মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
(ধারাবাহিক)
হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত আছে যে, (উনার পীর ছাহেব) হযরত বাবা গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ইচ্ছানুযায়ী একদা তিনি হযরত নাজিবুদ্দীন মুতাওয়াক্কিল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মজলিসে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আমি মজলিসে দাঁড়িয়ে আহলে মজলিস এবং হযরত শায়খ নাজিবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট আরজি পেশ করলাম যে, ‘আপনারা একবার সূরা ফাতিহা এবং একবার সূরা ইখলাছ পড়ে আমার জন্য দোয়া করুন, যাতে কোন এলাকার কাজী হতে পারি।’ একথা শুনে হযরত শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি মুচকি হাসলেন এবং বললেন, ‘কাজী না হয়ে অন্য কিছু হও।’ বর্ণিত আছে, একদিন হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন গঞ্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খিদমতে হযরত নাজিবুদ্দীন মুতাওয়াক্কিল রহমতুল্লাহি আলাইহি এলেন এবং বললেন, ‘মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে আপনি নাকি মুনাজাতের সময় ইয়া রব বলে থাকেন। যার জবাব আপনি আল্লাহ পাক উনার নিকট থেকে শুনে থাকেন ‘লাব্বাইক ইয়া আবদী’ (হে আমার বান্দা, আমি হাজির)।’ উনার একথা শোনার পর বাবা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত হচ্ছে যবান শুদ্ধ হওয়া।” তারপর হযরত মুতাওয়াক্কিল রহমতুল্লাহি আলাইহি একথাও বললেন, ‘হযরত খিযির আলাইহিস সালাম নাকি আপনার নিকট আসেন এবং লোকজন এ কথাও বলে যে, আবদাল সম্প্রদায়ও নাকি আপনার খিদমতে আগমন করেন?’ একথা শোনার পর তিনি বললেন, ‘আপনিও তো একজন আবদাল।’
একদিন একজন ফকির হযরত মুতাওয়াক্কিল রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট এসে আরজ করলেন যে, ‘আপনিই কি হযরত নাজিবুদ্দীন মুতাওয়াক্কিল (রহমতুল্লাহি আলাইহি)? জবাবে তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমিই নাজিবুদ্দীন মুতাওয়াক্কিল রহমতুল্লাহি আলাইহি।’
হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাযার শরীফের রাস্তায় সুলতান মুহম্মদ আদিল শাহ বাদশার মশহুর ইমারত পরিধি মন্ডলের সামনেই উনার মাযার শরীফ অবস্থিত। হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর হুজরা শরীফও ঐ জায়গায় ছিল।
হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি
হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন সুরখও বলা হয়। তিনি হযরত বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মুলতানী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদদের মধ্যে গণ্য ছিলেন। উনার (বুযূর্গ) দাদা সাইয়্যিদ জালাল যিনি মাখদুম জাহানিয়া লক্ববে (জগতের মাঝে) পরিচিত হয়ে আছেন। তিনি বুখারা থেকে বাহকার তাশরীফ নিয়ে আসেন এবং সেই শহরেই বাস করতে থাকেন এবং বাহকার শহরের হযরত সাইয়্যিদ বদরুদ্দীন বরকী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি শহরের মধ্যে ছিলেন (সবচেয়ে) সম্ভ্রান্ত, সম্মানিত, মর্যাদাসম্পন্ন। তিনি উনার সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। মানুষের নিকট শোনা যায় সাইয়্যিদুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি স্বপ্নযোগে হযরত সাইয়্যিদ জালালুদ্দীন বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে এই বিষয়ে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি যাতে হযরত সাইয়্যিদ বদরুদ্দীন বিকরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মেয়েকে বিবাহ করেন। এভাবে হুযূর পূর নূর ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত সাইয়্যিদ বদরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহিকেও এ বিষয়ে স্বপ্নযোগে তাগাদা দেন। অতঃপর সাইয়্যিদ বদরুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তার প্রিয় কন্যাকে হযরত জালালুদ্দীন বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট বিবাহ দেন।
হিংসুক ও কিনাকারীদের ফিৎনার কারণে এবং আত্মীয়-স্বজনদের ফাসাদের কারণে সেখান হতে উনার মন উঠে যায়। তাই তিনি বাহকার শহর থেকে উঁচ শহরে চলে গেলেন। সেখানে তার সন্তানাদি জন্ম গ্রহণ করে। অসংখ্য আফরাদ বা লোকজন উনার হালকায় জমা হতেন। আল্লাহ রব্বুল আলামীন উনার জন্য সমস্ত খায়ের-বরকতের দরজা খুলে দিলেন। উনার মাযার শরীফ (পাকিস্তানের মূলতান এর) উচঁ শহরে অবস্থিত। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার