ফিক্বহুস্ সুনান: নামায আদায়ের তরতীব

সংখ্যা: ৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

নামায আদায়ের তরতীবের মধ্যে যে সমস্ত স্থানে মেয়েদের নামায আদায়ের নিয়ম পুরুষের নামায আদায়ের নিয়মের ব্যতিক্রম সে সম্পর্কিত আলোচনা

১. তাকবীরে তাহ্রীমা বাঁধার সময় পুরুষদেরকে কান পর্যন্ত হাত উঠাতে হবে। আর মেয়েদেরকে কাঁধ  বরাবর হাত উঠাতে হবে।

২. ওজরের কারণে হাত ভিতরে রাখার প্রয়োজন না হলে পুরুষদেরকে চাদর ইত্যাদি হতে হাত বের করে কান পর্যন্ত হাত উঠাতে হবে। আর মেয়েদেরকে হাত বের না করে কাপড়ের ভিতর রেখেই কাঁধ পর্যন্ত উঠাতে হবে।

৩. পুরুষদেরকে হাত বাঁধার সময় ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা অঙ্গুলী দ্বারা বাম হাতের কব্জি পেঁচিয়ে ধরতে হবে এবং অনামিকা, মধ্যমা ও শাহাদত অঙ্গুলী বাম হাতের কব্জির উপর বিছিয়ে রাখতে হবে। আর মেয়েদেরকে শুধু ডান হাতের  হাতলি বাম হাতের উপর রাখতে হবে, কিন্তু কব্জি ধরতে হবে না।

৪. পুরুষদের নাভীর নীচে হাত বাঁধতে হবে। আর মেয়েদের বুকের উপর হাত বাঁধতে হবে।

৫. রুকু করার সময় পুরুষদের এমনভাবে ঝুকতে হবে যেন মাথা, পিঠ ও নিতম্ব বরাবর হয়। আর মেয়েদের এই পরিমাণ ঝুকতে হবে যাতে হাতের অঙ্গুলী হাটু পর্যন্ত পৌঁছে।

৬. রুকুর সময় পুরুষদেরকে হাতের অঙ্গুলীগুলি ফাঁক ফাঁক রেখে হাঁটু ধরতে হবে। আর মেয়েদেরকে অঙ্গুলীগুলো মিলিয়ে অঙ্গুলীগুলোর অগ্রভাগ হাঁটুর উপর রাখতে হবে।

৭. রুকু অবস্থায় পুরুষদেরকে দু’হাতের কনুই পাজঁর বা পার্শ্বদেশ হতে ফাঁক রাখতে হবে। আর মেয়েদেরকে কনুই পাঁজরের সঙ্গে মিলিয়ে রাখতে হবে এবং হাঁটু কিছুটা বাঁকাতে হবে।

৮. সিজদাকালে পুরুষদের পেট উরু হতে এবং বাজু বগল হতে পৃথক রাখতে হবে। আর মেয়েদের পেট রানের সঙ্গে এবং বাজু বগলের সঙ্গে মিলিয়ে রাখতে হবে।

৯. সিজদার সময় পুরুষদের দু’হাতের কনুই যমীন হতে উপরে রাখতে হবে। আর মেয়েদের দু’হাতের কনুই যমীনের উপর বিছিয়ে রাখতে হবে।

১০. সিজদার মধ্যে পুরুষদের পায়ের অঙ্গুলীগুলো ক্বিবলার দিকে মুড়িয়ে তার উপর ভর দিয়ে উভয় পায়ের পাতা খাঁড়া করে রাখতে হবে। আর মেয়েদের উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বের করে যমীনে বিছিয়ে রাখতে হবে।

১১. তাশাহহুদ পাঠকালে অর্থাৎ বসার সময় পুরুষদেরকে ডান পায়ের অঙ্গুলীগুলো ক্বিবলার দিকে মুড়িয়ে তার উপর ভর দিয়ে ডান পায়ের পাতা খাড়া রেখে বাম পায়ের পাতা বিছিয়ে তার উপর বসতে হবে। আর মেয়েদেরকে পায়ের উপর না বসে বরং চোতড়ের উপর ভর করে বসতে হবে। এবং উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বের করে দিতে হবে। এবং ডান রান বাম রানের উপর এবং ডান পায়ের নলা বাম পায়ের নলার উপর রাখতে হবে।

১২. মেয়ে লোকদের নামাযের জামায়াত করা এবং জামায়াতে হাজির হওয়া মাকরূহ।

১৩. মেয়েদের জামায়াত হলে পুরুষের ন্যায় ইমাম সম্মুখে দাঁড়াতে পারবেনা বরং কাতারের মধ্যেই দাঁড়াতে হবে।

১৪. পুরুষের সাথে মেয়েদেরকে নামায পড়তে হলে পুরুষ ইমামের পাশে না দাঁড়িয়ে পিছনে দাঁড়াতে হবে। তবে মেয়েদের জন্য জামায়াতে হাজির হওয়া যেহেতু মাকরূহ তাই এ মাসয়ালা স্বামী-স্ত্রী এবং শুধু মাহ্রাম পুরুষের সাথে জামায়াতে নামায পড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

১৫. মেয়ে লোকের জন্য জুমুয়ার নামায ফরয নয়।  যদি পড়ে তাহলে আদায় হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, মেয়েদের জন্য জুমুয়ায় যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী, পর্দার খেলাফ হলে হারাম।

১৬. মেয়ে লোকের জন্য দু’ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। তাদের ঈদগাহে যাওয়াও মাকরূহ্ তাহ্রীমী, পর্দার খেলাফ হলে হারাম।

১৭. পুরুষের জন্য ফজরের ওয়াক্তে ভালভাবে আকাশ পরিস্কার হলে ফরয নামায পড়া মুস্তাহাব। কিন্তু মেয়েদের জন্য সুবহ্ েসাদিকের শুরু ভাগে অর্থাৎ আধাঁর থাকতেই পড়া মুস্তাহাব।

১৮. পুরুষদের ন্যায় মেয়েদের জন্য উচ্চ শব্দে ক্বিরয়াত, তাকবীর বলার ইজাযত নেই। তাদেরকে সব সময় সব নামাযের ক্বিরয়াত, তাকবীর ইত্যাদি চুপে চুপে পড়তে হবে।

ফিক্বহুস্ সুনান : নামায আদায়ের তরতীব

ফিক্বহুস্ সুনান নামায আদায়ের তরতীব

ফিক্বহুস্ সুনান মুছাফির ব্যক্তির নামাযের বয়ান

ফিক্বহুস্ সুনান মুছাফির ব্যক্তির নামাযের বয়ান

ফিক্বহুস্ সুনান অসুস্থ ব্যক্তির নামাযের বয়ান