ভারতীয় উপমহাদেশে আমীরুল মু’মিনীন, শহীদে আযম, হযরত সাইয়্যিদ   আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পূর্বপুরুষগণের খিদমত- ৩

সংখ্যা: ১০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

 তৎকালীন সময়ে হযরত শাহ্ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বেমেছাল সুন্নত অনুসরণ সম্পর্কে “সাওয়ানে আহম্মদী” কিতাবে একটি স্বপ্ন বর্ণনা করা হয়। উক্ত স্বপ্ন থেকে আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে হযরত শাহ্ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মর্যাদা বুঝা যায়। যে সালে তিনি ওফাত পান সেই সময় এক রাতে সম্রাট আওরঙ্গজেব একটি স্বপ্ন দেখেন যে, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তিকাল করেছেন এবং ফেরেশ্তাগণ তাঁর পবিত্র দেহ মুবারক আসমানে নিয়ে যাচ্ছেন। এ স্বপ্ন দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহিকে স্বপ্নের কথা বললেন। তখন হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “সম্ভবতঃ হযরত শাহ্ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি ইন্তিকাল করেছেন।” স্বপ্ন দেখার তারিখ লিখে রাখা হলো। পরে সংবাদ নিয়ে জানা গেলো, হযরত শাহ্ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি ঐ দিনই ইন্তিকাল করেছেন।  সম্রাট আওরঙ্গজেব হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহিকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কিসের উপর ভিত্তি করে স্বপ্নের এমন ব্যাখ্যা করলেন?” হযরত মুল্লা জিউন রহমতুল্লাহি আলাইহি বললেন, “এই ভিত্তির উপর যে সুন্নতের অনুসরণ হযরত শাহ্ ইলমুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি যেভাবে করতেন এ যুগে এর দ্বিতীয় উদাহরণ আর নেই। তাঁর ইন্তিকালের অর্থ এই যে, সুন্নতের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ দুনিয়ার বুক হতে বিদায় হয়ে গেল।”      হযরত  শাহ্ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি সবসময় হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বয়স মুবারকের সমপরিমাণ  আয়ুর জন্য আল্লাহ্ পাক-এর নিকট দোয়া করতেন। অবশেষে ১০৯৬ হিজরীর ৮ই জিলহজ্ব  সোমবার ৬২ বৎসর ৮ মাস ২৬ দিন বয়সে অর্থাৎ ৬৩ বৎসর বয়সে পদার্পন করে ইন্তিকাল করেন।   হযরত শাহ্ ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পুত্রগণের মধ্যে হযরত আবু হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি পিতার জীবিত অবস্থায়ই ইন্তিকাল করেন। হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ইন্তিকাল করেন ১৬৯৬ সালে। বড় সন্তান হযরত সাইয়্যিদ আয়াতুল্লাহ্ রহমতুল্লাহি আলাইহি  খুবই সৎ, সাহসী এবং উদ্যমী লোক ছিলেন। উন্নত চারিত্রিক গুণাবলীর সাথে সাথে তিনি পবিত্র কুরআন শরীফের হাফিয ছিলেন। ধর্মীয় জিহাদের প্রতি তাঁর ঝোক ছিলো অপরিসীম। হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ হুদা রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ বেরেলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর তৃতীয় পূর্বপুরুষ ছিলেন, তিনি অত্যন্ত পরহিযগার ও দানশীল ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত আছে, তিনি একদিন এক আসনে বসে বার হাজার দীনার দান করেছিলেন। তিনি মুগল সম্রাট শাহ্ আলমের সময়কালের। তিনি মহা রাষ্ট্রের বুরহানপুরে ওফাত পান। তাঁর দুই পুত্র। হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূর রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত সাইয়্যিদ সানা রহমতুল্লাহি আলাইহি।

-নেছার আহমদ, ঘোড়াশাল, নরসিংদী।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ