-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
পবিত্র কালাম পাকে ইরশাদ হয়েছে,
يريد الله بكم اليسر ولايريدبكم العسر.
অর্থ: “আল্লাহ্ পাক তোমাদের জন্য সহজ চেয়ে থাকেন। তিনি তোমাদের জন্য কঠিন চান না।” (সূরা বাক্বারা/১৮৫)
আর হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, الدين يسر.
অর্থ: “দ্বীন হচ্ছে সহজ।” (বুখারী শরীফ)
কাজেই দ্বীন ইসলাম বা শরীয়তের বিষয়াদি পালনে বান্দার প্রতি যাতে কোনরূপ কষ্টসাধ্য না হয়, সে ব্যবস্থাও আল্লাহ্ পাক করে দিয়েছেন। এ সম্পর্কিত একটি বিষয় হচ্ছে, “অসুস্থ ব্যক্তির নামাযের বর্ণনা।”
উল্লেখ থাকে যে, কোন ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে বা রোগ বৃদ্ধির আশংকায় ওযু করতে না পারলে তাকে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতে হবে। দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে সক্ষম না হলে বসে বসে নামায আদায় করতে হবে। বসেও নামায আদায় না করতে পারলে শুয়ে শুয়ে নামায আদায় করতে হবে। স্বাভাবিক নিয়মে রুকু-সিজদা করতে না পারলে মাথার ইশারায় নামায আদায় করতে হবে। চক্ষু, ভ্রু কিংবা মনের ইশারায় নামায আদায় করলে শুদ্ধ হবেনা। রুকুর ইশারা হতে সিজদার ইশারায় মাথা একটু বেশী নিচু করতে হবে। ইশারায় নামায আদায় করার সময় কোন জিনিস সম্মুখে রেখে তার উপর সিজদা করার দরকার নেই। যদি করে তবে তা সুন্নতের খেলাফ হবে।
যদি কোন ব্যক্তি এত বেশী দূর্বল হয় যে, দূর্বলতার কারণে সে একা একা বসতে পারেনা এমনকি কেউ বসিয়ে দিলেও বসে থাকতে পারে না তাহলে তাকে চিৎ হয়ে শুয়ে ক্বিবলার দিকে পা দিয়ে, মাথার ইশারায় ফরয নামায আদায় করতে হবে। সরাসরি ক্বিবলার দিকে পা দিয়ে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী তাই অসুস্থ ব্যক্তির হাটুর নিচে বালিশ অথবা অন্য কিছু দিয়ে পাদ্বয়কে ক্বিবলামুখী থেকে ফিরিয়ে নিন্মমুখী করে দিতে হবে অথবা উত্তর কিংবা দক্ষিন দিকে মাথা রেখে ডান কাতে ক্বিবলামুখী হয়ে ইশারায় নামায আদায় করা জায়েয রয়েছে।
কোন মুমূর্ষ ব্যক্তি ইশারার সাহায্যে নামায পড়তে আরম্ভ করলো কিন্তু আল্লাহ্ তায়ালার রহমতে নামাযে থাকতেই সে রুকু সিজদা করার শক্তি ফিরে পেল। এ অবস্থায় তার নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পুনরায় প্রথম থেকে তাকে নামায আদায় করতে হবে।
দাঁড়িয়ে নামায আরম্ভ করার পর এমন কোন রোগ দেখা দিল যে, দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে অক্ষম, এমতাবস্থায় বসে রুকু সিজদা করে নামায আদায় করতে হবে, তাতেও অক্ষম হলে শুয়ে ইশারায় নামায আদায় করতে হবে।
দাঁড়িয়ে রুকু সিজদা আদায় করে নামায আদায় করলে যদি ক্ষত স্থান হতে রক্ত বের হওয়ার আশঙ্কা হয় তবে দাঁড়িয়ে ইশারায় রুকু করতঃ বসে ইশারায় সিজদা করে নামায আদায় করতে হবে। তা না করে যদি শুধু দাঁড়ানো অবস্থায় ইশারায় রুকু সিজদা করে তবে নামায আদায় হবেনা।
অসুস্থ ব্যক্তির নামায আদায় কালে যদি ভুল হয় এবং অন্যে বলে দেয়া ব্যতীত নামায আদায় করতে না পারে, তবে অন্যের বলে দেয়া মতে নামায আদায় করলে আদায় হবে।
অসুস্থ ব্যক্তি নাপাক কাপড় পরিহিত অবস্থায় শায়িত আছে। ঐ কাপড় পরিবর্তন করলে পুনরায় পাক কাপড় নাপাক হয়, এমতাবস্থায় ঐ নাপাক কাপড় পরিহিত অবস্থাই নামায আদায় করলে জায়েয হবে। যদি নাপাক কাপড় পরিবর্তন করতে গেলে অত্যাধিক কষ্ট পায় তাহলেও কাপড় পরিবর্তন না করে নামায আদায় করলে জায়েয হবে। বিছানা পরিবর্তনেরও ঠিক একই হুকুম।
কোন ব্যক্তি দাঁড়াতে অক্ষম বলে বসে রুকু সিজদা করে নামায আদায় করছিল হঠাৎ দাঁড়ানোর শক্তি ফিরে পেল, এক্ষেত্রে তাঁর নামায ভঙ্গ হবেনা, তবে দাঁড়ানোর শক্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট নামায দাঁড়িয়ে আদায় করতে হবে।
কোন ব্যক্তি এক দিন এক রাত্রি বা তার চেয়ে বেশী সময় অজ্ঞান অবস্থায় থাকলে অথবা রোগে খুবই কাতর হয়ে পড়ায় ঐ পরিমাণ সময় ইশারায়ও নামায পড়তে অক্ষম হলে, এই সময়ের মধ্যে তার যত নামায ছুটে যাবে তার ক্বাযা আদায় করতে হবেনা।
ফিক্বহুস্ সুনান : নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান: নামায আদায়ের তরতীব