“ফযলুর জিহালতীর জবাব” সত্যিই রাজারবাগীদের নিকট ‘দ্বীনে রেযাখানী’ নিরাপদ নয়

সংখ্যা: ১০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

 ফযলু চতুর ব্রাহ্মণের পূর্ণ মেছদাক

            পাঠক! আপনাদের হয়তো ভাল করেই স্মরণ আছে যে, আমি রেযাখানী ফযলুর বক্তব্যের জবাবে কয়েক সংখ্যা পূর্বে এক চতুর ও ধনী ব্রাহ্মণের ঘটনা উল্লেখ করেছিলাম। যে ব্রাহ্মণ ঘোষণা দিয়েছিলো যে, ‘যে ব্যক্তি আমাকে অমুক বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে পারবে তাকে আমার অস্থাবর-স্থাবর সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিব।’ একথা শুনে ব্রাহ্মণের স্ত্রী বললো, ‘আপনি বলেন কি! এমন অনেকেই রয়েছে যে আপনার বিষয়টি বুঝিয়ে দিতে পারবে।’ জবাবে ব্রাহ্মণ বললো, ‘এত সহজ নয়। কারণ সে আমাকে যতই বুঝাক না কেন আমি বলবো, আমি বুঝিনি। আমি যদি না বুঝি সে আমাকে বুঝাবে কিভাবে? আর আমাকে না বুঝাতে পারলে সে আমার সম্পত্তিই বা পাবে কিভাবে?”

রেযাখানী ফযলু উক্ত ব্রাহ্মণেরই পূর্ণ মেছদাক বা নমুনা। সে লিখেছিলো, “রেযা খাঁ তার কিতাবে ‘দরূদ শরীফ’ সংক্ষেপে লিখাকে কুফরী বলেছে দেখাতে পারলে ‘এক লক্ষ টাকা পুরস্কার’ দেয়া হবে।”

অথচ মাসিক আল বাইয়্যিনাতের মার্চ/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যায় যখন প্রমাণ করে দেয়া হলো যে, রেযা খাঁ তার কিতাবে ‘দরূদ শরীফ’ সংক্ষেপে লিখাকে কুফরী বলেছে। তখনই সে ব্রাহ্মণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ পাওয়ার পরও তা অস্বীকার করছে এবং কুফরী থেকে বাঁচার জন্য রেযা খাঁর ফতওয়ার অপব্যাখ্যা শুরু করে দিয়েছে। এতে কি প্রমাণিত হয় না যে, হাক্বীক্বতেই ফযলু ব্রাহ্মণের পূর্ণ মেছদাক।

অপব্যাখ্যার জবাব

            পাঠক! ফযলু প্রথমে লিখলো, রেযা খাঁ ‘মাজমুয়ায়ে রাসায়েলে’ দরূদ শরীফ সংক্ষেপে লিখাকে কুফরী বলেনি। কিন্তু যখন আল বাইয়্যিনাত মার্চ/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যায় রেযাখার উক্ত কিতাব থেকে মূল ইবারত উঠিয়ে দেয়া হলো, তখন সে রেযা খাঁনী মুখপত্র সফর সংখ্যায় লিখলো, এটা রেযা খাঁর বক্তব্য নয় বরং এটা হচ্ছে তাতারখানীয়ার বক্তব্য! ‘সাথে সাথে সে যুক্তিও দাঁড় করিয়ে দিলো যে, আল বাইয়্যিনাতে মাসিক মদীনা, মুঈনুল ইসলাম ইত্যাদি পত্রিকার রেফারেন্স দেয়া হয় তবে কি উহা আল বাইয়্যিনাতের বক্তব্য?    লা’নত শত লা’নত এ ধরণের গন্ডমূর্খ বা আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিলদের প্রতি। নিজের মতকে টিকিয়ে রাখার জন্যে কত গোমরাহী মূলক অপব্যাখ্যাই না সে দিতে পারে! একেবারে কাদিয়ানীর ন্যায় পাক্কা অপব্যাখ্যাকারী। নিজের বাতিল মতকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে কাদিয়ানীদের ন্যায় কত যুক্তিই না সে উপস্থাপন করতে সক্ষম। সত্যিই ফযলু পাক্কা জাহিল; তবে এরূপ জিহালতী বক্তব্য ও গোমরাহী মূলক যুক্তি দিয়ে তো আর কিতাবের সুস্পষ্ট ইবারতকে রদ্ করা যায় না। যায় শুধু গল্পে বর্ণিত চতুর ব্রাহ্মণের পূর্ণ মেছদাক হওয়া।

            পাঠক! ফযলু বলেছে, রেযা খাঁর কিতাবে যে দরূদ শরীফ সংক্ষেপে লিখাকে কুফরী বলা হয়েছে তা রেযা খাঁর বক্তব্য নয় বরং তাতারখানিয়ার বক্তব্য। এতে কি এটাই প্রমাণিত হয়না যে, ফযলু নিজেই স্বীকার করে নিয়েছে যে, রেযা খাঁর কিতাবে “দরূদ শরীফ সংক্ষেপে লিখা কুফরী” একথা লিখা আছে;অথচ সে পূর্বে লিখেছিলো, ‘লিখা নেই।” অর্থাৎ পূর্বে বলেছে, লিখা নেই আর এখন বলেছে লিখা আছে; তবে এটা তাতারখানিয়ার বক্তব্য। এবার ফযলুই বলুক, সে সত্যবাদী না মিথ্যাবাদী। সে সঠিক ব্যাখ্যাকারী না অপব্যাখ্যাকারী?

            ফযলুর জিহালতী আর মিথ্যাচারীতার বর্ণনা আর কি করবো। তা তো আপনারা আল বাইয়্যিনাতের পূর্ববর্তী সংখ্যাগুলো থেকে ভালরূপেই জেনে গেছেন। তবে ‘সফর’ সংখ্যায় রেযাখানী ফযলু তার জিহালতীর আরো কিছুটা প্রকাশ ঘটিয়েছে, ‘এটা রেযা খাঁর বক্তব্য নয়; তাতারখানিয়ার বক্তব্য একথা বলে।’

সুপ্রিয় পাঠক! ফযলু এতই জাহিল যে “রেফারেন্স” কাকে বলে সেটাই সে জানে না। ‘মজমুয়ায়ে রাসায়েলে’ “তাতারখানিয়ার’ বরাত বা রেফারেন্স দেয়া হয়েছে, মূলতঃ রেযা খাঁর বক্তব্য বা ফতওয়াকে ছাবিত করার উদ্দেশ্যে।

যেমন খোদ রেযা খানীরাই তাদের মুখপত্রে দেওবন্দীদের অনেক বক্তব্য উল্লেখ করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো,  তারা নিজেদের মতকে ছাবিত করার লক্ষ্যে তা উল্লেখ করে? নাকি দেওবন্দীদের মতকে খন্ডন করার জন্যে উল্লেখ করে? যদি বলা হয় যে, খন্ডন করার উদ্দেশ্যে উল্লেখ করা হয়। তবে আল বাইয়্যিনাতের ক্ষেত্রে তার বিপরীত জবাব কেন?

আবার ঠিক তার বিপরীত রেযাখানীরা তাদের অনেক বক্তব্যকে সঠিক প্রমাণ করার জন্যে অনেক কিতাবেরই বরাত বা রেফারেন্স দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কি রেযাখানীরা বলবে যে, “এটা রেযাখানীদের বক্তব্য নয় বরং কিতাবের বক্তব্য।”    পাঠক! আমাদের প্রশ্ন হলো, পৃথিবীতে এরূপ কোন ফতওয়া রয়েছে কি? যার পিছনে কোন ‘রেফারেন্স’ নেই। আর ‘রেফারেন্স বা দলীল’ ছাড়া বিনা দলীলে রেযা খাঁর নিজস্ব কোন বক্তব্য কি ফতওয়া হিসেবে সাব্যস্ত হবে? অবশ্যই তার পিছনে রেফারেন্স বা দলীল থাকতে হবে। রেযা খাঁ উক্ত ‘রাসায়েলে’ মূলতঃ নিজের মতকে মজবুতভাবে ছাবিত করার জন্যই ‘তাতারখানিয়ার’ রেফারেন্স দিয়েছে। অতএব, বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, এটা রেযা খাঁরই বক্তব্য।     হ্যাঁ, রেযা খাঁ যদি ‘তাতারখানিয়ার’ ইবারত উল্লেখ করার পর একথা বলতো যে এটা ‘তাতারখানিয়ার’ মত আমি এমতে বিশ্বাসী নই। তবে প্রমাণিত হতো যে, এটা রেযা খাঁর বক্তব্য নয় বরং ‘তাতারখানিয়ার’ বক্তব্য। একথা না লিখা এটাই প্রমাণ করে যে, রেযা খাঁ তাতারখানিয়ার উক্ত বক্তব্যের পূর্ণ সমর্থনকারী। যেমন, ফিক্বাহ্রে কিতাবের অনেক স্থানেই দেখা যায় যে, ইমামগণ কোন বিষয়ে একাধিক মত উল্লেখ করার পর বলে থাকে যে,   وبه ناخذ.অর্থাৎ  আমরা  এমতটিই গ্রহণ করেছি।   সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, রেযা খাঁ তার ‘মজমুয়ায়ে রাসায়েলে’ দরূদ শরীফ সংক্ষেপে লিখাকে তাতারখানিয়ার বরাতে কুফরী লিখেছে। আর ফযলুর গুরু অদক্ষ জলীল ও রেযাখানী মুখপত্র গং তাদের বুলেটিন ও পত্রিকায় দরূদ শরীফ সংক্ষেপে লিখে রেযা খাঁর ফতওয়া মতে কুফরী করেছে। তাই কুফরীবার্তা নামকরণও সার্থক ও সঠিক হয়েছে। য (চলবে)

 -মুফতী মুহম্মদ ইবনে ইসহাক, বাসাবো, ঢাকা।

খতমে নুবওওয়াত প্রচার কেন্দ্র খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারীরা কাফির ইসলামী শরীয়তের হুকুম মুতাবিক যারা মুসলমান থেকে খতমে নুবুওওয়াত অস্বীকারকারী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয় (যেমন- কাদিয়ানী, বাহাই ইত্যাদি) (তাদের তওবার জন্য নির্ধারিত সময় ৩দিন। এরপর তওবা না করলে তাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড)

রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারকের পূর্বে র্ববহৃত লক্বব বা উপাধি এবং তার তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ

ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।

একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে

মানব ক্লোনিং- পরিণতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা