বাংলাদেশের সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে ইউরোনিয়ামসহ মহামূল্যবান খনিজ সম্পদ।সঠিক উপায়ে উত্তোলন ও রফতানী করলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সেরা ধনী দেশ। দুষ্প্রাপ্য ও বহুমূল্যবান এসব খনিজ সম্পদগুলো কাজে লাগাতে সরকারকে গ্রহণ করতে হবে সমন্বিত পরিকল্পনা।

সংখ্যা: ২৭০তম সংখ্যা | বিভাগ:

বিগত বিংশ শতাব্দীর সত্তরের দশকের দিকে আরবীয় দেশসমূহের সামগ্রিক অর্থনীতির রূপ, মরুভূমির বুকে তরল সোনা, জ্বালানি তেল পাওয়ার পর যেভাবে বদলে গিয়েছিলো, তার চেয়েও বহুগুণ বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি, নীল সমুদ্রে গভীর-অগভীর তলদেশে সন্ধান পাওয়া সম্পদ রাশি আহরণ করা গেলে।

‘দৈনিক আল ইহসান’ শরীফে বহু আগে থেকে তা প্রকাশ করা হলেও গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের গভীর ও অগভীর সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে মহামূল্যবান বিভিন্ন খনিজ সম্পদ। যার মধ্যে রয়েছে ইউরোনিয়াম ও থোরিয়াম। আর অগভীর সমুদ্রের তলদেশে রয়েছে, বিপুল পরিমাণ ‘ক্লে’; যা সিমেন্ট তৈরির প্রধান কাঁচামাল। এছাড়া বঙ্গোপসাগরের ১৩টি স্থানে ভারী খনিজ বালু পাওয়া গেছে। এ বালু ইলমেনাইট, গার্নেট, সিলিমানাইট, জিরকন, রুটাইল ও ম্যাগনেটাইট সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ ও জার্মানির যৌথ জরিপে  সাগরের ৮০ থেকে ১১০ মিটার গভীরতায় এই মূল্যবান সম্পদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গভীর ও অগভীর সমুদ্রের তলদেশের এইসব খনিজ সম্পদের সন্ধান বাংলাদেশের জন্য অতীব সম্ভাবনাময়। কারণ অগভীর সমুদ্রের তলদেশে কোবাল্ট, ভানাডিয়াম, মলিবডেনাম ও প্লাটিনামে গঠিত ম্যাঙ্গানিজ ক্রাস্ট এবং তামা, সিসা, জিংক, কিছু পরিমাণ সোনা ও রুপা দিয়ে গঠিত সালফাইডের অস্তিত্ব আছে। এসব অতি মূল্যবান সম্পদ সমুদ্রের ১৪০০ থেকে ৩৭০০ মিটার গভীরে রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের তলদেশ শুধু অপার খনিজ সম্পদেই পূর্ণ নয় ৩০ থেকে ৮০ মিটার গভীরতায় এক ধরনের ‘ক্লে’র সন্ধান পাওয়া গেছে। অগভীর সমুদ্রের এই ক্লে উত্তোলন করা গেলে বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্পে বিপ্লব ঘটে যাবে। কারণ ক্লে সিমেন্ট উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল। সমুদ্রে মূলত দুই ধরনের সম্পদ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে প্রাণিজ (লিভিং) ও অপ্রাণিজ (নন-লিভিং) সম্পদ। অপ্রাণিজ সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল, গ্যাস, চুনাপাথর প্রভৃতি। খনিজের মধ্যে আরো রয়েছে ১৭ ধরনের খনিজ বালু। এর মধ্যে ৮টি খনিজ বালু বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। এগুলোর দামও বেশি। বঙ্গোপসাগরের অর্জিত সমুদ্রসীমা থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন এসব খনিজ বালু আহরণ করা সম্ভব। এছাড়াও সাগরের তলদেশে ক্লেসার ডেপোজিট, ফসফরাস ডেপোজিট, এভাপোরাইট, পলিমেটালিক সালফাইড, ম্যাঙ্গানিজ নডিউল, ম্যাগনেসিয়াম নডিউল নামক খনিজ পদার্থ আকরিক অবস্থায় পাওয়া যাবে। এদের নিষ্কাশন করে লেড, জিংক, কপার, কোবাল্ট, মলিবডেনামের মতো দুষ্কর ধাতুগুলো আহরণ করা সম্ভব হবে। এসব দুষ্কর ধাতু উড়োজাহাজ নির্মাণ, রাসায়নিক কাজে এবং বিভিন্ন কলকারখানার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে যে খনিজ সম্পদ আছে, তা পৃথিবীর অন্য কোনো সাগর, মহাসাগর, উপসাগরে নেই। মণি, মুক্তা, স্বর্ণ, লোহা, তামা, রুপা, প্রবালসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদের পাহাড় পাহাড় মজুদ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৯৮ টন খনিজ পদার্থ অপরিশোধিত অবস্থায় আছে। জিরকন, কায়ানাইট, গারনেট, ম্যাগনেট্রাস্ট, মোনাজাইট, লিউকঙ্কিনসহ সৈকতবালিতে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলোর বিপুল চাহিদা রয়েছে দেশ-বিদেশের শিল্প-কারখানায়। বাদামি রঙের মোনাজাইট অতি মূল্যবান পদার্থ। এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এবং পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশ্ববাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এসব সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ রফতানী করে আয় করা যেতে পারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।

কিন্তু বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা যদি সঠিকভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উত্তোলন করা যেত, তাহলে বাংলাদেশ অথর্নীতিসহ সবদিক দিয়ে বিশ্বের সেরা ধনী দেশে পরিণত হতে পারতো। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশের সরকার এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অবহেলার উপর ছেড়ে দিয়েছে। এদেশের সর্বমোট সমুদ্রসীমা এখন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু এতে কি পরিমাণ সম্পদ আছে জানে না সরকার। এসব বিষয়ে কখনোই মনোযোগ দেয়া হয়নি। নেই কোনো পরিসংখ্যান। বর্তমান যে জরিপটি প্রকাশিত হয়েছে তাও জার্মানির সহযোগিতায় করা হয়েছে।

বলাবাহুল্য, বিগত ২০১৬ সালের ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলো- ‘সমুদ্রের এসব মূল্যবান খনিজ সম্পদ দ্রুত আহরণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করতে পারলে তা বেহাত হয়ে যাবে’। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এই শঙ্কা প্রকাশের সাথে একমত হয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশের খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অনুসন্ধানী সংস্থাগুলো নিষ্ক্রিয় রয়েছে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন লুটেরা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে এসে এইসব সমুদ্র সম্পদের ব্যাপারে নানা জরিপ পরিচালনা করছে। যার মধ্যে বেশিরভাগ সম্পর্কেই সরকার বেখবর। ফলে এই সম্পদগুলো চুরি হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

সঙ্গতকারণেই আমরা বলতে চাই, জনস্বার্থে বাংলাদেশ সরকারের উচিত- দেশকে সর্বোচ্চ উন্নততর করতে এসব খনিজ সম্পদগুলো আহরণের জন্যে দেশের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, পর্যটন, নৌ, মৎস্য, পরিবেশ, শিক্ষা, জ্বালানি, খনিজসম্পদসহ আরো অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন করা। সমুদ্রে খনিজ সম্পদের জরিপ, অনুসন্ধান, খনন ও আহরণের সুবিশাল কর্মযজ্ঞটি পরিচালনা করতে প্রশাসনিক জটিলতা থেকে মুক্ত রাখা।

সেইসাথে দরকার হবে সমুদ্রতলের মূল্যবান সম্পদরাজি শনাক্তকরণ ও উত্তোলনের জন্যে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, কারিগরি সক্ষমতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ।

কার্যতঃ এই সম্পদই যে গোটা বাংলাদেশবাসীর ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারে তাও সহজেই অনুমেয়। এজন্য সম্পদ রক্ষা ও অনুসন্ধানে নিয়োজিত প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও শিল্পোন্নত বিভিন্ন দেশ ও বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে। তাই এগুলোকে এখনই কাজে লাগানোর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা ও বিশদ গবেষণা প্রয়োজন। যথার্থ গবেষণা, ডাটা সংগ্রহ, তথ্যানুসন্ধানসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ ও উদ্যমের পাশাপাশি প্রয়োজন ইসলামী মূল্যবোধে উজ্জীবিত অনুভূতি ও জজবা।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারকেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব।

-মুহম্মদ মাহবুবুল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)