বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার

সংখ্যা: ৯৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

মূলঃ হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহ্লভী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ভাষান্তরঃ মুহম্মদ শামসুল আলম

(ধারাবাহিক)

          একবার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “মানুষের সুপ্রভাত সকাল থেকে শুরু হয় আর আশিকদের সুপ্রভাত সুবহ্ েসাদিক, রাত বা নিশি থেকে শুরু হয়। তারা ইশা থেকে ফযর নামায পর্যন্ত (ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে) রাত্রি জাগরণ করে থাকেন। আর এদেরকেই লোকেরা মাশায়েখ-ই-কিরাম বলে জানে।”

          একবার এও বললেন, “মুর্শিদের সোহ্বত থেকে যে খিরকা হাছিল হয় তা যেন অন্য কাউকে দেয়া না হয়। এই খিরকা যা মুর্শিদ থেকে হাছিল হয়ে থাকে সেটাকে পরিস্কার করা নিষেধ নয় কিন্তু পরিস্কার না করাটাই উত্তম।”

          এক বার বলেন, “আনোয়ারে ইলাহী থেকে ফয়েজ হাছিলকারী (কোন পীর ছাহেব) যদি বলে আমার কবরের মধ্যে (লাশের বরাবর) অমুক তবারুক বা কোন মূল্যবান বস্তু রাখতে তাহলে সেই বস্তুকে তাঁর বাহুর বরাবর রাখা জায়েয রয়েছে অথবা তিনি যদি এই ধরণেরও ওসীয়ত করেন যে, অমুক নেক্কার সন্তানকে এই জিনিস বা তবারুক গুলো দিবে তাহলে তাঁর ওসীয়ত মুতাবিক জরুরী হবে সেগুলো দিয়ে দেয়া।

          “সিয়ারুল আউলিয়া” কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, “হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি যখন বেছালপ্রাপ্ত হলেন তখন তার কবর শরীফের মধ্যে তাঁর (পবিত্র) খিরকাটি দিয়ে দেয়া হলো যা কি-না তিনি তার মুর্শিদ হযরত ফরিদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে প্রাপ্ত হয়েছিলেন। খিরকাটি তাঁর জিসম মুবারকে রেখে দেয়া হলো এবং তাঁর জায়নামায বা মুছল্লাখানি তাঁর মাথা মুবারকের নীচে রাখা হলো।”

          একবার তিনি বলেন, “কাল ক্বিয়ামতের মাঠে কিছু লোক চোরদের সাথে উঠবে। তারা বলবে, “আমরা তো কোন চুরি করিনি।” তখন আওয়াজ আসবে, “তোমরা নেক্কার লোকের পোষাক পরিধান করেছ কিন্তু সেই অনুযায়ী আমল করোনি।” শেষ অবস্থায় ঐ লোকগুলোও নেক্কার লোকদের শাফায়াতে নাযাতপ্রাপ্ত হবে।”

          একবার বলেন, “জইফ নিযামুদ্দীন যতগুলো পোশাক পরিধান করেছে তার মধ্যে অতীতের পোষাকটিই (সম্ভবত ইহা জীবনের শেষ পর্যায়ের উক্তি) ইচ্ছা করে পরিধান করলাম এবং বাকি সবগুলো পোশাক লোকদের শুধুমাত্র বরকতের জন্য দিয়ে দিয়েছি।”

          তাছাউফ সম্পর্কে একদা তিনি বলেন, “তরীক্বতের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, সূলুকের রাস্তায় একশ’টি দরজা রয়েছে। তার মধ্যে শত কোটি মনজিল বা দরজার মধ্যে কাশ্ফ কারামতের অবস্থান। যদি সালিক কাশ্ফ কারামতের মধ্যে থেকে যায় তবে বাকি তিরাশী মাকাম বা মনজিল সে কখন অতিক্রম করবে। এই জন্য ফকির দরবেশদের দৃষ্টি কাশ্ফ কারামতের প্রতি নিবব্ধ থাকা উচিত নয়।”

          একদা তিনি বলেন, “আমার মাখদুম! হযরত বাবা ফরিদুদ্দীন মাসউদ গন্জে শোকর রহমতুল্লাহি আলাইহি খিলাফতের খিরকা দানে ভূষিত করেছেন এবং বলেছেন, আল্লাহ্ পাক তোমাকে ইল্ম, আমল ও ইশকের দৌলতে ধন্য করেছেন। যার মধ্যে এই তিনটি জিনিস বিদ্যমান রয়েছে সে ব্যক্তিই (প্রকৃতপক্ষে) শায়খ থেকে খিলাফত হাছিল হবার এবং মাশায়েখদের দলভুক্ত হওয়ার উপযুক্ত।”   মাহবুবে সুবহানী হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং অন্যান্য মাশায়েখ-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের প্রতি আল্লাহ্ পাক-এর রহমত বর্ষিত হোক।” (অসমাপ্ত)

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত,হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল মাশায়িখ, হযরত নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি  আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার সুলতানুত্ ত্বরেকীন হযরত শায়খ হামিদুদ্দীন সূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি