সংবাদপত্রসেবীরা কথাটি উল্লেখ করেছেন ‘বিশ্বকাপ জ্বর’ হিসেবে। তারা একের পর এক রিপোর্ট করেছেন, কত ব্যাপকভাবে এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় পুরো দেশ, জাতি। পত্রিকান্তরে মন্তব্য করা হয়-
সারাদেশের চোখ আটকে গেছে টিভি পর্দায়। বিশ্বকাপ ফুটবলের দূর্দশনীয় আনন্দে মেতে উঠেছিলো পুরো বাংলাদেশ। বিকেল সাড়ে ৫ টায় ফ্রান্স বনাম সেনেগালের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উন্মোচনের সঙ্গে সঙ্গে পুরো দেশের লাখ লাখ ফুটবল পিপাসু মানুষ টিভির পর্দায় চোখ রেখে হয়ে উঠেন উল্লাসমূখর।
প্রাত্যহিক ক্ষুধা, অভাব ও বঞ্চনা, শিশুর চিৎকার ভুলে গিয়ে সবার চোখ টিভির পর্দায় আটকে যায়। কোটি কোটি চোখ বিভোর হয়ে যায় সিলিকন পর্দায় বল ও বুটের উম্মাতাল ছন্দে। বিশ্বকাপের অভূতপূর্ব আয়োজনকে সামনে রেখে গত শুক্রবার ৩১ মে/০২ বিকালে রাজধানী ঢাকায় সভা-সমাবেশও ছিলনা। গুলিস্তান, পল্টন মোড়, শাহবাগ, আজিজ সুপার মার্কেট, ফার্মগেট, বিজয় স্মরণী, মতিঝিল, রামপুরা, বাড্ডা মোড়, স্থানীয় ক্লাব, ওয়ার্ড কমিশনার ও রাজনৈতিক নেতাদের সৌজন্যে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন অফিস, আদালতের কর্মচারী ইউনিয়ন, সিবিএ অফিসগুলোতে টিভিতে কর্মকর্তা, কার্মচারীরা উপভোগ করেন বিশ্বকাপের খেলা।
গত ৩১ মে/০২ শুক্রবার থাকলেও রাজধানী ঢাকায় রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনগুলোর কর্মসূচী ছিলনা বললেই চলে। অধিকাংশ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কর্মসূচী বিহীন বিকেলে বাসায় একান্ত পরিবেশে সময় কাটান।
৪ বছর পর পর অনুষ্ঠিত কথিত এ গ্রেট ইভেন্টকে সামনে রেখে দেশের সাধারণ মানুষের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিলো কয়েক মাস ধরে। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত বাঙালির ঘরে টেলিভিশন আগে থেকেই ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপকে ঘিরে নিম্নবিত্ত বাঙ্গালির ছিল প্রায় ঈদের প্রস্তুতি। মাস শেষে জমানো সঞ্চয় দিয়ে টেলিভিশন কেনাই তাদের বড় প্রস্তুতি। ছোট ঘরে প্রতিবেশীদের নিয়ে টিভি দেখা এবং তুমুল হৈ-হুল্লোড় ছিল দেশে স্বাভাবিক চিত্র।
ফুটবল প্রেমিকরা মাতোয়ারা। শুধু পতাকা ওড়ানোর মধ্যেই তাদের ভাল লাগা সীমাবদ্ধ নয়। পোষ্টার, ফেস্টুনেও ছেয়ে গেছে গ্রাম-শহর। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, শহর-বন্দর, গ্রামে এখন বিশ্বকাপের মৌসুম। ফুটবল প্রেমিকদের হৃদয়ে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ উত্তেজনায় কোথাও কোথাও বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট এমনকি পুকুর-ডোবাসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে শোভা পাচ্ছে নানা রঙের ব্যানার, ফেষ্টুন, লেখা এবং প্রিয় দলের পতাকা। ছোট-বড় সরকারী, বেসরকারী স্বায়ত্তশাসিত, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নানা পেশাজীবী, খেলোয়াড়, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী, ছাত্র-শিক্ষক, গৃহিনী কেউ বাদ নেই বিশ্বকাপ আলোচনা থেকে। সর্বত্র গঠিত হচ্ছে সমর্থক গোষ্ঠী। সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে চলছে নানা তর্ক-যুদ্ধ। চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
পতাকার পাল্লাপাল্লি
দর্জির দোকান গুলো পতাকা বানাতে ব্যস্ত। ছোট ছোট পতাকা নামিয়ে এখন বড় বড় পতাকা উড়ানো হচ্ছে। কে কত বড় পতাকা তৈরী করতে পারে এলাকা ভিত্তিক এবিষয়ে চলছে এখন প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন অফিস ভবনেও উড়ছে বিভিন্ন দলের রঙ-বেরঙের পতাকা।
কে কত উঁচুতে পতাকা উড়াতে পারে তারও প্রতিযোগিতা চলছে। সিলেটের একটি এলাকায় আর্জেন্টিনার সমর্থকরা ৬৫ গজ দৈর্ঘ্য এবং দেড় গজ প্রস্থের পতাকা উড়িয়েছে। ব্রাজিল সমর্থকরা ৭৫ গজ দৈর্ঘ্যরে পতাকা উড়িয়ে তার জবাব দিয়েছে।
পত্রিকান্তরে উপরোক্ত রিপোর্ট সন্নিবেশনের পর সঙ্গতকারণেই প্রাসঙ্গিক মন্তব্য করতে হয় যে, সাম্প্রতিক কালের এই বিশ্বকাপ জ্বর জোয়ারের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে সংশ্লিষ্ট কোন মহলই উল্লেখ্যযোগ্যভাবে মুখ খোলেননি বা কলম ধরেননি। বিশেষ করে সরকারী আমলা, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবি কেউই টু-শব্দ করেননি। প্রচলিত গণজোয়ারের বিপরীত ধারার বক্তব্য প্রদানে হুজুগে মাতা বাঙ্গালীর বিরাগভাজন হওয়ার পিছনেই তাদের ভয় ছিল। ২/১ জন বামপন্থী তবুও নিজেদের ধারণকৃত আদর্শবাদের জোরে ২/১ কলম লিখেছেন। তারাও যুক্তি দেখিয়েছেন যে, বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ কোরিয়ার জনগণের মাঝে এ সাম্প্রতিক শিহরণ নেই। তারা ব্যস্ত তাদের কাজ ও অর্থনীতি নিয়ে। তাদের এ যুক্তি দুনিয়াবী।
কিন্তু মুসলমানদের ক্ষেত্রে যে তাদের রব আল্লাহ্ পাক ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিষেধবাণী রয়ে গেছে, বিজাতীয় অনুসরণ, সময় নষ্ট, পরিণতি খারাপ তথা সরাসরি নিষেধবাণীর প্রেক্ষিতে এ খেলা দেখা, উপভোগ করা, মাতামাতি করা যে সম্পূর্ণই হারাম; সে কথা উচ্চারণ করার দায়িত্ব ছিলো যে আলিম সমাজের; সে নামধারী আলিম সমাজ হরতাল, লংমার্চ, ব্লাসফেমী, মৌলবাদ ইত্যাদি নাজায়িয ইস্যুতে জিহাদী জজবা তৈরী করলেও, জোশ তৈরী করলেও, জিহাদী ভঙ্গিমা প্রদর্শন করলেও বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরের মত আলোড়নকারী বিষয়ে তাদের আশ্চর্য রকমের নীরবতা তাদের স্বভাবজাত দ্বিমুখী আচরণ তথা মুনাফিকীরই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। অথচ এ রকম একটা আন্দোলনের জন্য তাদের মধ্যে প্রচারিত শাইখুল হাদীস, মুফতী, মুফাস্সীরে কুরআন ইত্যাদি উপাধীধারী ব্যক্তির অভাব নেই। য (চলবে)
-মুহম্মদ আব্দুর রউফ, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে