মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
বর্ণিত আছে যে, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহ্মতুল্লাহি আলাইহি বলেন, এক সময় আমি আমার মুর্শীদের সাথে কিশ্তীতে আরোহণ করে সফর করছিলাম। (এক সময়) শায়খ আমাকে বল্লেন, আমার সামনে আস। তোমার সাথে কিছু কথা আছে। যখন দিল্লী পৌঁছবে তখন রিয়াযত মুজাহিদা করতে থাকবে। বসে থাকার মধ্যে কোন ফায়দা নেই। (তরিকতের রাস্তায়) রোযা রাখা হচ্ছে অর্ধ মনজিলের পথ এবং বাকী আমল যেমন নামাজ, হজ্ব (ইত্যাদি সবগুলো হচ্ছে) বাকী অর্ধেক পথ।” আরেক সময় বললেন, “আমি আল্লাহ্ পাক-এর নিকট (তোমার জন্য) দোয়া করেছি। তুমি আল্লাহ্ পাক-এর নিকট যা প্রার্থনা করবে তাই পাবে।”
একদা তিনি এও বললেন, “হে নিযামুদ্দীন! আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে তোমার জন্য দুনিয়াবী কুওয়াত, শক্তিও আমি চেয়ে নিয়েছি।”
হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহ্মতুল্লাহি আলাইহি তাঁকে খিলাফত দান করার সময় বা খলিফা বানানোর সময় বল্লেন, সুলুকের রাস্তায় অটল থাকার জন্য মুজাহিদায় মশগুল থাকা চাই।
একদিন হযরত বাবা ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহ্মতুল্লাহি আলাইহি নিজের হুজরার মধ্যে খালি মাথায় ছিলেন। (তখন) তাঁর চেহারা মোবারক-এর রং অন্যরকম ছিল আর তিনি এই শের পড়ছিলেন, “আমার ইচ্ছা, আমি আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য জীবিত থাকি, মাটি বা খাঁক হয়ে আপনার পদতলে যিন্দিগী গুজরান করি। আমার দুর্বলতা ও দূরবস্থার মধ্যে উভয় জগতের উদ্দেশ্য একমাত্র আপনি। আপনারই জন্য আমি মৃত্যু বরণ করব, আপনারই জন্য আমি জীবিত থাকব।”
হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি এই শের পড়ার পর আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে সেজদায় পড়লেন। যখন অসংখ্য বার তিনি এরূপ করছিলেন তখন আমি তাঁর হুজরা শরীফে প্রবেশ করলাম এবং শায়খের কদমের উপর আপন মাথা রাখলাম। তিনি আমাকে বললেন, কি চাও? আমি শায়খের নিকট কিছু দ্বীনি এবং মাযহাবী বিষয়সমূহ তলব করলাম। তখন তিনি আমাকে ঐ বিষয়সমূহ দান করলেন। পরক্ষণে আমার আফসুস হলো, এই বলে যে, কেন আমি সামার মধ্যে আমার অস্তিত্ব বিলীন করার দরখাস্ত শায়খের নিকট পেশ করলাম না।
বর্ণিত আছে যে, হযরত শায়খ ফরিদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি সব সময় নিজের হুজরার মধ্যে একা থাকতেন। হুজরা শরীফের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করে সমস্ত রাত্রি তিনি খোদাতায়ালার (মারিফাতের) নিগূঢ় রহস্যের মধ্যে ডুবে থাকতেন। সকাল বেলা তাঁর নূরানীময় চেহারা মোবারক যে কেউ দেখতো সেই বলতো রাত্রি জাগরণের কারণে তাঁর আঁখিযুগল লাল দেখা যাচ্ছে। লোক মুখে শোনা কথা- হযরত আমীর খসরু দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি নিজের পীর ও মুর্শিদের শানে এই শের পড়েছিলেন, “আপনি তো হামেশাই রাত্রি জাগরণ করে থাকেন। কিন্তু আজ রাত (দীদারে ইলাহীর সমুদ্রে মাওলার সাথে সম্ভবত) বিশেষ কোন কথোপকথন হয়েছে। যার দরুন এখনও পর্যন্ত আপনার চক্ষুদ্বয়ে মত্ততার আছর পরিলক্ষিত হচ্ছে।”
বর্ণিত আছে, একদা মাহবুবে সোবহানী হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, একদিনের ঘটনা, (কেউ) আমাকে একটি চিরকুট দিল যাতে লিখা ছিল, “সাধ্যমত যতটুকু সম্ভব মানুষের উপকার করার চেষ্টা কর।” হাক্বীক্বত হচ্ছে, মানুষের আত্মার মধ্যেই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের মারিফাত প্রকাশ হয়ে থাকে।
এই বিশ্ব জগতের দূর্মূল্যের বাজারে কোন জিনিস এতটা মকবুল, মূল্যবান হতে পারে না যতটা মকবুল হওয়া যায় খোদাতায়ালার দরবারে মানুষের দিল বা আত্মাকে ফায়দা পৌঁছিয়ে দেবার মধ্য দিয়ে। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মোবারক চরিত গ্রন্থ- আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার