-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
(ধারাবাহিক)
নামাযের ক্বিরয়াত পর্ব শেষ করে রুকুতে যেতে হবে। রুকুর প্রারম্ভেই তাকবীর বলা শুরু করে পূর্ণ রুকুতে গিয়ে শেষ করতে হবে এবং দু’হাতের তালু দ্বারা হাঁটুদ্বয় ধরে ভর দিয়ে থাকতে হবে। উভয় হাতের অঙ্গুলীগুলো ফাঁক ফাঁক করে রাখতে হবে, দু’পায়ের নলাকে সোজাভাবে রাখতে হবে, পৃষ্ঠকে এরূপ সমানভাবে রাখতে হবে যে, যদি তার উপর কোন পানির পেয়ালা রাখা হয়, তবে যেন তা ঠিক থাকে, মস্তক নীচু কিংবা উঁচু নয় বরং নিতম্বের বরাবর রাখতে হবে, দু’বাজুকে ফাঁক করে রাখতে হবে। দু’হাঁটুকে ধনুকের ন্যায় বাঁকা করা যাবেনা।
স্ত্রী লোককে রুকুতে অল্প ঝুঁকতে হবে, অঙ্গুলীসমূহ ও হাতদ্বয় মিলিয়ে দু’হাঁটুর উপর ভর না দিয়ে রাখতে হবে। দু’হাঁটুকে বাঁকাতে হবে। পায়ের গোড়ালীদ্বয় মিলিয়ে রাখতে হবে এবং বাজুদ্বয়কে ফাঁক করতে হবেনা। হিজড়াগণকে স্ত্রীলোকের ন্যায় করতে হবে।
রুকুতে মনে মনে কমপক্ষে তিন তাসবীহ্, ইমামকে পাঁচ তাসবীহ্ অর্থাৎ সূব্হা-না রব্বিয়াল আযীম পড়তে হবে। কেউ যদি ظ (যোয়া) বর্ণের স্থলে ز (জা) পড়ে, তার নামায বাতিল হয়ে যাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি যোয়া পড়তে না পারে, তাকে “সুবহা-না রব্বিয়াল কারীম” নযর রাখতে হবে বা পাঠ করতে হবে। অতঃপর ‘ছামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্’ বলা অবস্থায় দু’হাত ঝুলিয়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে “রব্বানা লাকাল হাম্দ” বলতে হবে। ইহা একা নামাযীর মাসয়ালা। ইমামকে “রব্বানা লাকাল হাম্দ” বলতে হবেনা এবং মুক্তাদীগণকে “ছামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্” বলতে হবেনা। অতঃপর ধীর স্থিরভাবে সিজদায় ঝুকবার সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বলে পূর্ণ সিজদাতে গিয়ে তাকবীর শেষ করতে হবে। সিজদাতে প্রথমে দু’হাঁটু, তারপর দু’হাত, পরে নাক ও কপাল দু’হাতের মধ্যস্থলে মাটিতে রাখতে হবে, যেন হাতের বৃদ্ধা অঙ্গুলীদ্বয় তার কানের বরাবর থাকে। সিজদায় দু’হাতের অঙ্গুলীগুলোকে মিলিয়ে রাখতে হবে এবং হাত ও পায়ের অঙ্গুলীগুলো ক্বিবলার দিকে করতে হবে। দু’হাতের তালুর উপর ভর দিতে হবে, দু’বাজুকে দু’পার্শ্বদেশ হতে পৃথক রাখতে হবে।
স্ত্রীলোককে সিজদাতে দু’হাতকে ফাঁক করতে হবেনা, দু’হাত বিছিয়ে দিতে হবে এবং পেটকে দু’উরুর উপর বিছাতে হবে। সিজদায় গিয়ে কমপক্ষে তিনবার ‘‘সুবহা-না রব্বিয়াল আ’লা” পড়তে হবে। সিজদার সময় নাকের অগ্রভাগের দিকে নজর রাখতে হবে। অতঃপর তাকবীর পড়া অবস্থায় মাথা উঠাতে হবে। এই উঠানোকালে প্রথমে কপাল, তারপর নাক অতঃপর দু’হাত উঠিয়ে বসতে হবে, তৎক্ষণাত তাকবীর বলাও শেষ করতে হবে।
এরপরে এক তাসবীহ্ পরিমাণ সোজা হয়ে বসে তাকবীর পড়া অবস্থায় দ্বিতীয়বার সিজদায় যেতে হবে এবং কমপক্ষে উল্লিখিত প্রকার সিজদার তাসবীহ্ পড়ে তাকবীর বলা অবস্থায় সোজা দাঁড়াতে হবে, দাঁড়ানো কালে বসতে হবেনা, দু’হাতকে যমীনের উপর ভর না দিয়ে বরং হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে। এই এক রাকায়াত শেষ হলো।
দ্বিতীয় রাকায়াতে দাঁড়িয়ে তাআওউয ও ছানা পড়তে হবেনা, বরং বিসমিল্লাহ্, সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা বা তিন আয়াত পড়ে প্রথম রাকায়াতে যেরূপ রুকু সিজদাহ্ করা হয়েছে এবং যা যা পড়া হয়েছে, দ্বিতীয় রাকায়াতে সেইরূপ রুকু ও সিজদাহ্ করতে হবে ও তদ্রুপ পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকায়াতের সিজদাহ্ হতে উঠে নিজের বাম পা বিছিয়ে তার উপর বসতে হবে এবং ডান পা খাড়া করে রাখতে হবে এবং উহার অঙ্গুলীগুলো ক্বিবলার দিকে করতে হবে। ডান হাতকে ডান উরুর এবং বাম হাতকে বাম উরুর উপর রাখতে হবে, হাতের অঙ্গুলীগুলো ফাঁক না করে স্বাভাবিকভাবে বিছিয়ে রাখতে হবে, অঙ্গুলীসমূহের অগ্রভাগ দু’হাঁটু বরাবর করে রাখতে হবে। স্ত্রীলোক হলে নিতম্বের উপর বসে পদদ্বয়কে ডান দিকে বের করে দিতে হবে। তারপর তাশাহুদ বা আত্তাহিয়্যাতু পড়তে হবে। সহীহ্ মতে, “আশ্হাদু আল্লা ইলাহা” বলার সময় ডান হাতের শাহাদত অঙ্গুলী উঠিয়ে ইশারা করতে হবে, “ইল্লাল্লাহু” বলে নামাতে হবে। অর্থাৎ “আশহাদু আল্লা”-এর “লা” বলার সময় অঙ্গুলী উঠিয়ে “ইল্লাল্লাহু”-এর “হু” বলার সময় নামাতে হবে।
দু’রাকায়াত নামায হলে দরূদ শরীফ ও দোয়া মা’ছূরা পড়ে ডান দিকে মুখ ফিরিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহ্মাতুল্লাহ্’ বলতে হবে। তারপরে বাম দিকে মুখ ফিরিয়ে উক্তরূপ সালাম বলতে হবে, কিন্তু প্রথমবার অপেক্ষা দ্বিতীয়বার অল্প আওয়াজে বলতে হবে। তিন বা চার রাকায়াত নামায হলে, আত্তাহিয়্যাতু পড়ে তাকবীর বলে দাঁড়াতে হবে। ফরজ নামায চার রাকায়াত হলে, তৃতীয় ও চতুর্থ রাকায়াতে বিসমিল্লাহ্সহ কেবল সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। আর বিত্র, সুন্নত, নফল হলে, সূরা ফাতিহার পরে অন্য একটা সূরা পড়তে হবে। তিন বা চার রাকায়াত শেষ হলে বসে আত্তাহিয়্যাতু, দরূদ শরীফ ও দোয়ায়ে মা’ছূরা পড়ে দু’দিকে সালাম ফিরাতে হবে। পরে দু’হাত তুলে মুনাজাত করতে হবে শেষ হলে দুই হাতের তালু দ্বারা চেহারা মাছেহ্ করতে হবে।
ফিক্বহুস্ সুনান : নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান: নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান মুছাফির ব্যক্তির নামাযের বয়ান