প্রসঙ্গ: ভারতের লোকসভায় অশ্লীল বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে বিল তাহলে ৯৭ ভাগ মুসলমানের এদেশে অশ্লীল বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ কোথায়? প্রচারণা কোথায়? আইনী প্রক্রিয়া কোথায়?

সংখ্যা: ২১৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে খোদ চলচ্চিত্র শিল্পীরাও প্রায়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, মিছিল মিটিং করেন। কিন্তু বিজ্ঞাপনে অশ্লীলতাও মারাত্মক পর্যায়ে গিয়েছে। বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওয়েবসাইটে একটি মন্তব্য এসেছে-

“হয়ত এ বিষয়টি কেউ কেউ লক্ষ্য করে থাকবেন অথবা আপনারা যদি ধানম-ি ২৭ (পুরাতন) নং সড়কের (রাপা প্লাজা’র) বামে এবং আড়ং এর ডানে “নারী মেলা”র উপরে তাকালেই দেখতে পাবেন একটি পোশাক তৈরিকারী সংস্থার বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড, যাতে দুইজন নর-নারী অশ্লীলভাবে দাঁড়িয়ে নামমাত্র পোশাক অঙ্গে জড়িয়ে কামুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । এ ধরনের পোশাক তৈরীকারী সংস্থা পোশাক তৈরি করে শরীর ঢাকার জন্য। কিন্তু ওই বিলবোর্ড দেখে তা মোটেও মনে হয় না। আর নামমাত্র যা শরীরে জড়িয়ে আছে তাতে শরীর অবয়ব পরিপূর্ণভাবে বোঝা যাচ্ছে।

ভাত একটি টিপলেই যেমন যথেষ্ট তেমনি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই একটি উদাহরণই যথেষ্ট বিজ্ঞাপনে অশ্লীলতার মাত্রা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

অথচ শতকরা ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশে এরূপটি হবার নয়। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে “যদি তোমরা কোন অন্যায় দেখো তাহলে হাত দ্বারা বাধা দাও। না পারলে মুখ দ্বারা বাধা দাও। তাও না পারলে অন্তর থেকে ঘৃণা কর এবং এটা হলো দুর্বলতর ঈমান।”

বলাবাহুল্য, এ হাদীছ শরীফ-এর চেতনা হতে সাধারণ মুসলমানেরই অশ্লীল বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করা উচিত। আর এক্ষেত্রে মাওলানা, মুফতী, মুফাসসির, হাফিজ, ক্বারী নামধারীদের প্রতি যে আরো কত কাঙ্খিত বাঞ্ছিত বা আবশ্যকীয় তা বলারই অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের আলেম নামধারীরা বিজ্ঞাপনে অশ্লীলতার প্রতিবাদ করতে লজ্জাকরভাবে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলেছে মুশরিকরা। বিজ্ঞাপনে নারীদের অশোভনীয়ভাবে উপস্থাপনার উপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করেছে ভারতীয় লোকসভার সদস্যরা।  এজন্য তারা একটি সর্বদলীয় বৈঠক আহবান থেকে শুরু করে একটি সেন্সর বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন দাবি করেন। বিরোধী দলগুলো তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে এবং সিপিএম, বিজেপি ও তৃণমূলের নারী সদস্যরা বিজ্ঞাপনের জন্য আরো কঠোর নীতিমালা দাবি করে।

বলাবাহুল্য, মুশরিকরা এমনিতেই নাপাক এবং তাদের ধর্মই হল অশ্লীল। তারপরেও যদি তারা অশ্লীল বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে এত তোড়জোড় দেখাতে পারে তাহলে প্রতিভাত হয় মানবিক কারণে টিকে থাকার স্বার্থেই তারা অশ্লীলতার বিরুদ্ধে লড়ছে। এবং ইসলামে যে অশ্লীলতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ সেটাই মানবজাতির পবিত্রতা ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। কিন্তু ৯৭ ভাগ মুসলমানের দেশে তার প্রতিফলন কোথায়? অনুশীলন কোথায়? এমনকি এক্ষেত্রে নামকাওয়াস্তে যে আইন রয়েছে তারও ব্যবহার কোথায়?

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ এর ৭৬ ধারায় বলা আছে (থ) “কেউ রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বা সেখান থেকে দৃষ্টিগোচরের মধ্যে স্বেচ্ছায় এবং অশালীনভাবে নিজ দেহ এমনভাবে প্রদর্শন করে যা কোন গৃহের ভেতর থেকে বা দালানের ভেতর থেকে হোক বা না হোক, কোন মহিলা দেখতে পায় অথবা কোন রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে কোন মহিলাকে পীড়ন করে বা তার পথ রোধ করে অথবা কোন রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে বা অশ্লীল আওয়াজ, মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি করে কোন মহিলাকে অপমান বা বিরক্ত করে তবে সে ব্যক্তি ১ বছর পর্যন্ত কারাদ- অথবা ২০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- অথবা উভয় দ- দ-িত হতে পারে।“ আবার ধারা ৭৪ অনুযায়ী (থ) “যদি কেউ রাস্তায় বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থানে বা সেখান থেকে দৃষ্টিগোচরের মধ্যে কোন গৃহের ভেতর থেকে দালানের ভেতর থেকে হোক বা না হোক এমনভাবে নিম্নলিখিত কোন কাজ করে যাতে কোন রাস্তা বা সাধারণের ব্যবহার্য স্থান থেকে দেখা যায় বা শোনা যায় (থথ)

(ক) বেশ্যাবৃত্তির উদ্দেশ্যে কথা, অঙ্গভঙ্গি বা অশ্লীল দেহভঙ্গির দ্বারা কারো মনোযোগ আর্কষণের চেষ্টা করা অথবা

(খ) বেশ্যাবৃত্তির উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত করে তবে সে ব্যক্তি ৩ মাস পর্যন্ত কারাদ- অথবা ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত হতে হবে। এছাড়াও একই আইনে সর্বজন সমক্ষে অশালীন আচরনের সাজা হলো ৩ মাস পর্যন্ত কারাদ- অথবা ৫০০ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত। চঁনষরপ ঢ়ধষধপব এ ংবী ধপঃ করা নিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর ৭৭ ধারায় এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অধ্যাদেশ, ১৯৯২ এর ৭৯ ধারায় বিধি নিষেধ সম্পর্কে বলা আছে।

বলাবাহুল্য, প্রদর্শিত অশ্লীল বিজ্ঞাপন এই আইনের আওতায়ও পড়ে। কারণ মডেলদের যে অশ্লীল দেহ প্রদর্শনী তা মূলত ব্যভিচারেই প্ররোচিত করে এবং কার্যত তারা বেশ্যাবৃত্তিও করে থাকে। কাজেই এই আইনের আওতায়ও এসব বেশ্যাদের বিচার কাজ চলে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ কোথায়?

মূলত: আজকের পুরুষ নিয়ন্ত্রিত ভোগবাদী সমাজে নারীকে অর্থের বিনিময়ে নানাভাবে ব্যবহার ও উপস্থাপনের নোংরা প্রতিযোগিতা চলছে। এখানে নারী শুধু যৌনাবেদনময়ী পণ্য ছাড়া আর কিছুই নয়। নারী এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠাখ্যাতি প্রচার এবং অর্থ পেয়েই খুশি। কিন্তু নারী যে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপনের পণ্য এবং বিনোদন উপভোগের উপাচার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে তার নিজের সত্তাকেই অবমাননা করছে। সে উপলব্ধিও তাদের থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। বর্তমান পুঁজিবাদী সমাজের ভোগবাদী সংস্কৃতিতে নারী শুধু বিজ্ঞাপনের মডেল, সিনেমার জন্য ও বিনোদন ক্লাবের নর্তকী বা যৌনকর্মীই নয়। নারীকে এক শৃঙ্খলিত অবিকশিত মানবসত্তায় নামিয়ে আনা হয়েছে। নারী স্বাধীনতা, নারীর সমধিকার বা নারীর ক্ষমতায়নের রমরমা প্রচারণায় আত্মহারা নারীর মূল সত্তাই কেড়ে নেয়া হয়েছে।

কাজেই কী নারী অধিকার সংরক্ষণ অথবা অশ্লীলতা বন্ধ দুটো মূলত: একই বিষয়। সঙ্গতকারণেই এ বিষয়ে সর্বসাধারণকে জোর প্রতিবাদী হতে হবে। আলেম সমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সর্বোপরি পার্লামেন্টে আইন করে শুধু অশ্লীল বিজ্ঞাপনই নয় বরং ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ঘোষিত ছবিভিত্তিক সব বিজ্ঞাপন বন্ধ ঘোষণা করতে হবে।

মূলতঃ এসব দায়বোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত ও রূহানী সংস্পর্শ তথা ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই কেবলমাত্র তা হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উনার উছীলায় তা দান করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ লিসানুল্লাহ

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী তিনি হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৮১

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৩০

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-৪৯

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী জালিম গং নিঃসন্দেহে বাতিল, গুমরাহ, লানতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক  রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-২

গোটা দেশবাসীকে সম্পূর্ণ অবহিত করে ট্রানজিট চুক্তি না করলে এবং দেশবাসীর সম্মতিতে না করলে কথিত ট্রানজিট চুক্তি হবে দেশবাসীর সাথে সম্পূর্ণ বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশ বিক্রির শামিল যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক এবং অগ্রহণযোগ্য