বিশেষ কলাম:  মুসলমান উনাদের ঈমানী কালিমা শরীফ পবিত্র কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ শরীফ অস্বীকারকারী, ওহাবী, সালাফী, লামাযহাবীরা ইহুদী-নাছারাদের খাছ দালাল। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে তারা মুরতাদের অন্তর্ভুক্ত। তাদেরকে যারা সমর্থন করবে তারাও মুরতাদ হিসেবে গণ্য হবে। তাদের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদ-। রাজারবাগ শরীফ উনার পক্ষ থেকে তাদের প্রতি একশত কোটি টাকার প্রকাশ্য বাহাছের চ্যালেঞ্জ! (১)

সংখ্যা: ২৬৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সম্প্রতি কাদিয়ানী ফিৎনার চেয়েও ভয়ঙ্কর একটি ফিৎনা দেখা দিয়েছে। আর তাহলো মুসলমান উনাদের ঈমানী কালিমা শরীফ “পবিত্র কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ শরীফ” লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অস্বীকার করা। নাউযুবিল্লাহ!

ওহাবী, সালাফী ও লা-মাযহাবীরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মুসলমান উনাদের ঈমান-আক্বীদা বিনষ্ট করে বেঈমান বানানোর উদ্দেশ্যেই পবিত্র কালিমা শরীফ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বক্তব্য হলো-

(১) পবিত্র কালিমা শরীফ ছিহাহ সিত্তাসহ কোনো ছহীহ হাদীছ শরীফে নেই। তাই তা পাঠ করা যাবে না। নাউযুবিল্লাহ!

(২) মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক ও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক পাশাপাশি লিখা শিরক। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ একটি নয় দুটি নয় অসংখ্য অগনিত পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লিখিত পবিত্র কালিমা শরীফ বিদ্যমান রয়েছে।

কাজেই বলার অপেক্ষাই রাখেনা যে, পবিত্র কালিমা শরীফ অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে- অসংখ্য পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ অস্বীকার করা। অর্থাৎ যারা পবিত্র কালিমা শরীফ অস্বীকার করছে তারা কাট্টা মুরতাদের অন্তর্ভুক্ত। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে মুরতাদের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে- মৃত্যুদ-।

আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের কুফরী বক্তব্যগুলো খণ্ডন করাসহ অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ থেকে পবিত্র কালিমা শরীফ উনার অকাট্য দলীল-আদিল্লাহ তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ!

পবিত্র কালিমা শরীফ “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ” (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উনাকে যারা অস্বীকার করছে তারা বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। আর বাতিল ফিরক্বা সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, ছহিবে ইলমে গাইব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

سَتَفْتَرِقُ اُمَّتِـىْ عَلـٰى ثَلَاثٍ وَسَبْعِيْنَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِى النَّارِ اِلَّا مِلَّةً وَّاحِدَةً قَالُوْا وَمَنْ هِىَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا اَنَا عَلَيْهِ وَاَصْحَابِـىْ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وَفِىْ رِوَايَةِ اَحْمَدَ وَاَبِىْ دَاودَ عَنْ حَضْرَتْ مُعَاوِيَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ ثِنْتَانِ وَسَبْعُوْنَ فِى النَّارِ وَوَاحِدَةٌ فِى الْـجَنَّةِ وَهِىَ الْـجَمَاعَةُ.

অর্থ: “অতি শীঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাত প্রাপ্ত সে দলটি কোনো দল? নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি যে আক্বীদা ও আমলের উপর থাকার নির্দেশ মুবারক দিয়েছি এবং আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যে আক্বীদা ও আমলের উপর কায়েম রয়েছেন, সে আক্বীদা ও আমলের উপর যাঁরা ক্বায়িম থাকবেন (তারাই নাজাত প্রাপ্ত দল)। ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এটা বর্ণনা করেন। আর মসনদে আহমদ শরীফ ও আবূ দাউদ শরীফ উনার বর্ণনায় এসেছে “হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে, আর একটি দল জান্নাতে যাবে। মূলতঃ সে দলটিই হচ্ছে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।”

এছাড়াও মিশকাত শরীফ উনার শরাহ্- মিরকাত, শরহুত্ ত্বীবী, আশয়াতুল লুময়াত, তানযীমুল আশতাত, মুযাহিরে হক, তা’লীকুছ ছবীহ্, মিরআতুল মানাজীহ্ ও রদ্দে রাওয়াফিজ, তুহ্ফায়ে ইছ্না আশারীয়া, গুনিয়াতুত তালিবীন, তালবীসুল ইবলীস ইত্যাদি আরো অনেক কিতাবেই উল্লেখিত ৭২টি দলকে

كُلُّهُمْ فِى النَّارِ اِلَّا مِلَّةً وَّاحِدَةً

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ভিত্তিতে গোমরাহ্, বাতিল ও  জাহান্নামী বলা হয়েছে। নাঊযুবিল্লাহ!

মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার “পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ উনার ৮২নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

لَتَجِدَنَّ اَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِيْنَ اٰمَنُوا الْيَهُوْدَ وَالَّذِيْنَ اَشْرَكُوْا.

অর্থ: “তোমরা তোমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবে ইহুদীদেরকে। অতঃপর যারা মুশরিক তাদেরকে।” অর্থাৎ, সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমান উনার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্রথমতঃ ইহুদীরা, দ্বিতীয়তঃ মুশিরকরা, আর তৃতীয়তঃ হচ্ছে নাছারারা। এক কথায় সকল বিধর্মীরাই সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমান উনাদের শত্রু। তাই বলা হয়-

اَلْكُفْرُ مِلَّةٌ وَّاحِدَةٌ

অর্থ: “সমস্ত কাফিরেরা মিলে এক ধর্ম।” অর্থাৎ, কোনো কোনো বিষয়ে তাদের নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমান উনাদের ক্ষতিসাধনে তারা সবাই একজোট। ইহুদী-খ্রিস্টান, হিন্দু-বৌদ্ধ, মজূসী ও মুশরিক তারা সবাই মিলে সর্বদাই চেষ্টা করে থাকে কি করে মুসলমান উনাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যায় এবং তাদের ঈমান আমল নষ্ট করে কাফিরে পরিণত করা যায়। নাউযুবিল্লাহ!

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি “পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ উনার-১০৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

وَدَّ كَثِيْرٌ مِّنْ اَهْلِ الْكِتٰبِ لَوْ يَرُدُّوْنَكُمْ مِّنْۢ بَعْدِ اِيْـمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِنْدِ اَنْفُسِهِمْ

অর্থ: “ইহুদী-নাছারা তথা আহলে কিতাবদের মধ্যে অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোনো রকমে কাফির বানিয়ে দিতে।” নাঊযুবিল্লাহ!

কাজেই বিধর্মীরা যেহেতু সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমান উনাদের চরম পরম শত্রু তাই তারা হিংসার বশবর্তী হয়েই মুসলমান উনাদের ঈমান-আমল নষ্ট করে কাফির বানানোর লক্ষ্যেই ইসলাম ও মুসলমান উনাদের নামে বা ছূরতে সকল বাতিল ফিরক্বাগুলো আবিষ্কার করে। অর্থাৎ প্রতিটি বাতিল ফিরক্বাই ইহুদী-নাছারাদের এক নাম্বার দালাল বা এজেন্ট।

বর্তমানে সম্মানিত ইসলাম উনার নামে বা মুসলমান উনাদের ছূরতে সম্মানিত ইসলাম ও মুসলমান উনাদের ক্ষতি সাধনে বা মুসলমান উনাদের ঈমান আমল নষ্ট করনে ইহুদী-নাছারাদের খাছ দালাল বা এজেন্ট হয়ে যারা কাজ করছে তারা হলো-  ১। শিয়া, ২। কাদিয়ানী, ৩। ওহাবী।

বর্তমানে সম্মানিত ইসলাম উনার ছূরতে মুসলমান উনাদের ঈমান-আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যে দলটি, সেটি হচ্ছে- ‘ওহাবী ফিরক্বাহ’। অর্থাৎ ইবনে ওহাব নজদীর অনুসারীরা। সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার ফতওয়া মুতাবিক ওহাবীরা বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত। কারণ তাদের আক্বীদা ও আমল সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার খিলাফ। ওহাবীদের অনেক শাখা-প্রশাখা রয়েছে তম্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- সালাফী, লা-মাযহাবী ও দেওবন্দী। সালাফী ও লা-মাযহাবীরাই মূলত পবিত্র কালিমা শরীফ অস্বীকার করছে এবং এ ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ!

নিম্নে ওহাবী ফিরক্বার জনক ইবনে ওহাব নজদীর পরিচয় ও ওহাবীদের কিছু কুফরী আক্বীদা তুলে ধরা হলো-

ফতওয়ায়ে ‘শামী, ইশায়াতে হক্ব, ওহাবীদের ইতিহাস, ওহাবীদের উৎপত্তি, সাইফুল মাযহাব, মাযহাব কি ও কেন? সাইফুল জাব্বার” ইত্যাদি কিতাবে ইবনে ওহাব নজদীর পরিচয় এইভাবে বর্ণিত আছে, ইবনে ওহাব নজদী ১১১১ হিজরী মুতাবিক ১৭০৩ ঈসায়ী সালে আরবের নজদ প্রদেশে জন্মগ্রহণ করে। তার পিতার নাম ওহহাব। তার বড় ভাই এর নাম সুলায়মান। পিতা ও ভ্রাতা দুজনই তৎকালে সে দেশে বিজ্ঞ আলিম নামে খ্যাত ছিলো। কিন্তু ওহাবের কনিষ্ঠ পুত্র “ইবনে ওহ্হাব” অত্যন্ত উদাসীন ও গোঁড়ামী চরিত্রের অধিকারী ছিল। তাই সে তার পিতা ও ভ্রাতার মতের বিপরীত চলতো এবং প্রায়ই তাদের বিরুদ্ধাচরণ করতো এবং মনগড়া নতুন মত প্রচার করে ফিতনা পয়দা করতো। তার ভ্রান্ত আক্বীদাগুলোর সাথে সেই যামানার হক্কানী-রব্বানী আলিম উনারা একমত হতে পারেননি। ফলে সে বহু আলিম, ছূফী, দরবেশ, মুক্তাক্বীদের উপর স্টীম রোলারের ন্যায় অত্যাচার চালায় এবং উনাদের অনেককে সে শহীদ করে ফেলে। নাউযুবিল্লাহ!

প্রকৃতপক্ষে নজদীরা ছিল জন্মগত নাফরমান নাস্তিক ও কাফির। নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নজদ ও নজদীদের সম্বন্ধে কি বলেন সে ব্যাপারে ছহীহ সনদ সূত্রে কয়েকটি পবিত্র হাদীছ শরীফ নিম্নে বর্ণিত হলো-

عَنْ حَضْرَتْ ابن عمر رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم من بيت ام الـمؤمنين حضرت عائشة عليها السلام فقال رَأْسُ الْكُفْرِ مِنْ هَاهُنَا حَيْثُ يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانُ

অর্থ: ‘হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন যে, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ঘর মুবারক থেকে বের হয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, মূল কাফির বা প্রধান কাফির পূর্ব দিকে। সেখান থেকেই শয়তানের শিং বের হবে।’ নাঊযুবিল্লাহ! (মুসলিম শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُما انه سمع رَسُوْل اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول الا وهو مستقبل الـمشرق ان الفتنة هاهنا من حيث يطلع قرن الشيطان.

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে শুনেছেন একদা আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পূর্বমূখী হয়ে অর্থাৎ নজদের দিকে ফিরে বলেন, সাবধান! এদিক হতে ফিতনা-ফাসাদ আবির্ভূত হবে। নাঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

قال النبى صلى الله عليه وسلم يخرج الناس من المشرق يقرؤون القران لا يجاوز تراقيهم يمرقون من الذين كما يمرق السهم من الرمية سيماهم التحليق

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পূর্ব দিক হতে (অর্থাৎ নজদ দেশ হতে) একদল লোক বের হবে, তারা ঠিকই পবিত্র কুরআন শরীফ পাঠ করবে, কিন্তু পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মর্মার্থ তাদের কণ্ঠনালীর নিচে নামবে না। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অর্থ বুঝবে না। তারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম হতে এমনিভাবে দূরে সরে পড়বে, যেমন তীর ধনুক হতে ছুড়লে পুনরায় ফিরে আসে না। এসব লোকের সাধারণ লক্ষণ হলো তাদের মাথা মুড়ানো থাকবে।” নাঊযুবিল্লাহ! ঠিক এই লক্ষণটি পরিলক্ষিত হয়েছে নজদবাসী ইবনে ওহাব নজদী ও তার অনুসারীদের মাঝে।

সুপ্রসিদ্ধ ‘ফতওয়ায়ে শামী’ কিতাবের লিখক আল্লামা শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইবনে ওহাব নজদীর আক্বীদা-বিশ্বাস সম্বন্ধে অভিমত ব্যক্ত করে বলেন যে, সমস্ত ওহাবীদের আক্বীদা-বিশ্বাস খারিজী আক্বীদা বিশ্বাসের অবিকল অনুরূপ। অর্থাৎ তারা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার ও হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মধ্যে সিফ্ফীনের যুদ্ধ চলাকালে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মতাদর্শের একেবারে বিরোধী হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খারিজী ফিরক্বার লোকেরা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ও হযরত মুয়াাবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের উভয়কেই কাফির বলে অভিহিত করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! যেমন আজকাল ইবনে ওহাব নজদীর ওহাবী ফিরক্বা দুনিয়ার সকল মানুষকে কাফির নামে আখ্যায়িত করতেছে। এরা আরব ভূখণ্ডের নজদ হতে আত্মপ্রকাশ করে। (প্রথম তারা ১৮০১ ঈসায়ী সনে কারবালা ও মক্কা শরীফ আক্রমণ করে এবং পবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ ছিঁড়ে ফেলে। অতঃপর ১৮০৪ ঈসায়ী সনে পবিত্র মদীনা শরীফ আক্রমণ করে সেখানকার পবিত্র মাযার শরীফগুলো ধ্বংস করে ফেলে। নাঊযুবিল্লাহ!

‘ফতওয়ায়ে শামী’ উনার ভাষ্যমতে ওহাবী ফিরক্বার আক্বীদা:

كما وقع فى زماننا فى اتباع عبد الوهاب الذين خرجوا من نجد وتغلبوا على الحرمين وكانوا ينتحلون مذهب الحنابلة لكنهم اعتقدوا انهم هم المسلمون وان من خالف اعتقادهم مشركون. واستباجوا بذلك قتل اهل السنة وقتل علمائهم.

অর্থ: “বর্তমান যামানায় আবির্ভূত ওহাবী ফিরক্বা যারা নজদ প্রদেশ থেকে আত্মপ্রকাশ করে হারামাইন শরীফাইনে আধিপত্য বিস্তার করে। ইবনে ওহাব নজদী হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী ছিল না। তথাপিও সে মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য নিজেকে হাম্বলী মাযহাবের অনুসারী বলতো। তার ভ্রান্ত আক্বীদার মধ্যে একটি আক্বীদা এই ছিল যে, তার প্রতি বিশ্বাসীরাই শুধু মুসলমান, যারা তার বিরোধিতা করবে তারা কাফির ও মুশরিক। তার এই নীতিমালা অনুসারে সে উলামায়ে আহলে সুন্নত উনাদেরকে শহীদ করা জায়িয মনে করতো।” নাউযুবিল্লাহ!

তাফসীরে ছাবীর মতে ওহাবী ফিরক্বার আক্বীদা:

قوله تعالى: افمن زين له سوء عمله” هذه الاية نزلت فى الخوارج الذين يحرقون تاويل الكتاب والسنة ويستحلون بذالك دماء الـمؤمنين واموالهم كما هو مشاهد الان فى نظائرهم وهم فرقة فى ارض الحجاز يقال لهم الوهابية يَحْسَبُونَ اَنَّهُمْ عَلَى شَىْءٍ اَلَا اِنَّهُمْ هُمُ الْكَاذِبُوْنَ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِمُ الشَّيْطَانُ فَأَنْسَاهُمْ ذِكْرَ اللّٰهِ اُولٰئِكَ حِزْبُ الشَّيْطَانِ اَلَا اِنَّ حِزْبَ الشَّيْطَانِ هُمُ الْخَاسِرُونَ.

অর্থ: “(সুবিখ্যাত ‘তাফসীরে ছাবীর’ গ্রন্থকার তিনি বলেন,) “প্রত্যেকের অপকর্মই নিজের জন্য সুন্দর।” এ পবিত্র আয়াত শরীফটিতে খারিজী ফিরক্বার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ফিরক্বার সাধারণ পরিচিতি হলো এই যে, তারা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বিকৃত অর্থ করে এবং পবিত্র  কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মনগড়া ব্যাখ্যা করে। যা দ্বারা মু’মিন মুসলমানদের জান মাল নষ্ট করা বৈধ মনে করে। বর্তমানে যার স্পষ্ট দৃষ্টান্ত রয়ে গেছে। তাদের পরিচিতি এই যে, তারা হিজাজ ভূমির একটি ফিরক্বা, যাদেরকে ওহাবী বলা হয়। ওহাবীরা নিজেদেরকে হক্ব মনে করে, প্রকৃতপক্ষে তারা বড় মিথ্যাবাদী। তাদের উপর শয়তান সওয়ার হয়েছে। তাই তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভুলে গেছে। ওহাবীরা শয়তানের দল। হে মু’মিনগণ! তোমরা শয়তানের দল হতে সতর্ক থেকো। তারা পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নাউযুবিল্লাহ!

ইবনে ওহাব নজদীর লিখিত ‘কাশফুশ শুবহাত’ বইয়ের বঙ্গানুবাদ প্রথম অধ্যায়ের ১ম পৃষ্ঠায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দোষারোপ করে বলা হয় যে-

১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মক্কা শরীফ উনার নেককার কাফিরদের মূর্তি ভেঙে অন্যায় কাজ করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

অর্থাৎ নজদী ওহাবী কাফিরের নিকট মূর্তি নির্মাণ নেক কাজরূপে গণ্য ছিলো এবং মূর্তি ভাঙ্গা অপরাধ হিসেবে গণ্য ছিল। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

২. কাফিররা ইবাদত, হজ্জ, দান-খয়রাত ইত্যাদি নেক কাজ করতো। বিশেষ করে তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে অধিক মাত্রায় স্মরণ করতো। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

৩. মুশরিকরা সাক্ষ্য দিতো মহান আল্লাহ পাক তিনি এক। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

অর্থাৎ  ইবনে ওহাব নজদীর মতে শুধু এক মহান আল্লাহ পাক উনাকে মানলেই চলে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মানার কোনো প্রয়োজন নেই। নাঊযুবিল্লাহ! আজকে যারা পবিত্র কালিমা শরীফ উনার বিরোধিতা করছে, অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার থেকে উনার সম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আলাদা করতে চায়; তারা মূলত নজদীর উক্ত কুফরী আক্বীদাকেই অনুসরণ করছে। নাঊযুবিল্লাহ!

৪. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে সমস্ত মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তারা তাওহীদ এবং রুবুবিয়তে পূর্ণ বিশ্বাসী ছিলো। তারা মহান আল্লাহ পাক উনার রুবুবিয়তের গুণাবলী মেনে নিয়েছিল। অথচ মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে সেই তাওহীদের অন্তর্ভুক্ত করেননি। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (২য় অধ্যায় ৩য় পৃষ্ঠা)

৫. মুসলমান উনাদের তুলনায় কাফিররা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” উনার অর্থ বেশি ভালো জানতো। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (৩য় অধ্যায় ৭ম পৃষ্ঠা)

৬. মুসলমান উনারা নবী, ওলী, বৃক্ষ, কবর, জিন প্রভৃতিকে ‘ইলাহ’-এর আসনে উপবিষ্ট করেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (৮ম পৃষ্ঠা)

৭. কাফিররা পবিত্র কালিমা শরীফ উনার অর্থ বুঝে নিয়েছিলো, কিন্তু মুসলমানগণ তাও বুঝে নিতে সক্ষম হচ্ছেন না। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (৯ম পৃষ্ঠা)

৮. স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজের কোনো কল্যাণ বা অকল্যাণ সাধন করতে সক্ষম নন। হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ অন্যান্যরা তো বহু দূরের কথা। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (২০ পৃষ্ঠা)

৯. যাদের সঙ্গে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যুদ্ধ করেছেন, তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভালো করে জানতো। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! (২০ পৃষ্ঠা)

১০. পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ঘোষিত হুদায়বিয়ার সন্ধিকে মেনে নেয়নি ইবনে ওহাব নজদী। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

এছাড়াও ইবনে ওহাব নজদী ও তার অনুসারীরা নিম্নোক্ত সকল কুফরী-আক্বীদায় বিশ্বাসী যেমন-

১১. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রওযা শরীফ উনার মাঝে নেই, বরং তিনি মাটির সাথে মিশে গেছেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

১২. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ যিয়ারতের উদ্দেশ্য নিয়ত করে সফর করা হারাম ও শিরক। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

১৩. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট কিছু চাওয়া বা উনাকে উসীলা দিয়ে দুয়া করা শিরক। নাউযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

১৪. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গইব জানেন ও তিনি হাযির-নাযির একথা বিশ্বাস করা শিরক। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

১৫. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মতই রক্তে গোশতে গড়া সাধারন মানুষ। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

১৬. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির তৈরি, নূরের তৈরি বিশ্বাস করা কুফরী। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!

১৭. পবিত্র মীলাদ শরীফ, পবিত্র ক্বিয়াম শরীফ ও পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন বা উদযাপন করা বিদয়াত ও শিরক। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!

অনুরূপ আরো বহু কুফরী আক্বীদায় তারা বিশ্বাসী। যা সালাফী, লা-মাযহাবী ও দেওবন্দীদের কিতাবসমূহেই উল্লেখ রয়েছে।

উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা ‘সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হয়েছে যে, ওহাবী ফিরকার অন্যতম সদস্য সালাফী বা লা-মাযহাবীরা ইহুদী-নাছারার সৃষ্ট বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভুক্ত, চরম গুমরাহ। কারণ তারা অসংখ্য কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী।

সালাফী ও লা-মাযহাবীরা গুমরাহীর এতটাই অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে যে, তারা পবিত্র কালিমা শরীফ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম” উনাকেই অস্বীকার করছে। তারা বলে- এ পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করা র্শিক। নাঊযুবিল্লাহ! এমনকি এটাও বলে থাকে যে, পবিত্র কালিমা শরীফ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নেই। নাঊযুবিল্লাহ! এখানেই তারা থেমে যায়নি, বরং তারা এটাও বলে থাকে যে, যেসব মসজিদে পবিত্র কালিমা শরীফ লেখা আছে তা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ! এমনকি এটাও জানা গেছে যে, বিভিন্ন স্থানে তারা মসজিদ থেকে পবিত্র কালিমা শরীফ মুছে ফেলার মতো নিকৃষ্ট কাজ করার চেষ্টাও করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! পরবর্তীতে অবশ্য জনগণের হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইও খেয়েছে।

এখন আমরা পবিত্র ছহীহ হাদীছ শরীফ উনার থেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এ পবিত্র  কালিমা শরীফ উনার দলীল প্রমাণ পেশ করবো।

বিখ্যাত মুহাদ্দিছ ও ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনে হাজার আসক্বালানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত নির্ভরযোগ্য ও মশহুর কিতাব “আল ইছাবাহ শরীফ” উনার ৩য় খণ্ডের, ৭৫১ পৃষ্ঠায়, ৮৭৮৮ নং পবিত্র হাদীছ শরীফে ছহীহ সনদে বর্ণিত আছে-

১ম প্রমাণ

عن حضرت عبد الله بن بريدة رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ عن ابيه قال انطلق ابو ذر ونعيم بن عم ابى ذر وانا معهم يطلب رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وهو مستتر بالجبل فقال به ابو ذر يا محمد اتيناك لنسمع ما تقول قال اقول لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فاٰمن به ابو ذر وصاحبه

অর্থ: “হযরত ইবনে বুরাইদা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি উনার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত নুআইম রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনারা দুজন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার মুবারক খোঁজে বের হন। আমি উনাদের সাথে ছিলাম। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি তখন এক পাহাড়ের আড়ালে ছিলেন। তখন হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি নছীহত মুবারক করেন, আমরা তা শুনতে এসেছি। তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি বলি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। অতঃপর হযরত আবূ যর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, তিনি ও উনার সাথী উনারা দু’জনেই উনার প্রতি পবিত্র ঈমান আনলেন।” এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ ছহীহ এবং সকল বর্ণনাকারীই ছিক্বাহ রাবী উনার অন্তর্ভুক্ত।

২য় প্রমাণ

সুলত্বানুল আরিফীন, রঈসুল মুহাদ্দিছীন আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার লিখিত নির্ভরযোগ্য ও মাশহুর কিতাব ‘আল জামিউছ ছগীর’ ১ম খণ্ডের, ৮৭১ পৃষ্ঠায় ৪১৮৬নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعالـٰى عَنْه قَالَ ﻗَﺎﻝَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ﺩَﺧَﻠْﺖُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﻓَﺮَﺃﻳْﺖُ فى ﻋﺎﺭِضتى ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ ﻣَﻜْﺘُﻮﺑﺎً ﺛﻼﺛﺔ اﺳﻄﺮ ﺑﺎﻟﺬﻫﺐ : ﺍﻟﺴﻄﺮ ﺍﻷﻭﻝ لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ﻭﺍﻟﺴَّﻄﺮُ ﺍﻟﺜَّﺎنى ﻣﺎ ﻗﺪﻣﻨﺎ ﻭﺟَﺪْﻧﺎ ﻭﻣَﺎ اﻛَﻠْﻨﺎ ﺭﺑِﺤْﻨﺎ ﻭﻣَﺎ ﺧَﻠَّﻔْﻨﺎ ﺧَﺴِﺮْﻧﺎ ﻭﺍﻟﺴَّﻄْﺮُ ﺍﻟﺜَّﺎﻟِﺚُ اﻣَّﺔٌ ﻣُﺬْﻧِﺒَﺔٌ وَرَﺏٌّ ﻏَﻔُﻮر

অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার সময় আমি জান্নাতে প্রবেশের সময় উনার দু’পাশে তিনটি লাইন স্বর্ণাক্ষরে লেখা দেখি।

প্রথম লাইনটি হলো- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। সুবহানাল্লাহ!

দ্বিতীয় লাইনটি হলো- আমরা যে ভালো কর্ম পেশ করেছি, তা পেয়েছি। যা খেয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি। যা ছেড়ে এসেছি, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। তৃতীয় লাইনটি হলো- উম্মতরা হলো গুনাহগার, আর রব তায়ালা হলেন ক্ষমাশীল।”

ইমাম আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাকে ছহীহ বলেছেন।

৩য় প্রমাণ

বিশ্বখ্যাত, সর্বজনমান্য নির্ভরযোগ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ কিতাব ‘আল মু’জামুল আওসাত্ব লিত্ ত্ববারানী শরীফ’ ১ম খণ্ডের ১২৫ পৃষ্ঠায় ২২১ নং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে-

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ كَانَتْ رَايَةُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَوْدَاءَ وَلِوَاؤُه اَبْيَضَ مَكْتُوْبٌ عَلَيْهِ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ .

অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার ঝান্ডা মুবারক ছিল কালো এবং পতাকাটি ছিল সাদা রঙের। এই পতাকায় লেখা ছিল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”।

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকারী উনারা সকলেই ছিক্বাহ রাবী উনার অন্তর্ভুক্ত।

৪র্থ প্রমাণ

বিখ্যাত মুহাদ্দিছ হযরত ইমাম বাইহাক্বী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুপ্রসিদ্ধ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য কিতাব ‘কিতাবুল আসমা ওয়াছ ছিফাত লিল বাইহাক্বী’ উনার ১৩১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু আনহু উনার থেকে বর্ণিত। দীর্ঘ এক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি তখনকার কাফির ও সত্যিকারের মুসলমান উনাদের অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে নিম্নে বর্ণিত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার আলোকে ইরশাদ মুবারক করেন-

اِﺫْ ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ فى ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢُ ﺍﻟْﺤَﻤِﻴَّﺔَ ﺣَﻤِﻴَّﺔَ ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﻓَﺄَﻧْﺰَﻝَ ﺍﻟﻠّٰﻪُ ﺳَﻜِﻴْﻨَﺘَﻪُ ﻋَﻠٰﻰ رَﺳُﻮْﻟِﻪ وَﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴْﻦَ وَاَﻟْﺰَﻣَﻬُﻢْ ﻛَﻠِﻤَﺔَ ﺍﻟﺘَّﻘْﻮٰﻯ وَﻛَﺎﻧُﻮﺍ اَﺣَﻖَّ ﺑِﻬَﺎ واهلها ﻭﻫﻰ لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللّٰهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ:- কাফিররা মুসলমান উনাদের সাথে সেই জাহিলী যুগের বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলমান উনাদের একত্মবাদের ফলে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার ও মু’মিন উনাদের উপর স্বীয় প্রশান্তি অবতরণ করেন। আর উনাদের জন্য তাক্বওয়া উনার পবিত্র কালিমা শরীফ আবশ্যক করে দেন, যার সত্যিকার ধারক উনারাই। এই ‘তাক্বওয়া’ উনার পবিত্র কালিমা শরীফ হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”। সুবহানাল্লাহ! এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সব রাবী ছিক্বাহ।

৫ম প্রমাণ

মশহুর তাফসীরগ্রন্থ ‘তাফসীরে ইবনে কাছীর’ উনার ৮ম খণ্ডের, ৫০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

فالرسول وأتباعه يعبدون الله بما شرعه؛ ولهذا كان كلمة الإسلام ” لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ” اَىْ: لَا مَعْبُوْدَ اِلَّا الله ولا طريق إليه إلا بما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم

অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম তিনি ও উনার অনুসারী উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করতেন যা তিনি নির্দেশ মুবারক করতেন। এজন্য সর্বযুগে সম্মানিত ইসলাম উনার পবিত্র কালিমা শরীফ ছিল-

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

 (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নয়। আর মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত উনার মাধ্যম হলো উনার সম্মানিত রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম উনার আনিত বিষয়ের অনুসরণ।” সুবহানাল্লাহ!

৬ষ্ঠ প্রমাণ

বিখ্যাত তাফসীরের কিতাব “তাফসীরে তাবারী শরীফ উনার” পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৯৪ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে ১০২২১ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র কালিমা শরীফ-

لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

উল্লেখ রয়েছে।

৭ম প্রমাণ

ছিহাহ সিত্তাহর অন্যতম কিতাব “ছহীহ মুসলিম শরীফ” উনার কিতাবুল ঈমান অধ্যায়ে একটা বাব বা পরিচ্ছেদ আছে, যার নাম হচ্ছে-

بابُ الْاَمْرِ بِقِتَالِ النَّاسِ حَتّٰى يَقُوْلُوْا لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এখানে একটা বাব পরিচ্ছেদ দাঁড় করিয়েছেন, যার শিরোনামই হচ্ছে- “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম”।

স্মর্তব্য যে, সালাফীরা পবিত্র কালিমা ত্বাইয়্যিবাহ শরীফ পাঠ করাকে শিরিক বলে, তাহলে তাদের ফতওয়া মুতাবিক হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুশরিক হিসেবে সাব্যস্ত হন। নাউযুবিল্লাহ! সালাফীরা বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ ছাড়া অন্য কিছু মানে না। যদি তারা পবিত্র কালিমা শরীফ লিখার কারণে হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে মুশরিক ফতওয়া দেয়, তবে কি তারা উছুল অনুযায়ী উনার কিতাবের হাদীছ শরীফ গ্রহণ করতে পারবে?

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি মুসলিম শরীফ উনার মধ্যে যে বাব বা পরিচ্ছেদ রচনা করছেন, তার অর্থ হচ্ছে- “সেই সব লোকদের ক্বতল করতে নির্দেশ দিন যারা “লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” এ পবিত্র কালিমা শরীফ স্বীকার করে না।

অর্থাৎ হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ফতওয়া মুতাবেক পবিত্র কালিমা শরীফ অস্বীকারকারী সালাফীদেরকে ক্বতল করা ওয়াজিব। সম্মানিত ইসলামী খিলাফত কায়িম থাকলে তাই করা হতো। অর্থাৎ এদেরকে শাস্তি স্বরূপ মৃত্যুদ- দেয়া হতো।

নিম্নে সালাফীদের অন্যতম হাদীছ শরীফের সাইট যধফরঃযনফ.পড়স থেকে পবিত্র মুসলিম শরীফ উনার লিংক দেয়া হলো- যেখানে “পবিত্র কালিমা ত্বাইয়্যিবাহ শরীফ” উল্লেখ আছে। (http://bit.ly/2kaS54W) এই লিংকে ঢুকে ৩২ নম্বর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার পরিচ্ছেদটা একটু দেখলেই সালাফীদের ধোঁকাবাজি, প্রতারণা ও মিথ্যাচারিতা- তাদের নিজেদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

৮ম প্রমাণ

বিখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদ, হাম্বলী মাযহাব উনার ইমাম হযরত আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি  তিনি উনার বিখ্যাত “ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবা” নামক কিতাবে সনদসহ একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন-

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَاَيْتُ عَلـٰى بَابِ الْـجَنَّةِ مَكْتُوْبًا لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

অর্থ: হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি পবিত্র জান্নাত উনার দরজায় লিখিত বা লিপিবদ্ধ দেখেছি ‘লা’ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। সুবহানাল্লাহ! (ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবা ৯৮৮)

 

৯ম প্রমাণ

সালাফীদের অন্যতম মুরুব্বী ইবনে তাইমিয়ার ছাত্র ইবনুল কাইয়ি্যুম জাওযিয়া তার কিতাব “মাদারিজুস সালিকীনে” পবিত্র কালিমা শরীফ উনার ব্যাপারে একটা ইজমা উল্লেখ করেছে। উক্ত কিতাবে লিখেছে-

واجمع الـمسلمون على ان الكافر اذا قال لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللّٰهِ فقد دخل الاسلام

অর্থ: মুসলমান উনাদের এ ব্যাপারে ইজমা হয়েছে যে, কোনো কাফির যদি বলে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ তাহলে সে ইসলামে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ! (দলীল: মাদারেজুস সালেকীন ৩য় খন্ড ৪৭১ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারু কুতুবুল ইলমিয়া, বৈরুত- লেবানন)

সুতরাং উক্ত বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, পবিত্র কালিমা তাইয়্যিবা শরীফ হচ্ছে “লা’ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহম্মদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম” শুধু তাই নয়, বরং এ ব্যাপারে উলামায়ে কিরাম উনাদের ইজমাও প্রতিষ্ঠা হয়েছে। সালাফীদের দৃষ্টিতে যদি পবিত্র কালিমা তইয়্যিবা শরীফ শিরিক হয়, তবে তাদের মুরুব্বী ইবনুল কাইয়্যুম জাওযিয়া স্বীয় কিতাবে পবিত্র কালিমা তাইয়্যিবা শরীফ উল্লেখপূর্বক ইজমার দাবি করে কি মুশরিক হয়ে গেছে? সালাফীরা কি ইবনুল কাইয়্যুম জওযিয়াকে মুশরিক ফতওয়া দিবে? উল্লেখ্য, উক্ত কিতাবের বর্ণনা দ্বারা আবারো প্রমাণিত হলো যে, একটা কাফির এই পবিত্র কালিমা শরীফ পাঠ করে মুসলামান হচ্ছে; বিপরীতে সালাফীরা উক্ত কালিমা শরীফ অস্বীকার করে কাফির হয়ে যাচ্ছে। (চলবে)

-আল্লামা আবুল খায়ের মুহম্মদ আযীযুল্লাহ

পবিত্র ১৯ শে রমাদ্বান শরীফ বাংলা ভাষার আজাদী দিবস পালন করা কেন জরুরী

প্রশাসনের প্রতি জ্ঞাতব্য বিষয় সব প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, চীফ রিপোর্টার এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার-এর দৃষ্টি আকর্ষণ জঙ্গিবাদ, মৌলবাদসহ তাবত ধর্মব্যবসায়ী তথা জামাত শিবিরের মূলোৎপাটনকারী- ‘আল বাইয়্যিনাত’ ও ‘আল ইহসান’-এর শক্ত অবস্থান স্পষ্টকরণ এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী ‘আল বাইয়্যিনাত’ সম্পর্কে বর্তমান রাষ্ট্রপতি, স্পিকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রীর মূল্যায়ন অবগত করণ। এবং সেই সাথে ‘আল বাইয়্যিনাত’-এর বিরুদ্ধে অপবাদ রটনাকারী হাফিজুর রহমান গংয়ের মিথ্যা ষড়যন্ত্রের আসল ঘটনা ব্যক্তকরণ ও এ সম্পর্কিত পুলিশ প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ।

শোক সংবাদ: সাইয়্যিদাতুন নিসা, সুলতানাতুল আরিফীন, কুতুবুল ইরশাদ, কুতুবুল আক্বতাব, আওলাদে রসূল মুহতারামা হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেছেন

আমীরুল মু’মিনীন হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী আলাইহিস সালাম তিনি নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনার প্রতি অপবাদকারী যালিম গং নিঃসন্দেহে গুমরাহ, বাতিল, লা’নতপ্রাপ্ত, জাহান্নামী ও সুন্নী নামের কলঙ্ক রেজাখানীরা আয়নায় নিজেদের কুৎসিত চেহারা দেখে নিক ॥ ইসলামী শরীয়ার আলোকে একটি দলীলভিত্তিক পর্যালোচনা-১২

আহলান-সাহলান! সুমহান পহেলা শাওওয়াল!! মুবারক হো ঈদে বিলাদতে তাহিরাহ, তাইয়িবাহ, মাহবুবাহ, ফাক্বীহা, মাশুক্বাহ, তাওশিয়াহ, তাকরীমাহ, তাক্বিয়্যাহ, তাযকীয়্যাহ, নূরে হাবীবা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবিহা, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আওলাদে রসূল, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম