বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি ভারতের দখলে। উদ্ধারে নেই সরকারের সক্রিয়তা। এই বিপুল পরিমাণ ভূমি ভারতের হাতে দখল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ত্বের উপর মারাত্মক হুমকি। সরকার সজাগ হবে কবে?

সংখ্যা: ২৭৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

সম্প্রতি বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের কাছে জমি চেয়েছে ভারত। এ নিয়ে দুই দেশেই আলোচনা চলছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভারতকে তো জমি দেয়াই যাবেনা উল্টো ভারতের কাছে বাংলাদেশের যে বিপুল পরিমাণ জমি দখলে রয়েছে সেগুলো ফেরত আনতে হবে।

ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ পরশুরামের মুহুরীর চরের প্রায় ৬০ একর জমি ফেরত পাবে বাংলাদেশ। সীমানা নির্ধারণ করতে বিজিবি ও বিএসএফ জরিপ পরিচালনা করছে। দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে মুহুরীর চর নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন বাংলাদেশের সার্বভৌম অঞ্চল মুহুরীর চরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা ভারত দখলে নিয়েছে। উন্নততর প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মুহুরী নদীতে স্পার ও গ্রোয়েন নির্মাণের মাধ্যমে নদীর গতিধারাকে ভারত ক্রমান্বয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে বাংলাদেশের ভূ-অভ্যন্তরে সুকৌশলে ঠেলে দিচ্ছে। এ কারণে ক্রমাগত উত্তর অংশে (ভারত) চরের সৃষ্টি হয়ে নদী মোহনা বাংলাদেশের গভীরে ঢুকে গেছে। সীমান্ত অঞ্চলের তথ্যাবলী অনুসন্ধানে জানা যায়, মুহুরী নদীর পাশে ভারত সীমান্তের ওপারে বিলোনিয়া (ত্রিপুরা রাজ্যের মহকুমা) শহর থেকে ৪০ ফুট প্রশস্থ নতুন সড়ক তৈরির কাজে সম্পন্ন করেছে।

কাগজপত্রে জমি বাংলাদেশের, দখল ভারতের। বছরের পর বছর ধরে এই অবস্থা চলে আসছে। কোনো বাদ প্রতিবাদ নেই। অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে ঝুলে আছে স্বাধীনতার পর থেকে। বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জরিপ ও দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে বহুবার। কিন্তু কোনো ফয়সালা হয়নি। সীমান্তবাসীদের অভিযোগ- ভারতের দখলে থাকা জমি উদ্ধারে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই।

অমীমাংসিত জমির বিষয়টি সরকারকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি সীমান্তের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের। জমির কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করে দু’দেশের বৈঠকে জোরালো বার্গেনিং করা উচিত সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। সীমান্তবাসীরা এখনো বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।

ভারতের দখলে বাংলাদেশের ৫০ হাজার একরের বেশি জমি রয়েছে বলে বেসরকারি হিসাব মতে জানা যায়। বিভিন্ন সময়ে ভারত বাংলাদেশের জমি দখল করে নিচ্ছে, যা আর উদ্ধার হচ্ছে না বা ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দখল ছাড়ছে না। পত্রিকায় প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়- বাংলাদেশের প্রায় ৪০ হাজার একর জমি ভারতের অবৈধ দখলে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি এলাকায় ১৭০০, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, বোদা এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় ২৮২৭, পশুরাম নদীর তীরবর্তী ২০০০, যশোরের শর্শা এলাকায় ৫০০, সিলেট এলাকায় ৩৬৭, সুনামগঞ্জ এলাকায় ৩২৯৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পীরগঞ্জ এলাকায় ৬৫০০, কুড়িগ্রাম এলাকায় ৩৮০, ফেনীর মাইচার ২৪, সাতক্ষীরার দক্ষিণ তালপট্টি ১০,০০০, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সীমান্ত এলাকায় ১০,০০০, ডিমলা-সাতীন সীমান্তে কয়েক হাজার একর জমি ভারতের দখলে।

সর্বশেষ বেসরকারি হিসাবে (বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী) সুরমা-কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে জেগে উঠা চরের প্রায় ৩৫০০ বিঘা জমি ভারত দখল করে নেয়। মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের ২০০০ বিঘা জমি ভারত দখল করে নেয়। জীবননগর উপজেলার ৬১নং মেইন পিলার থেকে ৯নং সাব পিলার পর্যন্ত ৯৫ বিঘা, দামুড়হুদা বাড়াদী সীমান্তের ৮০নং মেইন পিলার থেকে ৮২নং পিলার পর্যন্ত ২৭৫ বিঘা, ঠাকুরগাঁও সীমান্তের ৮৯নং মেইন পিলার থেকে ৯১ নং পিলার পর্যন্ত ৩০ বিঘা, মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্তের ১২১ থেকে ১২২নং পিলার পর্যন্ত ৮২ বিঘা, ষোলমারী ও রুদ্রপুর সীমান্তের ১২৫ থেকে ১২৯ নং পিলার পর্যন্ত ৪০ বিঘা, গাংনী উপজেলার তেঁতুলিয়া, কাজীপুর, বিলধলা সীমান্তের ১৩৩ থেকে ১৪৬নং পিলার পর্যন্ত ৩০০ বিঘা, কুষ্টিয়ার পাকুরিয়া সীমান্তের ১৫৩ থেকে ১৫৪নং পিলার পর্যন্ত ৩৫০ বিঘা এবং ১৪২ থেকে ১৫১নং পিলার পর্যন্ত ৬২৫ বিঘা জমি ভারতের দখলে। চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্তের ১৪০০ বিঘা জমি ২৩ বছর ধরে ভারতের দখলে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ভারত বাংলাদেশের এবং ভারতের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ৪১৫৬ (সমুদ্র সীমা বাদে) কিলোমিটার। নদী সীমান্ত ৯৭৬ কিলোমিটার। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ২১১২, আসামের সাথে ২৩১, মেঘালয়ের সাথে ৪৩৬, ত্রিপুরার সাথে ৮৭৪ ও মিজোরামের সাথে ৩২০ কিলোমিটার সীমান্ত। দক্ষিণ তালপট্টিও দখলে নিয়েছে ভারত। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সর্ববৃহৎ জনপদটির নাম তালপট্টি; যার দক্ষিণে জেগে উঠা দ্বীপটির নাম দক্ষিণ তালপট্টি। ১৯৭১ সাল থেকে ভারত সেটির দাবি করে আসছে। ১৯৭৪ সালে আমেরিকার স্যাটেলাইটে প্রথমে দ্বীপটির ছবি তোলা হয়। এতে থেকে জানা যায়- দ্বীপটির আয়তন ২৫০০ বর্গকিলোমিটার। এখানে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এই দ্বীপটি মালিকানা দাবি করে ভারত এর নাম রাখে পূর্বাশা বা নিউমুর আইল্যান্ড। ভারতের বক্তব্য হচ্ছে- হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর প্রধান গ্রোতধারা থেকে দ্বীপটি সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু স্যাটেলাইট থেকে পাঠানো ছবি বিজ্ঞানীরা বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বশিরহাট থানার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মূল গ্রোত দক্ষিণ তালপট্টিকে বামে রেখে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে। কাজেই দক্ষিণ তালপট্টি বাংলাদেশের। অপরদিকে বঙ্গোপসাগরের ২৯ হাজার বর্গ নটিক্যাল মাইলকে বাংলাদেশ নিজের সামুদ্রিক সীমা মনে করে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার মধ্যে নিজের অংশ দাবি করে ভারত। ভারত বাংলাদেশের সীমায় প্রবেশ করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান থেকে শুরু করে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারত বাংলাদেশের জায়গাজমি দখল করে কাঁটাতার দিয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করছে আর বাংলাদেশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। এমনকি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ১৫০ গজের মধ্যে (ভিতর) কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করার জন্য ভারতকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অপরদিকে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের চাষাবাদে ভারতের সীমান্ত বাহিনী (বিএসএফ) বাধা দিচ্ছে, গুলি করে হত্যা করছে। এতেও বাংলাদেশ সরকার রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে।

পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন, এখন সময় এসেছে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান নেয়ার এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের। কারণ এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ত্বের প্রতি আঘাত।

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)