-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে এরশাদ করেন,
قد افلح المؤمنون الذين هم فى صلاتهم خشعون.
অর্থঃ- “ঐ সকল মু’মিনই সফলতা লাভ করেছে যারা তাদের নামাযকে খুশু-খুযু’র সাথে আদায় করেছে।” (সূরা মু’মিনুন/১-২)
হাদীস শরীফে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,
لا صلوة الا بحضور القلب.
অর্থঃ- “হুজুরী ক্বল্ব ব্যতীত নামায কবুল হয় না।”
কুরআন-সুন্নাহ্ শরীফে বর্ণিত খুশু-খুযু’ বা হুজুরী-এর দু’ধরণের ব্যাখ্যা করা হয়েছে –
(১) বাতেনী হুজুরী, যা ইল্মে তাছাউফ অর্জন বা হক্কানী-রব্বানী ওলী আল্লাহ্র হাতে বাইয়াত হয়ে ক্বলবী যিক্র-ফিক্রের দ্বারা রূহানিয়ত লাভের মাধ্যমে হাছিল হয়। অর্থাৎ ক্বলবী যিক্র-আযকার করে অন্তরের বদ খাছলতসমূহ দূর করতঃ অন্তরে ইখলাছ পয়দা করা। ইহাই হচ্ছে হাক্বীক্বী হুজুরী।
(২) জাহেরী হুজুরী, তা হচ্ছে- নামাযের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় যথাযথভাবে আদায়পূর্বক নামায আদায় করা। আর এ সম্পর্কিত অনেক বর্ণনাই ইতোপূর্বে “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” এ “ফিক্বহুস্ সুনান” কলামে পত্রস্থ হয়েছে। মাঝে কিছু সংখ্যায় তা ধারাবাহিকভাবে পত্রস্থ না হওয়ায় পাঠকদের পুনঃ পুনঃ আবেদন-নিবেদনের প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ পাক-এর খাছ রহমতে এ সংখ্যা হতে পুনরায় উক্ত কলামটি প্রকাশ করা হলো।
পূর্বের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী এ সংখ্যায় ছলাত বা নামায আদায়ের তরতীব পেশ করা হলো।
নামায আদায়কালে প্রথমে নামাযের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। দাঁড়ানোর সময় পাদ্বয়ের মাঝখানে চার আংগুল হতে এক বিঘত পরিমাণ ফাঁক রেখে দাঁড়াতে হবে। স্বাস্থ্যের কারণে এক বিঘত ব্যবধানের মধ্যে দাঁড়ানো সম্ভব না হলে যেভাবে দাঁড়ালে আছান বা সহজ হয় সেভাবে দাঁড়াতে হবে।
নামাযের নিয়ত করে দু’হাত উঠিয়ে দু’টি বৃদ্ধা অঙ্গুলী দ্বারা দু’কানের লতি স্পর্শ করতে হবে, মাথা সোজা রাখতে হবে। স্ত্রীলোক হলে তার অঙ্গুলীগুলোর অগ্রভাগকে দু’কাঁধের বরাবর উঠাতে হবে। দু’হাত উঠাবার সময় অঙ্গুলীগুলোকে মিলিয়ে কিংবা ফাঁক ফাঁক করে রাখা যাবেনা, বরং স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে হবে এবং দু’হাতের তালুকে ক্বিবলামুখী করে রাখতে হবে। আল্লাহু শব্দের আলিফকে ও আকবার শব্দের আলিফকে কিংবা আকবার শব্দের ‘বা’ অক্ষরকে টেনে পড়া যাবেনা। টানলে নামায (সূচনাতেই) নষ্ট হবে। তাকবীর শেষ করে পুরুষ লোককে নাভীর নীচে ডান হাতের তালুকে বাম হাতের পিঠের উপর রাখতে হবে এবং বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলী দ্বারা বাম হাতের কব্জিকে ধরবে আর অবশিষ্ট তিন অঙ্গুলীকে বাম হাতের উপর বিছিয়ে রাখতে হবে। স্ত্রীলোককে বুকের উপর ডান হাতের তালুকে বাম হাতের উপর রাখতে হবে। মনে মনে ছানা পড়তে হবে, পরে চুপে চুপে তায়াওউয (আউযুবিল্লাহ্…) তারপর তাসমিয়াহ্ (বিছমিল্লাহ্…) অতঃপর সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। প্রত্যেক রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পূর্বে বিছমিল্লাহ্ পড়তে হবে, কিন্তু আউযুবিল্লাহ্ কেবল প্রথম রাকায়াতে পড়তে হয়, তা যে কোন নামাযই হোকনা কেন। সূরা ফাতিহা শেষ হলে ইমাম ও একা নামাযী এবং ক্বিরআত শুনতে পায় এমন মুক্তাদী চুপে চুপে আমীন (কবুল করুন) বলবেন (কারণ আমীন কুরআন শরীফের কোন শব্দ নয় উপরন্ত এটা একটা দোয়া বা প্রার্থনাসূচক শব্দ, আর কোন দোয়া নামাজে উচ্চস্বরে বলার বিধান নেই)। সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মিলানোর পূর্বে “বিছমিল্লাহ্” বলার সূরত বা অবস্থা নিম্নরূপ-
নামায যদি জেহ্রী বা স্বশব্দের হয়, তখন যে সূরা পাঠ করা হবে, তা প্রথম থেকে পাঠ করা হোক বা মাঝখান থেকেই পাঠ করা হোক ‘বিছমিল্লাহ্’ বলতে হবেনা। আর যদি নামায র্সিরী’ বা চুপে চুপে হয়, তখন সূরার প্রথম থেকে পাঠ করলে “বিছমিল্লাহ্” বলতে হবে, কিন্তু সূরার মধ্য থেকে পাঠ করলে “বিছমিল্লাহ” বলতে হবেনা।
সূরা ফাতিহা শেষ করে অন্য একটি (যা কমপক্ষে ১৮ অক্ষর বিশিষ্ট) সূরা অথবা (কমপক্ষে ছয় অক্ষর বিশিষ্ট) তিন আয়াত পড়বে। (অসমাপ্ত)
ফিক্বহুস্ সুনান নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান: নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান মুছাফির ব্যক্তির নামাযের বয়ান