-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ
কোন ব্যক্তি তিন মঞ্জিল বা ৪৮ মাইল পরিমাণ দূরবর্তী স্থানে ছফরে গেলো এবং ১৫ দিনের কম সময় সেখানে থাকার নিয়ত করলো কিন্তু সেখান হতে আজ বিদায় হয়, কাল বিদায় হয় এরূপ অনিশ্চয়তার মধ্যে যদি ১৫ দিনের বেশী এমনকি মাসের পর মাস কেটে যায় তবুও কছর আদায় করতে হবে।
কোন ব্যক্তি ৪৮ মাইল দূরবর্তী স্থানে গিয়ে সেখানে ১৫ দিন থাকার নিয়ত করে পুরো নামায আদায় করতে লাগলো কিন্তু পরে দেখা গেলো যে, সে ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যেই সেখান হতে বিদায় হয়ে যাবে। এ অবস্থায়ও যতদিন সেখানে থাকবে ততদিন পুরো নামায আদায় করতে হবে।
মুক্বীম ও মুছাফির উভয়ে উভয়ের পিছনে ইক্তিদা করতে পারে। সুতরাং মুছাফির ব্যক্তি মুক্বীম ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে পুরো চার রাকায়াত নামাযই আদায় করতে হবে। আর মুছাফির ব্যক্তি ইমাম হলে এবং মুক্তাদীগণ মুকীম হলে ইমাম দু’রাক্য়াত নামায শেষ করে সালাম ফিরাবেন। অতঃপর মুক্তাদীগণ দাঁড়িয়ে বিনা ক্বিরয়াতে অবশিষ্ট দু’রাক্য়াত আদায় করবেন। অর্থাৎ মুছাফির ইমাম দু’রাক্য়াত নামায শেষে ডান দিকে সালাম ফিরানোর পর যখন বাম দিকে সালাম ফিরাতে শুরু করবেন তখন মুক্তাদীগণ সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে হাত বেঁধে ফেলবেন এবং কোন রূপ সূরা-ক্বিরয়াত না পড়ে কেবল সূরা ফাতিহা অথবা তিন তাছবীহ্ পাঠ করা পরিমাণ সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে রুকু-সিজ্দা করে পরবর্তী দু’রাক্য়াত একাকি আদায় করে নামায শেষ করবেন। অতঃপর ইমাম ছাহেব সকল মুক্তাদীকে নিয়ে দোয়া-মুনাজাত করবেন। এছাড়া মুছাফির ইমামকে নামায শুরু করার পূর্বে কিংবা নামায শেষ করার পর মুক্তাদীগণকে অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করার কথা জানিয়ে দিতে হবে।
কোন মেয়েলোক তার মাসিক বা ঋতু অবস্থায় চার মঞ্জিল যাওয়ার ইচ্ছা করে বাড়ী হতে রওয়ানা করলো কিন্তু দুই মঞ্জিল যাওয়ার পর সে পাক হয়েছে, এ অবস্থায় সে মুছাফির হবেনা। গোসল করে অবশিষ্ট রাস্তায় তাকে পুরো নামায আদায় করতে হবে। অবশ্য পাক হওয়ার পরও অবশিষ্ট রাস্তা যদি তিন মঞ্জিল পরিমাণ থাকে বা বাড়ী হতে যখন চলেছে তখন পাক ছিল, কিন্তু নিজ শহর অতিক্রম করার পর পথিমধ্যে ঋতু শুরু হয়েছে তখন সে মুছাফির। পাক হওয়ার পর কছর আদায় করতে হবে।
এক ব্যক্তি তিন মঞ্জিল যাওয়ার নিয়ত করে বাড়ী হতে বের হয়েছিল কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর নিয়ত বদল করে বাড়ী ফিরে আসলো, তবে যখন থেকে বাড়ী ফিরার ইচ্ছা করেছে, তখন হতেই আবার পুরো নামায আদায় করতে হবে, অবশ্য নিয়ত বদল হওয়ার পূর্বে যে নামাযের কছর পড়েছে, তা জায়েয হয়েছে।
যদি কেউ জন্মভূমি সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করে অন্যত্র গিয়ে বাড়ী করে, তবে ঐ জন্মভূমির হুকুম এবং বিদেশের হুকুম একই হবে, অর্থাৎ সেই জন্মভূমির গ্রামে বা সেই শহরে প্রবেশ করলে বিনা নিয়তে সে মুক্বীম হবেনা, কিন্তু যদি তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ না করে প্রথম বাড়ীও রাখে অন্যত্রও বাড়ী তৈরী করে, তবে উভয় স্থানকেই তার “ওতনে আছলী” ধরা হবে এবং উভয় স্থানেই প্রবেশ করা মাত্র বিনা নিয়তে মুক্বীম হয়ে যাবে।
যদি কারো মুছাফিরী হালতে নামায ক্বাযা হয় এবং সেই নামায মুক্বিমী হালতে আদায় করতে চায় তবে যোহ্র, আছর ও ইশার দু’রাক্য়াত ক্বাযা আদায় করতে হবে, এরূপ মুক্বিমী হালতে যদি নামায ক্বাযা হয়ে থাকে এবং সেই নামায মুছাফিরী হালতে আদায় করতে চায়, তবে চার রাক্য়াত বিশিষ্ট নামাযের ক্বাযা চার রাক্য়াতই আদায় করতে হবে।
যদি কোন ব্যক্তি তিন মঞ্জিল যাওয়ার ইচ্ছা করে বাড়ি হতে বের হয়েছে কিন্তু পথিমধ্যে কয়েক জায়গায় অবস্থান করারও ইচ্ছা আছে, কোথাও ৩দিন, কোথাও ৫দিন, কোথাও ৭দিন, কোথাও ১০ দিন কিন্তু কোথাও পূর্ণ ১৫দিন থাকার ইচ্ছা নেই তবে তাকে উক্ত সব জায়গাতেই কছর পড়তে হবে।
কোন শহর যদি এমন বড় হয় যার একপ্রান্ত হতে অপর প্রান্তের দূরত্ব ৪৮ মাইলের বেশী। তখন পুরো শহরের হুকুম এক হবে না। তখন শহরস্থ মহল্লা বা এলাকার হুকুম হবে। অতএব, কোন ব্যক্তি উক্ত শহরের এক এলাকা হতে ৪৮ মাইল দূরবর্তী অন্য এলাকায় গমন করলে সে মুছাফির হিসেবে গণ্য হবে।
মুছাফির যদি একই শহরের এমন দু’স্থানে ১০ দিন ১০ দিন করে ২০ দিন অবস্থান করে, যে দু’স্থানের দূরত্ব এই পরিমাণ হয় যে, খালি মুখে আযান দিলে আযান শোনা যায় তবে উক্ত দু’স্থানের হুকুম এক হবে এবং সে মুকিম হবে। আর আযান শোনা না গেলে দু’স্থানকে আলাদা গন্য করতে হবে এবং সে উভয় স্থানে মুছাফির হবে।
ফিক্বহুস্ সুনান : নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান নামায আদায়ের তরতীব
ফিক্বহুস্ সুনান: নামায আদায়ের তরতীব