বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম

সংখ্যা: ১১১তম সংখ্যা | বিভাগ:

(ধারাবাহিক)

হযরত শায়খ কারদীজ কুদ্দিছা র্ছিরুহুল আযীয

জন্ম- ৫৮৭, ওফাত- ৬৬৭

হযরত শাহ কারদীজ কুদ্দিছা র্ছিরুহুল আযীয ছিলেন কারদীজের অধিবাসী এবং সাইয়্যিদ খানদানের। তিনি কারদেজী থেকে মূলতানে তাশরীফ আনেন এবং এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকেন। তাঁর মাজার শরীফও মূলতানে অবস্থিত। যা সাধারণ এবং বিশেষ লোকগণের জিয়ারতগাহ (হিসেবে মশহুর হয়ে আছে।)   বর্ণিত আছে যে, হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাতের পরই কবর থেকে হাত মুবারক বের করে লোকজনকে মুরীদ করতেন এবং এখনও পর্যন্ত কবরের ঐ ফাটল রয়েছে যেখান দিয়ে তিনি হাত বাড়িয়ে দিয়ে মানুষকে বাইয়াত করাতেন। তিনি মুলতান-এর মশহুর মাশায়িখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মধ্যে গণ্য। হযরত শায়খ কারদীজ কুদ্দিছা র্ছিরুহুল আযীয হযরত মাখদুম শায়েখ বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মূলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সমসাময়িক ছিলেন। হযরত শায়খ রুকুনুদ্দীন আবুল ফাতাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি জন্ম- ৬৩৫, ওফাত- ৬৯০   হযরত শায়খ রুকুনুদ্দীন আবুল ফাতাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত শায়খ সদরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সন্তান এবং শাইখুল ইসলাম বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মুলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন তাঁর দাদা। তিনি তাঁর দাদার উপযুক্ত সাজ্জাদানশীন (পীর) ছিলেন। হযরত শায়খ আবুল ফাতাহ রুকুনুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর এক মুরীদের লিখা ফতোয়ায়ে ছুফিয়াতে তাঁর সম্পর্কে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। ‘মাজমাউল আখবার’ কিতাবে তাঁর (বিবিধ) মালফুজাত ও মকতুব সমূহ বর্ণিত রয়েছে, যেগুলো তিনি তাঁর মুরীদের নামে লিখে ছিলেন। তাঁর একটি মকতুবে লিখা আছে, ‘প্রিয়! স্মরণ রাখা চাই ইনসান দুটি সম্মিলিত বস্তুর জিনিষের নাম। একটি হচ্ছে ছূরত আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে ছিফত। আর নান্দনীক ও প্রশংসনীয় গুণ (শুধুমাত্র ছিফতের মধ্যে) খুজে পাওয়া যায়। ছুরতের (তেমন) কোন মূল্য নেই। আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন তোমাদের ছূরতকে দেখবেননা। তিনি তোমাদের আমল এবং অন্তর সমূহকে দেখবেন। ছিফতের হাক্বীক্বী ছূরত আখিরাতে প্রকাশ পাবে। সেখানে প্রত্যেকটি ছিফত একটি জাহিরী ছুরত ধারণ করবে। কেননা আখিরাত বা পরকাল হচ্ছে প্রতিফলনের দিবস। সেখানে প্রত্যেকটি বস্তুর হাক্বীক্বতকে (উত্তম) পরিচ্ছদে প্রকাশিত করা হবে এবং এই ছূরত যা কিনা বাহ্যিক নজরে দৃশ্যমান হবে। আর যার যে ছূরত হবে তাকে সে হালতেই উঠানো হবে। যেমন বালাম মিন বাউর অধিক ইবাদত-বন্দিগী করা ও যাহিদ, দরবেশ হওয়া সত্ত্বেও তাকে কুকুরের ছূরতে হাশরের ময়দানে উঠানো হবে। অর্থাৎ তার চেহারা ছূরতকে কুকুরের রূপ দেয়া হবে। এভাবে ক্বিয়ামতের দিন জালিম ও অত্যাচারীদেরকে ভেড়ার ছূরতে দেখা যাবে। দাম্ভিক, অহংকারীদেরকে বাঘের ছূরতে এবং কৃপণ ও লোভীদেরকে শুকুরের আকৃতিতে দেখা যাবে।

আল্লাহ্ পাক-এর ইরশাদ হচ্ছে,

اولئك كالانعام بل هم اضل.

অর্থঃ- “এ সমস্ত লোক চতুস্পদ জন্তুর ন্যায়। বরং তার চেয়েও নিকৃষ্ট।” (সূরা আ’রাফ/১৭৯)      যতক্ষণ পর্যন্ত ক্বলব থেকে অসৎ গুণাবলী, বদ্ স্বভাব দূর না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত জানোয়ার এবং হিংস্র পশুদের স্তরে থাকবে। ক্বালবের সাফাই এবং পবিত্রতা তখনই হাছিল হয় যখন তার মধ্যে আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের সাহায্য থাকে এবং (বান্দারও) কাতরতা অনুনয়, বিনয় থাকে। এবং আমি আমার নফ্সকে স্বাধীন, মুক্ত মনে করিনা। কেননা, নফ্স হামেশা দুশমনী, অবাধ্যতার মধ্যে লিপ্ত থাকে। কিন্তু আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন যে সমস্ত লোকের প্রতি স্বীয় ফযল ও করম করবেন তাঁরা নফসের ঔদ্ধতা থেকে দূরে থাকবেন এবং আমার পরওয়ারদিগারে আলম অত্যন্ত দয়াবান। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ্ পাক-এর ফযল ও করম কুদরতী মুবারক হাতের সাহায্যে কারো প্রতি প্রসারিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাযকিয়ায়ে নফ্স এবং আত্মার পবিত্রতা অর্জন অসম্ভব। যদি তোমার প্রতি আল্লাহ্ তায়ালার অনুগ্রহ, দয়া না থাকে তাহলে তোমার থেকে কখনোই কোন সময়ই পবিত্রতা গুণাবলী আশা করা যায়না এবং তাঁর দয়া ও রহমতের নিশানা হচ্ছে ইনসান তার জাতের ত্রুটির প্রতি লক্ষ্য রাখবে এবং সেটাকে মন্দ বা খারাপ জানবে আর আনোয়ারে ইলাহীর আজমতের মধ্যে তার বাতিনী অবস্থা দুরস্ত করে নিবে। যাতে দুনিয়া ও দুনিয়ার শান শওকত ঐ নেক মর্দ (সালেকের) দৃষ্টির মধ্যে কোন একটি মুহূর্তও সময়ও যাতে না থাকে। (এমনকি) দুনিদারদের কোন কদর, মর্যাদা যাতে তার দিলের মধ্যে বিন্দু পরিমাণও না থাকে।    (অসমাপ্ত)

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত ত্বরিক্বিন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত্ ত্বরিক্বিন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত্ ত্বরিকন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত্ ত্বরিক্বিন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি  মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার