মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
সুওয়ালঃ- এর অর্থ খুুবই কঠিন যা বোধগম্য হয়না। জাওয়াবঃ- (কোন কোন বস্তুর কোন অর্থ ছূরত প্রকৃতপক্ষে তখনই বুঝে আসে যখন সেটার ওহাম (কল্পনা, খেয়াল, ধারণা) বিলুপ্ত হয়ে যায়।) এজন্য যে ওহদাতে বারী তা’আলা হচ্ছেন মতলক স্বাধীন। এবং ওহদাতে নুকুশ ও ছূরত থেকে(সম্পূর্ণ পাক ছাফ ও পবিত্র। আর ওহাম হচ্ছে (সৌসাদৃশ্য) ও ছূরত (আকৃতির) পাশাপাশি, বলা হয়ে থাকে যে, ওহাম হচ্ছে প্রকৃত পক্ষে বিভিন্ন বিবিধ বিক্ষিপ্ত চিন্তা-ধারণা, আকার-আকৃতি পয়দা করার উদ্ভাবক যা কিনা ছূরত ও সেকেল সমূহকে তৈরী করে) আর একত্ববাদ ও প্রাচুর্যতা হচ্ছে একে অপরের জন্য সনদ বা দলীল। (এজন্য এগুলোর সম্মিলন বা একত্রিকরণ অসম্ভব) কেননা দু’টি বস্তু এক স্থানে মিলিত হয়না।
এ সম্পর্কে হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণনা হচ্ছে,
من عبد ما يدخ فى الوهم فهو كافر حتى يعبد مالم يدخل فى الوهم.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর জাত পাককে পঞ্চ ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য বলে ইবাদত-বন্দেগী করবে সে ব্যক্তি কাফির হবে যতক্ষণ না সে (এ ধরণের আক্বীদা থেকে) প্রত্যাবর্তন করবে।” এটা এমন মাকাম যার হাক্বীক্বত সম্পর্কে বয়ান করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়; তবে আল্লাহ্ পাক যাকে মনোনীত করেছেন (এই ইল্ম হাছিল করার জন্য) তিনি ব্যতীত। রাস্তা খুবই সূক্ষ্ম ও জটিল এবং রাত্রি (ঘোর) অন্ধকারময় ও অজ্ঞাত। এতদভিন্ন ইনসান ঘুমের ঘোরে রয়েছে। তারা (তোমাদের জন্য) এটাই যথেষ্ট মনে করে যে, তারা হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মসলকের উপর রয়েছে। আমলে নিয়োজিত হও এবং এর চেয়ে সামনে অগ্রসর হয়োনা। (তোমার) নেককৃত কার্যসমূহকে সামনে রাখো, যেন কাল কিয়ামতের দিন তোমার আমলের জাযা ভালভাবে পাওয়া যায়। হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর উপরোল্লিখিত উক্তির মধ্য থেকেই বুঝা যায় যে আসলে তাঁর মাসলাক বা মাযহাবটা কি ধরণের। বর্ণিত হয়েছে,
يوم تبلى السرأئر فما له من قور ولاناصر.
অর্থ- “ সেদিন গোপন বিষয় পরীক্ষিত হবে, সেদিন তার কোন সামর্থ ও সাহায্যকারী থাকবেনা।” (সূরা তারিক/৯-১০) সুওয়ালঃ- যখন আল্লাহ্ পাক স্বয়ং নিজেই গুপ্ত বা পর্দার অন্তরালে রয়েছেন তখন কিয়ামতের ময়দানে ইনসানের সামনে কিভাবে এই পর্দার অপসারণ ঘটাবেন? জাওয়াবঃ- হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
من القى جلباب الحياء فلا غيبة له.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি হায়ার (লজ্জা) চাদর উঠিয়ে দিল তবে তার গীবতের কোন গুণাহ নেই।’’
এই হাদীসের মধ্যে তোমার প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ সমাধান বা জাওয়াব রয়েছে। যদি এই (সূক্ষ্ম আলোচনা থেকে) বুঝে নিতে পারো তবে খুবই উত্তম নচেৎ এটা অন্তরের মধ্যে ভালভাবে গেথে নেয়া চাই। (কারণ) হাশরের মাঠে, কিয়ামতের দিন এই দুনিয়ার সব কিছুই বিপরীত ঘটতে দেখা যাবে। তখন এই পৃথিবীর জাহির (প্রকাশ) বাতিন (গুপ্ত) এবং গুপ্ত জিনিষ প্রকাশিত হয়ে যাবে। উপরের বস্তুকে নীচে এবং নীচের বস্তুকে উপরে উঠানো হবে।
সরকারে দো’আলম, হাবীবুল্লাহ্, নূরে মুজাস্সাম, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
الذالم يوم القيامة على صورة الذر.
অর্থঃ- “কিয়ামতের দিন জালিমদেরকে পিপিলীকার ছূরতে উঠানো হবে।” এজন্য স্বীয় বাতিনকে খালিছ তওবা দ্বারা সজ্জিত রাখো যেন সেদিন অপমান-অপদস্থের মুখ দেখাতে না হয়। পার্থিব জীবনের জিল্লত, অপমান, অসম্মানের চেয়ে আখিরাতের দিনের অপমান, লজ্জা, অনুতাপ খুবই কঠিন ও ভয়াবহ। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার