চরম সময়, বিষয়টি ভাবিবার     

সংখ্যা: ১০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

সরকার দলীয় সাংসদ গ্রেফতার বলিয়া কথা নহে। যেহেতু সরকার দলীয় বলিয়া অথবা অদলীয় বা বিরোধী দলীয় বলিয়া সমালোচনা করিবার প্রবৃত্তি অথবা মহল বিশেষের মতে- সে অধিকার আমার নাই। কারণ সরকার গঠন বা পরিবর্তনে কোন ভূমিকা ইচ্ছা করিয়াই আমি রাখি নাই। সহজ কথায় বলিতে গেলে কাহাকেও বা কোন দলকেই আমি গত পহেলা অক্টোবরের নির্বাচনে ভোট দেই নাই। ইহার আগেও যে দিয়াছি তাহাও নহে। কি কারণে দেই নাই সে প্রশ্ন শত কক্তে উচ্চারিত হইয়া বিরাট শোরগোল আকার ধারণ করিতে পারে। তবে সেই মহা শোরগোলকে থামাইবার মত কথা আমার হৃদয়ে ধারণ করা আছে বটে।    ইহার শুরুতে গত ২৭-১২-০১ তারিখের একটি জাতীয় ইংরেজী দৈনিকের এক ছবির ক্যাপশন উদ্ধৃত করিতেছি “A ruling party Lawmaker From Dhaka-8 being taken to Dhaka central Jail after his bail prayer was rejected by the CMM court on Wednesday.” এই ক্যাপশনটি এখানে উল্লেখ করিবার কারণ রহিয়াছে বটে। কারণ, বাংলা দৈনিকগুলোতে মন্তব্য করা হইয়াছে, “সরকার দলীয় সাংসদকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার ছিনতাই করিবার জন্য গ্রেফতার করা হইয়াছে।” সাংসদ বলিতে সংসদ সদস্য ইহা জনগণের ধারণা আছে। আর সংসদ সদস্য বলিতে সাধারণের ধারণা এখন অনেকটা এইরকম পর্যায়েই উপনীত হইয়াছে যে, উহা সরকার গঠনের, ক্ষমতা পরিবর্তনের একক। যে দলের সংসদ সদস্য সংখ্যা বেশী হয় সেই দলই সরকার গঠন করে। কিন্তু সংসদ সদস্যগণ যে কেবল সরকার গঠনের গুটি নহে উহারা যে গণতন্ত্রের কথিত পবিত্র আইন প্রণেতা ব্যক্তিত্ব বলিয়া স্বীকৃত ও বিবেচিত এবং এই অর্থে উহাদের ভূমিকা, দায়িত্ব-কর্তব্য তথা যোগ্যতা অনেক বিরাট এবং গোটা ব্যাপারটাই মহা গুরুত্বপূর্ণ তাহা বলিতে গেলে জনগণ কমই বিচার করিয়া থাকে। আর গণতন্ত্র এমনই এক তন্ত্র যে জনগণ এই তন্ত্রকেও যদি উপেক্ষা করিয়া চলে তাহা হইলেও সেই উপেক্ষিত অবস্থাই গণতন্ত্র বলিয়া রূপ ধারণ করে। এই কারণে গণতন্ত্রের সংসদ সদস্যগণ উহাদের কার্যতঃ ভূমিকার বিপরীতে জোরেশোরে চলিলেও যথারীতি সংসদ সদস্যের পরিচয়ে চলিতে উহাদের কোনরূপই বেগ পোহাইতে হয়না। এইখানে এই তন্ত্রের বিরাট গলদ জাহির হইয়া পড়ে।  সংসদ সদস্য যে প্রকৃত পক্ষে একজন আইন প্রণেতা তথা Lawmaker তাহা কয়জনে বিবেচনা করে। আর এই ল’মেকারের রোল যে কিরূপ হওয়া উচিত তাহাই বা কয়জনে পর্যালোচনা করে। সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্যের গ্রেফতারের বিষয়ে পত্রিকাগুলিতে বিভিন্ন তথ্য তুলিয়া ধরা হয়। বলা হয়, “…….. গ্রেফতারের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে, এর মধ্যে বেঙ্গল লেদার ইন্ড্রাষ্ট্রিজের ঘটনা ছাড়াও মাদ্রাসা বোর্ডের টেন্ডার ছিনতাই এবং খিলগাঁও থানা-পুলিশের হাত থেকে ছাত্রদল নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামকে ছাড়িয়ে নেয়ার ঘটনা। ……”   “সংবাদ সম্মেলনের নামে ৪৫ কোটি টাকার চামড়া মাত্র ৩ কোটি টাকায় বিক্রির ঘটনা। সর্বশেষ মামলাটি দায়ের হয়েছে মঙ্গলবার রাতে। মামলা ৭৪ ধারা- ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩৮৫ ও ৩৮৬। ….. পুরানা পল্টনস্থ অফিসে তিনি তার সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিয়ে টেন্ডারবাজী করতে গিয়েছিলেন।”   “……….. বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ১শ’ ৫টি। এর মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে। …… দলের সভাপতি এ তরুন সংসদ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় হল দখল করেন। জগন্নাথ হল দখলে তিনি নিজে নেতৃত্ব দেন। ….. চাঁদাবাজি, টেন্ডার ছিনতাই, খুন, হত্যার হুমকি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা সব ধরণের অভিযোগই রয়েছে তার বিরুদ্ধে।”        পাঠক! এই যদি হয় একজন Lawmaker বা আইন প্রণেতার চরিত্র তাহা হইলে সেই আইনের উৎস, সেই আইনের প্রকৃতি, সেই আইনের গতি কি প্রকৃতির হইতে পারে এবং এই ধারাবাহিকতায় সেই সংসদ ও সংসদের লালনকারী গণতন্ত্র- মানুষ, মানবাধিকার ও মানবতার জন্য কতটুকু উপযোগী বলিয়া প্রতীয়মান হইতে পারে?”  অপরদিকে গণতন্ত্রে বিরোধীদল বলিয়া গুরুত্বপূর্ণ কথা রহিয়াছে। কিন্তু সেই বিরোধীদলীয় অথবা সাবেক সরকারদলীয় সাংসদদের বিরুদ্ধেও কি অভিযোগ কম? বর্তমান আইনমন্ত্রী গত ২৮-১২-০১ তারিখে বলিয়াছেন যে, “সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা (অর্থাৎ সকল সরকার দলীয় সাংসদরা) ৫বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে।”           পাঠক! এই যদি হয় দেশের Lawmaker তথা আইন প্রণেতাদের চরিত্র ও প্রকৃতি তাহা হইলে তাহাদের হাতে দেশ, জাতি, আইন কতটুকু নিরাপদ সেই বিষয়টি লইয়াই কেবল ভাবিবার সময় এখন আর নাই; বরং এখন চরম সময় আসিয়াছে যেই তন্ত্র এমন অবস্থার জন্ম দেয়, লালন করে, প্রসার ঘটায় সেই কুপমন্ডুক গণতন্ত্রের অসারতা সম্পর্কে সুস্থ মস্তিষ্কে সূক্ষ্মভাবে ভাবিবার।

  -মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ্, বাসাবো, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ