মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি,
ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম।
(ধারাবাহিক)
হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি এক মাকতুবে হযরত শায়েখ ফরীদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহিকে লিখেন, “মশহুর রয়েছে যে, যিক্রে ইলাহীতে মশগুল লোকদের (ছূফীদের) যদি এটা জানা হয়ে থাকে যে, আল্লাহ্ পাক-এর নৈকট্য-এর পরিমাণ কতইনা তাঁদের থেকে দূরে রয়েছে, তাহলে তাঁরা হাসবেন কম এবং কাঁদবেন বেশী, আর কোরবে ইলাহীতে মশগুল ছূফীরা যদি জানতে পারেন যে, তাঁদের (দিল বা আত্মার) মৃত্যু ঘটেছে, তবে তাঁদের (শরীর থেকে) রক্ত প্রবাহিত হবে। আর উনসে ইলাহীতে বা আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বতে মশগুল ছূফীরা যদি জানতে পারেন যে, হক্ব তায়ালার জাত- এর মুহব্বত থেকে তাঁরা বহু দূরে রয়েছেন, তাহলে তাঁদের কলিজা ফেটে যাবে।”
হযরত হামিদুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর রচনাসমূহ, মাকতুব (চিঠি), কবিতাগুলো অধিকাংশই মওজুদ রয়েছে। তাঁর সমস্ত মশহুর রচনাগুলোর মধ্যে ‘উসূলে তরীকা’ রচনাটি অধিক মশহুর। তাতে এক জায়গায় তিনি বলেছেন, “তরীকতের রাস্তায় ঐ ছালেক যার উদ্দেশ্য আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বত মারিফাত হাছিল করা, তারা তিন ধরণের হয়ে থাকেন। পবিত্র কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
ثم اورثنا الكتب الذين اصطفينا من عبادنا فمنهم ظالم لنفسه ومنهم مقتصد ومنهم سابق بالخيرت باذن الله ذلك هو الفضل الكبير.
অর্থঃ- “অতঃপর আমি কিতাবের অধিকারী করেছি তাদেরকে যাদেরকে আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছি। তাদের কেউ কেউ নিজের প্রতি অত্যাচারী, কেউ মধ্যম পন্থা অবলম্বনকারী এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ্ পাক-এর নির্দেশক্রমে কল্যাণের পথে অগ্রগামী হয়ে গিয়েছে। এটাই মহা অনুগ্রহ।” (সূরা ফাতির/৩২)
অর্থাৎ এখানে জালিমকে মাজুর বা অক্ষম, মুকতাসিদকে শুকুর আদায়কারী এবং ছাবিককে অগ্রগামী বা ফানী বলা যায়। যার ব্যাখ্যা এরূপ-
মাজুর- মাজুর হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহ্ তায়ালার জাতপাক এবং হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর ঈমান এনেছে এবং হক সুবহানাহু তায়ালার তাওহীদ, ওহ্দাতের উপর স্বীকৃতিদান বা বিশ্বাস স্থাপনের পরও সে আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে হাজিরা দেয়না বা তাঁর ইবাদত বন্দেগী যথাযথভাবে করেনা। আর যদি সে (কখনও) ইবাদত বন্দেগী করেও তবে তার অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, সে এই ব্যাপারে গাফলতী বা দেরী করে। এবং আল্লাহ্ পাক-এর ফরমান سارعوا (সারিউ) অর্থাৎ দ্রুত আসার পরিবর্তে সম্পূর্ণরূপে গাফলতী করে থাকে।
মাশকুর- মাশকুর ঐ ব্যক্তিকে বলে, যে ঈমানের দিক থেকে খুবই মজবুত এবং নিজস্ব ‘কওল’ ও ইকরারের উপর সে দিন-রাত আমল করে অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালার সকল হুকুম আহকাম মনে প্রাণে মেনে নেয় এবং তার উপর আমল করে থাকে।
ফানিয়ান- আর ফানিয়ান তাকেই বলে, যিনি الست بربكم (আলাসতু বি রব্বীকুম) কে স্মরণে রাখেন এবং কখনই নিজের দিল থেকে তা দূরীভূত করেননা। আর তার জবাব, ঐ قالوا بلى (ক্বলু বালা) এর উপর আমল করতে থাকেন। এরা ঐ সম্প্রদায় বা ‘ক্বওমের’ (অন্তর্ভূক্ত) যারা এই অস্তিত্বময় পৃথিবীতে আসার পূর্বেই রোজে আযলে খেতাবে আযলীর বা আল্লাহ্ পাক-এর “আলাসতু বি রব্বীকুম” এর সুওয়ালের জবাবে (بلى) ‘বালা’ বা ‘হাঁ’ সূচক (শব্দ) গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। তাঁরা প্রথম থেকেই আল্লাহ্ পাক-এর (মারিফাত) বা গুপ্ত রহস্য হাছিল করার জন্য দৃঢ়চিত্ত হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই এমন ছিলেন তাঁরা এই দুনিয়ায় এমনভাবে জীবন অতিবাহিত করেছেন যে,তাঁদের সম্পর্কে কারো কোন কিছুই জানা ছিলনা এবং তাঁদের মধ্যে কারো কারো পরিচয় হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন। অন্যথায় কারো নাম নিশানা পর্যন্ত কেউ পেতনা। তাঁদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত আবু বকর ছিদ্দীক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, যিনি আখিরী রসূল হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হালকায় বসে স্বীয় আত্মার উপশম বা ক্ষুধা মিটিয়েছেন। (অসমাপ্ত)
বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার
বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার