মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম
সুলতানুত্ ত্বরিক্বিন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ধারাবাহিক) তোমার সামনে এক দীর্ঘ, জটিল, সুক্ষ্ম রাস্তা রয়েছে এবং তোমাকে যে জীবন দেয়া হয়েছে সেটা অজ্ঞাত অন্ধকার (তো বটেই) বরং সে যিন্দেগী খুবই স্বল্প বা কম সময়ের এবং এই ক্ষণস্থায়ী বা সংক্ষিপ্ত জীবনে তোমাকে এই দীর্ঘ রাস্তা পাড়ি দেবার জন্য হুকুম দেয়া হয়েছে। দুনিয়ার রাত্রি যদিও অন্ধকারময় যার সম্পর্কে বলা হয়েছে,
الدنيا كلها ظلمة.
অর্থঃ- “দুনিয়ার সবকিছুই অন্ধকারময়” কিন্তু এই অন্ধকারেই আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন স্বীয় ফযল, করমে তোমার জন্য এক দীপ্তমান উজ্জ্বল চন্দ্রকে আলোকিত করেছেন। মহান আল্লাহ্ পাক সৃষ্টির শুরুতে বা সূচনা লগ্নে সমস্ত মাখলুকাতকে অন্ধকারেই পয়দা করেছেন। পূনরায় স্বীয় তৈরীকৃত নূর সেই অন্ধকারময় মাখলুকাতের উপর ঢেলেছেন। যেমন এর মেছাল,
الله نور السموت والارص.
واشرقت الارض ينورربها.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক যমীনকে আলোকিত করনেওয়ালা। অর্থাৎ হিদায়েত দানকারী এবং তাঁর হিদায়েতের নূরেই যমীন উদ্ভাসিত।” (সূরা নূর/৩৫, সূরা যুমার/৬৯) (গাফলতি থেকে জেগে) উঠো ও জলদি করো এবং সেই উজ্জ্বল দীপ্তিমান রৌশনাযুক্ত চন্দ্রকে (নিজের জন্য) আল্লাহ্ পাক-এর দেয়া দান, গনীমত মনে করো। এই স্বল্প সময়ের যিন্দেগীতে নিজেকে মৃত ও পরিত্যক্তদের মধ্যে শামিল বলে জেনে নাও। আর যদি (একান্তই) নিজেকে মৃতদের মধ্য গণনা না করতে পার তবে অন্ততপক্ষে এতটুকু ধারণা করে নাও যে একদিন তোমাকেও অন্যান্যদের মত মৃত্যুবরণ করতে হবে। এবং হামেশা এই শের পড়ে তার অর্থ বা বোধগম্যতা দিলের মধ্যে বসিয়ে নাও।
جانی است ہر اینہء بخواہد رفتن اندر غم عشق تو رود اولے تر.
অর্থাৎ- “আত্মাতো (এই দেহ পিঞ্জির) থেকে একদিন অবশ্যই উড়ে চলে যাবে এবং সেই জন্য তুমিও তোমার অন্তরের (মধ্যে লুকায়িত) ইশকের উপর চলতে থাকো এবং সেটাকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে নাও। কিন্তু (যারা) বেখবর মানুষ তারা স্বীয় গাফলতির শয্যায় স্বপ্নে বিভোর। আমোদ, প্রমোদে মশগুল রয়েছে এবং (এটাও) জানেনা যে মুহব্বতের দাওয়া বা ঔষধ কে (তৈরী) করেছে? এবং যিনি মুহব্বতের দাওয়া তৈরী করেন তিনি তাঁর মাহবুব বা মাশুকের নিকট সর্বদা জাগ্রত থাকেন। এবং তিনি এই ভয়ে নিদ্রা যাননা যে, না জানি তার নাম মিথ্যা প্রেমিকদের দফতরে লিখা হয়। আর প্রকৃতপক্ষে হুকুমও এটাই যে, ঐ ব্যক্তি বড়ই মিথ্যাবাদী যে আমাদের তরীক্বত ও সুলূকের রাস্তায় আল্লাহ্ পাক-এর মহব্বত এর দাবীদার আর যখন রাত আসে তখন সে বিছানায় গা এলিয়ে দেয়।” সুওয়ালঃ যখন কেউ মরে যায় এবং তার আত্মা শরীর থেকে পৃথক হয়ে উর্ধ্ব দিকে গমন করে তখন কি পূনরায় সেই আত্মা তার আছলের বা মূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, কি করেনা?
জাওয়াব: আত্মা স্বীয় আছলের দিকে ঐ সময় পর্যন্ত থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তার নাম দুনিয়াবী যিন্দেগীতে থাকে। এবং সেই সময় সে (তাঁর দুনিয়াবী) আশ্রয় স্থল বা ঠিকানা ভাল করে চিনে বা জানে (এছাড়াও) সে তখন তার আত্মার একাগ্রতার পর্দা বা অন্তরাল সম্পর্কে ওয়াকিফহাল থাকে।
অতঃপর ঐ দুনিয়ার (মধ্যে) ইশ্ক তার জাহির হয়ে তার (শওক) জাওকের সহায়তাকারী ও সাহায্যকারী হয়ে থাকে। তার (আত্মার) পর্দা অপসারিত হয়; এবং যার কারণে বিরহ্, জুদায়ী ও মুছীবত সবকিছুই নিঃশেষ হয়ে যায়। সব লুপ্ত হয়ে যায়। অতঃপর এই আত্মাই সমস্ত অস্তিত্ব থেকে বুলন্দ ও উন্নত হয়ে স্বীয় খালিক বা রবের নিকট হাক্বীক্বীভাবে উপণীত হয়। এরপর আল্লাহ্ পাক ঐ আত্মা সম্পন্ন সত্ত্বা ব্যক্তিকে তার আমল অনুযায়ী সে যে দরজা (বা) মাকামাতের (মর্যাদার) যোগ্যতা রাখে সেখানে উন্নীত করেন বা পৌঁছে দেন। এবং মুত্যুর পূর্বেই সে আসল মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার