ফিক্বহুস্ সুনান: নামায ভঙ্গকারী বিষয় সমূহের বয়ান

সংখ্যা: ১০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

(পুর্ব প্রকাশিতের পর)

২১। আমলে কাছীর নামায ভঙ্গের কারণ। একই রোকনে দু’বারের বেশী শরীর চুলকালে আমলে কাছীর হয়। ক্বিরয়াত, রুকু, সিজদা ইত্যাদি আলাদা একটি রোকন। অতএব, কেউ যদি শুধু ক্বিরয়াত পাঠের সময় অথবা রুকুতে অথবা সিজদাতে থাকা অবস্থায় দু’বারের বেশী শরীর চুলকায় তবে তার নামায ভঙ্গ হয়ে যাবে। ২২। তায়াম্মুম করে নামায আরম্ভ করতঃ পানি পেলে উক্ত নামায বাতিল হবে এবং পুনরায় ওজু করে নামায আদায় করতে হবে। ২৩। ফুঁ দিয়ে সিজদার স্থান হতে ধুলা-বালি সরিয়ে ফেললে। ২৪। মোজা মাসেহ্কারীর নামাযের মধ্যে মাসেহের মুদ্দত (সময়-সীমা) শেষ হয়ে গেলে। ২৫। অক্ষম অবস্থায় ইশারায় নামায আরম্ভ করে নামাযের মধ্যেই রুকু, সিজদা করতে সক্ষম হলে। অথবা মা’জুর অবস্থায় নামায আরম্ভ করে নামাযের মধ্যে ওজর দূর হলে। ২৬। ওয়াক্তের ফরয নামায আদায় করা অবস্থায় ছাহেবে তরতীবের ক্বাযা নামাযের কথা স্মরণ হলে। উল্লেখ্য, তিন কারণে তরতীব রক্ষা করতে হয়না। (ক) নামায পাঁচ ওয়াক্তের বেশী ক্বাযা থাকলে, (খ) ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় কম থাকলে অর্থাৎ ক্বাযা নামায পড়তে গেলে ওয়াক্তের নামায ক্বাযা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, (গ) ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করার সময় ক্বাযা নামাযের কথা ভুলে গেলে। ২৭। ফজরের নামায আদায় করার মধ্যে সূর্যোদয় হলে। ২৮। যে কোন কারণে ওজু ভঙ্গ হলে। ২৯। বেহুশ কিংবা পাগল হয়ে গেলে। ৩০। যদি ইমাম ছাহেব নামায পড়ার সময় ভুল করে আর নিজ মুক্তাদী ব্যতীত অন্য কেউ লোকমা দিলে, ইমাম ঐ লোকমা গ্রহণ করলে তার নামায বাতিল হবে। ৩১। যদি কেউ নামাযে এমন আয়াত শরীফ পড়ে যে, অন্যান্য লোক তাতে হিদায়েত লাভ করে তবে হিদায়েতের নিয়তে এরূপ পড়লে নামায বাতিল হবে। ৩২। শরীর কিংবা কাপড়ে যে পরিমাণ নাপাক লাগলে নামায ভঙ্গ হয় সেই পরিমাণ নাপাক দ্রব্যসহ নামায আদায় করলে। ৩৩। নামাযের কোন রোকন ইমাম ছাহেবের পূর্বে মুক্তাদী আদায় করলে মুক্তাদীর নামায বাতিল হয়ে যাবে।

ফিক্বহুল হাদীস ওয়াল আছার পীর ছাহেব ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৫৩)

ফিক্বহুস সুনান নামায ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের বয়ান

ফিক্বহুস্ সুনান নামাযের মাকরূহ্ সমূহের বয়ান

ফিক্বহুস্ সুনান: নামাযের মাকরূহ্ সমূহের বয়ান 

ফিক্বহুস্ সুনান নামাযের মাকরূহ্ সমূহের বয়ান